লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৪]

জেলে সূত্র

একদা ভগবান মহতী ভিক্ষুসংঘের সাথে কোশলরাজ্যে পর্যটন করছিলেন। ভগবান কোশলের অর্ধপথে উপনীত হয়ে এক প্রদেশে জনৈক জেলেকে জাল দ্বারা মাছ ধরে বিক্রয় করতে দেখলেন। তা দেখে রাস্তা হতে অবতরণপূর্বক এক বৃক্ষমূলের প্রজ্ঞাপ্ত আসনে বসলেন। তথায় উপবিষ্ট হয়ে ভগবান ভিক্ষুদের ডেকে বললেন :

“হে ভিক্ষুগণ, তোমরা অমুক জেলেকে জাল দ্বারা মাছ ধরে বিক্রয় করতে দেখো নাই?”

“ভন্তে, আমরা তা দেখেছি।”

“ভিক্ষুগণ, তা তোমরা কিরূপ মনে করো, তা কি তোমাদের দৃষ্ট বা শ্রুত হয়েছে যে ‘কোনো জেলে জাল দ্বারা মাছ ধরে বিক্রয় করে করে তাদৃশ কর্ম দ্বারা, সেরূপ জীবিকানির্বাহ দ্বারা হস্তীর পিঠে আরোহণপূর্বক গমন করতে পেরেছে, কিংবা অশ্ব, রথ বা অন্য কোনো বাহনে আরূঢ় হতে পেরেছে, অথবা মহাভোগ্যসম্পত্তি ভোগ করতে বা ভোগ্যসম্পত্তিতে বাস করতে পেরেছে?’”

“না ভন্তে, তা আমাদের দ্বারা দৃষ্ট কিংবা শ্রুত হয়নি।”

“সাধু ভিক্ষুগণ, আমার দ্বারাও তা দৃষ্ট কিংবা শ্রুত হয়নি যে, কোনো জেলে জাল দ্বারা মাছ ধরে বিক্রয় করে করে তাদৃশ কর্ম দ্বারা, সেরূপ জীবিকানির্বাহ দ্বারা হস্তীর পিঠে আরোহণপূর্বক গমন করতে পেরেছে, কিংবা অশ্ব, রথ বা অন্য কোনো বাহনে আরূঢ় হতে পেরেছে, অথবা মহাভোগ্যসম্পত্তি ভোগ করতে বা ভোগ্যসম্পত্তিতে বাস করতে পেরেছে।’ তার কারণ কী? কারণ হচ্ছে, ভিক্ষুগণ, সেই জেলে বধ্য ও হত্যার জন্য আনীত মৎস্যসমূহকে পাপচিত্তে বিবেচনা করে। তাই সে হস্তী, অশ্ব, রথ, কিংবা অন্য কোনো বাহনে আরূঢ় হয়ে গমন করতে সক্ষম হয় না এবং মহাভোগ্যসম্পত্তি ভোগকারী হয় না ও ভোগ্যরাশিতে বাস করতেও পারে না।

“ভিক্ষুগণ, তা তোমরা কিরূপ মনে করো, তা কি তোমাদের দৃষ্ট বা শ্রুত হয়েছে যে ‘কোনো কসাই পশু বধ করে করে তাদৃশ কর্ম দ্বারা, সেরূপ জীবিকানির্বাহ দ্বারা হস্তীর পিঠে আরোহণপূর্বক গমন করতে পেরেছে, কিংবা অশ্ব, রথ বা অন্য কোনো বাহনে আরূঢ় হতে পেরেছে, অথবা মহাভোগ্যসম্পত্তি ভোগ করতে বা ভোগ্যসম্পত্তিতে বাস করতে পেরেছে?’”

