আমি এইরূপ শুনিয়াছি।
এক সময় ভগবান শ্রাবস্তী-সমীপে অবস্থান করিতেছিলেন পূর্বারামে মৃগার মাতৃ প্রাসাদে। তখন গণক মৌদ্গল্লায়ন ব্রাহ্মণ ভগবানের নিকট উপস্থিত হইলেন, উপস্থিত হইয়া প্রীত্যালাপ ও কুশল প্রশ্নাদি বিনিময় করিয়া একান্তে উপবেশন করিলেন। একান্তে উপবিষ্ট গণক মৌদ্গল্লায়ন ব্রাহ্মণ ভগবানকে বলিলেন, “হে গৌতম, যেমন মৃগার মাতার প্রাসাদে শেষ সোপান শ্রেণি পর্যন্ত অনুপূর্ব শিক্ষা, অনুপূর্ব ক্রিয়া ও অনুপূর্ব প্রতিপদ (ক্রমিক প্রগতি) দেখা যায়, হে গৌতম, এই ব্রাহ্মণদের মধ্যে অধ্যয়নে তদ্রূপ অনুপূর্ব শিক্ষা… তীরন্দাজদের মধ্যে তীর চালনা বিষয়ে… দেখা যায়, হে গৌতম, আমরা গণনাকারী ও গণনাজীবীদের মধ্যে সংখ্যা বিষয়ে অনুপূর্ব… যায়। আমরা অন্তেবাসী লাভ করিয়া তাহাকে প্রথমে এইভাবে গণনা করাই-এক একটি, দুই দুইটি, তিন তিনটি, চারি চারিটি, পাঁচ পাঁচটি, ছয় ছয়টি, সাত সাতটি, আট আটটি, নয় নয়টি, দশ দশটি, এইভাবে শত পর্যন্ত গণনা করাই। হে গৌতম, এই ধর্মবিনয়েও (বুদ্ধ প্রবর্তিত) কি এইরূপ অনুপূর্ব শিক্ষা অনুপূর্ব ক্রিয়া অনুপূর্ব প্রতিপদ প্রজ্ঞাপন করা সম্ভব?”
হে ব্রাহ্মণ, এই ধর্মবিনয়ে অনুপূর্ব… সম্ভব। যেমন, হে ব্রাহ্মণ, কোনো দক্ষ অশ্বদমক ভদ্র অশ্বাজানেয্য (উত্তমজাত) লাভ করিয়া প্রথমে মুখাবরণ (লাগাম) ধারণ করিতে শিক্ষা দেন, পরে অন্য পরবর্তী শিক্ষা দেন, ঠিক এইরূপে তথাগত দমনীয় পুরুষ লাভ করিয়া তাহাকে প্রথমে এই শিক্ষা দেন-এসো ভিক্ষু, শীলবান হও, প্রাতিমোক্ষ (উল্লিখিত) সংবর দ্বারা সংবৃত হও। আচারগোচরসম্পন্ন হইয়া অবস্থান করো, অনুমাত্র দোষেও ভয়দর্শী হইয়া বিহার করো, শিক্ষাপদসমূহ গ্রহণ করিয়া শিক্ষা লাভ করো। হে ব্রাহ্মণ, যখন ভিক্ষু শীলবান হয়… শিক্ষা লাভ করেন, তখন তথাগত তাহাকে এই পরবর্তী শিক্ষা দেন : এসো ভিক্ষু, ইন্দ্রিয়ে গুপ্তদ্বার (সংযত) হও, চক্ষু দ্বারা রূপ দর্শন করিয়া নিমিত্তগ্রাহী ও অনুব্যঞ্জনগ্রাহী (চক্ষু দ্বারা অভিভূত) হইও না। চক্ষু-ইন্দ্রিয় বিষয়ে অসংযত হইয়া বিহার করিলে অভিধ্যা, দৌর্মনস্য, পাপ ও অকুশলধর্ম অনুস্রাবিত হয়, তাহার সংযম সাধনে প্রবৃত হও। চক্ষু ইন্দ্রিয় রক্ষা করো, চক্ষু-ইন্দ্রিয়ে সংযম প্রাপ্ত হও। শ্রোত্র, ঘ্রাণ, জিহ্বা, কায় ও