লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২০]

অন্তর্ভেদী সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, আমি তোমাদের অন্তর্ভেদী (বা সূক্ষ্ম-পর্যায়) তথা ধর্ম-পর্যায় দেশনা করব। তা শ্রবণ করো, উত্তরূপে মনোযোগ দাও। আমি ভাষণ করব।”

“হ্যাঁ ভন্তে,” বলে সেই ভিক্ষুরা ভগবানকে প্রত্যুত্তর দিলে ভগবান বলতে লাগলেন :

হে ভিক্ষুগণ, সেই সূৰ-পর্যায় তথা ধর্ম-পর্যায় কিরূপ? যথা :

ভিক্ষুগণ, কামসমূহ জ্ঞাতব্য, কামসমূহের আদি কারণও (উৎপত্তি স্থান) জ্ঞাতব্য, কামাদির পার্থক্যও জানা উচিত, কামসমূহের পরিণাম, কামসমূহের নিরোধ এবং কামসমূহ নিরোধের উপায়ও জ্ঞাতব্য।

ভিক্ষুগণ, বেদনাসমূহ জ্ঞাতব্য, বেদনাসমূহের আদি কারণও (উৎপত্তি স্থান) জ্ঞাতব্য, বেদনাদির পার্থক্যও জানা উচিত, বেদনাসমূহের পরিণাম, বেদনাসমূহের নিরোধ এবং বেদনাসমূহ নিরোধের উপায়ও জ্ঞাতব্য।

ভিক্ষুগণ, সংজ্ঞাসমূহ জ্ঞাতব্য, সংজ্ঞাসমূহের আদি কারণও (উৎপত্তি স্থান) জ্ঞাতব্য, সংজ্ঞাদির পার্থক্যও জানা উচিত, সংজ্ঞাসমূহের পরিণাম, সংজ্ঞাসমূহের নিরোধ এবং সংজ্ঞাসমূহ নিরোধের উপায়ও জ্ঞাতব্য।

ভিক্ষুগণ, আসবসমূহ জ্ঞাতব্য, আসবসমূহের আদি কারণও (উৎপত্তি স্থান) জ্ঞাতব্য, আসবাদির পার্থক্যও জানা উচিত, আসবসমূহের পরিণাম, আসবসমূহের নিরোধ এবং আসবসমূহ নিরোধের উপায়ও জ্ঞাতব্য।

ভিক্ষুগণ, কর্মাদি জ্ঞাতব্য, কর্মসমূহের আদি কারণও (উৎপত্তি স্থান) জ্ঞাতব্য, কর্মাদির পার্থক্যও জানা উচিত, কর্মসমূহের পরিণাম, কর্মসমূহের নিরোধ এবং কর্মসমূহ নিরোধের উপায়ও জ্ঞাতব্য।

ভিক্ষুগণ, দুঃখসমূহ জ্ঞাতব্য, দুঃখসমূহের আদি কারণও (উৎপত্তি স্থান) জ্ঞাতব্য, দুঃখাদির পার্থক্যও জানা উচিত, দুঃখসমূহের পরিণাম, দুঃখসমূহের নিরোধ এবং দুঃখসমূহ নিরোধের উপায়ও জ্ঞাতব্য।

ভিক্ষুগণ, এই যে বলা হয়েছে-কামসমূহ জ্ঞাতব্য, কামসমূহের আদি কারণও (উৎপত্তি স্থান) জ্ঞাতব্য, কামাদির পার্থক্যও জানা উচিত, কামসমূহের পরিণাম, কামসমূহের নিরোধ এবং কামসমূহ নিরোধের উপায়ও জ্ঞাতব্য। তা কীজন্য বলা হয়েছে? ভিক্ষুগণ, কামগুণ পাঁচ প্রকার। যথা : চক্ষু দ্বারা দর্শনযোগ্য রূপ, কর্ণ দ্বারা শ্রবণযোগ্য শব্দ, নাসিকা দ্বারা আঘ্রাণযোগ্য গন্ধ, জিহ্বা দ্বারা আস্বাদনযোগ্য রস এবং কায় দ্বারা অনুভূতিযোগ্য স্পর্শ। সে-সমস্তই ইষ্ট, কান্ত, মনোজ্ঞ, প্রিয়রূপ (দৃষ্টির আকর্ষণীয় বস্তু), কামোদ্দীপক এবং প্রলোভনকারী। কিন্তু, ভিক্ষুগণ, এইসব কাম নহে। আর্য-বিনয়ে এসবকে কামগুণ নামে অভিহিত করা হয়।

