“হে ভিক্ষুগণ, আমি অষ্টবিধ উদ্দীপক অশ্ব, তাদের আট প্রকার দোষ, অষ্টবিধ উদ্দীপক পুরুষ এবং অষ্টবিধ পুরুষ-দোষ সম্পর্কে ভাষণ করব, তা শ্রবণ কর, উত্তমরূপে মনোনিবেশ কর, আমি তা বিবৃত করছি।” “যথা আজ্ঞা, প্রভু” বলে ভিক্ষুগণ প্রত্যুত্তরে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। ভগবান বললেন :
“হে ভিক্ষুগণ, অষ্টবিধ উদ্দীপক অশ্ব এবং তাদের অষ্ট দোষ কী?
হে ভিক্ষুগণ, একটা উদ্দীপক অশ্ব সারথি দ্বারা প্রহৃত এবং উদ্দীপিত হয়ে যেতে দেয়া হয়, সারথি তাকে পশ্চাৎ থেকে ফিরায়, রথকে পাক দেয়। হে ভিক্ষুগণ, এরূপই উদ্দীপক অশ্ব। হে ভিক্ষুগণ, এটাই প্রথম অশ্বদোষ।
পুনশ্চ হে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো অশ্ব সারথি দ্বারা প্রহৃত এবং উদ্দীপিত হয়ে যেতে বলা হলে সে পেছন দিকে লাফ দেয়, পুনঃপুন সজোরে গাড়ির লোহার বেড়ায় আঘাত করে এবং ত্রিদণ্ড ভেঙে ফেলে। হে ভিক্ষুগণ, এরূপই কোনো কোনো অশ্ব উদ্দীপিত। এটা দ্বিতীয় অশ্বদোষ।
পুনঃ হে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো অশ্ব সারথি দ্বারা প্রহৃত ও উত্তেজিত হয়ে যেতে বলা হলে সে তার পেছনের অংশ দীর্ঘ কাষ্ঠদণ্ড হতে বন্ধন মুক্ত করে এবং তা পদদলিত করে। হে ভিক্ষুগণ, এরূপই উত্তেজিত অশ্ব। এটা তার তৃতীয় দোষ।
পুনঃ হে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো অশ্ব সারথি দ্বারা প্রহৃত ও উত্তেজিত হয়ে যেতে বলা হলে সে উন্মার্গ (ভুল পথ) গ্রহণ করে এবং তির্যক্ভাবে রথকে বিপথে নিয়ে যায়। এরূপই হে ভিক্ষুগণ, উত্তেজিত অশ্ব। এটা তার চতুর্থ দোষ।
পুনঃ হে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো অশ্ব সারথি দ্বারা প্রহৃত ও উত্তেজিত হয়ে যেতে বলা হলে সে শরীরের সামনের অংশ নিক্ষেপ করে, সামনের পা তুলে ফেলে। এরূপই হে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো অশ্ব সারথি দ্বারা উত্তেজিত। এটা তার পঞ্চম দোষ।
পুনঃ হে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো অশ্ব প্রহৃত ও উত্তেজিত হয়ে যেতে বলা হলে সারথির অসতর্কতায় সে লাগামের লৌহময় অংশ দাঁত দ্বারা চিবায় এবং এলোমেলোভাবে ঘুরে বেড়ায়। হে ভিক্ষুগণ, এটা তার ষষ্ট দোষ।
পুনঃ হে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো অশ্ব সারথি দ্বারা প্রহৃত, উত্তেজিত হয়ে যেতে বলা হলে সে সামনে কিংবা পশ্চাতে না গিয়ে থেমে থাকে এবং স্তম্ভ সদৃশ দাঁড়িয়ে থাকে। হে ভিক্ষুগণ, এটা তার সপ্তম দোষ।
পুনঃ হে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো অশ্ব সারথি দ্বারা প্রহৃত, উত্তেজিত হয়ে যেতে বলা হলে সে সামনের ও পেছনের পা একত্র করে সেই চার পায়ের উপরই বসে পড়ে। এরূপই উত্তেজিত অশ্ব এবং এটা তার অষ্টম দোষ।
হে ভিক্ষুগণ, এগুলোই হলো অষ্টবিধ উত্তেজিত অশ্ব ও অশ্বদোষ।
এবং হে ভিক্ষুগণ, অষ্টবিধ উত্তেজিত পুরুষ এবং তাদের অষ্ট দোষ কী কী?
