লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৭]

প্রজ্ঞা সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, আদি ব্রহ্মচর্যের সহায়ক অলব্ধ প্রজ্ঞা লাভের জন্য, লব্ধ প্রজ্ঞার সংবর্ধন, শ্রীবৃদ্ধি, বৈপুল্য প্রাপ্তির জন্য, ভাবনা দ্বারা পূর্ণতা প্রাপ্তির জন্য এই আট প্রকার হেতু, আট প্রকার শর্ত রয়েছে। আট কী কী?

হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু শাস্তা কিংবা গুরুস্থানীয় সব্রহ্মচারীর উপনিশ্রয়ে বাস করে যার ফলে তার পাপে লজ্জা, ভয়, প্রেম ও শ্রদ্ধা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। হে ভিক্ষুগণ, এটাই আদি ব্রহ্মচর্যের সহায়ক অলব্ধ প্রজ্ঞা লাভের, লব্ধ প্রজ্ঞার সংবর্ধন, শ্রীবৃদ্ধি, বৈপুল্য প্রাপ্তির জন্য, ভাবনা দ্বারা পূর্ণতা প্রাপ্তির জন্য প্রথম হেতু, প্রথম শর্ত।

শাস্তা কিংবা অন্য কোনো গুরুস্থানীয় সতীর্থের উপনিশ্রয়ে বাস করার সময় সে মাঝে মাঝে শাস্তাগণের নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁদেরকে এরূপ প্রশ্ন করে ও জানতে চায়, “মহাশয়গণ, এটা কেমন? এর অর্থ কী?” সেই আয়ুষ্মানগণ তাকে নিহিত অর্থ প্রকাশ করে, অস্পষ্ট বিষয় ব্যাখ্যা করে, সন্দেহজনক বিভিন্ন বিষয়ে সন্দেহ দূরীভূত করে। হে ভিক্ষুগণ, এটা আদি ব্রহ্মচর্যের সহায়ক অলব্ধ প্রজ্ঞার সংবর্ধন, শ্রীবৃদ্ধি, বৈপুল্য প্রাপ্তির জন্য, ভাবনা দ্বারা পূর্ণতা প্রাপ্তির জন্য দ্বিতীয় হেতু, দ্বিতীয় শর্ত।

যখন সে সেই ধর্ম শ্রবণ করে সে দ্বিবিধ নির্জনতার জন্য বিশেষভাবে চেষ্টা কর্তেদেহ ও মনের। হে ভিক্ষুগণ, এটা আদি ব্রহ্মচর্যের সহায়ক অলব্ধ প্রজ্ঞার সংবর্ধন, শ্রীবৃদ্ধি, বৈপুল্য প্রাপ্তির জন্য, ভাবনা দ্বারা পূর্ণতা প্রাপ্তির জন্য তৃতীয় হেতু, তৃতীয় শর্ত।

সে শীলবান হয়, প্রাতিমোক্ষের বিধান দ্বারা সংযত হয়ে বাস করে, আচার-গোচরসম্পন্ন, সামান্যতম দোষে ভয়দর্শী হয়, শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ শিক্ষা করে। হে ভিক্ষুগণ, এটা আদি ব্রহ্মচর্যের সহায়ক অলব্ধ প্রজ্ঞার সংবর্ধন, শ্রীবৃদ্ধি, বৈপুল্য প্রাপ্তির জন্য, ভাবনা দ্বারা পূর্ণতা প্রাপ্তির জন্য চতুর্থ হেতু, চতুর্থ শর্ত।

সে সেসব বিষয়ে বহুশ্রুত হয়, শ্রুতধর, শ্রুত বিষয়ের সঞ্চয়াগার হয় যে ধর্মের আদিতে কল্যাণ, মধ্যে কল্যাণ, পর্যবসানে কল্যাণ, অর্থযুক্ত, সমগ্র পরিপূর্ণ পরিশুদ্ধ ব্রহ্মচর্য প্রকাশিত করে, সেরূপ ধর্মে বহুশ্রুত হয়, ধারণকারী, বাক্য দ্বারা পরিচিত, মন দ্বারা, দৃষ্টি দ্বারা সুপ্রতিবিদ্ধ। হে ভিক্ষুগণ, এটা আদি ব্রহ্মচর্যের সহায়ক অলব্ধ প্রজ্ঞার সংবর্ধন, শ্রীবৃদ্ধি, বৈপুল্য প্রাপ্তির জন্য, ভাবনা দ্বারা পূর্ণতা প্রাপ্তির জন্য পঞ্চম হেতু, পঞ্চম শর্ত।

