লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২২]

মহাসময় সূত্রান্ত

৩৩১. আমি এইরূপ শ্রবণ করিয়াছি, একসময় ভগবান শাক্যদিগের দেশে কপিলবাস্তু নগরে মহাবনে অর্হত্ত্বপ্রাপ্ত পঞ্চশত ভিক্ষুসমন্বিত বৃহৎ ভিক্ষুসংঘের সহিত অবস্থান করিতেছিলেন। ওই স্থানে দশ লোকধাতু হইতে বহুসংখ্যক দেবতা ভগবান ও ভিক্ষুসংঘের দর্শনলাভার্থ সমাগত হইয়াছিলেন।

তখন শুদ্ধাবাস দেবলোকের চারিজন দেবতার মনে এই চিন্তার উদয় হইল, “ভগবান শাক্যদিগের দেশে কপিলবাস্তু নগরে মহাবনে অর্হত্ত্বপ্রাপ্ত পঞ্চশত ভিক্ষুসমন্বিত বৃহৎ ভিক্ষুসংঘের সহিত অবস্থান করিতেছেন। ওইস্থানে দশ লোকধাতু হইতে বহুসংখ্যক দেবতা ভগবান ও ভিক্ষুসংঘের দর্শনলাভার্থ সমাগত হইয়াছেন। অতএব আমারাও ভগবানের নিকট গমনপূর্বক তাঁহার সমীপে প্রত্যেকে এক একটি গাথা উচ্চারণ করিব।”

৩৩২. অতঃপর ওই দেবগণ যেরূপ বলবান পুরুষ সংকুচিত বাহু প্রসারিত করে, অথবা প্রসারিত বাহু সংকুচিত করে, সেইরূপ শুদ্ধাবাস দেবলোকে অন্তর্হিত হইয়া ভগবানের সম্মুখে আবির্ভূত হইলেন। অনন্তর ওই সকল দেবতা ভগবানকে অভিবাদনপূর্বক একপ্রান্তে দণ্ডায়মান হইলেন। পরে একজন দেবতা ভগবানের সমীপে এই গাথা বলিলেন :

“প্রবনে মহা সম্মিলন হইয়াছে, দেবগণ সমাগত হইয়াছেন,
অপরাজিত সংঘের দর্শনার্থ আমরা আগমন করিয়াছি।”
অতঃপর অপর এক দেবতা ভগবানের সমীপে এই গাথা বলিলেন :
“ওই স্থানে ভিক্ষুগণ চিত্তের একাগ্রতা ও ঋজুতা সম্পাদন
করিয়াছেন, রশ্মিগ্রাহক সারথির ন্যায়
পণ্ডিতগণ ইন্দ্রিয়সমূহকে রক্ষা করেন।”

তখন অপর এক দেবতা ভগবানের সমীপে এই গাথা বলিলেন :

“রাগ-দ্বেষ-মোহাদি চিত্ত-গ্লানি ও পরিঘ ছিন্ন করিয়া,
ইন্দ্রকীলের উৎখাত সাধন করিয়া, শান্তচিত্তগণ শুদ্ধ বিমল,
চক্ষুষ্মান হইয়া সুদান্ত শিশুনাগের ন্যায় বিচরণ করেন।”

পরে অপর এক দেবতা ভগবানের সমীপে এই গাথা বলিলেন :

“যাঁহারা বুদ্ধের শরণাগত হইয়াছেন, তাঁহাদের দুর্গতি নাই,
মনুষ্যদেহ ত্যাগ করিয়া তাঁহারা দেবলোকে উৎপন্ন হইবেন।”

৩৩৩. তৎপরে ভগবান ভিক্ষুসংঘকে বলিলেন, “ভিক্ষুগণ, দশ লোক-ধাতু হইতে বহুসংখ্যক দেবতা তথাগত এবং ভিক্ষুসংঘের দর্শনার্থ সমাগত হইয়াছেন। ভিক্ষুগণ, অতীতকালে যাঁহারা অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ হইয়াছিলেন, ওই সকল ভগবানকেও দেখিবার নিমিত্ত সমসংখ্যক দেবতার সম্মিলন হইয়াছিল, যেরূপ আমার দর্শনার্থ এক্ষণে দেবগণ সমাগত হইয়াছেন। যাঁহারা ভবিষ্যতে অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ হইবেন, ওই সকল ভগবানকেও দেখিবার নিমিত্ত সমসংখ্যক দেবতার সম্মিলন হইবে, যেরূপ আমার দর্শনার্থ এক্ষণে দেবগণ সমাগত হইয়াছেন। ভিক্ষুগণ, আমি দেবদেহধারীগণের নাম প্রকাশ করিব, কীর্তন করিব, শিক্ষা দিব। শ্রবণ করো, উত্তমরূপে মনঃসংযোগ করো, আমি বলিতেছি।”

