লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৮]

ধ্যান সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, আমি বলি প্রকৃতপক্ষে আসব-ক্ষয় নির্ভর করে প্রথম ধ্যানের উপর; প্রকৃতপক্ষে আমি বলি আসব-ক্ষয় নির্ভর করে দ্বিতীয় ধ্যানের উপর; আমি বলি আসব-ক্ষয় নির্ভর করে তৃতীয় ধ্যানের উপর; আমি বলি আসব-ক্ষয় নির্ভর করে চতুর্থ ধ্যানের উপর। হে ভিক্ষুগণ, আমি বলি প্রকৃতপক্ষে আসব-ক্ষয় নির্ভর করে আকাশ-অনন্ত-আয়তন ধ্যানের উপর; আমি বলি আসব-ক্ষয় নির্ভর করে বিজ্ঞান অনন্ত আয়তনের উপর; আমি বলি আসব-ক্ষয় নির্ভর করে আকিঞ্চনায়তন ধ্যানের উপর; আমি বলি আসব-ক্ষয় নির্ভর করে নৈবসংজ্ঞা-নাসংজ্ঞা-নায়তন ধ্যানের উপর।

হে ভিক্ষুগণ, আমি বলি ধ্যানের উপর আসব-ক্ষয় নির্ভর করে বলে কথিত। এবং কী কারণে এরূপ বলা হয়?

এক্ষেত্রে, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু কাম হতে বিবিক্ত হয়ে সবিতর্ক সবিচার বিবেকজ প্রীতি-সুখমণ্ডিত প্রথম ধ্যান লাভ করে অবস্থান করে-তার রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার, বিজ্ঞানসহগত যা কিছু ঘটুক না কেন, সে সম্পূর্ণরূপে অনিত্য হিসাবে, দুঃখ, রোগ, অসুচিমুখ শক্ত কীলক, ক্ষত, যন্ত্রণা, নিজস্ব নহে এমন, চটকদার কিন্তু তুচ্ছ বস্তু, শূন্য, অনাত্ম হিসাবে দেখে। সে সমস্ত বিষয় হতে চিত্তকে ফিরিয়ে নেয়। সে তদ্রূপ করে চিত্তকে অমৃত ধাতুতে এ চেতনায় কেন্দ্রীভূত করে, “এটাই শান্তি, এটাই উত্তম, যেমন সর্ব সংস্কার শান্ত, সর্ব উপাধি (জন্মের ভিত্তি) পরিত্যাগ, তৃষ্ণাক্ষয়, বিরাগ, নিরোধ, নির্বাণ।” এবং সে সেখানে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আসক্তি ক্ষয় প্রাপ্ত হয়, যদি আসক্তি ক্ষয় না হয় সেই ধর্মরাগবশত, সেই ধর্মানন্দ হেতু পঞ্চ অধোভাগীয় সংযোজন ক্ষয় করে আপনা আপনি জন্মগ্রহণ করে এবং সেই জগৎ হতে প্রত্যাবর্তনের অধীন না হয়ে সেখানেই পরিনির্বাণ লাভ করে।

যেমন হে ভিক্ষুগণ, তীরন্দাজ বা তীরন্দাজের শিষ্য তৃণ বা মৃত্তিকা-পুঞ্জের উপর অনুশীলন করবে; বর্তমানে সে দীর্ঘ, দ্রুত, বন্দুক ছোড়ক, মহা কায়ের তীক্ষ্ণভেদক হয়ে যাবে। তদ্রূপ, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু কাম হতে বিবিক্ত হয়ে সবিতর্ক সবিচার বিবেকজ প্রীতি-সুখমণ্ডিত প্রথম ধ্যান লাভ করে অবস্থান করে এবং তার রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার, বিজ্ঞানসহগত যা কিছু হোক না কেন, সে এগুলোকে সম্পূর্ণরূপে অনিত্য, দুঃখ, রোগ, সুচিমুখ শক্ত কীলক, ক্ষত, যন্ত্রণা, নিজস্ব নহে এমন, চটকদার কিন্তু তুচ্ছ বস্তু, শূন্য, অনাত্ম হিসাবে দেখে। সে সেসব বিষয় হতে চিত্তকে ফিরায়ে নেয়। সে তদ্রূপ করে চিত্তকে অমৃত ধাতুতে এ চেতনায় কেন্দ্রীভূত করে, “এটাই শান্তি, এটাই উত্তম, যেমন, সর্ব সংস্কার শান্ত, সর্ব-উপাধি পরিত্যাগ, তৃষ্ণাক্ষয়, বিরাগ, নিরোধ, নির্বাণ।” এবং সে সেখানে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আসক্তি ক্ষয় প্রাপ্ত হয়। যদি আসক্তি ক্ষয় না হয় সেই ধর্মরাগবশত, সেই ধর্মানন্দ হেতু পঞ্চ অধোভাগীয় সংযোজন ক্ষয় করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জন্মগ্রহণ করে এবং সেই জগৎ হতে প্রত্যাবর্তন অধীন না হয়ে সেখানেই পরিনির্বাণ লাভ করে।

হে ভিক্ষুগণ, এটা উক্ত আমি বলি প্রথম ধ্যানের উপর আসব ক্ষয় নির্ভর করে এবং এ কারণে এটা উক্ত।

হে ভিক্ষুগণ, এটা উক্ত; আমি বলি দ্বিতীয় ধ্যানের উপর আসব ক্ষয় নির্ভর করে; এবং এ কারণে এটা উক্ত। হে ভিক্ষুগণ, এটা উক্ত; আমি বলি তৃতীয় ধ্যানের উপর আসব ক্ষয় নির্ভর, এবং এ কারণে এটা উক্ত। হে ভিক্ষুগণ, চতুর্থ ধ্যানের উপর আসব ক্ষয় নির্ভর করে বলে আমি বলি এবং কী কারণে এটা উক্ত?