“ইচ্ছাবশে জাত আসক্তি হচ্ছে মানবের কাম,
জগতের বৈচিত্র্যময় বিষয়াদি কদাচ কাম নহে।
সংকল্প রাগই মানবের কাম,
এরূপ কারণেই জগৎ মাঝে বৈচিত্র্য বিদ্যমান,
হলেও পণ্ডিত, ধীর আসক্তির দমন করে থাকেন।”

ভিক্ষুগণ, কামসমূহের আদি কারণ কী? যথা : ভিক্ষুগণ, স্পর্শই কামসমূহের আদি কারণ।

ভিক্ষুগণ, কামাদির পার্থক্য কী? যথা : ভিক্ষুগণ, এক প্রকার কাম রূপের প্রতি, শব্দের প্রতি অন্য প্রকার কাম, গন্ধের প্রতি অন্যরকম কাম, রসের প্রতি অন্যরকম কাম এবং স্পর্শের প্রতি অন্য প্রকার কাম (বা ইন্দ্রিয়পরতা) আছে। আর একেই বলা হয় কামাদির পার্থক্য।

ভিক্ষুগণ, কামসমূহের পরিণতি কী? যথা : ভিক্ষুগণ, পুণ্যভাগী কিংবা অপুণ্যভাগী কামভোগী জন সেই হেতু হতে জাত আত্মপ্রকৃতি লাভ করে। আর একেই বলা হয় কামসমূহের পরিণাম।

ভিক্ষুগণ, কামসমূহের নিরোধ কিরূপ? যথা : ভিক্ষুগণ, স্পর্শের নিরোধই কামসমূহের নিরোধ হয়। এবং কামাদি নিরোধের উপায় হচ্ছে এই আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ; যেমন : সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক আজীব, সম্যক প্রচেষ্টা, সম্যক স্মৃতি এবং সম্যক সমাধি।

যেহেতু ভিক্ষুগণ, আর্যশ্রাবক এরূপে কামসমূহকে প্রকৃষ্টরূপে জানে, কামাদির আদি কারণ, পার্থক্য, পরিণতি, নিরোধ এবং নিরোধের উপায়ও প্রকৃষ্টরূপে জানে; তাই সে এই অন্তর্ভেদী ব্রহ্মচর্যায় কামসমূহের নিরোধকে প্রকৃষ্টরূপে জানতে পারে। ভিক্ষুগণ, এই কারণে বলা হয়েছে যে, ‘কামসমূহ জ্ঞাতব্য, কামসমূহের আদি কারণও (উৎপত্তি স্থান) জ্ঞাতব্য, কামাদির পার্থক্যও জানা উচিত, কামসমূহের পরিণাম, কামসমূহের নিরোধ এবং কামসমূহ নিরোধের উপায়ও জ্ঞাতব্য।’

ভিক্ষুগণ, বেদনাসমূহ (অনুভূতি) জ্ঞাতব্য, বেদনাসমূহের আদি কারণও (উৎপত্তি স্থান) জ্ঞাতব্য, বেদনাদির পার্থক্যও জানা উচিত, বেদনাসমূহের পরিণাম, বেদনাসমূহের নিরোধ এবং বেদনাসমূহ নিরোধের উপায়ও জ্ঞাতব্য।’ তা কিজন্য বলা হয়েছে? ভিক্ষুগণ, বেদনা ত্রিবিধ। যথা : সুখবেদনা (সুখানুভূতি), দুঃখবেদনা এবং অদুঃখ-অসুখ বা উপেক্ষা অনুভূতি।

ভিক্ষুগণ, বেদনাসমূহের আদি কারণ কী? যথা : ভিক্ষুগণ, স্পর্শই হচ্ছে বেদনাদির আদি কারণ।

