লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২৭]

ক্ষুদ্র রাহুল-অববাদ সূত্র

আমি এইরূপ শুনিয়াছি।

এক সময় ভগবান শ্রাবস্তী-সমীপে অবস্থান করিতেছিলেন জেতবনে অনাথপিণ্ডিকের আরামে। তখন একাকী ধ্যানমগ্ন থাকিবার সময় ভগবানের এইরূপ চিত্ত-পরিবির্তক উৎপন্ন হইয়াছিল : “রাহুলের বিমুক্তি পরিপাকের ধর্মগুলি পরিপক্ব হইয়াছে। আমার উচিত তাহাকে আসবক্ষয়ের জন্য শিক্ষা দেওয়া।” তখন ভগবান পূর্বাহ্ণ সময়ে… রাহুলকে আহ্বান করিলেন, “রাহুল, বসিবার আসন গ্রহণ করো, দিবাবিহারের জন্য আমরা অন্ধবনে যাইব।” “হ্যাঁ ভদন্ত,” বলিয়া আয়ুষ্মান রাহুল ভগবানকে প্রত্যুত্তর দিয়া আসন লইয়া ভগবানকে পিছনে পিছনে অনুসরণ করিলেন।

সেই সময়ে অনেক সহস্র দেবতা এইরূপ বলিতে বলিতে ভগবানকে অনুসরণ করিলেন, “অদ্য ভগবান আয়ুষ্মান রাহুলকে আসবক্ষয়ের জন্য শিক্ষা দিবেন।”

তখন ভগবান অন্ধবনে প্রবেশ করিয়া একটি বৃক্ষতলে নির্দিষ্ট আসনে উপবেশন করিলেন। আয়ুষ্মান রাহুলও ভগবানকে অভিবাদন করিয়া একান্তে উপবেশন করিলেন। একান্তে উপবিষ্ট আয়ুষ্মান রাহুলকে ভগবান বলিলেন, রাহুল, তুমি কী মনে করো? চক্ষু নিত্য, অথবা অনিত্য?

ভদন্ত, অনিত্য!… চক্ষুবিজ্ঞান… চক্ষু সংস্পর্শ… অনিত্য। রাহুল, তুমি কী মনে করো? যাহা চক্ষু-সংস্পর্শ-হেতু বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার ও বিজ্ঞান বলিয়া উৎপন্ন হয় তাহা কি নিত্য, অথবা অনিত্য?… অনিত্য। শ্রোত্র, ঘ্রাণ, জিহ্বা, কায়, মন সম্পর্কেও এইরূপ।

রাহুল, তুমি কী মনে করো? ধর্ম নিত্য অথবা অনিত্য? ভদন্ত, অনিত্য… মনোবিজ্ঞান… মনোসংস্পর্শ… না ভদন্ত।

রাহুল ইহা দেখিয়া শ্রুতবান আর্যশ্রাবক চক্ষুবিষয়ে নির্বেধ প্রাপ্ত হন, রূপে, চক্ষুবিজ্ঞানে, চক্ষু-সংস্পর্শে, চক্ষুসংস্পর্শজ বেদনায়, সংজ্ঞায়, সংস্কারে, বিজ্ঞানে, শ্রোত্রে,… মনোসংস্পর্শজ বেদনায়, সংজ্ঞায়, সংস্কারে ও বিজ্ঞানে নির্বেদপ্রাপ্ত হন। নির্বেদপ্রাপ্ত হইলে বীতরাগ হন, বীতরাগ হইলে “বিমুক্তি হইয়াছি” বলিয়া জ্ঞান হয়, “আমার জন্মবীজ ক্ষীণ হইয়াছে, ব্রহ্মচর্যব্রত উদ্‌যাপিত হইয়াছে, করণীয় কার্য কৃত হইয়াছে এবং অত্র আর আসিতে হইবে না।”

ভগবান ইহা বিবৃত করিলেন। আয়ুষ্মান রাহুল ভগবানের ভাষণে আনন্দ প্রকাশ করিলেন। ইহা বিশ্লেষণ করিয়া বলিবার সময়ে আয়ুষ্মান রাহুলের চিত্ত উপাদানহীন হইয়া আসব হইতে বিমুক্ত হইল। বহু সহস্র দেবতাদেরও বিরজ বীতমল ধর্মচক্ষু উৎপন্ন হইল: যাহা কিছু সমুদয়ধর্মী তাহা সবই নিরোধধর্মী।

ক্ষুদ্র রাহুল-অববাদ সূত্র সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [৩]