মন সম্পর্কেও এইরূপ। হে ব্রাহ্মণ, যখন ভিক্ষু ইন্দ্রিয়ে গুপ্তদ্বার হয়, তখন তথাগত তাঁহাকে এই পরবর্তী শিক্ষা দেন : এসো ভিক্ষু, ভোজনে মাত্রাজ্ঞ হও, গভীর মনোনিবেশ-সহকারে আহার করো, এই আহার ক্রীড়ার জন্য নহে, মত্ততার জন্য নহে, সৌষ্ঠবের জন্য নহে, শোভাবর্ধনের জন্যও নহে, ইহা শুধু দেহের স্থিতির জন্য, জীবন যাপনের জন্য, বিহিংসা উপরতির (ক্ষতি নিবারণ) এবং ব্রহ্মচর্য অনুগ্রহার্থ (উপযোগিতার জন্য), যাহাতে, “পুরাতন বেদনা প্রতিহত করিব ও নতুন বেদনা উৎপন্ন হইতে দিব না, যেন আমার জীবনযাত্রা অনবদ্য ও স্বচ্ছন্দ বিহার হয়।” হে ব্রাহ্মণ, যখন ভিক্ষু ভোজনে মাত্রাজ্ঞ হয়, তখন তথাগত তাঁহাকে এই পরবর্তী শিক্ষা দেন-“এসো ভিক্ষু, জাগরণে অনুযুক্ত হও, দিবসে চঙ্ক্রমণ ও উপবেশনে আবরণীয় ধর্ম হইতে চিত্ত পরিশুদ্ধ করো। রাত্রির প্রথম যামে চঙ্ক্রমণে, উপবেশনে আবরণীয় ধর্ম হইতে চিত্ত পরিশুদ্ধ করো, রাত্রির মধ্যম যামে পায়ের উপর পা রাখিয়া স্মৃতিমান ও সম্প্রজ্ঞাত হইয়া যথাসময়ে পুনর্বত্থানের জন্য মনস্কার করিয়া দক্ষিণ পার্শ্বে সিংহশয্যা গ্রহণ করো, রাত্রির শেষ যামে প্রত্যুখান করিয়া পুনরায় চঙ্ক্রমণে, উপবেশনে আবরণীয় ধর্ম হইতে চিত্ত পরিশুদ্ধ করো।” হে ব্রাহ্মণ, যখন ভিক্ষু জাগরণে অনুযুক্ত হন, তখন তথাগত তাঁহাকে এই পরবর্তী শিক্ষা দেন-“এসো ভিক্ষু, স্মৃতিসম্প্রজ্ঞান-সমন্বিত হও, অভিগমনে, প্রত্যাগমনে, আলোকনে-বিলোকনে, সঙ্কোচনে-প্রসারণে, সংঘাটি-পাত্র-চীবর ধারণে, ভোজনে, পানে, খাদনে, আস্বাদনে মলমূত্র ত্যাগে, গমনে, স্থিতিতে, উপবেশনে, শয়নে, জাগরণে, ভাষ্যকালে ও তূষ্ণীভাব ধারণে স্মৃতি-সম্প্রজ্ঞান অনুশীলনকারী হও।” হে ব্রাহ্মণ, যখন ভিক্ষু স্মৃতিসম্প্রজ্ঞান-সমন্বিত হয়, তখন তথাগত তাঁহাকে এই পরবর্তী শিক্ষা দেন-এসো ভিক্ষু, নির্জন শয়নাসন ভজনা করো; যথা : অরণ্য, বৃক্ষমূল, পর্বতকন্দর, গিরিগুহা, শ্মশান, বনখণ্ড, উন্মুক্ত প্রান্তর ও পলালপুঞ্জ। তিনি নির্জন শয়নাসন ভজনা করেন; যথা : অরণ্য… পলালপুঞ্জ। তিনি ভিক্ষান্ন সংগ্রহ কার্য হইতে প্রত্যাগমন করিয়া ভুক্তাবসানে পদ্মাসন করিয়া দেহাগ্রভাগ ঋজুভাবে বিন্যস্ত করিয়া লক্ষ্যাভিমুখে স্মৃতি উপস্থাপিত করিয়া উপবেশন করেন। তিনি পৃথিবীতে