“তথাস্তু” বলিয়া ভিক্ষুগণ সম্মত হইলেন।
৩৩৪. ভগবান বলিলেন :
“পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন স্থানে এবং পর্বতকন্দরে
যে সকল সংযমী এবং সমাহিত দেবগণ অবস্থান
করিতেছেন, আমি তাঁহাদের বিষয় বলিতেছি।
সিংহসম দৃঢ়তাসম্পন্ন, ভয়হীন, রোমাঞ্চহীন,
পবিত্রচিত্তসম্পন্ন, শুদ্ধ, প্রসন্ন, নির্মল, শাসনরত
পঞ্চশতাধিক শ্রাবকগণকে কপিলবাস্তুর বনে
দেখিয়া বুদ্ধ তাঁহাদিগকে সম্বোধন করিলেন :
“দেবদেহধারীগণ অগ্রসর হইতেছেন, ভিক্ষুগণ,
তাঁহাদিগকে দর্শন করো।” ভিক্ষুগণ বুদ্ধের
বচন শ্রবণ করিয়া দেখিবার নিমিত্ত তৎক্ষণাৎ
প্রয়াস করিলেন।
তাঁহাদিগের দেবদর্শনের জ্ঞান উৎপন্ন হইল।
কেহ কেহ শত, কেহ কেহ সহস্র, কেহ কেহ
সপ্ততি সহস্র, কেহ কেহ শত সহস্র দেবগণের
দর্শন লাভ করিলেন। কেহ কেহ দেখিলেন
সর্বদিক অসংখ্য দেবগণে পূর্ণ। তখন চক্ষুষ্মান
শাস্তা ওই সমস্ত বিশেষরূপে জানিয়া ও বুঝিয়া
শাসনরত শ্রাবকগণকে সম্বোধন করিলেন :
“ভিক্ষুগণ, দেবগণ সমাগত, তাঁহাদের বিষয় জ্ঞানলাভ করো,
আমি ক্রমানুসারে দেবগণেরবর্ণনা করিতেছি।”
৩৩৫. কপিলবাস্তুর সপ্ত সহস্র ঋদ্ধিমান,
দ্যুতিমান, বর্ণবান, যশস্বী ভূম্য দেবতা আনন্দিত চিত্তে
অরণ্যদেশে ভিক্ষু সম্মিলনীতে আগত হইয়াছেন।
হিমালয়ের নানাবর্ণবিশিষ্ট ছয় সহস্র ঋদ্ধিমান,
দ্যুতিমান, বর্ণবান, যশস্বী দেবতা আনন্দিতচিত্তে
বনপ্রদেশে ভিক্ষু সম্মিলনীতে আগত হইয়াছেন।
সাতাগিরি পর্বতের নানাবর্ণবিশিষ্ট ঋদ্ধিমান,
দ্যুতিমান, বর্ণবান, যশস্বী তিন সহস্র দেবতা আনন্দিত চিত্তে
বনদেশে ভিক্ষু সম্মিলনীতে আগত হইয়াছেন।
এইরূপে ষোড়শ সহস্র নানাবর্ণবিশিষ্ট, ঋদ্ধিমান,
দ্যুতিমান, বর্ণবান, যশস্বী দেবতা আনন্দিত চিত্তে
বনপ্রদেশে ভিক্ষু সম্মিলনীতে আগত হইয়াছেন।
নানাবর্ণবিশিষ্ট, ঋদ্ধিমান, দ্যুতিমান, বর্ণবান,
যশস্বী বেস্সমিত্তের পঞ্চশত দেবতা আনন্দিত চিত্তে
বনপ্রদেশে ভিক্ষু সম্মিলনীতে আগত হইয়াছেন।
রাজগৃহের বেপুল্ল পর্বতবাসী কুম্ভীর, যিনি
শতসহস্রাধিক যক্ষ কর্তৃক পূজিত, তিনিও
বনদেশের ভিক্ষু সম্মিলনীতে আগত হইয়াছেন।
৩৩৬. পূর্বদিক রাজা ধৃতরাষ্ট্রের শাসনে, সেই যশস্বী
