লোড হচ্ছে

The Numbered Discourses

AN5.57 বারংবার প্রত্যবেক্ষণীয় বিষয় সূত্র

অনুবাদসমূহ [২৩]

বারংবার প্রত্যবেক্ষণীয় বিষয় সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, স্ত্রী-পুরুষ, গৃহী এবং প্রব্রজিতের পাঁচটি বিষয় সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ করা উচিত। সেই পঞ্চ কী কী? যথা :

‘আমি জরাধর্মশীল (নিয়তক্ষয়শীল), জরাধর্ম হতে আমি মুক্ত নই।’ ইহা স্ত্রী-পুরুষ, গৃহী এবং প্রব্রজিতের সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ করা উচিত।

‘আমি ব্যাধিধর্মশীল। ব্যাধিধর্ম হতে আমি মুক্ত নই।’ ইহা স্ত্রী-পুরুষ, গৃহী এবং প্রব্রজিতের সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ করা উচিত। ‘আমি মরণধর্মশীল, মৃত্যু হতে আমি মুক্ত নই।’ ইহা স্ত্রী-পুরুষ, গৃহী এবং প্রব্রজিতের সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ করা উচিত।

‘আমার যে-সকল প্রিয় এবং মনোজ্ঞ আছে তা সবই অনিত্য এবং বিচ্ছেদশীল।’ ইহা স্ত্রী-পুরুষ, গৃহী এবং প্রব্রজিতের সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ করা উচিত।

‘কর্মই নিজের, আপন কর্মই পরিণতি বা ফলের জন্য দায়ী, কর্মই পুনর্জন্ম ধারণের আদি কারণ, কর্মই বন্ধু এবং কর্মই শরণ। আমি কল্যাণ কিংবা পাপ যে কর্মই সম্পাদন করব; সেই কর্মের ফল বা পরিণতিরই ভাগী হবো।’ ইহা স্ত্রী-পুরুষ, গৃহী এবং প্রব্রজিতের সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ করা উচিত।

ভিক্ষুগণ, কোন অর্থবশে, কী কারণে স্ত্রী-পুরুষ, গৃহী এবং প্রব্রজিতের সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ করা কর্তব্য যে, ‘আমি জরাধর্মশীল, জরাধর্ম হতে আমি মুক্ত নই?’

ভিক্ষুগণ, সত্ত্বগণের যৌবনে যৌবনমদ বা যৌবনের অহংকার (গর্ব) থাকে। যে মদে প্রমত্ত হয়ে তারা কায়িক, বাচনিক এবং মানসিক অন্যায় কর্ম সম্পাদন করে। তাই সেই বিষয় সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ দরুন (সত্ত্বগণের) যৌবনে যৌবনমদ সর্বতোভাবে প্রহীন হয় অথবা ক্ষীণ হয়। ভিক্ষুগণ, এই কারণেই, এই অর্থবশেই স্ত্রী-পুরুষ, গৃহী এবং প্রব্রজিতের সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ করা কর্তব্য যে, ‘আমি জরাধর্মশীল, জরাধর্ম হতে আমি মুক্ত নই।’

পুনঃ ভিক্ষুগণ, কোন অর্থবশে, কী কারণে স্ত্রী-পুরুষ, গৃহী এবং প্রব্রজিতের সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ করা কর্তব্য যে, ‘আমি ব্যাধিধর্মশীল, ব্যাধিধর্ম হতে আমি মুক্ত নই?’

