আমি এইরূপ শুনিয়াছি।
১. একসময় ভগবান উক্কট্ঠা-সমীপে অবস্থান করিতেছিলেন, সুভগবনে, শালরাজমূলে। ভগবান (সমবেত) ভিক্ষুদিগকে আহ্বান করিলেন, ‘হে ভিক্ষুগণ’। ‘হাঁ ভদন্ত’ বলিয়া ভিক্ষুগণ প্রত্যুত্তরে সম্মতি জানাইলেন। ভগবান কহিলেন, ‘হে ভিক্ষুগণ, আমি সর্বধর্ম-মূল-পর্যায় (মূলসূত্র, মূলতত্ত্ব) তোমাদের নিকট উপদেশ প্রদান করিব, তাহা শ্রবণ করো, উত্তমরূপে মনোনিবেশ করো, আমি তাহা বিবৃত করিতেছি।’ ‘যথা আজ্ঞা, প্রভো’ বলিয়া ভিক্ষুগণ প্রত্যুত্তরে সম্মতিজ্ঞাপন করিলেন। ভগবান কহিলেন :
২. হে ভিক্ষুগণ, অশ্রুতবান পৃথগ্জন (ইতর সাধারণ) যাহারা আর্যগণের দর্শন লাভ করে নাই, আর্যধর্মে অকোবিদ (অবিদ্বান), আর্যধর্মে অবিনীত, যাহারা সৎপুরুষগণের দর্শন লাভ করে নাই, যাহারা সৎপুরুষধর্মে অকোবিদ, সৎপুরুষ-ধর্মে অবিনীত, পৃথিবীকে (ক্ষিতিকে) পৃথিবীর ভাবে জানে, পৃথিবীকে পৃথিবীর ভাবে জানিয়া ‘পৃথিবী’ বলিয়া মনে করে, ‘পৃথিবীতে’ বলিয়া মনে করে, ‘পৃথিবী হইতে’ মনে করে, ‘পৃথিবী আমার’ বলিয়া মনে করে, ‘পৃথিবী লইয়া’ আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত।
তাহারা অপকে অপের ভাবে জানে, অপকে অপের ভাবে জানিয়া ‘অপ’ বলিয়া মনে করে, ‘অপে’ বলিয়া মনে করে, ‘অপ হইতে’ মনে করে, ‘অপ আমার’ বলিয়া মনে করে, অপ লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত। তেজ এবং বায়ু (মরুত) সম্বন্ধেও এইরূপ।
তাহারা যোনিসম্ভূতকে যোনিসম্ভূতের ভাবে জানে, যোনিসম্ভূতকে যোনিসম্ভূতের ভাবে জানিয়া ‘যোনিসম্ভূত’ বলিয়া মনে করে, ‘যোনিসম্ভূতে’ বলিয়া মনে করে, ‘যোনিসম্ভূত হইতে’ মনে করে, ‘যোনিসম্ভূত আমার’ বলিয়া মনে করে, যোনিসম্ভূত লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত।
তাহারা দেবকে দেবের ভাবে জানে, দেবকে দেবের ভাবে জানিয়া ‘দেব’ বলিয়া মনে করে, ‘দেবে’ বলিয়া মনে করে, ‘দেব হইতে’ মনে করে, ‘দেব আমার’ বলিয়া মনে করে, দেব লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত।
তাহারা প্রজাপতিকে প্রজাপতির ভাবে জানে, প্রজাপতিকে প্রজাপতির ভাবে জানিয়া ‘প্রজাপতি’ বলিয়া মনে করে, ‘প্রজাপতিতে’ বলিয়া মনে করে, ‘প্রজাপতি হইতে’ মনে করে, ‘প্রজাপতি আমার’ বলিয়া মনে করে, প্রজাপতি লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত। তাহারা ব্রহ্মকে ব্রহ্মের ভাবে জানে, ব্রহ্মকে ব্রহ্মের ভাবে জানিয়া ‘ব্রহ্ম’ বলিয়া মনে করে, ‘ব্রহ্মে’ বলিয়া মনে করে, ‘ব্রহ্ম হইতে’ মনে করে, ‘ব্রহ্ম আমার’ বলিয়া মনে করে, ব্রহ্ম লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত। তাহারা আভাস্বরকে আভাস্বর বলিয়া জানে, আভাস্বরকে আভাস্বরের ভাবে জানিয়া ‘আভাস্বর’ বলিয়া মনে করে, ‘আভাস্বরে’ বলিয়া মনে করে, ‘আভাস্বর হইতে’ মনে করে, ‘আভাস্বর আমার’ বলিয়া মনে করে, আভাস্বর লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত। তাহারা শুভকৃৎস্নকে শুভকৃৎস্নের ভাবে জানে, শুভকৃৎস্নকে শুভকৃৎস্নের ভাবে জানিয়া ‘শুভকৃৎস্ন’ বলিয়া মনে করে, ‘শুভকৃৎস্নে’ বলিয়া মনে করে, ‘শুভকৃৎস্ন হইতে’ মনে করে, ‘শুভকৃৎস্ন আমার’ বলিয়া মনে করে, শুভকৃৎস্ন লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত। তাহারা বৃহৎফলকে বৃহৎফলের ভাবে জানে, বৃহৎফলকে বৃহৎফলের ভাবে জানিয়া ‘বৃহৎফল’ বলিয়া মনে করে, ‘বৃহৎফলে’ বলিয়া মনে করে, ‘বৃহৎফল হইতে’ মনে করে, ‘বৃহৎফল আমার’ বলিয়া মনে করে, বৃহৎফল লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত। তাহারা বিভুকে বিভুর ভাবে জানে, বিভুকে বিভুর ভাবে জানিয়া ‘বিভু’ বলিয়া মনে করে, ‘বিভুতে’ বলিয়া মনে করে, ‘বিভু হইতে’ মনে করে, ‘বিভু আমার’ বলিয়া মনে করে, বিভু লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত। তাহারা আকাশানন্তায়তন (আকাশ-অনন্ত-আয়তন)-কে আকাশানন্তায়তনের ভাবে জানে, আকাশানন্তায়তনকে আকাশানন্তায়তনের ভাবে জানিয়া ‘আকাশানন্তায়তন’ বলিয়া মনে করে, ‘আকাশানন্তায়তনে’ বলিয়া মনে করে, ‘আকাশানন্তায়তন হইতে’ মনে করে, ‘আকাশানন্তায়তন আমার’ বলিয়া মনে করে, আকাশানন্তায়তন লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত। তাহারা বিজ্ঞানান্তায়তন (বিজ্ঞান-অনন্ত-আয়তন)-কে বিজ্ঞানানন্তায়তনের ভাবে জানে, বিজ্ঞানানন্তায়তনকে বিজ্ঞানানন্তায়তনের ভাবে জানিয়া ‘বিজ্ঞানানন্তায়তন’ বলিয়া মনে করে, ‘বিজ্ঞানানন্তায়তনে’ বলিয়া মনে করে, ‘বিজ্ঞানানন্তায়তন হইতে’ মনে করে, ‘বিজ্ঞানানন্তায়তন আমার’ বলিয়া মনে করে, বিজ্ঞানানন্তায়তন লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত। তাহারা আকিঞ্চনায়তন (আকিঞ্চন-আয়তন)-কে আকিঞ্চনায়তনের ভাবে জানে, আকিঞ্চনায়তনকে আকিঞ্চনায়তনের ভাবে জানিয়া ‘আকিঞ্চনায়তন’ বলিয়া মনে করে, ‘আকিঞ্চনায়তনে’ বলিয়া মনে করে, ‘আকিঞ্চনায়তন হইতে’ মনে করে, ‘আকিঞ্চনায়তন আমার’ বলিয়া মনে করে, আকিঞ্চনায়তন লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত। তাহারা নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞায়তন (নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞায়তন)-কে নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞায়তনের ভাবে জানে, নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞায়তনকে নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞায়তনের ভাবে জানিয়া ‘নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞায়তন’ বলিয়া মনে করে, ‘নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞায়তনে’ মনে করে, ‘নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞায়তন হইতে’ মনে করে, ‘নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞায়তন আমার’ বলিয়া মনে করে, নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞায়তন লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত। তাহারা দৃষ্টকে (প্রত্যক্ষকে) দৃষ্টের ভাবে জানে, দৃষ্টকে