এক্ষেত্রে, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষুগণ কোনো ভিক্ষুকে আপত্তির (দোষের) জন্য তিরস্কার করে এবং সে এভাবে তিরস্কৃত হয়ে বিষয়টি বিস্মৃতিশীলতার অজুহাত এড়িয়ে যায় এ বলে : “আমার স্মরণ নেই। আমার স্মরণ নেই,” যেমন হে ভিক্ষুগণ, উত্তেজিত অশ্বকে যেতে বলা হলে সারথি দ্বারা প্রহৃত এবং উত্তেজিত হয়ে পেছনে ফিরে, রথকে ঘুরায়; হে ভিক্ষু, এই ব্যক্তিকে আমি তাদৃশ বলে অভিহিত করি। হে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো উত্তেজিত পুরুষ এরূপ এবং এটা তার প্রথম দোষ।
পুনঃ হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষুগণ কোনো ব্যক্তিকে আপত্তির জন্য তিরস্কার করে এবং সে এভাবে তিরস্কৃত হয়ে তিরস্কারকারীকে চিন্তা না করেই হঠাৎ বলে ফেলে, “অজ্ঞ, বোকা, আপনার কথা বলার কী অধিকার আছে? আপনি কেন মনে করেন যে, আপনার কথা বলা উচিত?” হে ভিক্ষুগণ, যেমন কোনো উত্তেজিত অশ্ব পেছনে লাফ দেয় এবং পুনঃপুন সজোরে রথের লোহার বেড়ায় আঘাত করে, ত্রিদণ্ড ভেঙ্গে ফেলে, হে ভিক্ষুগণ, এই পুদ্গলও তাদৃশ, আমি বলি। হে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো উত্তেজিত পুরুষ এরূপ এবং এটা তার দ্বিতীয় দোষ।
পুনঃ হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষুগণ কোনো ভিক্ষুকে দোষের জন্য তিরস্কার করে এবং সে এভাবে তিরস্কৃত হয়ে তিরস্কারকারীকে প্রতিবাদ করে, “বেশ ভালো, আপনিও এরূপ এরূপ দোষ করেছেন। আপনাকেই প্রথম সংশোধন করা উচিত।” হে ভিক্ষুগণ, যেমন কোনো অশ্ব সারথি দ্বারা প্রহৃত ও উত্তেজিত হয়ে যেতে বলা হলে সে তার পেছনের অংশ দীর্ঘ কাষ্ঠদণ্ড হতে বন্ধন মুক্ত করে, হে ভিক্ষুগণ, আমি বলি এই ব্যক্তিও তাদৃশ। হে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো পুরুষ যে উত্তেজিত তা এরূপ এবং এটা তার তৃতীয় দোষ।
পুনঃ হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষুগণ কোনো কোনো ভিক্ষুকে দোষের জন্য তিরস্কার করে এবং সে এভাবে তিরস্কৃত হয়ে অন্য প্রশ্ন দ্বারা প্রশ্নটি এড়িয়ে যায়, বিষয়টি একদিকে ঘুরিয়ে দেয় এবং ক্রোধ, বিদ্বেষ ও মুখভারিতা প্রকাশ করে। যেমন, হে ভিক্ষুগণ, কোনো উত্তেজিত অশ্ব সারথি কর্তৃক প্রহৃত হয়ে যেতে বলা হলে সে ভুল পথ গ্রহণ করে চলে এবং রথকে বিপথে নিয়ে যায়, আমি বলি এই ব্যক্তিও তাদৃশ। হে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো পুরুষ যে উত্তেজিত তা এরূপ। হে ভিক্ষুগণ, এটা তার চতুর্থ দোষ।