এখানে হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু সর্ব দৈহিক সুখ-দুঃখ পরিহার করে পূর্বেই সৌমনস্য-দৌর্মনস্য অস্তমিত করে না-দুঃখ না-সুখ উপেক্ষা ও স্মৃতি দ্বারা পরিশুদ্ধ চিত্তে চতুর্থ ধ্যান লাভ করে অবস্থান করে। তার রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার, বিজ্ঞানসহগত যা কিছু ঘটুক না কেন, সে সম্পূর্ণ অনিত্য হিসাবে, দুঃখ, রোগ, সুচিমুখ শক্ত কীলক, ক্ষত, যন্ত্রণা, নিজস্ব নহে এমন, চটকদার কিন্তু তুচ্ছ বস্তু, শূন্য, অনাত্ম হিসাবে দেখে। সে সেসব বিষয় হতে চিত্তকে ফিরায়ে নেয়। সে তদ্রূপ করে চিত্তকে অমৃত ধাতুতে এ চেতনায় কেন্দ্রীভূত করে, “এটাই শান্তি, এটাই উত্তম, যেমন : সর্ব সংস্কার শান্ত, সর্ব উপাধি (জন্মের ভিত্তি) পরিত্যাগ, তৃষ্ণাক্ষয়, বিরাগ, নিরোধ, নির্বাণ।” এবং সে সেখানে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আসক্তি ক্ষয় প্রাপ্ত হয়, যদি আসক্তি ক্ষয় না হয় সেই ধর্মরাগবশত, সেই ধর্মানন্দ হেতু পঞ্চ অধোভাগীয় সংযোজন ক্ষয় করে আপনা আপনি জন্মগ্রহণ করে এবং সেই জগৎ হতে প্রত্যাবর্তনের অধীন না হয়ে সেখানেই পরিনির্বাণ লাভ করে। যেমন হে ভিক্ষুগণ, তীরন্দাজ বা তীরন্দাজের শিষ্য তৃণপুঞ্জ বা মৃত্তিকাপুঞ্জের উপর অনুশীলন করবে; বর্তমানে সে দীর্ঘ, দ্রুত, বন্দুক ছোড়ক, মহা কায়ের তীক্ষ্ণভেদক হয়ে যাবে। তদ্রূপ হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু সর্ব দৈহিক সুখ-দুঃখ পরিহার করে পূর্বেই সৌমনস্য-দৌর্মনস্য অস্তমিত করে না-দুঃখ না-সুখ উপেক্ষা ও স্মৃতি পরিশুদ্ধ চিত্তে চতুর্থ ধ্যান লাভ করে অবস্থান করে এবং তার রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার, বিজ্ঞানসহগত যা কিছু হোক না কেন, সে এগুলোকে সম্পূর্ণরূপে অনিত্য, দুঃখ, রোগ, সুচিমুখ, শক্ত কীলক, ক্ষত, যন্ত্রণা, নিজস্ব নহে এমন, চটকদার কিন্তু তুচ্ছ বস্তু, শূন্য, অনাত্ম হিসাবে দেখে। সে সেসব বিষয় হতে চিত্তকে ফিরায়ে নেয়। সে তদ্রূপ করে চিত্তকে অমৃত ধাতুতে এ চেতনায় কেন্দ্রীভূত করে, “এটাই শান্তি, এটাই উত্তম, যেমন সর্ব সংস্কার শান্ত, সর্ব উপাধি (জন্মের ভিত্তি) পরিত্যাগ, তৃষ্ণাক্ষয়, বিরাগ, নিরোধ, নির্বাণ।” এবং সে সেখানে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আসক্তি ক্ষয় প্রাপ্ত হয়, যদি আসক্তি ক্ষয় না হয় সেই ধর্মরাগবশত, সেই ধর্মানন্দ হেতু পঞ্চ অধোভাগীয় সংযোজন ক্ষয় করে আপনা আপনি জন্মগ্রহণ করে এবং সেই জগৎ হতে প্রত্যাবর্তনের অধীন না হয়ে সেখানেই পরিনির্বাণ লাভ করে।

হে ভিক্ষুগণ, আমি বলি, চতুর্থ ধ্যানের উপর আসব-ক্ষয় নির্ভর করে যে বলা হয় তা এ কারণেই বলা হয়।

হে ভিক্ষুগণ, আমি বলি আকাশ-অনন্ত-আয়তন ধ্যানের উপর আসব-ক্ষয় নির্ভর করে বলে উক্ত এবং এটা কোন কারণে উক্ত হয়?