ভিক্ষুগণ, বেদনাদির পার্থক্য কী? যথা : ভিক্ষুগণ, আমিষ সুখবেদনা (আসক্তিপূর্ণ সুখানুভূতি) আছে। নিরামিষ সুখবেদনাও রয়েছে। আমিষ দুঃখবেদনা এবং নিরামিষ দুঃখবেদনা আছে। আবার, আমিষ উপেক্ষাবেদনা ও নিরামিষ উপেক্ষাবেদনাও রয়েছে। আর একই বলা হয় বেদনাদির পার্থক্য।

ভিক্ষুগণ, বেদনাসমূহের পরিণতি কী? যথা : ভিক্ষুগণ, পুণ্যভাগী কিংবা অপুণ্যভাগী অনুভূতিশীল ব্যক্তি সেই হেতু হতে জাত আত্ম অবস্থা বা প্রকৃতি লাভ করে। একেই বলা হয় বেদনাসমূহের পরিণাম।

ভিক্ষুগণ, বেদনাসমূহের নিরোধ কিরূপ? যথা : ভিক্ষুগণ, স্পর্শের নিরোধেই বেদনাসমূহের নিরোধ হয়। এবং বেদনাদি নিরোধের উপায় হচ্ছে আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ; যেমন : সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক আজীব, সম্যক প্রচেষ্টা, সম্যক স্মৃতি এবং সম্যক সমাধি।

যেহেতু ভিক্ষুগণ, আর্যশ্রাবক এরূপে বেদনাসমূহকে প্রকৃষ্টরূপে জানে, বেদনাদির আদি কারণ, পার্থক্য, পরিণতি, নিরোধ এবং নিরোধের উপায়ও প্রকৃষ্টরূপে জানে; তাই সে এই অন্তর্ভেদী ব্রহ্মচর্যায় বেদনাসমূহের নিরোধকে প্রকৃষ্টরূপে জানতে পারে। ভিক্ষুগণ, এই কারণে বলা হয়েছে যে, ‘বেদনাসমূহ জ্ঞাতব্য, বেদনাসমূহের আদি কারণও (উৎপত্তি স্থান) জ্ঞাতব্য, বেদনাদির পার্থক্যও জানা উচিত, বেদনাসমূহের পরিণাম, বেদনাসমূহের নিরোধ এবং বেদনাসমূহ নিরোধের উপায়ও জ্ঞাতব্য।’

ভিক্ষুগণ, সংজ্ঞাসমূহ জ্ঞাতব্য, সংজ্ঞাসমূহের আদি কারণও (উৎপত্তি স্থান) জ্ঞাতব্য, সংজ্ঞাদির পার্থক্যও জানা উচিত, সংজ্ঞাসমূহের পরিণাম, সংজ্ঞাসমূহের নিরোধ এবং সংজ্ঞাসমূহ নিরোধের উপায়ও জ্ঞাতব্য।’ তা কীজন্য বলা হয়েছে? ভিক্ষুগণ, সংজ্ঞা ছয় প্রকার। যথা : রূপ-সংজ্ঞা, শব্দ-সংজ্ঞা, গন্ধ-সংজ্ঞা, রস-সংজ্ঞা, স্পর্শ-সংজ্ঞা এবং ধর্ম-সংজ্ঞা।

ভিক্ষুগণ, সংজ্ঞাসমূহের উৎপত্তিস্থল তথা আদি কারণ কী? যথা : ভিক্ষুগণ, স্পর্শ হচ্ছে সংজ্ঞাসমূহের আদি কারণ।

ভিক্ষুগণ, সংজ্ঞাসমূহের পার্থক্য কী? যথা : ভিক্ষুগণ, রূপের প্রতি পৃথক-সংজ্ঞা, শব্দের প্রতিও পৃথক-সংজ্ঞা, এভাবে গন্ধ, রস, স্পর্শ ও ধর্মের (বা মন দ্বারা বিজ্ঞাত বিষয়) প্রতিও পৃথক পৃথক-সংজ্ঞা হয়। আর একেই বলা হয় সংজ্ঞাসমূহের পার্থক্য।