মহারাজ গন্ধর্বগণের অধিপতি, তাঁহার ইন্দ্র
নামধারী মহাবলসম্পন্ন বহু পুত্র, তাঁহারা ঋদ্ধিমান,
দ্যুতিমান, বর্ণবান, যশস্বী, তাঁহারা আনন্দিত চিত্তে
বনদেশে ভিক্ষু সম্মিলনীতে আগত হইয়াছেন।
দক্ষিণ দিক রাজা বিরূঢ়ের শাসনে, সেই যশস্বী
মহারাজ কুম্ভণ্ডগণের অধিপতি, তাঁহার ইন্দ্র
নামধারী মহাবলসম্পন্ন বহু পুত্র, তাঁহারা ঋদ্ধিমান,
দ্যুতিমান, বর্ণবান, যশস্বী; তাঁহারা আনন্দিত চিত্তে
বনদেশে ভিক্ষু সম্মিলনীতে আগত হইয়াছেন।
পশ্চিমদিক রাজা বিরুপক্ষের শাসনে, সেই যশস্বী
মহারাজ নাগদিগের অধিপতি, তাঁহার ইন্দ্র
নামধারী মহাবলসম্পন্ন বহু পুত্র, তাঁহারা ঋদ্ধিমান,
দ্যুতিমান, বর্ণবান, যশস্বী; তাঁহারা আনন্দিত চিত্তে
বনদেশে ভিক্ষু সম্মিলনীতে আগত হইয়াছেন।
উত্তরদিক রাজা কুবেরের শাসনে, সেই যশস্বী
মহারাজ যক্ষদিগের অধিপতি। তাঁহার ইন্দ্র
নামধারী মহাবলসম্পন্ন বহু পুত্র, তাঁহারা ঋদ্ধিমান,
দ্যুতিমান, বর্ণবান, যশস্বী; তাঁহারা আনন্দিত চিত্তে
বনদেশে ভিক্ষু সম্মিলনীতে আগত হইয়াছেন।
পূর্বদিকে ধৃতরাষ্ট্র, দক্ষিণে বিরূঢ়ক, পশ্চিমে
বিরুপক্ষ, উত্তরে কুবের, এই চারি মহারাজ
কপিলবাস্তুর বনের চতুর্দিকে জাজ্জ্বল্যমান
হইয়া বিরাজ করিতেছিলেন।
৩৩৭. তাঁহাদের মায়াবী, বঞ্চক, শঠ দাসগণ আগত,
তাহাদের নাম মায়া, কুটেণ্ডু, বেটেণ্ডু, বিটু,
বিটুচ্চ; চন্দন, কামসেট্ঠ, কিন্নুঘণ্ডু, নিঘণ্ডু,
পণাদ, ওপমঞ্‌ঞ এবং দেবসারথি মাতলি,
চিত্তসেন, গন্ধর্ব নলরাজা, জনেষভ,
পঞ্চশিখ এবং তিম্বর্বকন্যা সূর্যবর্চসা আগত হইয়াছেন।
ইহাদের সহিত অন্যান্য রাজা এবং গন্ধর্বগণও আনন্দিত
চিত্তে বনদেশে ভিক্ষু সম্মিলনীতে আগত হইয়াছেন।
৩৩৮. নভোবাসী ও বৈশালিবাসী নাগগণ তচ্ছক :
দিগের সহিত আগত; কম্বল, অতস্সতর,
এবং জ্ঞাতিবর্গসহ প্রয়াগবাসীগণও আগত;
যশস্বী যমুনাবাসী এবং ধৃতরাষ্ট্র নামক নাগগণ আগত;
মহানাগ এরাবণও বনদেশে সম্মিলনীতে
আগত হইয়াছেন। যে সকল দিব্য বিশুদ্ধ চক্ষু
দ্বিজপক্ষী বল প্রয়োগে নাগরাজগণকে হরণ করে,
আকাশ হইতে তাহারা বনপ্রদেশে উপনীত,
তাহাদের নাম চিত্র এবং সুপর্ণ। ওই সময় নাগরাজগণ
