একসময় ভগবান নাটিকে ইষ্টক হলে অবস্থান করছিলেন। সে সময় ভগবান এ বলে সম্বোধন করলেন, “ভিক্ষুগণ,” ভিক্ষুগণ, উত্তর দিলেন, “ভন্তে।” ভগবান বললেন :
“হে ভিক্ষুগণ, মরণস্মৃতি ভাবিত, বহুলীকৃত হলে মহাফল প্রদায়ী, মহা আনিশংসকর, অমৃতে মিশে যায়, অমৃতে পর্যাবসান হয়। হে ভিক্ষুগণ, তোমরা মৃত্যুস্মৃতি ভাব।”
ভগবান এরূপ বললে জনৈক ভিক্ষু ভগবানকে বলল, “ভন্তে, আমি মৃত্যুস্মৃতি ভাবনা করি।” “হে ভিক্ষু, তুমি কীভাবে মৃত্যুস্মৃতি অনুধ্যান কর?” “ভন্তে, আমার চিন্তন হয় এরূপ : “অহো আমি যদি এক দিবারাত্রি বেঁচে থাকতে পারতাম তাহলে ভগবানের শাসনের বিষয় চিন্তা করতে পারতাম, প্রকৃতপক্ষে তাতে আমা দ্বারা অনেক কিছু করা যেত। এরূপভাবে ভন্তে, আমি মৃত্যুস্মৃতি ধ্যান করি।”
অন্য এক ভিক্ষুও ভগবানকে এরূপ বলল, “ভন্তে, আমিও মৃত্যুস্মৃতি অনুধ্যান করি।” “হে ভিক্ষু, তুমি কীরূপে মৃত্যুস্মৃতি ভাব?” এক্ষেত্রে ভন্তে, আমার চিন্তন হয় এরূপ : “প্রকৃতপক্ষে আমি যদি একদিনও বেঁচে থাকতাম এবং ভগবানের শাসন সম্পর্কে চিন্তা করতে পারতাম, তাহলে আমা দ্বারা বহু কিছু করা যেত। ভন্তে, আমার মৃত্যুস্মৃতি এরূপ।”
অপর এক ভিক্ষুও ভগবানকে বলল, “ভন্তে, আমিও মৃত্যুস্মৃতি অনুধ্যান করি।” “হে ভিক্ষু, তোমার কথানুসারে তুমি কীভাবে মরণস্মৃতি অনুধ্যান কর?” “ভন্তে, এক্ষেত্রে আমি চিন্তা করি, অহো, আমি যদি অর্ধদিবসও বেঁচে থাকতাম, ভগবানের শাসনের বিষয় চিন্তা করতাম, তাতে আমা দ্বারা বহু কিছু করা যেত। ভন্তে, এভাবেই আমি মৃত্যুস্মৃতি ভাবি।”
অপর ভিক্ষুও ভগবানকে বলল, “ভন্তে, আমিও মৃত্যুস্মৃতি ভাবনা করি, অনুধ্যান করি।” “হে ভিক্ষু, তোমার কথানুসারে তুমি কীভাবে মরণস্মৃতি ভাব?” “ভন্তে, এক্ষেত্রে আমার অনুধ্যান হয় এরূপ : “ভন্তে আমি যদি ততক্ষণ জীবিত থাকি যতক্ষণে একটি পিণ্ডপাত পরিভোগ করা যায়, তাতে ভগবানের শাসনের বিষয় চিন্তা করতাম, যার ফলে আমা দ্বারা অনেক কিছু করা যেত। এভাবেই ভন্তে, আমি মরণস্মৃতি ভাবি।
অপর ভিক্ষুও ভগবানকে বলল, “ভন্তে, আমিও মরণস্মৃতি অনুধ্যান করি।” “হে ভিক্ষু, তোমার কথানুসারে তুমি কীরূপে মরণস্মৃতি ভাব?” ভন্তে, আমার মৃত্যুস্মৃতি এরূপ, “ভন্তে, আমি যদি ততক্ষণ জীবিত থাকতাম যতক্ষণে অর্ধপিণ্ডপাত পরিভোগ করা যায়, তাতে ভগবানের শাসন বিষয়ে চিন্তা করতাম, এর ফলে আমা দ্বারা বহু কিছু করা যেত। ভন্তে, এভাবেই আমি মরণস্মৃতি ভাবি।”
অপর ভিক্ষু ভগবানকে এরূপ বলল, “ভন্তে, আমিও মৃত্যুস্মৃতি ভাবি।” “হে ভিক্ষু, তুমি কীভাবে মৃত্যুস্মৃতি অনুধ্যান কর?” ভন্তে, আমি এভাবেই মৃত্যুস্মৃতি অনুধ্যান করি : অহো, আমি যদি ততক্ষণ জীবিত থাকতাম যতক্ষণে চার বা পাঁচ গ্রাসে আহার গলাধঃকরণ করা যায়, তাতে ভগবৎ শাসনের বিষয়ে চিন্তা করতে পারতাম, এতে আমা দ্বারা অনেক কিছু করা যেত। ভন্তে, আমি এভাবেই মরণস্মৃতি অনুধ্যান করি।”
অন্যতর এক ভিক্ষু ভগবানকে বলল, “ভন্তে, আমিও মৃত্যুস্মৃতি ভাবি।” “হে ভিক্ষু, তোমার কথানুসারে তুমি কীভাবে মৃত্যুস্মৃতি ভাবনা কর?” “ভন্তে, আমার অনুধ্যান হলো : “অহো, আমি যদি ততক্ষণ জীবিত থাকতাম যতক্ষণে এক গ্রাস আহার গলাধঃকরণ করা যায়, তাতে ভগবানের শাসনের বিষয় চিন্তা করতে পারতাম, এতে আমা দ্বারা অনেক কিছু করা যেত। ভন্তে, আমি এভাবেই মরণস্মৃতি অনুশীলন করি।”
