লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২৩]

বক্কুল সূত্র

আমি এইরূপ শুনিয়াছি।

এক সময় আয়ুষ্মান বক্কুল রাজগৃহ-সমীপে বেণুবনে কলন্দক নিবাপে অবস্থান করিতেছিলেন। সেই সময় আয়ুষ্মান বক্কুলের প্রাক্তন গৃহীবন্ধু অচেল কাশ্যপ আয়ুষ্মান বক্কুলের নিকট উপস্থিত হইয়া প্রীত্যালাপ ও কুশল প্রশ্নাদি বিনিময় করিয়া একান্তে উপবেশন করিলেন। একান্তে উপবিষ্ট হইয়া অচেল কাশ্যপ আয়ুষ্মান বক্কুলকে বলিলেন, “বন্ধু বক্কুল, কতদিন হইল আপনি প্রব্রজিত হইয়াছেন?”

“আশি বৎসর হইল আমি প্রব্রজিত হইয়াছি।”

এই আশি বৎসরের মধ্যে আপনি কতবার মৈথুনধর্ম প্রতিসেবন করিয়াছেন?

বন্ধু কাশ্যপ, আমাকে এইরূপ জিজ্ঞাসা করা উচিত নয় : “বন্ধু বক্কুল,… করিয়াছেন?” আমাকে এইরূপ জিজ্ঞাসা করা উচিত : “বন্ধু বক্কুল, এই আশি বৎসরে আপনার মধ্যে কতবার কামসংজ্ঞা উৎপন্ন হইয়াছে?”

বন্ধু বক্কুল, এই আশি বৎসরে… হইয়াছে?

বন্ধু কাশ্যপ, আমার আশি বৎসরের প্রব্রজ্যায় কোনো কামসংজ্ঞা উৎপন্ন হইয়াছে বলিয়া জানি না।

(যেহেতু আয়ুষ্মান বক্কুল তাঁহার আশি বৎসরের প্রব্রজ্যায় তাঁহার মধ্যে কোনো কামসংজ্ঞা উৎপন্ন হইয়াছে বলিয়া জানেন না, সুতরাং ইহাকে আমরা আয়ুষ্মান বক্কুলের আশ্চর্য-অদ্ভুতধর্ম বলিয়া গণ্য করি) “আমার আশি বৎসরের প্রব্রজ্যায় আমার মধ্যে ব্যাপাদ-সংজ্ঞা, বিহিংসা-সংজ্ঞা উৎপন্ন হইয়াছে বলিয়া জানি না।” (যেহেতু… ব্যাপাদ-সংজ্ঞা, বিহিংসা-সংজ্ঞা… গণ্য করি)। কামবির্তক, ব্যাপাদ বির্তক সম্পর্কেও এইরূপ।

“আমার আশি… গৃহপতিচীবর গ্রহণ করিয়াছি বলিয়া জানি না।… গণ্য করি।

আমার আশি… অস্ত্র দ্বারা চীবর কাটিয়াছি… গণ্য করি।

আমার আশি… সূঁচ দ্বারা চীবর সেলাই… গণ্য করি।

আমার আশি… রঞ্জক দ্বারা চীবর রঞ্জিত… গণ্য করি।

আমার আশি… কঠিন চীবর সেলাই করি।

আমার আশি… সব্রহ্মচারীর চীবর কর্মে ব্যাপৃত… নিমন্ত্রণ গ্রহণ করিয়াছি… এইরূপ চিত্ত উৎপন্ন হইয়াছে, “অহো আমাকে কেহ নিমন্ত্রণ করিতে পারে” বলিয়া জানি না… গণ্য করি। আমার আশি… অন্তর্গৃহে উপবেশন করিয়াছি, ভোজন করিয়াছিলাম… মাতৃগ্রামের (মাহিলার) অনুব্যঞ্জন লক্ষণ (দৈহিক রূপের) প্রত্যক্ষ করিয়াছিলাম… মাতৃগ্রামকে ধর্মদেশনা করিয়াছিলাম, তাহা চতুপর্দী গাথা মাত্র হইলেও… ভিক্ষুণীদের বাসস্থানে গমন করিয়াছিলাম… ভিক্ষুণীদের ধর্মদেশনা করিয়াছিলাম… শিক্ষার্থিনীদের ধর্মদেশনা করিয়াছিলাম… গ্রামনারীদের ধর্মদেশনা করিয়াছিলাম বলিয়া জানি না… গণ্য করি। আমার আশি… অন্য কেহকে প্রব্রজ্যা দিয়াছিলাম, উপসম্পদা দিয়াছিলাম, নিশ্রয় দিয়াছিলাম, শ্রামণেরকে আমার সেবায় নিযুক্ত করিয়াছিলাম, জন্তাঘরে (স্নানঘর) স্নান করিয়াছিলাম, চুর্ণ দ্বারা স্নান করিয়াছিলাম, মুহূর্তের জন্যও রোগ উৎপন্ন হইয়াছে, কোনো ভৈষজ্য বহন করিয়াছি, এমনকি হরিতকী খণ্ডমাত্র, ঠেসে হেলান দিয়া বিশ্রাম করিয়াছি। শয্যা পাতিয়াছি, গ্রামান্ত বাসস্থানে বর্ষা যাপন করিয়াছি বলিয়া জানি না।… গণ্য করি।

সপ্তাহকাল আমি ক্লেশযুক্ত থাকিয়া শ্রদ্ধাদত্ত আহার্য গ্রহণ করিয়াছি এবং অষ্টম দিবসে আমার জ্ঞান (অর্হত্ত্ব) উৎপন্ন হইয়াছে।… গণ্য করি।

বন্ধু, বক্কুল, এই ধর্মবিনয়ে আমি কি প্রব্রজ্যা এবং উপসম্পদা লাভ করিতে পারি? অচেল কাশ্যপ এই ধর্মবিনয়ে প্রব্রজ্যা ও উপসম্পদা লাভ করিলেন। উপসম্পদা লাভ করিয়া অচিরেই আয়ুষ্মান কাশ্যপ একাকী ব্যপকৃষ্ট, অপ্রমত্ত, আতাপী, প্রহিতাত্মা (ধ্যাননিবিষ্ট) হইয়া অবস্থান করিয়া অল্প সময়েই যাহার জন্য কুলপুত্রগণ সম্যকরূপে আগার হইতে অনাগারিকরূপে প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেন, সেই অনুত্তর ব্রহ্মচর্যের পর্যাবসান (নির্বাণ) ইহ-জীবনে স্বয়ং অভিজ্ঞা দ্বারা সাক্ষাৎ করিয়া অবস্থান করেন-জন্ম বিনষ্ট হইয়াছে… আসিতে হইবে না। আয়ুষ্মান কাশ্যপ অর্হৎ হইলেন।

অতঃপর আয়ুষ্মান বক্কুল দরজার চাবি লইয়া বিহার হইতে বিহারে যাইয়া এইরূপ বলিতে লাগিলেন : আয়ুষ্মানগণ অগ্রসর হউন, অদ্য আমার পরিনির্বাণ লাভ হইবে।… গণ্য করি।

তখন আয়ুষ্মান বক্কুল ভিক্ষুসংঘ মধ্যে উপবিষ্ট অবস্থায় পরিনির্বাণ লাভ করিলেন।… গণ্য করি।

বক্কুল সূত্র সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [৩]