বুদ্ধ কর্তৃক সুপর্ণ ভীতি হইতে মুক্ত হইয়াছিল।
পরস্পরের সহিত মৃদুবাক্যের আলাপনে নাগ ও
সুপর্ণগণ বুদ্ধের শরণাগত।
৩৩৯. বজ্রপাণি কর্তৃক পরাজিত সমুদ্রে শায়িত
বাসবের ঋদ্ধিমান ও যশস্বী ভ্রাতৃগণ,
ভয়ঙ্করাকৃতি কালকঞ্জ অসুরগণ, দানবেঘসগণ,
নমুচিসহ বেপাচিত্তি, সুচিত্তি, এবং পহারদ,
বেরোচ নামধারী বলির শতপুত্র, বলশালী
সৈন্য সজ্জিত করিয়া রাহুভদ্রের নিকট গমনপূর্বক
বলিল: “আপনার মঙ্গল হউক,
বনদেশে ভিক্ষুগণের সম্মিলনী হইতেছে।”
৩৪০. আপ, ক্ষিতি, তেজ এবং বায়ু দেবগণ আসিয়াছেন,
বরণ ও বারণ দেবগণ, সোম, যশ, মৈত্রী ও করুণার
মূর্তিরূপ যশস্বী দেবগণ আগত হইয়াছেন।
এই দশবিধদেহধারী নানাবর্ণী ঋদ্ধিমান,
দ্যুতিমান, বর্ণবান, যশস্বী দেবগণ সকলেই আনন্দিত চিত্তে
বনদেশে ভিক্ষু সম্মিলনীতে আগমন করিয়াছেন।
বিষ্ণু ও সহলি দেবগণ, অসম, দেবগণ, যমদ্বয়,
এবং চন্দ্রকে পুরোভাগে রক্ষা করিয়া
চন্দ্রলোকস্থ দেবগণ সমাগত হইয়াছেন;
সূর্যকে পুরোভাগে রক্ষা করিয়া সূর্যালোকের
দেবগণ আগত; নক্ষত্রগণকে পুরোভাগে রক্ষা করিয়া
মন্দবলাহকগণ আগত; বসুদেবগণের শ্রেষ্ঠ
বাসব শক্র পুরন্দর আগত।
এই দশ দশবিধদেহধারী নানাবর্ণী ঋদ্ধিমান,
দ্যুতিমান, বর্ণবান, যশস্বী দেবগণ সকলেই আনন্দিত চিত্তে
বনদেশে ভিক্ষু সম্মিলনীতে আগত হইয়াছেন।
অগ্নিশিখার ন্যায় উজ্জ্বল সহভূ দেবগণ আসিয়াছেন;
উমা পুষ্পাভ অরিট্ঠক ও রোজগণ, বর্বণ,
সহধর্ম, অচ্চুত, অনেকজ, সুলেয্য, রুচির এবং
বাসবনেসি দেবগণ আগমন করিয়াছেন।
এই দশ দশবিধদেহধারী নানাবর্ণী ঋদ্ধিমান,
দ্যুতিমান, বর্ণবান, যশস্বী দেবগণ আনন্দিত চিত্তে
বনদেশে ভিক্ষু সম্মিলনীতে আগত হইয়াছেন।
সমান, মহা-সমান, মানুষ, মানুষোত্তম,
ক্রীড়া প্রদোষিক, মন-প্রদোষিক দেবগণ,
হরি দেবগণ, লোহিত-বাসধারী দেবগণ,
এবং যশস্বী পারগা ও মহাপারগা দেবগণ সমাগত।
এই দশ দশবিধদেহধারী, নানাবর্ণী, ঋদ্ধিমান,
দ্যুতিমান, বর্ণবান, যশস্বী দেবগণ আনন্দিত চিত্তে
বনদেশে ভিক্ষু সম্মিলনীতে আগমন করিয়াছেন।
সুক্ক, করুম্হ, অরুণ, বেঘনস দেবগণ,
ওদাতিগহ্য প্রমুখ বিচক্ষণ দেবগণ,
যশস্বী সদামত্ত, হারগজ, মিতস্সক দেবগণ,
