৪৪৪. আমি এইরূপ শ্রবণ করিয়াছি। ভগবানের পরিনির্বাণের অল্পকাল পরে কোনো সময় আয়ুষ্মান আনন্দ শ্রাবস্তীস্থিত অনাথপিণ্ডিকের জেতবন আরামে অবস্থান করিতেছিলেন। ওই সময় তোদেয়্যপুত্র তরুণ শুভ কর্মবশত শ্রাবস্তীতে বাস করিতেছিলেন।
৪৪৫. তরুণ শুভ অপর এক যুবককে সম্বোধন করিয়া বলিলেন :
“এস, যুবক, শ্রমণ আনন্দের নিকট গমন করিয়া আমার নামে তাঁহার কুশল জিজ্ঞাসা করিও এবং কৃপাপূর্বক আমার গৃহে আসিবার জন্য তাঁহাকে বলিও।”
৪৪৬. যুবক উত্তরে “উত্তম” বলিয়া আয়ুষ্মান আনন্দের নিকট গমনপূর্বক তাঁহার সহিত চিত্তরঞ্জক প্রীত্যালাপান্তে একপ্রান্তে উপবেশন করিলেন। এইরূপে উপবিষ্ট হইয়া যুবক আয়ুষ্মান আনন্দকে বলিলেন :
“তোদেয়-পুত্র তরুণ শুভ পূজ্য আনন্দের কুশল জিজ্ঞাসা করিয়াছেন এবং কৃপাপূর্বক তাঁহার গৃহে আগমনের জন্য আনন্দকে অনুরোধ করিয়াছেন।”
৪৪৭. এইরূপ উক্ত হইলে আয়ুষ্মান আনন্দ সেই যুবককে বলিলেন :
“হে যুবক, এখন সময় নয়, আজ আমি ওষুধ সেবন করিয়াছি। অবস্থা এবং অবসর বুঝিয়া আগামীকল্য আমার যাওয়া সম্ভব হইতে পারে।”
তদনন্তর সেই যুবক আসন হইতে উত্থানপূর্বক শুভের নিকট গমনপূর্বক তাঁহাকে সমস্ত বলিলেন। তিনি আরও বলিলেন যে আনন্দ যাহা জ্ঞাপন করিয়াছেন তাহাই পর্যাপ্ত, কারণ তিনি আগামী দিবসে আসিতে স্বীকৃত হইয়াছেন।
৪৪৮. অনন্তর আয়ুষ্মান আনন্দ সেই রাত্রির অবসানে প্রাতঃকালীন বস্ত্র পরিহিত হইয়া পাত্র ও চীবর গ্রহণপূর্বক চেতিয় দেশাগত জনৈক ভিক্ষুকে পশ্চাৎ শ্রমণরূপে সমভিব্যাহারে লইয়া শুভের আবাসে গমন করিলেন ও তথায় নির্দিষ্ট আসনে উপবেশন করিলেন। শুভ তাঁহার সমীপে আগত হইয়া তাঁহার সহিত প্রীত্যালাপব্যঞ্জক বাক্যের বিনিময়ান্তে একপ্রান্তে আসন গ্রহণ করিলেন। পরে তিনি আয়ুষ্মান আনন্দকে বলিলেন :
“আনন্দ, আপনি দীর্ঘকাল গৌতমের সেবা করিয়াছেন, অনুক্ষণ তাঁহার নিকটে অবস্থান করিয়াছেন, সর্বদা তাঁহার সঙ্গ অনুসরণ করিয়াছেন। ভগবান গৌতম যে ধর্মের প্রশংসা করিতেন, যাহা আশ্রয় করিবার জন্য তিনি জনগণকে সমুত্তেজিত করিতেন, যাহাতে তিনি তাহাদিগকে প্রবিষ্ট করাইতেন, প্রতিষ্ঠিত করিতেন, পূজ্য আনন্দ সেই ধর্ম জ্ঞাত আছেন। আনন্দ, ওই ধর্ম কী?”
শীল, সমাধি, প্রজ্ঞা
৪৪৯. “হে যুবক, ভগবান তিন ধর্মস্কন্ধের প্রশংসা করিতেন, যাহা আশ্রয় করিবার জন্য তিনি জনগণকে সমুত্তেজিত করিতেন যাহাতে তিনি তাহাদিগকে প্রবিষ্ট করাইতেন, প্রতিষ্ঠিত করিতেন। ওই তিন স্কন্ধ কী কী? আর্য শীলস্কন্ধ, আর্য সমাধিস্কন্ধ, আর্য প্রজ্ঞাস্কন্ধ। হে যুবক, ভগবান এই তিন স্কন্ধের প্রশংসাবাদী ছিলেন, যাহা আশ্রয় করিবার জন্য তিনি জনগণকে… প্রতিষ্ঠিত করিতেন।”
৪৫০-৪৫৩. “আনন্দ, পূজ্য গৌতম প্রশংসিত ওই আর্য শীলস্কন্ধ কী?”