“না ভন্তে, তা আমাদের দ্বারা দৃষ্ট কিংবা শ্রুত হয়নি।”

“সাধু ভিক্ষুগণ, আমার দ্বারাও তা দৃষ্ট কিংবা শ্রুত হয়নি যে ‘কোনো কসাই পশু বধ করে করে তাদৃশ কর্ম দ্বারা, সেরূপ জীবিকানির্বাহ দ্বারা হস্তীর পিঠে আরোহণপূর্বক গমন করতে পেরেছে, কিংবা অশ্ব, রথ বা অন্য কোনো বাহনে আরূঢ় হতে পেরেছে, অথবা মহাভোগ্যসম্পত্তি ভোগ করতে বা ভোগ্যসম্পত্তিতে বাস করতে পেরেছে।’ তার কারণ কী? কারণ হচ্ছে, ভিক্ষুগণ, সেই কসাই বধ্য ও হত্যার জন্য আনীত পশুদের পাপচিত্তে বিবেচনা করে। তাই সে হস্তী, অশ্ব, রথ, কিংবা অন্য কোনো বাহনে আরূঢ় হয়ে গমন করতে সক্ষম হয় না এবং মহাভোগ্যসম্পত্তি ভোগকারী হয় না ভোগ্যরাশিতেও বাস করতে পারে না।

“ভিক্ষুগণ, তা তোমরা কিরূপ মনে করো, তা কি তোমাদের দৃষ্ট বা শ্রুত হয়েছে যে ‘কোনো শুকরিক (শুকরের মাংস ব্যবসায়ী) মাংস ব্যবসা করে করে তাদৃশ কর্ম দ্বারা, সেরূপ জীবিকানির্বাহ দ্বারা হস্তীর পিঠে আরোহণপূর্বক গমন করতে পেরেছে, কিংবা অশ্ব, রথ বা অন্য কোনো বাহনে আরূঢ় হতে পেরেছে, অথবা মহাভোগ্যসম্পত্তি ভোগ করতে বা ভোগ্যসম্পত্তিতে বাস করতে পেরেছে?’”

“না ভন্তে, তা আমাদের দ্বারা দৃষ্ট কিংবা শ্রুত হয়নি।”

“সাধু ভিক্ষুগণ, আমার দ্বারাও তা দৃষ্ট কিংবা শ্রুত হয়নি যে ‘কোনো শুকরিক মাংস ব্যবসা করে করে তাদৃশ কর্ম দ্বারা, সেরূপ জীবিকানির্বাহ দ্বারা হস্তীর পিঠে আরোহণপূর্বক গমন করতে পেরেছে, কিংবা অশ্ব, রথ বা অন্য কোনো বাহনে আরূঢ় হতে পেরেছে, অথবা মহাভোগ্যসম্পত্তি ভোগ করতে বা ভোগ্যসম্পত্তিতে বাস করতে পেরেছে।’ তার কারণ কী? কারণ হচ্ছে, ভিক্ষুগণ, সেই শুকরিক বধ্য ও হত্যার জন্য আনীত শুকরদের পাপচিত্তে বিবেচনা করে। তাই সে হস্তী, অশ্ব, রথ, কিংবা অন্য কোনো বাহনে আরূঢ় হয়ে গমন করতে সক্ষম হয় না এবং মহাভোগ্যসম্পত্তি ভোগকারী হয় না, ভোগ্যরাশিতেও বাস করতে পারে না।

“ভিক্ষুগণ, তা তোমরা কিরূপ মনে করো, তা কী তোমাদের দৃষ্ট বা শ্রুত হয়েছে যে ‘কোনো পক্ষী শিকারী পাখি শিকার করে করে তাদৃশ কর্ম দ্বারা, সেরূপ জীবিকানির্বাহ দ্বারা হস্তীর পিঠে আরোহণপূর্বক গমন করতে পেরেছে, কিংবা অশ্ব, রথ বা অন্য কোনো বাহনে আরূঢ় হতে পেরেছে, অথবা মহাভোগ্যসম্পত্তি ভোগ করতে বা ভোগ্যসম্পত্তিতে বাস করতে পেরেছে?’”