ভিক্ষুগণ, সত্ত্বগণের আরোগ্যবশত অহংকার হয়। যে অহংকারে মত্ত হয়ে তারা কায়িক, বাচনিক এবং মানসিক অন্যায় কর্ম সম্পাদন করে। তাই সেই বিষয় সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ দরুন (সত্ত্বগণের) আরোগ্যবশত অহংকার সম্পূর্ণরূপে প্রহীন হয় অথবা ক্ষীণ হয়। ভিক্ষুগণ, এই কারণেই, অর্থবশেই স্ত্রী-পুরুষ, গৃহী এবং প্রব্রজিতের সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ করা কর্তব্য যে, ‘আমি ব্যাধিধর্মশীল, ব্যাধিধর্ম হতে আমি মুক্ত নই।’

পুনঃ ভিক্ষুগণ, কোন অর্থবশে, কী কারণে স্ত্রী-পুরুষ, গৃহী এবং প্রব্রজিতের সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ করা কর্তব্য যে, ‘আমি মরণধর্মশীল, মরণধর্ম হতে আমি মুক্ত নই?’

ভিক্ষুগণ, সত্ত্বগণের পূর্ণজীবন লাভের দরুন অহংকার উৎপন্ন হয়। যে অহংকারে মত্ত হয়ে তারা কায়িক, বাচনিক এবং মানসিক অন্যায় কর্ম সম্পাদন করে। তাই সেই বিষয় সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ দরুন (সত্ত্বগণের) পূর্ণজীবন লাভহেতু উৎপন্ন অহংকার সর্বতোভাবে প্রহীন হয় অথবা ক্ষীণ হয়। ভিক্ষুগণ, এই কারণেই, অর্থবশেই স্ত্রী-পুরুষ, গৃহী এবং প্রব্রজিতের সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ করা কর্তব্য যে, ‘আমি মরণধর্মশীল, মরণধর্ম হতে আমি মুক্ত নই।’

পুনঃ ভিক্ষুগণ, কোন অর্থবশে, কী কারণে স্ত্রী-পুরুষ, গৃহী এবং প্রব্রজিতের সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ করা কর্তব্য যে, ‘আমার যে-সকল প্রিয় এবং মনোজ্ঞ আছে তা সবই অনিত্য এবং বিচ্ছেদশীল?’

ভিক্ষুগণ, সত্ত্বগণের প্রিয় এবং মনোজ্ঞ বিষয়েতে ছন্দরাগ (ইচ্ছামূলক অনুরাগ) আছে। যে অনুরাগের দ্বারা অনুরক্ত হয়ে তারা কায়িক, বাচনিক এবং মানসিক অন্যায় কর্ম সম্পাদন করে। তাই সেই বিষয় সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ দরুন (সত্ত্বগণের) প্রিয় এবং মনোজ্ঞ বিষয়েতে ছন্দরাগ সর্বতোভাবে প্রহীন হয় অথবা ক্ষীণ হয়। ভিক্ষুগণ, এই কারণেই, অর্থবশেই স্ত্রী-পুরুষ, গৃহী এবং প্রব্রজিতের সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ করা কর্তব্য যে, ‘আমার যে-সকল প্রিয় এবং মনোজ্ঞ আছে তা সবই অনিত্য এবং বিচ্ছেদশীল।’

পুনঃ ভিক্ষুগণ, কোন অর্থবশে, কী কারণে স্ত্রী-পুরুষ, গৃহী এবং প্রব্রজিতের সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ করা কর্তব্য যে, ‘কর্মই নিজের, আপন কর্মই পরিণতি বা ফলের জন্য দায়ী, কর্মই পুনর্জন্ম ধারণের আদি কারণ, কর্মই বন্ধু এবং কমই শরণ। আমি কল্যাণ কিংবা পাপ যেই কর্মই সম্পাদন করব; সেই কর্মের ফল বা পরিণতিরই ভাগী হবো?’