অপর ভিক্ষু ভগবানকে বলল, “ভন্তে, আমিও মৃত্যুস্মৃতি ভাবনা করি।” “হে ভিক্ষু, তোমার কথানুসারে তুমি কীভাবে মরণস্মৃতি অনুধ্যান কর?” “এক্ষেত্রে ভন্তে, আমার অনুধ্যান হলো : অহো, আমি যদি ততক্ষণ জীবিত থাকতাম যতক্ষণে নিশ্বাস গ্রহণ করে প্রশ্বাস ফেলি বা প্রশ্বাস ফেলে নিঃশ্বাস গ্রহণ করি এবং ভগবানের শাসনের বিষয় চিন্তা করতে পারতাম তাহলে আমা দ্বারা অনেক কিছু করা যেত। এভাবেই ভন্তে, আমি মৃত্যুস্মৃতি ভাবনা করি।”
যখন এরূপ বলা হয় তখন ভগবান সেই ভিক্ষুগণকে বলেন, “যে ভিক্ষু এভাবে মরণস্মৃতি ভাবে : অহো, আমি যদি এক দিবারাত্রি বেঁচে থাকতাম তাহলে ভগবানের শাসনের বিষয় চিন্তা করতে পারতাম। প্রকৃতপক্ষে আমার দ্বারা অনেক কিছু করা যেত; যে ভিক্ষু মরণস্মৃতি এভাবে ভাবে, অহো আমি যদি একদিন মাত্র জীবিত থাকতাম তাহলে ভগবানের শাসন সম্পর্কে চিন্তা করতাম, সত্যই আমা দ্বারা অনেক কিছু করা যেত; যে মৃত্যুস্মৃতি এরূপে চিন্তা করে : অহো, আমি যদি অর্ধদিবস মাত্রও জীবিত থাকতাম তাহলে ভগবৎ শাসন নিয়ে চিন্তা করতাম, তাতে সত্যই আমা দ্বারা অনেক কিছু করা যেত; অথবা, যে এরূপ চিন্তা করে : অহো, আমি যদি ততক্ষণ একটি পিণ্ড আহার করা যায়, এর ফলে ভগবৎ শাসনের জন্য চিন্তা করতে পারতাম, তার ফলে বহু কিছু করা যেত; অথবা, যে ভিক্ষু মরণস্মৃতি এভাবে চিন্তা করে : অহো, আমি যদি ততক্ষণ জীবিত থাকতাম যতক্ষণ একটি অর্ধপিণ্ড আহার করা যায়, এর ফলে ভগবানের শাসনের কথা চিন্তা করতে পারতাম এবং আমা দ্বারা বহু কিছু করা যেত; অথবা, যে ভিক্ষু মৃত্যুস্মৃতি এরূপে ভাবে-অহো, আমি যদি ততক্ষণ জীবিত থাকতাম যতক্ষণ চার বা পাঁচ গ্রাস আহার গলাধঃকরণ করা যায় এবং সত্যই আমি যদি ভগবানের শাসন সম্পর্কে চিন্তা করতে পারতাম তাতে আমা দ্বারা অনেক কিছু করা যেত-হে ভিক্ষুগণ, যেসব ভিক্ষু এ ধরনের বলে তারা প্রমত্ত, তারা শিথিলভাবে আসক্তি ক্ষয়ের জন্য মরণস্মৃতি অনুধ্যান করে।
কিন্তু হে ভিক্ষুগণ, যে ভিক্ষু মৃত্যুস্মৃতি এভাবে অনুধ্যান করে-অহো, আমি যদি ততক্ষণ জীবিত থাকতাম যতক্ষণ এক গ্রাস আহার গলধঃকরণ করা যায় এবং আমি যদি প্রকৃতপক্ষে ভগবানের শাসন সম্পর্কে চিন্তা করতে পারতাম তাহলে আমা দ্বারা অনেক কিছু করা যেত; অথবা, যে ভিক্ষু মরণস্মৃতি এভাবে ভাবনা করে, অহো, আমি যদি ততক্ষণ জীবিত থাকতাম যতক্ষণ নিঃশ্বাস গ্রহণ করে প্রশ্বাস ফেলি বা প্রশ্বাস ফেলে নিঃশ্বাস গ্রহণ করি এবং ভগবানের শাসন সম্পর্কে যদি আমি চিন্তা করতে পারতাম তাহলে আমা দ্বারা সত্যই অনেক কিছু করতে পারতাম, হে ভিক্ষুগণ, এসব ভিক্ষু অপ্রমত্তভাবে বাস করে বলে বলা হয় এবং সাগ্রহে তারা আসক্তি ক্ষয়ের জন্য মৃত্যুস্মৃতি অনুধ্যান করে।
এ কারণে হে ভিক্ষুগণ, তোমাদের এরূপ শিক্ষা করতে হবে, আমরা অপ্রমত্তভাবে এবং সাগ্রহে আসক্তি ক্ষয়ের জন্য বিহার করব।
ভিক্ষুগণ, তোমাদের এরূপ শিক্ষা করা উচিত।”
ব্যাখ্যা [০]