পুনঃ হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষুরা ভিক্ষুকে দোষের জন্য তিরস্কার করে। সেই ভিক্ষু ভিক্ষুগণ দ্বারা আপত্তির জন্য তিরস্কৃত হয়ে সংঘমধ্যে ব্যাপক অঙ্গভঙ্গী দ্বারা কথাবার্তা উত্থাপন করে। যেমন, হে ভিক্ষুগণ, কোনো উত্তেজিত অশ্বকে সারথি কর্তৃক প্রহৃত হয়ে যেতে বলা হলে সে শরীরের সামনের অংশ সামনের পা তুলে ফেলে। হে ভিক্ষুগণ, আমি বলি, এই ব্যক্তিও তাদৃশ। হে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো পুরুষ যে উত্তেজিত তা এরূপ। হে ভিক্ষুগণ, এটা তার পঞ্চম দোষ।
পুনঃ হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষুরা ভিক্ষুকে আপত্তির জন্য তিরস্কার করে। ভিক্ষুগণ দ্বারা দোষের জন্য তিরস্কৃত হয়ে সে ভিক্ষু সংঘকে ভ্রূৰেপ করে না কিংবা তার তিরস্কারকারীকে লক্ষ করে না, কিন্তু অপরাধীর ন্যায় এলোমেলোভাবে ইতস্তত ঘুরে বেড়ায়। যেমন হে ভিক্ষুগণ, উত্তেজিত অশ্ব সারথির অসতর্কতায় লাগামের লৌহময় অংশ দাঁত দ্বারা চিবায় এবং এলোমেলোভাবে ঘুরে বেড়ায়, হে ভিক্ষুগণ, আমি বলি, এই ব্যক্তিও তাদৃশ। হে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো পুরুষ যে উত্তেজিত তা এরূপ। হে ভিক্ষুগণ, এটা তার ষষ্ঠ দোষ।
পুনঃ হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষুরা ভিক্ষুকে দোষের জন্য তিরস্কার করে। সেই ভিক্ষু ভিক্ষুগণ দ্বারা আপত্তির জন্য তিরস্কৃত হয়ে বলে : “কিন্তু আমি কোনো দোষ করিনি, না, না, আমি দোষী নই।” সে তূষ্ণীম্ভাব দ্বারা সংঘকে বিরক্তি প্রদান করে। যেমন হে ভিক্ষুগণ, কোনো উত্তেজিত অশ্বকে প্রহৃত হয়ে যেতে বলা হলে সে সামনের দিকেও গমন করে না কিংবা পেছনের দিকেও গমন করে না কিন্তু থেমে যায় এবং স্তম্ভ সদৃশ দাঁড়িয়ে থাকে, হে ভিক্ষুগণ, আমি বলি, এই ব্যক্তিও তাদৃশ। হে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো পুরুষ যে উত্তেজিত তা এরূপ। হে ভিক্ষুগণ, এটা তার সপ্তম দোষ।
পুনঃ হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষুরা ভিক্ষুকে আপত্তির জন্য তিরস্কার করে। ভিক্ষুগণ দ্বারা দোষের জন্য তিরস্কৃত হয়ে সে বলে : “শ্রদ্ধেয় আয়ুষ্মানগণ, আপনারা আমার জন্য এত চিন্তিত কেন? এখন থেকে আমি শিক্ষাপদসমূহ অস্বীকার করব এবং হীনলোকে প্রত্যাবর্তন করব।” এবং যখন সে হীনলোকে প্রত্যাবর্তন করল সে বলল, “শ্রদ্ধেয় আয়ুষ্মানগণ, এখন আপনারা সন্তুষ্ট হোন!” হে ভিক্ষুগণ, যেমন : সারথি দ্বারা প্রহৃত, উত্তেজিত হয়ে কোনো অশ্বকে যেতে বলা হলে সে সামনের পেছনের পা একত্র করে চার পায়ের উপর বসে পড়ে, হে ভিক্ষুগণ, আমি বলি, এই পুদ্গলটি তাদৃশ। হে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো পুরুষ যে উত্তেজিত তা এরূপ। হে ভিক্ষুগণ, এটা তার অষ্টম দোষ।
হে ভিক্ষুগণ, এই হলো অষ্টবিধ পুরুষ ও অষ্টবিধ পুরুষদোষ।”
ব্যাখ্যা [০]