অভিধ্যা পরিত্যাগ করিয়া অভিধ্যা বিগত চিত্তে অবস্থান করেন, অভিধ্যা হইতে চিত্ত পরিশুদ্ধ করেন, ব্যাপাদ দ্বেষ পরিত্যাগ করিয়া অব্যাপন্ন চিত্তে সর্বজীবের হতানুকাঙ্ক্ষী হইয়া অবস্থান করেন, ব্যাপাদ দ্বেষ হইতে চিত্ত পরিশুদ্ধ করেন, স্ত্যানমিদ্ধ (তন্দ্রালস্য) পরিত্যাগ করিয়া তিনি স্ত্যানমিদ্ধ বিগত, আলোক-সংজ্ঞাযুক্ত, স্মৃতিমান ও সম্প্রজ্ঞাত হইয়া অবস্থান করেন, স্ত্যানমিদ্ধ হইতে চিত্ত পরিশুদ্ধ করেন, ঔদ্ধত্য-কৌকৃত্য (উদ্ধত-চঞ্চলভাব) পরিত্যাগ করিয়া অনুদ্ধত ও অধ্যাত্মে উপশান্তচিত্ত হইয়া অবস্থান করেন। ঔদ্ধত্য-কৌকৃত্য হইতে চিত্ত পরিশুদ্ধ করেন। বিচিকিৎসা (দ্বিধাভাব, সন্দেহ) পরিত্যাগ করিয়া বিচিকিৎসা উত্তীর্ণ কুশলকর্মে অকথংকথিক (অসন্দিগ্ধ) হইয়া অবস্থান করেন, বিচিকিৎসা হইতে চিত্ত পরিশুদ্ধ করেন।
তিনি চিত্তের উপক্লেশ ও প্রজ্ঞার দৌর্বল্যের কারণ এই পঞ্চনীবরণ পরিহার করিয়া কাম হইতে বিবিক্ত হইয়া, অকুশলধর্ম হইতে বিবিক্ত (মুক্ত) হইয়া সবিতর্ক সবিচার বিবেকজ প্রীতিসুখমণ্ডিত প্রথম ধ্যান লাভ করিয়া তাহাতে অবস্থান করেন। বিতর্ক বিচার উপশমে অধ্যাত্ম-সম্প্রসাদী, চিত্তের একীভাব আনয়নকারী, বিতর্কাতীত, বিচারাতীত সমাধিজ প্রীতিসুখমণ্ডিত দ্বিতীয় ধ্যান লাভ করিয়া তাহাতে অবস্থান করেন। প্রীতিতেও বিরাগী হইয়া উপেক্ষার ভাবে অবস্থান করেন, স্মৃতিমান ও সম্প্রজ্ঞাত হইয়া কায়ে সুখ অনুভব করেন, আর্যগণ যে ধ্যানস্তরে “ধ্যায়ী উপেক্ষাসম্পন্ন ও স্মৃতিমান হইয়া (প্রীতিনিরপেক্ষ) সুখে বিচরণ করেন” বলিয়া বর্ণনা করেন, সেই তৃতীয় ধ্যান লাভ করিয়া তাহাতে অবস্থান করেন। (দৈহিক) সুখদুঃখ পরিহার করিয়া পূর্বেই সৌর্মনস্য-দৌর্মনস্য অস্তমিত করিয়া সুখ-দুঃখমুক্ত, উপেক্ষা-স্মৃতি পরিশুদ্ধ চতুর্থ ধ্যান লাভ করিয়া তাহাতে অবস্থান করেন। হে ব্রাহ্মণ, যে-সকল ভিক্ষু এখনো শৈক্ষ্য, অপ্রাপ্তমানস এবং অনুত্তর যোগক্ষেম নির্বাণ আকাঙ্ক্ষা করিয়া সাধনা নিরত, তাঁহাদের প্রতি আমার এই অনুশাসন। যে-সকল ভিক্ষু অর্হৎ, ক্ষীণাসব, যাঁহার ব্রহ্মচর্যব্রত উদ্যাপিত হইয়াছে, করণীয় কার্য কৃত হইয়াছে, যিনি অপনোদিতভার, পরিক্ষীণভব-সংযোজন এবং সম্যক জ্ঞান দ্বারা বিমুক্ত, তাঁহাদেরকে এই ধর্ম দৃষ্টধর্মে (ইহ-জীবনে) স্মৃতি-সম্প্রজ্ঞানে সুখবিহারের জন্য সংবর্তন করে।