“হে যুবক, মনে করো জগতে তথাগতের আবির্ভাব হইয়াছে, যিনি অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ… হে যুবক, ভিক্ষু এইরূপেই শীলসম্পন্ন হইয়া থাকেন। [শ্রামণ্যফল সূত্রের মতো পাঠ করিতে হইবে]
“হে যুবক, ইহাই ভগবান প্রশংসিত আর্য শীলস্কন্ধ, যাহা আশ্রয় করিবার জন্য তিনি জনগণকে সমুত্তেজিত করিতেন, যাহাতে তিনি তাহাদিগকে প্রবিষ্ট করাইতেন, প্রতিষ্ঠিত করিতেন। কিন্তু ইহার পরও করণীয় আছে।”
“হে আনন্দ, আশ্চর্য! হে আনন্দ, অদ্ভুত! হে আনন্দ, এই আর্য শীলস্কন্ধ পরিপূর্ণ, অপরিপূর্ণ নহে; এরূপ পরিপূর্ণ শীলস্কন্ধ আমি এই ধর্মের বাহিরে অন্য শ্রমণ-ব্রাহ্মণের মধ্যে দেখি না। হে আনন্দ, এইরূপ পরিপূর্ণ আর্য শীলস্কন্ধ যদি এই ধর্মের বাহিরে অন্য শ্রমণ-ব্রাহ্মণ কর্তৃক আপনার মধ্যে দৃষ্ট হয়, তাহা হইলে তাঁহারা উহাতেই সন্তুষ্ট হইবেন, “ইহাই পর্যাপ্ত, যাহা সম্পাদন করিয়াছি তাহাতেই শ্রামণ্যের লক্ষ্যে উপনীত হইয়াছি, অপর কিছুই করণীয় নাই; অথচ আনন্দ বলিতেছেন, “ইহার পরও করণীয় আছে।”
শুভ সূত্রের প্রথম ভাণবার সমাপ্ত।
৪৫৪-৪৬৬. “হে আনন্দ, ভগবান প্রশংসিত সেই আর্য সমাধিস্কন্ধ কী? যাহা আশ্রয় করিবার জন্য তিনি জনগণকে সমুত্তেজিত করিতেন, যাহাতে তিনি তাহাদিগকে প্রবিষ্ট করাইতেন, প্রতিষ্ঠিত করিতেন?
“হে যুবক, ভিক্ষু কী প্রকারে রক্ষিতেন্দ্রিয় হইয়া থাকেন?… তাঁহার দেহের কোনো অংশই বিবেকজ প্রীতিসুখ দ্বারা অব্যাপ্ত থাকে না। [শ্রামণ্যফল সূত্রের মতো পাঠ করিতে হইবে।]
৪৬৭. “হে যুবক, ভিক্ষু যখন কাম হইতে বিবিক্ত হইয়া, অকুশল ধর্ম হইতে বিবিক্ত হইয়া, সবিতর্ক, সবিচার, বিবেকজ প্রীতিসুখ-মণ্ডিত প্রথম ধ্যান লাভ করিয়া বিহার করেন, তখন তিনি এই দেহকে বিবেকজ প্রীতিসুখ দ্বারা প্লাবিত করেন, সিক্ত করেন, পরিপূর্ণ করেন, পরিস্ফুরিত করেন, তাঁহার দেহের কোনো অংশই বিবেকজ প্রীতিসুখ দ্বারা অব্যাপ্ত থাকে না। ইহাই সমাধিস্কন্ধ।
৪৬৮. “পুনশ্চ, যুবক, ভিক্ষু বিতর্ক-বিচারের… অব্যাপ্ত থাকে না। [শ্রামণ্যফল সূত্রের মতো পাঠ করিতে হইবে।]… ইহাও সমাধিস্কন্ধ।
৪৬৯-৪৭১. “পুনশ্চ, যুবক, ভিক্ষু প্রীতিতেও বৈরাগ্য উৎপাদন করিয়া উপেক্ষাসম্পন্ন… অব্যাপ্ত থাকে না। [শ্রামণ্যফল সূত্রের মতো পাঠ করিতে হইবে।]… ইহাও সমাধিস্কন্ধ।
“হে যুবক, ইহাই সেই আর্য সমাধিস্কন্ধ যাহা ভগবান কর্তৃক প্রশংসিত, যাহা আশ্রয় করিবার জন্য তিনি জনগণকে সমুত্তেজিত করিতেন, যাহাতে তিনি তাহাদিগকে প্রবিষ্ট করাইতেন, প্রতিষ্ঠিত করিতেন। কিন্তু ইহার পরও করণীয় আছে।
“হে আনন্দ, আশ্চর্য! অদ্ভুত! ওই আর্য শীলস্কন্ধ পরিপূর্ণ… ইহার পরও করণীয় আছে।”
৪৭২. পরন্তু, হে আনন্দ, সেই আর্য প্রজ্ঞাস্কন্ধ কি যাহা ভগবান কর্তৃক প্রশংসিত হইত, যাহা আশ্রয় করিবার জন্য তিনি জনগণকে সমুত্তেজিত করিতেন, যাহাতে তিনি তাহাদিগকে প্রবিষ্ট করাইতেন, প্রতিষ্ঠিত করিতেন?”