ভিক্ষুগণ, সংজ্ঞাসমূহের পরিণাম কী? যথা : ভিক্ষুগণ, বোহার বা অভ্যাসের পরিণামকে আমি সংজ্ঞা বলি। যেমন কেউ কোনো কিছু জ্ঞাত হলে, সে অন্যকে বলে যে, ‘আমি এরূপ সংজ্ঞী।’ একেই বলা হয় সংজ্ঞাদির পরিণাম।

ভিক্ষুগণ, সংজ্ঞাসমূহের নিরোাধ কিরূপ? যথা : ভিক্ষুগণ, স্পর্শের নিরোধেই সংজ্ঞাসমূহের নিরোধ হয়। এবং সংজ্ঞাসমূহ নিরোধের উপায় হচ্ছে আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ; যেমন : সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক আজীব, সম্যক প্রচেষ্টা, সম্যক স্মৃতি এবং সম্যক সমাধি।

যেহেতু ভিক্ষুগণ, আর্যশ্রাবক এরূপে সংজ্ঞাসমূহকে প্রকৃষ্টরূপে জানে, সংজ্ঞাদির আদি কারণ, পার্থক্য, পরিণতি, নিরোধ এবং নিরোধের উপায়ও প্রকৃষ্টরূপে জানে; তাই সে এই অন্তর্ভেদী ব্রহ্মচর্যায় সংজ্ঞাসমূহের নিরোধকে প্রকৃষ্টরূপে জানতে পারে। ভিক্ষুগণ, এই কারণে বলা হয়েছে যে, ‘সংজ্ঞাসমূহ জ্ঞাতব্য, সংজ্ঞাসমূহের আদি কারণও (উৎপত্তি স্থান) জ্ঞাতব্য, সংজ্ঞাদির পার্থক্যও জানা উচিত, সংজ্ঞাসমূহের পরিণাম, সংজ্ঞাসমূহের নিরোধ এবং সংজ্ঞাসমূহ নিরোধের উপায়ও জ্ঞাতব্য।’

ভিক্ষুগণ, আসবসমূহ জ্ঞাতব্য, আসবসমূহের আদি কারণও জ্ঞাতব্য, আসবাদির পার্থক্যও জানা উচিত, আসবসমূহের পরিণাম, আসবসমূহের নিরোধ এবং আসবসমূহ নিরোধের উপায়ও জ্ঞাতব্য।’ তা কীজন্য বলা হয়েছে? ভিক্ষুগণ, আসব তিন প্রকার। যথা : কাম-আসব, ভব-আসব এবং অবিদ্যা-আসব।

ভিক্ষুগণ, আসবসমূহের আদি কারণ কী? যথা : ভিক্ষুগণ, অবিদ্যাই আসবসমূহের আদি কারণ।

ভিক্ষুগণ, আসবসমূহের পার্থক্য কী? যথা : ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো আসব আছে যা নিরয় গমনের কারণ হয়, কোনো কোনো আসবের জন্য তীর্যক গতি হয়, কোনো কোনো আসবের জন্য প্রেত গতি হয়, কোনো কোনো আসব আছে যার দরুন মনুষ্য গতি লাভ হয় এবং কোনো কোনো আসব আছে যা দেবলোকে গমনের কারণ হয়। একেই বলা হয় আসবসমূহের পার্থক্য।

ভিক্ষুগণ, আসবসমূহের পরিণতি কী? যথা : ভিক্ষুগণ, পুণ্যভাগী কিংবা অপুণ্যভাগী অবিদ্যাচ্ছন্ন ব্যক্তি সেই হেতু হতে জাত আত্মপ্রকৃতি লাভ করে। একেই বলা হয় আসবসমূহের পরিণাম।

ভিক্ষুগণ, আসবসমূহের নিরোধ কিরূপ? যথা : ভিক্ষুগণ, অবিদ্যার নিরোধেই আসবসমূহের নিরোধ হয়। এবং আসবসমূহ নিরোধের উপায় হচ্ছে আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ; যেমন : সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক আজীব, সম্যক প্রচেষ্টা, সম্যক স্মৃতি এবং সম্যক সমাধি।