দিগন্ত প্লাবনকারী সবজ্রগর্জন পজ্জুন্ন আগমন করিয়াছেন।
এই দশ দশবিধ দেহধারী নানাবর্ণী ঋদ্ধিমান,
দ্যুতিমান, বর্ণবান, যশস্বী দেবগণ আনন্দিত চিত্তে
বনদেশে ভিক্ষু সম্মিলনীতে আগমন করিয়াছেন।
যশস্বী খেমিয়, তুষিত, যাম, কট্ঠক দেবগণ,
লম্বিতক, লামসেট্ঠ জ্যোতি এবং আসব
দেবগণ, নির্মাণরতি এবং পরিনির্মিত
দেবগণ আগত।
এই দশ দশবিধ দেহধারী নানাবর্ণী ঋদ্ধিমান,
দ্যুতিমান, বর্ণবান, যশস্বী দেবগণ আনন্দিত চিত্তে
বনদেশে ভিক্ষু সম্মিলনীতে আগমন করিয়াছেন।
এই নানাবর্ণী ষষ্ঠী সংখ্যক দেবতা নামান্বয়ে
অন্যান্য প্রতিরূপ দেবগণসহ আগমন
করিয়াছেন। “জন্ম-জয়ী, অখিল,
প্লাবনোত্তীর্ণ, অনাসব, ওঘ-তারণ,
তমোনাশী চন্দ্রের ন্যায় নাগকে দেখিব।”
৩৪১. সনৎকুমারসহ ঋদ্ধিমানের পুত্রদ্বয় সুব্রহ্মা
এবং পরমত্ত এবং তিস্স বন সম্মিলনীতে
আসিয়াছেন। সহস্র ব্রহ্মলোকাধিপতি
মহাব্রহ্মা বিরাজ করিতেছেন, তিনি
যশস্বী, ভীষণাকার, দ্যুতিমানরূপে
পুনর্বৎপন্ন। তাঁহার অধীনস্থ দশ
সংখ্যক দেবতা প্রত্যেকে এক এক
ব্রহ্মলোকের শাসক আসিয়াছেন,
তাঁহাদিগের মধ্যে পারিষদ পরিবেষ্টিত হারিত
আগমন করিয়াছেন।
৩৪২. ইন্দ্র ও ব্রহ্মাসহ সর্বদেবের আগমন
হইলে মারসেনা অগ্রসর হইল,
মারের ধৃষ্টতা অবলোকন করো!
“এস, ধৃত করো, বন্দী করো, সকলে
রাগবদ্ধ হউক, চতুর্দিক হইতে বেষ্টন
কর, কাহাকেও মুক্তি দিও না।”
এইরূপে মহাযোদ্ধা হস্ত দ্বারা ভূমি
তল আঘাতপূর্বক ভৈরব নাদ করিয়া
কৃষ্ণ-সেনা দল প্রেরণ করিল। সে বজ্র
ধ্বনি ও বিদ্যুৎ-যুক্ত বর্ষণকারী মেঘের ন্যায়
ক্রোধ প্রকাশ করিল, কিন্তু নির্বপায় হইয়া
প্রত্যাবর্তন করিল।
৩৪৩. অন্তর্দৃষ্টির দ্বারা ওই সমুদয় জ্ঞাত এবং বাক্য
কথনেচ্ছু হইয়া শাস্তা শাসনরত শ্রাবকগণকে
সম্বোধন করিলেন, ভিক্ষুগণ, সাবধান!
মারসেনা আগত।” তাঁহারা বুদ্ধের বাক্য শ্রবণ
করিয়া সচেতন হইলেন। মারসেনা বীতরাগগণ
কর্তৃক বিতাড়িত হইল, তাঁহাদের একটি লোমও
কম্পিত হইল না। যশস্বী, সংগ্রামজয়ী, ভয়াতীত,
প্রসিদ্ধিপ্রাপ্ত শ্রাবকগণের সকলেই সর্বপ্রাণীর
সহিত আনন্দিত হইলেন?

মহাসময় সূত্রান্ত সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [২]