“এইরূপে চিত্তের সেই সমাহিত, পরিশুদ্ধ, পর্যাবদাত… প্রতিবদ্ধ। (শ্রামণ্যফল সূত্র মতো পাঠ করিতে হইবে।)
৪৭৩-৪৭৯. “হে যুবক, ভিক্ষু যখন চিত্তের সেই সমাহিত, পরিশুদ্ধ, পর্যাবদাত, অনঙ্গন, উপক্লেশ-বিগত, মৃদুভূত, কমনীয়, স্থিত, অনেক অবস্থায় জ্ঞানদর্শনের অভিমুখে চিত্তকে নমিত করেন, তখন তিনি এই জ্ঞান লাভ করেন :
“আমার এই কায়… প্রতিবদ্ধ।” [শ্রামণ্যফল সূত্রের মতো পাঠ করিতে হইবে।] ইহা প্রজ্ঞা।
“এইরূপে চিত্তের সেই সমাহিত… সর্বেন্দ্রিয়যুক্ত কায় নির্মাণ করেন। [শ্রামণ্যফল সূত্রের মতো পাঠ করিতে হইবে।) ইহাও প্রজ্ঞা।
“চিত্তের সেই সমাহিত… পুনর্জন্ম আর নাই, ইহা তিনি জানিতে পারেন। [শ্রামণ্যফল সূত্রের মতো পাঠ করিতে হইবে।] ইহাও প্রজ্ঞা।
৪৮০. “হে যুবক, ইহাই সেই আর্য প্রজ্ঞাস্কন্ধ, যাহা ভগবান কর্তৃক প্রশংসিত, যাহা আশ্রয় করিবার জন্য তিনি জনগণকে সমুত্তেজিত করিতেন, যাহাতে তিনি তাহাদিগকে প্রবিষ্ট করাইতেন, প্রতিষ্ঠিত করিতেন। ইহার পর করণীয় আর কিছুই নাই।”
“হে আনন্দ, আশ্চর্য! হে আনন্দ, অদ্ভুত! হে আনন্দ, এই আর্য প্রজ্ঞাস্কন্ধ পরিপূর্ণ, অপরিপূর্ণ নহে, হে আনন্দ এইরূপ পরিপূর্ণ আর্য প্রজ্ঞাস্কন্ধ আমি এই ধর্মের বাহিরে অন্য শ্রমণ ব্রাহ্মণের মধ্যে দেখি না। ইহার পর করণীয় আর কিছুই নাই। হে আনন্দ, উত্তম! উত্তম! যেরূপ উৎপাতিতের পুনঃ প্রতিষ্ঠা হয়, লুক্কায়িত প্রকাশিত হয়, মূঢ় পথ প্রদর্শিত হয়, চক্ষুষ্মানের দেখিবার নিমিত্ত অন্ধকারে তৈলপ্রদীপ ধৃত হয়, সেরূপই পূজ্য আনন্দ অনেক প্রকারে ধর্ম প্রকাশিত করিয়াছেন। হে আনন্দ, আমি ভগবান গৌতমের শরণ লইতেছি, ধর্মের শরণ লইতেছি, ভিক্ষুসংঘের শরণ লইতেছি। অদ্য হইতে জীবনের অন্তকাল পর্যন্ত পূজ্য আনন্দ আমাকে শরণাগত উপাসকরূপে গ্রহণ করুন।”
শুভ সূত্র সমাপ্ত।
ব্যাখ্যা [৩]
English
Deutsch
Việt Ngữ