এখানে হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু সর্বতোভাবে রূপসংজ্ঞা অতিক্রম করে ক্রোধসংজ্ঞা অস্তমিত করে নানাত্ব-সংজ্ঞায় অমনোযোগী হয়ে “অনন্ত আকাশ” জ্ঞানে আকাশ-অনন্ত-আয়তন লাভ করে অবস্থান করে। তার রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার, বিজ্ঞানসহগত যা কিছু ঘটুক না কেন, সে সম্পূর্ণরূপে অনিত্য হিসাবে, দুঃখ, রোগ, সুচিমুখ শক্ত কীলক, ক্ষত, যন্ত্রণা, নিজস্ব নহে এমন, চটকদার কিন্তু তুচ্ছ বস্তু, শূন্য, অনাত্ম হিসাবে দেখে। সে সেসব বিষয় হতে চিত্তকে ফিরিয়ে নেয়। সে তদ্রূপভাবে চিত্তকে অমৃত ধাতুতে এ চেতনায় কেন্দ্রীভূত করে, “এটাই শান্তি, এটাই উত্তম, যেমন সর্ব সংস্কার শান্ত, সর্ব উপাধি (জন্মের ভিত্তি) পরিত্যাগ, তৃষ্ণাক্ষয়, বিরাগ, নিরোধ, নির্বাণ।” এবং সে সেখানে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আসক্তি ক্ষয় প্রাপ্ত হয়, যদি আসক্তি ক্ষয় না হয় সেই ধর্মরাগবশত, সেই ধর্মানন্দ হেতু পঞ্চ অধোভাগীয় সংযোজন ক্ষয় করে আপনা আপনি জন্মগ্রহণ করে এবং সেই জগৎ হতে প্রত্যাবর্তনের অধীন না হয়ে সেখানেই পরিনির্বাণ লাভ করে।

হে ভিক্ষুগণ, আমি বলি, আকাশ-অনন্ত-আয়তন ধ্যানের উপর আসব-ক্ষয় নির্ভর করে যে বলা হয় তা এ কারণেই বলা হয়।

হে ভিক্ষুগণ, আমি বলি, বিজ্ঞান অনন্ত আয়তনের উপর নির্ভর… আকিঞ্চনায়তনের উপর আসব-ক্ষয় নির্ভর করে যে বলা হয় তা কি কারণে বলা হয়?

হে ভিক্ষুগণ, এখানে ভিক্ষু সর্বতোভাবে বিজ্ঞান-অনন্ত-আয়তন অতিক্রম করে “কিছুই না” জ্ঞানে আকিঞ্চনায়তন লাভ করে অবস্থান করে। তার বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার, বিজ্ঞানসহগত যা কিছু ঘটুক না কেন, সে সম্পূর্ণরূপে অনিত্য হিসাবে দুঃখ, রোগ, সুচিমুখ শক্ত কীলক, ক্ষত, যন্ত্রণা, নিজস্ব নহে এমন, চটকদার কিন্তু তুচ্ছ বস্তু, শূন্য, অনাত্ম হিসাবে দেখে। সেভাবে চিত্তকে অমৃত ধাতুতে এ চেতনায় কেন্দ্রীভূত করে, “এটাই শান্তি, এটাই উত্তম, যেমন সর্ব সংস্কার শান্ত সর্ব, উপাধি (জন্মের ভিত্তি) পরিত্যাগ, তৃষ্ণাক্ষয়, বিরাগ, নিরোধ, নির্বাণ।” এবং সে সেখানে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আসক্তি ক্ষয় প্রাপ্ত হয়, যদি আসক্তি ক্ষয় না হয় সেই ধর্মরাগবশত, সেই ধর্মানন্দ হেতু পঞ্চ অধোভাগীয় সংযোজন ক্ষয় করে আপনা আপনি জন্মগ্রহণ করে এবং সেই জগৎ হতে প্রত্যাবর্তনের অধীন না হয়ে সেখানেই পরিনির্বাণ লাভ করে।

হে ভিক্ষুগণ, আমি বলি, আকিঞ্চনায়তনের উপর আসব-ক্ষয় নির্ভর করে যে বলা হয় তা এ কারণেই বলা হয়।

এরূপে যাবৎ সংজ্ঞা বিদ্যমান থাকে তাবৎ জ্ঞানপূর্ণ তীক্ষ্ণতা বিদ্যমান থাকে। অধিকন্তু হে ভিক্ষুগণ, নৈবসংজ্ঞা-নাসংজ্ঞায়তন সমাপত্তি ও সংজ্ঞাবেদয়িত নিরোধ এই উভয় আয়তনে সমাপত্তি (লাভ) ও সমাপত্তি উত্থানের পর সমাপত্তি কুশল (দক্ষ) ও সমাপত্তি উত্থানকুশল ধ্যানী ভিক্ষুদের দ্বারা এক বলে যথার্থভাবে আখ্যায়িত হওয়া উচিত।”

ব্যাখ্যা [০]