একসময় ভগবান শ্রাবস্তীর পূর্বারামে মিগারমাতা নির্মিত প্রাসাদে অবস্থান করছিলেন। তখন মিগারমাতা বিশাখা ভগবানের নিকট উপস্থিত হন, উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন করে এক প্রান্তে উপবিষ্ট হলে মিগারমাতা বিশাখাকে ভগবান বলেন :
“বিশাখে, স্ত্রীলোকের চারগুণে গুণান্বিতা স্ত্রী-জাতি এ জগতে ক্ষমতা জয় করে। এ জগৎ তাদের হাতের মুঠোয়। চার কী কী?
বিশাখে, একজন স্ত্রীলোক তার কর্মে সমর্থ; সে দাস-দাসী পরিচালনা করে, সে তার কাজের দ্বারা স্বামীর প্রিয়পাত্রী হয়, সে তার স্বামীর সম্পত্তি সংরক্ষণ করে। এবং বিশাখে, কীভাবে একজন স্ত্রীলোক তার কর্মে সমর্থ?
তার স্বামীর গৃহাভ্যন্তরে যে শিল্প করাখানা পশমী হোক বা তুলার হোক, তাতে সে দক্ষ এবং অনলস হয়। এ ধরনের সব দায়িত্বপূর্ণ কাজে সে প্রতিভাদীপ্ত; এসবের ব্যবস্থায় এবং পরিচালনায় সে সক্ষম। এভাবে স্ত্রীলোক তার কর্মে সক্ষম। এবং কীভাবে সে দাসদাসী পরিচালনা করে?
তার স্বামীর গৃহাভ্যন্তরে যে দাসদাসী, বাহক বা কাজের লোক থাকে সে তাদের কৃত কাজ সম্পর্কে অবহিত; তাদের অমনোযোগিতাবশত যে কাজ অকৃত সে সম্পর্কেও সে জানে। পীড়িতদের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে সে সজাগ; সে প্রত্যেকের অংশ অনুপাতে শক্ত ও নরম খাদ্যভোজ্য বিভাজন করে দেয়। এভাবেই সে দাসদাসীকে পরিচালনা করে। এবং কীভাবে সে স্বামীর প্রিয়ভাজন হয়?
যে ধরনের কাজ করলে তার স্বামী অমনপূত বলে বিবেচনা করে জীবনের বিনিময়ে সে সেধরনের কাজ সম্পাদন করে না। এ উপায়ে সে তার স্বামীর প্রিয়ভাজন হয়। এবং সে কীভাবে স্বামীর সম্পত্তি পাহারা দেয়?
স্বামী অর্থ, শস্য, রৌপ্য বা স্বর্ণ যা কিছু গৃহে আনয়ন করে সে সেগুলো নিরাপদে পাহারা দেয়, সংরক্ষণ করে এবং সে এগুলোর ডাকাত হয় না, চোর হয় না, মদ্যপায়ী হয় না, বিনাশকারী হয় না। এভাবে সে এগুলো পাহারা দেয়।
বিশাখে, এ চার গুণে গুণান্বিতা হয়ে স্ত্রী-জাতি এ জগতে ক্ষমতা জয় করে, এ জগৎ তাদের হাতের মুঠোয়।
বিশাখে, চার গুণে গুণান্বিতা স্ত্রী-জাতি পরলোকে ক্ষমতা জয় করে। পর জগৎ তাদের হাতের মুঠোয়। কোন চার গুণ দ্বারা?
বিশাখে, একজন স্ত্রীলোক বিশ্বস্ত, গুণবতী, দানশীলা এবং বিদূষী হয়। এবং কীভাবে স্ত্রীলোক বিশ্বস্ত হয়?
তথাগতের বোধি সম্পর্কে তার বিশ্বাস আছে এবং এ চিন্তা করে বিশ্বাস করে, “সে ভগবান অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ, বিদ্যাচরণসম্পন্ন, সুগত, লোকবিদ, অনুত্তর পুরুষ দমনকারী সারথি, দেব-মনুষ্যদের শাস্তা, বুদ্ধ ও ভগবান” এরূপ হয় তার বিশ্বাস। এবং সে কীরূপ গুণবতী?
সে প্রাণিহত্যা প্রতিবিরত হয়, অদত্তবস্তু গ্রহণ প্রতিবিরত হয়, ব্যভিচার প্রতিবিরত হয়, মিথ্যাবাক্য প্রতিবিরত হয়, সুরা ও উত্তেজক দ্রব্য গ্রহণ প্রতিবিরত হয়। এরূপই হয় তার গুণ। এবং সে কীরূপে দানশীলা হয়?
সে ত্যাগশীলা, মাৎসর্য-মলবিহীন হয়ে চেতনাযুক্ত হয়ে সে গৃহে বাস করে, দানশীলা, মুক্ত-হস্ত, দানে প্রীতিযুক্ত, যাচকের প্রার্থনায় দান দিতে প্রস্তুত, দানে সে আনন্দ লাভ করে। এরূপ হয় তার দানশীলতা। এবং বিশাখে, স্ত্রীজাতি কীরূপে প্রজ্ঞাসম্পন্না হয়?
বিশাখে, স্ত্রীজাতি প্রজ্ঞাবতী হয় উদয় ও বিলয়গামিনী প্রজ্ঞায়, সম্যকভাবে দুঃখক্ষয়গামিনী আর্য নির্বেধিক জ্ঞান দ্বারা ভূষিত হয়। এভাবেই বিশাখে, মাতৃ জাতি প্রজ্ঞাসম্পন্না হয়।
বিশাখে, এ চারগুণে গুণান্বিতা নারীগণ পরলোকে ক্ষমতা জয় করে, পর জগৎ তাদের হাতের মুঠোয়।
সুকর্ম সম্পাদনকারিণী, পরিজনবর্গের উপকারিণী
স্ত্রী হয় স্বামীর সন্তোষকারিণী,
স্বামীর সঞ্চিত ধন সে অনুক্ষণ করে সংরক্ষণ।
সে হয় শ্রদ্ধাসম্পন্না, দানশীলা, অকৃপণা,
নিত্য নির্বাণ মার্গ করে বিশুদ্ধ পরলোকের মঙ্গল কামনায়।
এরূপে যে নারীর এ অষ্টধর্ম থাকে বিদ্যমান
সে নারীই হয় কথিত ধার্মিকা, সত্যবাদিনী, শীলবতীরূপে।
ষোড়শাকার-সম্পন্না, অষ্টগুণালংকৃতা স্ত্রী
শীলবতী উপাসিকা নামে হয় কথিত,
তাদৃশা স্ত্রী জন্ম নেয় মনোজ্ঞ দেবলোকে।”
ব্যাখ্যা [০]