ভিক্ষুগণ, সত্ত্বগণের কায়িক, বাচনিক এবং মানসিক দুশ্চরিত্র বা অসদাচরণ আছে, তাই সেই বিষয় সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ দরুন (সত্ত্বগণের) সর্বতোভাবে দুশ্চরিত্রাদি প্রহীন হয় অথবা ক্ষীণ হয়। ভিক্ষুগণ, এই কারণেই, অর্থবশেই স্ত্রী-পুরুষ, গৃহী এবং প্রব্রজিতের সর্বদা প্রত্যবেক্ষণ করা কর্তব্য যে, ‘কর্মই নিজের, আপন কর্মই পরিণতি বা ফলের জন্য দায়ী, কর্মই পুনর্জন্ম ধারণের আদি কারণ, কর্মই বন্ধু এবং কর্মই শরণ। আমি কল্যাণ কিংবা পাপ যেই কর্মই সম্পাদন করব; সেই কর্মের ফল বা পরিণতিরই ভাগী হবো।’

ভিক্ষুগণ, সেই আর্যশ্রাবক এইরূপ বিবেচনা করে যে ‘শুধুমাত্র আমিই জরাধর্মশীল; জরাধর্ম হতে আমি মুক্ত নই, তা নহে। অধিকন্তু, যতদূর পর্যন্ত সত্ত্বগণের উপস্থিতি, গতি, চ্যুতি এবং পুনর্জন্ম, ততদূর পর্যন্ত সকল সত্ত্ব জরাধর্মশীল এবং জরাধর্ম হতে অবিমুক্ত। তার সেই বিষয় অবিচ্ছিন্নরূপে প্রত্যবেক্ষণ দরুন মার্গ উৎপন্ন হয়। সে সেই মার্গ অনুস্মরণ করে, তাতে মনোনিবেশ করে এবং বারংবার অনুশীলন করে। তার সেই মার্গ অনুস্মরণ, মনোনিবেশ এবং বহুলীকরণের দরুন সংযোজনাদি সম্পূর্ণরূপে প্রহীন হয় ও অনুশয়সমূহের বিলোপ সাধিত হয়।”

“হে ভিক্ষুগণ, সেই আর্যশ্রাবক এই রূপ বিবেচনা করে যে ‘শুধুমাত্র আমিই ব্যাধিধর্মশীল; ব্যাধিধর্ম হতে আমি মুক্ত নই, তা নহে। অধিকন্তু, যতদূর পর্যন্ত সত্ত্বগণের উপস্থিতি, গতি, চ্যুতি এবং পুনর্জন্ম, ততদূর পর্যন্ত সকল সত্ত্ব ব্যাধিধর্মশীল এবং ব্যাধিধর্ম হতে অবিমুক্ত তার সেই বিষয় অবিচ্ছিন্নরূপে প্রত্যবেক্ষণ দরুন মার্গ উৎপন্ন হয়। সে সেই মার্গ অনুস্মরণ করে, তাতে মনোনিবেশ করে এবং বারংবার অনুশীলন করে। তার সেই মার্গ অনুস্মরণ, মনোনিবেশ এবং বহুলীকরণের দরুন সংযোজনাদি সম্পূর্ণরূপে প্রহীন হয় ও অনুশয়সমূহের বিলোপ সাধিত হয়।

ভিক্ষুগণ, সেই আর্যশ্রাবক এইরূপ বিবেচনা করে যে ‘শুধুমাত্র আমিই মরণধর্মশীল, মরণধর্ম হতে আমি মুক্ত নই, তা নহে। অধিকন্তু, যতদূর পর্যন্ত সত্ত্বগণের উপস্থিতি, গতি, চ্যুতি এবং পুনর্জন্ম, ততদূর পর্যন্ত সকল সত্ত্ব মরণশীল এবং মরণধর্ম হতে অবিমুক্ত। তার সেই বিষয় অবিচ্ছিন্নরূপে প্রত্যবেক্ষণ দরুন মার্গ উৎপন্ন হয়। সে সেই মার্গ অনুস্মরণ করে, তাতে মনোনিবেশ করে এবং বারংবার অনুশীলন করে। তার সেই মার্গ অনুস্মরণ, মনোনিবেশ এবং বহুলীকরণের দরুন সংযোজনাদি সম্পূর্ণরূপে প্রহীন হয় ও অনুশয়সমূহের বিলোপ সাধিত হয়।

