লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৭]

বিস্তৃত সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, বল পাঁচ প্রকার। সেই পাঁচ প্রকার বল কী কী? যথা : শ্রদ্ধাবল, বীর্যবল, স্মৃতিবল, সমাধিবল এবং প্রজ্ঞাবল।

হে ভিক্ষুগণ, শ্রদ্ধাবল কিরূপ? ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে আর্যশ্রাবক শ্রদ্ধাবান হয়। সে তথাগতের বোধি বা পরম জ্ঞানের প্রতি আস্থাশীল হয়, ‘ইনি সেই ভগবান অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ, বিদ্যাচরণসম্পন্ন, সুগত, লোকজ্ঞ, অদম্য পুরুষগণের দমনে শ্রেষ্ঠ সারথি, দেবমনুষ্যগণের শাস্তা বুদ্ধ ভগবান।’ ভিক্ষুগণ, ইহাকেই বলা হয় শ্রদ্ধাবল।

হে ভিক্ষুগণ, বীর্য বা উদ্যমবল কিরূপ? ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে আর্যশ্রাবক আরব্ধবীর্যসম্পন্ন হয়। অকুশলধর্ম প্রহাণে এবং কুশলধর্ম উৎপাদনের জন্য শক্তিমান, দৃঢ়পরাক্রমশালী এবং কুশলধর্মসমূহে লক্ষ্যভ্রষ্ট না হয়ে অবস্থান করে। ভিক্ষুগণ, ইহাকেই বলা হয় বীর্যবল।

হে ভিক্ষুগণ, স্মৃতিবল কিরূপ? ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে আর্যশ্রাবক স্মৃতিমান হয়, পরম স্মৃতিতে সমৃদ্ধ হয়ে দীর্ঘকাল পূর্বে কৃত ও ভাষিত বিষয় স্মরণ এবং অনুস্মরণ করে। ভিক্ষুগণ, একেই বলা হয় স্মৃতিবল।

হে ভিক্ষুগণ, সমাধিবল কিরূপ? ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে, আর্যশ্রাবক কামনা ও অকুশলধর্ম হতে বিরত হয়ে বিতর্ক ও বিচার সহিত নির্জনতাজনিত প্রীতি-সুখসমন্বিত প্রথম ধ্যান লাভ করে অবস্থান করে। সে বিতর্ক ও বিচার প্রশমিত আধ্যাত্মিক সমপ্রসাদ ও একাগ্রতাযুক্ত অবিতর্ক এবং বিচারবিহীন সমাধিজনিত প্রীতি-সুখসমন্বিত দ্বিতীয় ধ্যান লাভ করে অবস্থান করে। প্রীতিতে বিরাগ উৎপন্ন হওয়ায় সে উপেক্ষাশীল হয়ে অবস্থান করে এবং স্মৃতিমান ও সম্প্রজ্ঞাত হয়ে কায়িক সুখ অনুভব করে। যে ধ্যানস্তরে উপনীত হলে আর্যগণ ‘উপেক্ষক স্মৃতিমান সুখবিহারী’ বলে অভিহিত করে সেই তৃতীয় ধ্যান লাভ করে অবস্থান করে। এবং আর্যশ্রাবকের শারীরিক সুখ ও দুঃখ প্রহাণের পূর্বেই মানসিক সৌমনস্য ও দৌর্মনস্য অস্তগত হয়, সেই না-সুখ, না-দুঃখ ‘উপেক্ষা-স্মৃতি-পরিশুদ্ধি’ নামক চতুর্থ ধ্যান লাভ করে অবস্থান করে। ভিক্ষুগণ, একেই বলা হয় সমাধি বল।

হে ভিক্ষুগণ, প্রজ্ঞাবল কিরূপ? ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে আর্যশ্রাবক প্রজ্ঞাবান হয়। উদয়-বিলয় জ্ঞানসম্পন্ন হয়, সম্যক দুঃখক্ষয়গামিনী আর্যোচিত্ত নির্বেদ (তীক্ষ্ণ) জ্ঞানসম্পন্ন হয়। ভিক্ষুগণ, ইহাকেই বলা হয় প্রজ্ঞাবল। ভিক্ষুগণ, এ সমস্ত হচ্ছে পঞ্চবল।”

বিস্তৃত সূত্র সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [০]