“না ভন্তে, তা আমাদের দ্বারা দৃষ্ট কিংবা শ্রুত হয়নি।”

“সাধু ভিক্ষুগণ, আমার দ্বারাও তা দৃষ্ট কিংবা শ্রুত হয়নি যে ‘কোনো পক্ষী শিকারী পাখি শিকার করে করে তাদৃশ কর্ম দ্বারা, সেরূপ জীবিকানির্বাহ দ্বারা হস্তীর পিঠে আরোহণপূর্বক গমন করতে পেরেছে, কিংবা অশ্ব, রথ বা অন্য কোনো বাহনে আরূঢ় হতে পেরেছে, অথবা মহাভোগ্যসম্পত্তি ভোগ করতে বা ভোগ্যসম্পত্তিতে বাস করতে পেরেছে।’ তার কারণ কী? কারণ হচ্ছে, ভিক্ষুগণ, সেই পক্ষী শিকারী হত্যার জন্য পাখিদের পাপচিত্তে বিবেচনা করে। তাই সে হস্তী, অশ্ব, রথ, কিংবা অন্য কোনো বাহনে আরূঢ় হয়ে গমন করতে সক্ষম হয় না এবং মহাভোগ্যসম্পত্তি ভোগকারী হয় না, ভোগ্যরাশিতেও বাস করতে পারে না।

“ভিক্ষুগণ, তা তোমরা কিরূপ মনে করো, তা কি তোমাদের দৃষ্ট বা শ্রুত হয়েছে যে ‘কোনো পশু শিকারী পশু শিকার করে করে তাদৃশ কর্ম দ্বারা, সেরূপ জীবিকানির্বাহ দ্বারা হস্তীর পিঠে আরোহণপূর্বক গমন করতে পেরেছে, কিংবা অশ্ব, রথ বা অন্য কোনো বাহনে আরূঢ় হতে পেরেছে, অথবা মহাভোগ্যসম্পত্তি ভোগ করতে বা ভোগ্যসম্পত্তিতে বাস করতে পেরেছে?’”

“না ভন্তে, তা আমাদের দ্বারা দৃষ্ট কিংবা শ্রুত হয়নি।”

“সাধু ভিক্ষুগণ, আমার দ্বারাও তা দৃষ্ট কিংবা শ্রুত হয়নি যে ‘কোনো পশুশিকারী পশু শিকার করে করে তাদৃশ কর্ম দ্বারা, সেরূপ জীবিকানির্বাহ দ্বারা হস্তীর পিঠে আরোহণপূর্বক গমন করতে পেরেছে, কিংবা অশ্ব, রথ বা অন্য কোনো বাহনে আরূঢ় হতে পেরেছে, অথবা মহাভোগ্যসম্পত্তি ভোগ করতে বা ভোগ্যসম্পত্তিতে বাস করতে পেরেছে।’ তার কারণ কী? কারণ হচ্ছে, ভিক্ষুগণ, সেই পশুশিকারী বধ্য ও হত্যার জন্য পশুদের পাপচিত্তে বিবেচনা করে। তাই সে হস্তী, অশ্ব, রথ, কিংবা অন্য কোনো বাহনে আরূঢ় হয়ে গমন করতে সক্ষম হয় না এবং মহাভোগ্যসম্পত্তি ভোগকারী হয় না, ভোগ্যরাশিতেও বাস করতে পারে না।

ভিক্ষুগণ, বধ্য ও হত্যার জন্য আনীত সেই তির্যক প্রাণীদের হত্যাকারী ব্যক্তি তাদৃশ কর্মহেতু হস্তী, অশ্ব, রথ কিংবা অন্য কোনো যানারূঢ় হবে এবং মহাভোগ্যসম্পত্তি ভোগী ও মহাভোগ্যরাশিতে বাস করবে, তা কখনোই সম্ভব নয়। আর যে বধ্য ও হত্যার জন্য আনীত মনুষ্যদের পাপচিত্তে বিবেচনা করে, তার সম্পর্কে কী-বা বলার আছে, ভিক্ষুগণ, তা নিশ্চয়ই তার দীর্ঘদিনের অহিত ও দুঃখের কারণ হয়। সে কায়ভেদে মৃত্যুর পর অপায়, দুর্গতি, বিনিপাত নিরয়ে উৎপন্ন হয়।”

জেলে সূত্র সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [০]