সে বীর্যবান হয়ে অবস্থান করে অকুশলধর্মসমূহ ক্ষয়ের জন্য, কুশল ধর্মসমূহ বৃদ্ধির জন্য দৃঢ় পরাক্রমী হয়, কুশল ধর্মসমূহে অনিক্ষিপ্তধুর (অপরিত্যাগী)-সম্পন্ন হয়। হে ভিক্ষুগণ, এটা আদি ব্রহ্মচর্যের সহায়ক অলব্ধ প্রজ্ঞার সংবর্ধন, শ্রীবৃদ্ধি, বৈপুল্য প্রাপ্তির জন্য, ভাবনা দ্বারা পূর্ণতা প্রাপ্তির জন্য ষষ্ঠ হেতু, ষষ্ঠ শর্ত।

অধিকন্তু, সে সংঘের নিকট পুনঃপুন গমন করে, অকথন ভাষণ করে না, কিংবা ছেলেমিতা প্রকাশক কোনো ভাষণ করে না, সে নিজে ধর্ম বিষয়ে ভাষণ করে কিংবা অপরকে ধর্ম বিষয়ে প্রশ্ন করে কিংবা সে আর্য নীরবতার অবমাননা করে না। হে ভিক্ষুগণ, এটা আদি ব্রহ্মচর্যের সহায়ক অলব্ধ প্রজ্ঞার সংবর্ধন, শ্রীবৃদ্ধি, বৈপুল্য প্রাপ্তির জন্য, ভাবনা দ্বারা পূর্ণতা প্রাপ্তির জন্য সপ্তম হেতু, সপ্তম শর্ত।

অধিকন্তু, সে পঞ্চ উপাদানস্কন্ধ সমূহের প্রতি উদয়ব্যয়ানুদর্শী হয়ে এভাবে বাস করে-এ রকমই রূপ, এ রকম রূপের উৎপত্তি, এ রকম রূপের অস্তগমন; তদ্রূপ এরূপ বেদনা, এরূপ বেদনার উৎপত্তি, এরূপ বেদনার অস্তগমন; তদ্রূপ এরূপ সংজ্ঞা, এরূপ সংজ্ঞার উৎপত্তি, এরূপ সংজ্ঞার অস্তগমন; তদ্রূপ এরূপ সংস্কার, এরূপ সংস্কারের উৎপত্তি, এরূপ সংস্কারের অস্তগমন; তদ্রূপ এরূপ বিজ্ঞান, এরূপ বিজ্ঞানের উৎপত্তি, এরূপ বিজ্ঞানের অস্তগমন। হে ভিক্ষুগণ, এটা আদি ব্রহ্মচর্যের সহায়ক অলব্ধ প্রজ্ঞার সংবর্ধন, শ্রীবৃদ্ধি, বৈপুল্য প্রাপ্তির জন্য, ভাবনা দ্বারা পূর্ণতা প্রাপ্তির জন্য অষ্টম হেতু, অষ্টম শর্ত।

অতঃপর তার সতীর্থগণ তাকে এভাবে সম্মান করে-এই আয়ুষ্মান শাস্তার উপনিশ্রয়ে কিংবা অন্যতর গুরুস্থানীয় সতীর্থের উপনিশ্রয়ে বাস করেন যার ফলে তাঁর পাপে লজ্জা, ভয়, প্রেম ও শ্রদ্ধা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়; নিশ্চিতরূপে এই সেই আয়ুষ্মান যিনি জ্ঞাত হয়ে জানেন, দর্শন করে দেখেন। সত্য সত্যই এই অবস্থা প্রিয়ভাব, সম্মান, ভাবনা, শ্রামণ্য ও মনের একাগ্রভাব সৃষ্টিতে সহায়ক।

সেই আয়ুষ্মান শাস্তা কিংবা অন্য কোনো গুরুস্থানীয় সতীর্থের উপনিশ্রয়ে বাস করার সময় তীব্র লজ্জা, ভয়, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি মাঝে মাঝে তাঁদের নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁদেরকে এরূপ প্রশ্ন করেন ও জানতে চান, “মহাশয়গণ, এটা কেমন? এর অর্থ কী?” সেই আয়ুষ্মানগণ তাঁকে এর অন্তর্নিহিত অর্থ প্রকাশ করেন, অস্পষ্ট বিষয় প্রকটিত করেন, সন্দেহপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে সন্দেহ দূর করেন; নিশ্চিতরূপে এই সেই আয়ুষ্মান যিনি জ্ঞাত হয়ে জানেন, দর্শন করে দেখেন। এই অবস্থা সত্য সত্যই প্রিয়ভাব, সম্মান, ভাবনা, শ্রামণ্য ও মনের একাগ্রভাব সৃষ্টিতে সহায়ক।

এই আয়ুষ্মান সেই ধর্ম শ্রবণ করে দ্বিবিধ নির্জনতার জন্য চেষ্টা করে, দেহ ও মনের। নিশ্চিতরূপে এই আয়ুষ্মান জ্ঞাত হয়ে জানেন, দর্শন করে দেখেন। এই অবস্থা সত্য সত্যই প্রিয়ভাব, সম্মান, ভাবনা, শ্রামণ্য ও মনের একাগ্রভাব সৃষ্টিতে সহায়ক।