যেহেতু ভিক্ষুগণ, আর্যশ্রাবক এরূপে আসবসমূহকে প্রকৃষ্টরূপে জানে, আসবসমূহের আদি কারণ, পার্থক্য, পরিণতি, নিরোধ এবং নিরোধের উপায়ও প্রকৃষ্টরূপে জানে; তাই সে এই অন্তর্ভেদী ব্রহ্মচর্যায় আসবসমূহের নিরোধকে প্রকৃষ্টরূপে জানতে পারে। ভিক্ষুগণ, এই কারণে বলা হয়েছে যে, ‘আসবসমূহ জ্ঞাতব্য, আসবসমূহের আদি কারণও (উৎপত্তি স্থান) জ্ঞাতব্য, আসবাদির পার্থক্যও জানা উচিত, আসবসমূহের পরিণাম, আসবসমূহের নিরোধ এবং আসবসমূহ নিরোধের উপায়ও জ্ঞাতব্য।’

ভিক্ষুগণ, কর্মাদি জ্ঞাতব্য, কর্মসমূহের আদি কারণও (উৎপত্তি স্থান) জ্ঞাতব্য, কর্মাদির পার্থক্যও জানা উচিত, কর্মসমূহের পরিণাম, কর্মসমূহের নিরোধ এবং কর্মসমূহ নিরোধের উপায়ও জ্ঞাতব্য।’ তা কীজন্য বলা হয়েছে? ভিক্ষুগণ, আমি চেতনাকেই কর্ম বলি। কারও কোনো চেতনা জাগ্রত হলেই সে কায়, বাক্য ও মনের দ্বারা কর্ম সম্পাদন করে।

ভিক্ষুগণ, কর্মসমূহের আদি কারণ কী? যথা : ভিক্ষুগণ, স্পর্শই হচ্ছে কর্মাদির আদি কারণ।

ভিক্ষুগণ, কর্মাদির পার্থক্য কী? যথা : ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো কর্মের কারণে নরক যাতনা ভোগ করতে হয়, কোনো কোনো কর্মের কারণে তীর্যককুলে জন্ম হতে হয়, কোনো কোনো কর্মের কারণে প্রেতজন্ম লাভ হয়, কোনো কোনো কর্মের দরুন মনুষ্যলোকে জন্ম হতে হয় এবং কোনো কোনো কর্ম দেবলোকে উৎপত্তির কারণ হয়। একে বলা হয় কর্মাদির পার্থক্য।

ভিক্ষুগণ, কর্মাদির পরিণতি কী? যথা : ভিক্ষুগণ, আমি কর্মাদির ত্রিবিধ পরিণতির কথা ঘোষণা করি। যথা : কোনো কোনো কর্মের ফল ইহজীবনেই দিবে, নয়তো অপর সময়ে বিপাক প্রদান করবে, কিংবা অনুক্রমে ফল দিবে। একে বলা হয় কর্মাদির পরিণাম।

ভিক্ষুগণ, কর্মাদির নিরোধ কিরূপ? যথা : স্পর্শের নিরোধেই কর্মাদির নিরোধ হয়। আর কর্মাদি নিরোধের উপায় হচ্ছে আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ; যেমন : সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক আজীব, সম্যক প্রচেষ্টা, সম্যক স্মৃতি এবং সম্যক সমাধি।

যেহেতু ভিক্ষুগণ, আর্যশ্রাবক এরূপে কর্মসমূহকে প্রকৃষ্টরূপে জানে, কর্মসমূহের আদি কারণ, পার্থক্য, পরিণতি, নিরোধ এবং নিরোধের উপায়ও প্রকৃষ্টরূপে জানে; তাই সে এই অন্তর্ভেদী ব্রহ্মচর্যায় কর্মসমূহের নিরোধকে প্রকৃষ্টরূপে জানতে পারে। ভিক্ষুগণ, এই কারণে বলা হয়েছে যে, ‘কর্মসমূহ জ্ঞাতব্য, কর্মসমূহের আদি কারণও (উৎপত্তি স্থান) জ্ঞাতব্য, কর্মাদির পার্থক্যও জানা উচিত, কর্মসমূহের পরিণাম, কর্মসমূহের নিরোধ এবং কর্মসমূহ নিরোধের উপায়ও জ্ঞাতব্য।’