এইরূপ কথিত হইলে গণক মৌদ্গল্লায়ন ব্রাহ্মণ ভগবানকে বলিলেন, “হে গৌতম, ভবদীয় গৌতমের শিষ্যদের কেহ কেহ কি ভবদীয় গৌতমের দ্বারা উপদিষ্ট ও অনুশাসিত হইয়া নির্বাণ লাভ করেন কিংবা কেহ কেহ লাভ করেন না?” “হে ব্রাহ্মণ, আমার দ্বারা উপদিষ্ট ও অনুশাসিত হইয়াও আমার শিষ্যদের কেহ কেহ পরম নির্বাণ লাভ করেন, আবার কেহ কেহ লাভ করেন না।” “হে গৌতম, কী হেতু, কী প্রত্যয় যে, নির্বাণ আছে, নির্বাণগামী মার্গ আছে এবং উপদেষ্টা ভবদীয় গৌতম আছেন, অথচ ভবদীয় গৌতমের শিষ্যদের… লাভ করেন না?”
“হে ব্রাহ্মণ, তাহা হইলে আমি আপনাকে প্রতিজিজ্ঞাসা করিব। আপনার সাধ্যানুযায়ী ব্যাখ্যা করিয়া উত্তর দিবেন। আপনি কী মনে করেন? আপনি কি রাজগৃহগামী মার্গ জানেন?” “হ্যাঁ, আমি রাজগৃহগামী মার্গ জানি।” “হে ব্রাহ্মণ, আপনি কী মনে করেন? মনে করুন এখানে রাজগৃহগামী কোনো পুরুষ আসিলেন। তিনি আপনার নিকট উপস্থিত হইয়া বলিলেন, ‘ভদন্ত আমি রাজগৃহ গমন করিতে ইচ্ছুক। আপনি আমাকে রাজগৃহের মার্গ সম্পর্কে উপদেশ দিন।’ তখন আপনি তাঁহাকে এরূপ বলিতে পারেন : “মহাশয়, এই মার্গ রাজগৃহ পর্যন্ত গিয়াছে, সেই পথ দিয়া কিছুক্ষণ গমন করুন, কিছুক্ষণ পরে অমুক গ্রাম দেখিতে পাইবেন, তারপর মুহূর্তকাল যান, মুহূর্তকাল যাইয়া অমুক নিগম দেখিতে পাইবেন, তারপর কিছুক্ষণ যাইয়া রাজগৃহের মনোরম উপবন, বন, ভূমি ও পুষ্করিণী দেখিতে পাইবেন।” তিনি আপনার দ্বারা উপদিষ্ট ও অনুশাসিত হইয়া উন্মার্গগামী হইয়া বিপরীত দিকে যাইতে পারেন। অতঃপর রাজগৃহ গমনার্থী দ্বিতীয় ব্যক্তি আপনার নিকট উপস্থিত হইয়া বলিলেন, “আমি রাজগৃহ… উপদেশ দিন।” আপনি তাঁহাকে বলিলেন, “মহাশয়… পুষ্করিণী দেখিতে পাইবেন।” তিনি আপনার দ্বারা উপদিষ্ট ও অনুশাসিত হইয়া স্বস্তিতে (উত্তমরূপে) রাজগৃহে পৌঁছিলেন। হে ব্রাহ্মণ, কী কারণ, কী হেতু যেখানে রাজগৃহ আছে। রাজগৃহগামী মার্গ আছে এবং আপনি উপদেষ্টা আছেন, অথচ আপনার দ্বারা উপদিষ্ট ও অনুশাসিত হইয়া একজন উন্মার্গগামী হইয়া বিপরীত দিকে গেলেন, অন্যজন স্বস্তিতে রাজগৃহ পৌঁছিলেন?” “হে গৌতম, এখানে আমি কী করিতে পারি? আমি একজন মার্গ প্রদর্শক মাত্র।”
