আমা দ্বারা এরূপ শ্রুত হয়েছে, একসময় ভগবান শ্রাবস্তীর জেতবনে অনাথপিণ্ডিকের আরামে বাস করছিলেন। তথায় ভগবান ভিক্ষুগণকে আহ্বান করলেন, “ভিক্ষুগণ,” “হ্যাঁ ভদন্ত” উত্তরে তাঁরা বললেন। ভগবান বললেন :
“হে ভিক্ষুগণ, যদি অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগণ তোমাদেরকে এরূপ প্রশ্ন করে, “হে আয়ুষ্মানগণ, সম্বোধিপক্ষীয় ভাবনা কিরূপ?” “হে ভিক্ষুগণ, এভাবে জিজ্ঞাসিত বিষয়ের তোমরা কীভাবে অন্যতীর্থিয়গণকে উত্তর দেবে?” “ভন্তে, আমাদের ধারণার মূল ভগবান; তা ভগবৎ পরিচালিত এবং ভগবৎ রক্ষিত। সাধু ভন্তে, ভগবান যদি আমাদেরকে এ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা জ্ঞাপন করতেন; ভগবানের ব্যাখ্যা শ্রবণ করে ভিক্ষুগণ অন্তরে ধারণ করতেন।” “তাহলে ভিক্ষুগণ, অভিনিবেশ সহকারে শ্রবণ কর, আমি ভাষণ করব।” “তাই হোক ভন্তে,” ভিক্ষুগণ, উত্তর দিলেন। ভগবান বললেন :
“হে ভিক্ষুগণ, যদি অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগণ তোমাদেরকে এরূপ প্রশ্ন করে, “হে আয়ুষ্মানগণ, সম্বোধিপক্ষীয় ভাবনা কিরূপ?” এরূপ প্রশ্ন জিজ্ঞাসিত হয়ে তোমাদের সেই অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগণকে উত্তর দেয়া উচিত, “এখানে বন্ধুগণ, একজন ভিক্ষু কল্যাণমিত্র, কল্যাণসহায়, কল্যাণসহকর্মী। বন্ধুগণ, এটা সম্বোধি পক্ষীয় ধর্মের ভাবনার প্রথম কারণ।
পুনঃ, বন্ধুগণ, একজন ভিক্ষু শীলবান, প্রাতিমোক্ষের বিধানে সংযত হয়ে অবস্থান করে; সে আচরণ অভ্যাসে সম্পূর্ণ দক্ষ, সামান্যতম পাপে ভয়দর্শী, শিক্ষাপদসমূহ শিক্ষা ও গ্রহণ করে। বন্ধুগণ, এটা সম্বোধিপক্ষীয় ধর্মের ভাবনার দ্বিতীয় কারণ।
পুনঃ, বন্ধুগণ, যে কথা গম্ভীর এবং হৃদয় উন্মুক্তকরণে সহায়ক, যেমন : অল্পেচ্ছুকথা, সন্তুষ্টিকথা, প্রবিবেককথা, অসংসর্গকথা, বীর্যারম্ভকথা, শীলকথা, সমাধিকথা, প্রজ্ঞাকথা, বিমুক্তিকথা, বিমুক্তিজ্ঞান ও দর্শন কথা—একজন ভিক্ষু স্বেচ্ছায়, সহজে, বিনাকষ্টে লাভ করে। বন্ধুগণ, এটা সম্বোধিপক্ষীয় ধর্মের ভাবনার তৃতীয় কারণ।
পুনঃ বন্ধুগণ ভিক্ষু বীর্যবান হয়ে অবস্থান করে, অকুশল ধর্মসমূহ প্রহীনে, কুশলধর্মসমূহ গ্রহণে, শক্তিশালী দৃঢ়-পরাক্রমী, সে কুশলধর্মসমূহ এড়িয়ে চলে না। বন্ধুগণ এটা সম্বোধিপক্ষীয় ধর্মের ভাবনার চতুর্থ কারণ।
অধিকন্তু বন্ধুগণ ভিক্ষু প্রজ্ঞাবান হয় এবং উদয়-অস্তগামিনী প্রজ্ঞাসম্পন্ন ও সম্যক দুঃখক্ষয়গামিনী আর্যনির্বেধ জ্ঞানসম্পন্ন। বন্ধুগণ, এটা সম্বোধিপক্ষীয় ধর্মের ভাবনার পঞ্চম কারণ।
হে ভিক্ষুগণ, একজন কল্যাণমিত্র, কল্যাণসহায়, কল্যাণসহকর্মী ভিক্ষু সম্পর্কে এটা আকাঙ্ক্ষিত-সে শীলবান হবে, প্রাতিমোক্ষের বিধান দ্বারা সংযত ও আচার-গোচরসম্পন্ন হয়ে অবস্থান করবে, সামান্যতম ভয়জনক বিষয়ে ভয়দর্শী হবে ও শিক্ষণীয় বিষয় সমূহ শিক্ষা করবে। ভিক্ষুগণ, একজন কল্যাণমিত্র, কল্যাণসহায়, কল্যাণসহকর্মী ভিক্ষু সম্পর্কে এটাও প্রত্যাশিত, যে কথা গম্ভীর এবং হৃদয় উন্মুক্তকরণে সহায়ক, যেমন : অল্পেচ্ছুকথা, সন্তুষ্টিকথা, প্রবিবেককথা, অসংসর্গকথা, বীর্যারম্ভকথা, শীলকথা, সমাধিকথা, প্রজ্ঞাকথা, বিমুক্তিকথা, বিমুক্তিজ্ঞান ও দর্শনকথা সে স্বেচ্ছায়, সহজে, বিনাকষ্টে লাভ করবে। একজন কল্যাণমিত্র, কল্যাণসহায়, কল্যাণসহকর্মী ভিক্ষু সম্পর্কে এটাও প্রত্যাশিত, সে বীর্যবান হয়ে অবস্থান করবে, অকুশল ধর্মসমূহ প্রহীনে, কুশল ধর্মসমূহ গ্রহণে শক্তিশালী, দৃঢ়-পরাক্রমশালী হবে, সে কুশলধর্ম সমূহ এড়িয়ে চলবে না। একজন কল্যাণমিত্র, কল্যাণসহায়, কল্যাণসহকর্মী ভিক্ষু সম্পর্কে এটাও অভিপ্রেত, সে প্রজ্ঞাবান হবে, উদয়-বিলয়গামী, সম্যক দুঃখক্ষয়গামিনী আর্যজ্ঞানসম্পন্ন হবে। হে ভিক্ষুগণ, যখন সেই ভিক্ষু এই পঞ্চধর্মে প্রতিষ্ঠিত হয় তার আরও চারটি ধর্ম ভাবা উচিত : রাগের প্রহীনের জন্য অশুভ ভাবনা, ব্যাপাদ (বিদ্বেষ) প্রহীনের জন্য মৈত্রী ভাবনা, বিতর্ক উপচ্ছেদের জন্য আনাপানাস্মৃতি ভাবনা, অহংবোধ (আমি) মূল উৎপাটনের জন্য অনিত্যসংজ্ঞা ভাবা উচিত। ভিক্ষুগণ, অনিত্যসংজ্ঞাযুক্ত ভিক্ষুর অনাত্মসংজ্ঞা সংস্থিত হয়, অনাত্মা সংজ্ঞাযুক্ত ব্যক্তির অহংবোধ (“আমি”-এর মান) সমুৎপাটিত হয়ে ইহ জীবনেই নির্বাণ লাভ ঘটে।”
ব্যাখ্যা [০]