ভিক্ষুগণ, দুঃখসমূহ জ্ঞাতব্য, দুঃখসমূহের আদি কারণও (উৎপত্তি স্থান) জ্ঞাতব্য, দুঃখাদির পার্থক্যও জানা উচিত, দুঃখসমূহের পরিণাম, দুঃখসমূহের নিরোধ এবং দুঃখসমূহ নিরোধের উপায়ও জ্ঞাতব্য।’ তা কীজন্য বলা হয়েছে? ভিক্ষুগণ, জন্ম দুঃখ, জরা দুঃখ, ব্যাধিও দুঃখ, মৃত্যু দুঃখ, শোক-পরিদেবন দুঃখ, দৌর্মনস্য (মানসিক বিষাদ) ও উপায়াস (মানসিক যন্ত্রণা) দুঃখ, যা আকাঙ্ক্ষা করা হয় তা অলাভে দুঃখ এবং সংক্ষেপে পঞ্চ উপাদানস্কন্ধই দুঃখ।

ভিক্ষুগণ, দুঃখের আদি কারণ কী? যথা : ভিক্ষুগণ, তৃষ্ণাই দুঃখের আদি কারণ।

ভিক্ষুগণ, দুঃখের পার্থক্য কী? যথা : ভিক্ষুগণ, অধিক মাত্রায় দুঃখ রয়েছে, অল্পমাত্র বা অকিঞ্চিৎকর দুঃখও আছে, ধীরে ধীরে পরিবর্তন হয় এরূপ দুঃখ আছে এবং দ্রুত পরিবর্তন হয় এরূপ দুঃখও রয়েছে। একে বলা হয় দুঃখের পার্থক্য।

ভিক্ষুগণ, দুঃখের পরিণতি বা বিপাক কী? যথা : ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে কোনো কোনো ব্যক্তি যেই দুঃখের দ্বারা অভিভূত, নিঃশেষিত চিত্ত হয়ে শোক করে, অবসন্ন হয়, পরিদেবন করে, বুক চাপড়িয়ে ক্রন্দন করে, সম্মোহ প্রাপ্ত হয়; সে সেই দুঃখের দ্বারা অভিভূত ও নিঃশেষিত চিত্ত হয়ে অন্যত্র তন্নতন্ন করে খুঁজে বেড়ায় যে, ‘আমার এই দুঃখের সমাপ্তি বা নিরোধ সম্পর্কে এক পদ বা দুই পদমাত্রও কে জানে?’ ভিক্ষুগণ, আমি এই সম্মোহ অবস্থা ও অন্বেষণ অবস্থাকেই দুঃখ বলি। একেই বলা হয় দুঃখের বিপাক বা পরিণতি।

ভিক্ষুগণ, দুঃখ-নিরোধ কিরূপ? যথা : ভিক্ষুগণ, তৃষ্ণা নিরোধেই দুঃখের নিরোধ হয়। আর দুঃখ-নিরোধের উপায় হচ্ছে আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ; যেমন : সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক আজীব, সম্যক প্রচেষ্টা, সম্যক স্মৃতি এবং সম্যক সমাধি।

যেহেতু ভিক্ষুগণ, আর্যশ্রাবক এরূপে দুঃখসমূহকে প্রকৃষ্টরূপে জানে, দুঃখসমূহের আদি কারণ, পার্থক্য, পরিণতি, নিরোধ এবং নিরোধের উপায়ও প্রকৃষ্টরূপে জানে; তাই সে এই অন্তর্ভেদী ব্রহ্মচর্যায় দুঃখসমূহের নিরোধকে প্রকৃষ্টরূপে জানতে পারে। ভিক্ষুগণ, এই কারণে বলা হয়েছে যে, ‘দুঃখসমূহ জ্ঞাতব্য, দুঃখসমূহের আদি কারণও (উৎপত্তি স্থান) জ্ঞাতব্য, দুঃখাদির পার্থক্যও জানা উচিত, দুঃখসমূহের পরিণাম, দুঃখসমূহের নিরোধ এবং দুঃখসমূহ নিরোধের উপায়ও জ্ঞাতব্য।’

হে ভিক্ষুগণ, ইহা হচ্ছে সেই অন্তর্ভেদী বা সূক্ষ্ম পর্যায় তথা ধর্মপর্যায়।”

অন্তর্ভেদী সূত্র সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [০]