শীলবান এই আয়ুষ্মান প্রাতিমোক্ষের বিধান দ্বারা সংযত, আচার-গোচরসম্পন্ন, সামান্যতম দোষজনক বিষয়ে দোষদর্শী হয়, শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ শিক্ষা করে; এই আয়ুষ্মান নিশ্চিতরূপে জ্ঞাত হয়ে জানেন, দর্শন করে দেখেন। এই অবস্থা সত্য সত্যই প্রিয়ভাব, সম্মান, ভাবনা, শ্রামণ্য ও মনের একাগ্রভাব সৃষ্টিতে সহায়ক।

এই আয়ুষ্মান সেসব বিষয়ে বহুশ্রুত, শ্রুতধর, শ্রুতধর্মের সঞ্চয়াগার এই আয়ুষ্মান যে ধর্মের আদিতে কল্যাণ, মধ্যে কল্যাণ, অন্তে কল্যাণ, অর্থযুক্ত, ব্যঞ্জনযুক্ত, সমগ্র, পরিপূর্ণ, পরিশুদ্ধ ব্রহ্মচর্য প্রকাশিত করে, তাদৃশ ধর্মে বহুশ্রুত, ধারণকারী, বাক্য দ্বারা পরিচিত, মন দ্বারা চিন্তিত, মতবাদে সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধ; নিশ্চিতরূপে এই আয়ুষ্মান জ্ঞাত হয়ে জানেন, দর্শন করে দেখেন। এই অবস্থা সত্য সত্যই প্রিয়ভাব, সম্মান, ভাবনা, শ্রামণ্য ও মনের একাগ্রভাব আনতে সহায়ক।

বীর্যবান এই আয়ুষ্মান অকুশল ধর্মসমূহ ক্ষয় ও কুশল ধর্মসমূহ বৃদ্ধির জন্য দৃঢ় পরাক্রমী, কুশল ধর্ম অপরিত্যাগী হয়ে অবস্থান করে; নিশ্চিতরূপে এই আয়ুষ্মান জ্ঞাত হয়ে জানেন, দর্শন করে দেখেন। সত্যসত্যই এই অবস্থা প্রিয়ভাব, সম্মান, ভাবনা, শ্রামণ্য ও মনের একাগ্রভাব সৃষ্টিতে সহায়ক।

সংঘগত এই আয়ুষ্মান অকথন ভাষণ করেন না কিংবা ছেলেমিতা প্রকাশক কোনো বাক্য ভাষণ করেন না। তিনি নিজে ধর্ম ভাষণ করেন কিংবা অপরকে ধর্ম বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন, কিংবা আর্য নীরবতার অবমাননা করেন না; এই আয়ুষ্মান নিশ্চিতরূপে জ্ঞাত হয়ে জানেন, দর্শন করে দেখেন। এই অবস্থা প্রিয়ভাব, সম্মান, ভাবনা, শ্রামণ্য ও একাগ্রভাব সৃষ্টিতে সহায়ক।

এই আয়ুষ্মান পঞ্চ উপাদান স্কন্ধে উদয়-ব্যয়ানুদর্শী হয়ে বিহার করে-এ রকম রূপ, এ রকম রূপের উৎপত্তি, এ রকম রূপের অস্তগমন; এ রকম বেদনা, এ রকম বেদনার উৎপত্তি, এ রকম বেদনার অস্তগমন; এ রকম সংজ্ঞা, এ রকম সংজ্ঞার উৎপত্তি, এ রকম সংজ্ঞার অস্তগমন; এ রকম সংস্কার, এ রকম সংস্কারের উৎপত্তি, এ রকম সংস্কারের অস্তগমন; এ রকম বিজ্ঞান, এ রকম বিজ্ঞানের উৎপত্তি, এ রকম বিজ্ঞানের অস্তগমন এই আয়ুষ্মান নিশ্চিতরূপে জ্ঞাত হয়ে জানেন, দর্শন করে দেখেন। সত্য সত্যই, এই বিষয় প্রিয়ভাব, সম্মান, ভাবনা, শ্রামণ্য ও একাগ্রভাব সৃষ্টিতে সহায়ক।

হে ভিক্ষুগণ, আদি ব্রহ্মচর্যের সহায়ক অলব্ধ প্রজ্ঞা লাভের জন্য, লব্ধ প্রজ্ঞার সংবর্ধন, শ্রীবৃদ্ধি, বৈপুল্য প্রাপ্তির জন্য, ভাবনা দ্বারা পূর্ণতা প্রাপ্তির জন্য এই আটটি হেতু, আটটি প্রত্যয়।”

ব্যাখ্যা [০]