লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৪]

মৈত্রী সূত্র

ভিক্ষুগণ, পুণ্য-কর্মে ভীত হয়ো না। এটা সুখের একটা নাম যেমন, পুণ্য কাজ। ভিক্ষুগণ, আমি ভালোই জানি যে, দীর্ঘদিন যাবৎ কৃত কর্ম দীর্ঘকাল প্রীতিকর, আনন্দজনক, মনোজ্ঞ বিপাক (ফল) দেয়। অনুক্রমে সাত বৎসর অবধি আমি মৈত্রীচিত্ত পোষণ করেছি। সাত বৎসর মৈত্রীচিত্ত পোষণ করে সাত সংবর্ত-বিবর্ত (সম্মুখে ঘূর্ণায়মান ও পেছনে ঘূর্ণায়মান) কল্প আমি এ জগতে পুনরাগমন করিনি। তৎপর ভিক্ষুগণ, যখন জগৎ সম্মুখের দিকে ঘূর্ণায়মান হলো তখন আমি শূন্য ব্রহ্মবিমানে উৎপন্ন হই। অতঃপর ভিক্ষুগণ, আমি ব্রহ্মা, মহাব্রহ্মা, অভিভূ (প্রভু), অনভিভূত (অজেয়), সর্বদর্শী, সর্ব শক্তিমান হই। ছত্রিশবার আমি সক্ক, দেবগণের রাজা হই। অনেক সময় আমি সাতবার চক্রবর্তী ধার্মিক রাজা হই এবং জগতের চার অন্তভাগ জয় করে দেশের স্থায়ীত্ব বিধান করে সপ্তরত্ন লাভ করি। ভিক্ষুগণ, আমার সপ্তরত্ন ছিল-চক্ররত্ন, হস্তী-রত্ন, অশ্ব-রত্ন, মণি-রত্ন, স্ত্রী-রত্ন, গৃহপতি-রত্ন, পরিনায়ক-রত্ন (মন্ত্রী-রত্ন)-এর মতো সপ্ত রত্ন এবং আমার সহস্র পুত্র ছিল সাহসী, তেজস্বী, সেবক-শত্রু দমনকারী। আমি এ পৃথিবী জয় করে সাগর পর্যন্ত বিনাদণ্ডে, বিনা অস্ত্রে ন্যায়ত শাসন করে বাস করেছিলাম।

সুখকামী সত্ত্বগণ! দর্শন কর হে কুশল-বিপাক ফল
ওহে ভিক্ষুগণ, মৈত্রী ভাবনা আমি ভেবেছি, সপ্ত বর্ষ কাল
সপ্ত সংবর্ত-বিবর্ত কল্পে করিনি ইহলোকে পুনরাগমন;
সংবর্তকালে আভস্‌সর ব্রহ্মলোকে করি আমি জন্ম ধারণ
পৃথিবীর বিবর্তনকালে ছিলাম আমি শূন্য ব্রহ্মলোকে
সপ্তবার ছিলাম তখন বশবর্তী মহাব্রহ্মা হয়ে;
করেছি রাজত্ব দেবেন্দ্র হয়ে ছয়ত্রিংশবার,
চক্রবর্তী রাজাও হয়েছি আমি জম্বুদ্বীপের;
মুর্ধাভিষিক্ত ক্ষত্রিয় মনুষ্যাধিপতি ছিলাম আমি,
বিনা দণ্ডে, বিনা অস্ত্রে করেছি এই পৃথিবী শাসন,
দুঃসাহসিক কার্য বিনা ধর্মানুসারে করেছি অনুশাসন,
এই পৃথিবীমণ্ডলে যথাধর্ম রাজত্ব করে সম্পাদন
মহাধন, মহাভোগ, আঢ্যকুলে অতঃপর করি জন্ম ধারণ,
সর্বকাম্য, সপ্তরত্নসম্পন্ন পূজ্য কুলে;
মহা কার্বণিক বুদ্ধগণ দ্বারা এ যে হয়েছে সুদেশিত-
সে মহৎ গুণের হেতুই লোকেশ্বর বলে হয়েছেন কথিত;
প্রভূত বিত্ত উপকরণসহ হয়েছি রাজা, প্রতাপবান;
হলেও হয়েছি জম্বুদ্বীপেশ্বর, ঋদ্ধিমান ও যশবান!
শুনে” এবম্বিধ গুণাবলির বিষয়
এমনকি হীনজাতিও হবে না কি সুপ্রসন্ন?
সেই হেতু মহত্ত্বকামী, স্বার্থ-পরার্থকামী, বুদ্ধের অনুশাসন
স্মরণকারীর করণীয়, সদ্ধর্মের সম্মান-গৌরব প্রদর্শন।

ব্যাখ্যা [০]