ভিক্ষুগণ, সেই আর্যশ্রাবক এইরূপ বিবেচনা করে যে ‘শুধুমাত্র আমার যে-সকল প্রিয় ও মনোজ্ঞ আছে তা সবই অনিত্য এবং বিচ্ছেদশীল, তা নহে। অধিকন্তু, যতদূর পর্যন্ত সত্ত্বগণের উপস্থিতি, গতি, চ্যুতি এবং পুনর্জন্ম, ততদূর পর্যন্ত সকল সত্ত্বের যে-সকল প্রিয় ও মনোজ্ঞ আছে তা সবই অনিত্য এবং বিচ্ছেদশীল।’ তার সেই বিষয় অবিচ্ছিন্নরূপে প্রত্যবেক্ষণ দরুন মার্গ উৎপন্ন হয়। সে সেই মার্গ অনুস্মরণ করে, তাতে মনোনিবেশ করে এবং বারংবার অনুশীলন করে। তার সেই মার্গ অনুস্মরণ, মনোনিবেশ এবং বহুলীকরণের দরুন সংযোজনাদি সম্পূর্ণরূপে প্রহীন হয় ও অনুশয়সমূহের বিলোপ সাধিত হয়।

ভিক্ষুগণ, সেই আর্যশ্রাবক এইরূপ বিবেচনা করে যে ‘শুধুমাত্র আমার কর্মই নিজের আপন কর্মই পরিণতির জন্য দায়ী, কর্মই পুনর্জন্মের কারণ, কর্মই বন্ধু এবং কর্মই শরণ। আমি কল্যাণ কিংবা পাপ যেই কর্মই সম্পাদন করব; সেই কর্মেই পরিণতিরই ভাগী হবো-তা নহে। অধিকন্তু, যতদূর পর্যন্ত সত্ত্বগণের উপস্থিতি, গতি, চ্যুতি এবং পুনর্জন্ম, ততদূর পর্যন্ত সকল সত্ত্বের কর্মই নিজের, আপন কর্মই পরিণতির জন্য দায়ী, কর্মই পুনর্জন্মের কারণ, কর্মই বন্ধু এবং কর্মই শরণ।’ তার সেই বিষয় অবিচ্ছিন্নরূপে প্রত্যবেক্ষণ দরুন মার্গ উৎপন্ন হয়। সে সেই মার্গ অনুস্মরণ করে, তাতে মনোনিবেশ করে এবং বারংবার অনুশীলন করে। তার সেই মার্গ অনুস্মরণ, মনোনিবেশ এবং বহুলীকরণের দরুন সংযোজনাদি সম্পূর্ণরূপে প্রহীন হয় ও অনুশয়সমূহের বিলোপ সাধিত হয়।”

ব্যাধি, জরা, আরও মরণধর্ম মিলে ত্রয়,
পৃথগ্‌জনের নিকট তা ঘৃণ্য অতিশয়;
সে ধর্মের হাতও ঘৃণ্য আমার মহাশয়,
মম সদৃশ বিহারীর তা যথাযোগ্য নয়।
উপধিহীন নিষ্কলুষ, আর্যধর্ম কান্ত,
এরূপ বিহরণকালে হই তাতে বিজ্ঞাত;
আরোগ্য, যৌবন, জীবিতরূপ অহংকার যত,
অভিভূ তাতে আমি নৈষ্ক্রম্যে দেখে নিয়ত।
উৎসাহ তাই আমার মাঝে করে বিহরণ,
নির্বাণ যেন করিতে পারি আমি সন্দর্শন;
সেহেতু এখন ভোগ্য সুখে নইতো নিমজ্জিত,
ব্রহ্মচারী হয়ে হবো নির্বাণগামী সুদান্ত।”

বারংবার প্রত্যবেক্ষণীয় বিষয় সূত্র সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [০]