“হে ব্রাহ্মণ, ঠিক এইরূপে যেখানে নির্বাণ আছে। নির্বাণগামী মার্গ আছে এবং উপদেষ্টা আমি আছি, অথচ আমার শিষ্যদের কেহ কেহ… লাভ করেন না। ব্রাহ্মণ, আমি এখানে কী করিতে পারি? তথাগত একজন মার্গ প্রদর্শক মাত্র।”
এইরূপ বিবৃত হইলে গণক মৌদ্গল্লায়ন ব্রাহ্মণ ভগবানকে বলিলেন, হে গৌতম, যে-সকল ব্যক্তি শুধু জীবনধারণের জন্য অশ্রদ্ধা-সহকারে গৃহ হইতে অনাগারিকরূপে প্রব্রজিত, শঠ, মায়াবী, কৈতবী (জাদুকর), উদ্ধত, গর্বিত, চপল, মুখর, প্রগল্ভ, অসংযতেন্দ্রিয়, ভোজনে অমাত্রাজ্ঞ, অজাগ্রত, শ্রামণ্যে অনাগ্রহী, শিক্ষণীয় বিষয়ে তীব্র গৌরব অনুভবকারী নহে, অমিতব্যয়ী, শিথিলধর্মী, অধোগমনে পুরোগামী, বিবেক বৈরাগ্যসাধনে বিপথগামী, অলস, হীনবীর্য, স্মৃতিভ্রষ্ট, অসম্প্রজ্ঞাত, অসমাহিত, বিভ্রান্তচিত্ত, দুষ্প্রাজ্ঞ, লালামুখ (মূর্খ), তাহাদের সহিত ভবদীয় গৌতম বসবাস করেন না। পক্ষান্তরে যে-সকল কুলপুত্র শ্রদ্ধা-সহকারে গৃহ হইতে গৃহহীনরূপে প্রব্রজিত, অশঠ, অমায়াবী, অকৈতবী, অনুদ্ধত, অগর্বিত, অচপল, অমুখর, অপ্রগল্ভ, সংযতেন্দ্রিয়, পরিমিতভোজী, জাগরণযুক্ত, শ্রামণ্যে আগ্রহী, শিক্ষণীয় বিষয়ে তীব্র গৌরবসম্পন্ন, মিতব্যয়ী, অশিথিলধর্মী, অধোগমন পরিহারী, বিবেক-বৈরাগ্য সাধনে পুরোগামী, আরব্ধবীর্য, প্রহিতাত্ম (ধ্যাননিবিষ্ট), উপস্থিত-স্মৃতিসম্পন্ন, সম্প্রজ্ঞাত, সমাহিত, একাগ্রচিত্ত, প্রজ্ঞাবান, অলালামুখ (সুবক্তা), তাহাদের সহিত ভবদীয় গৌতম বসবাস করেন। যেমন, হে গৌতম, গন্ধমূলের মধ্যে কালানুসারিক, গন্ধসারের মধ্যে রক্তচন্দন, গন্ধপুষ্পের মধ্যে বর্ষিকী সর্বশ্রেষ্ঠ, তেমনি ভবদীয় গৌতমের উপদেশ ধর্মের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। অতি সুন্দর, হে গৌতম, অতি মনোহর! হে গৌতম, যেমন, কেহ উল্টানকে সোজা করে, প্রতিচ্ছন্নকে উন্মুক্ত করে, মূঢ়কে পথনির্দেশ করে অথবা অন্ধকারে তৈলপ্রদীপ ধারণ করে যাহাতে চক্ষুষ্মান ব্যক্তি রূপ (দৃশ্যবস্তু) দেখিতে পায়, ঠিক এইরূপে ভবদীয় গৌতমের বহু পর্যায়ে ধর্ম প্রকাশিত হইয়াছে। আমি (মহানুভব) গৌতমের, (তৎপ্রবর্তিত) ধর্মের এবং (তৎপ্রতিষ্ঠিত) ভিক্ষুসংঘের শরণাগত হইতেছি এবং আজ হইতে আমরণ শরণাগত আমাকে ভবদীয় গৌতম উপাসকরূপে ধারণ করুন।
গণক মৌদ্গল্লায়ন সূত্র সমাপ্ত।
ব্যাখ্যা [৪]
English
Việt Ngữ