দৃষ্টের ভাবে জানিয়া ‘দৃষ্ট’ বলিয়া মনে করে, ‘দৃষ্টে’ বলিয়া মনে করে, ‘দৃষ্ট হইতে’ মনে করে, ‘দৃষ্ট আমার’ বলিয়া মনে করে, দৃষ্ট লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত। তাহারা শ্রুতকে শ্রুতের ভাবে জানে, শ্রুতকে শ্রুতের ভাবে জানিয়া ‘শ্রুত’ বলিয়া মনে করে, ‘শ্রুতে’ বলিয়া মনে করে, ‘শ্রুত হইতে’ মনে করে, ‘শ্রুত আমার’ বলিয়া মনে করে, শ্রুত লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত। তাহারা মতকে (অনুমিতকে) মতের ভাবে জানে, মতকে মতের ভাবে জানিয়া ‘মত’ বলিয়া মনে করে, ‘মতে’ বলিয়া মনে করে, ‘মত হইতে’ মনে করে, ‘মত আমার’ বলিয়া মনে করে, মত লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত। তাহারা বিজ্ঞাতকে বিজ্ঞাতের ভাবে জানে, বিজ্ঞাতকে বিজ্ঞাতের ভাবে জানিয়া ‘বিজ্ঞাত’ বলিয়া মনে করে, ‘বিজ্ঞাতে’ বলিয়া মনে করে, ‘বিজ্ঞাত হইতে’ মনে করে, ‘বিজ্ঞাত আমার’ বলিয়া মনে করে, বিজ্ঞাত লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত। তাহারা একত্বকে একত্বের ভাবে জানে, একত্বকে একত্বের ভাবে জানিয়া ‘একত্ব’ বলিয়া মনে করে, ‘একত্বে’ মনে করে, ‘একত্ব হইতে’ মনে করে, ‘একত্ব আমার’ বলিয়া মনে করে, একত্ব লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত। তাহারা নানাত্বকে (বহুত্বকে) নানাত্বের ভাবে জানে, নানাত্বকে নানাত্বের ভাবে জানিয়া ‘নানাত্ব’ বলিয়া মনে করে, ‘নানাত্বে’ মনে করে, ‘নানাত্ব হইতে’ মনে করে, ‘নানাত্ব আমার’ বলিয়া মনে করে, নানাত্ব লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত। তাহারা সর্বকে (সর্বত্বকে) সর্বের ভাবে জানে, সর্বকে সর্বের ভাবে জানিয়া ‘সর্ব’ বলিয়া মনে করে, ‘সর্বে’ মনে করে, ‘সর্ব হইতে’ মনে করে, ‘সর্ব আমার’ বলিয়া মনে করে, সর্ব লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত। তাহারা নির্বাণকে নির্বাণের ভাবে জানে, নির্বাণকে নির্বাণের ভাবে জানিয়া ‘নির্বাণ’ বলিয়া মনে করে, ‘নির্বাণে’ মনে করে, ‘নির্বাণ হইতে’ মনে করে, ‘নির্বাণ আমার’ বলিয়া মনে করে, নির্বাণ লইয়া আনন্দ করে। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তাহারা ইহার তত্ত্ব অপরিজ্ঞাত।
৩. হে ভিক্ষুগণ, যে ভিক্ষু এখনো শৈক্ষ্য (শিশিক্ষু), যে এখনো অপূর্ণ, যাহার মানসিক শক্তি এখনো পূর্ণতা প্রাপ্ত হয় নাই, এবং যে অনুত্তর যোগক্ষেম নির্বাণ আকাঙ্ক্ষা করিয়া সাধনা-নিরত, সে পৃথিবীকে (ক্ষিতিকে) সাধারণ হইতে অধিকতরভাবে জানে, পৃথিবীকে অসাধারণভাবে জানিয়া পৃথিবীকে ‘পৃথিবী’ বলিয়া জানা সঙ্গত মনে করে না, ‘পৃথিবীতে’ জানা সঙ্গত মনে করে না, ‘পৃথিবী হইতে’ জানা সঙ্গত মনে করে না, ‘পৃথিবী আমার’ বলিয়া জানা সঙ্গত মনে করে না, পৃথিবী লইয়া আনন্দ করা সঙ্গত মনে করে না। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু ইহার স্বরূপ তাহার পক্ষে এখনো পরিজ্ঞেয়। অপ, বায়ু (মরুত), তেজ, যোনিসম্ভূত, দেব, প্রজাপতি, ব্রহ্ম, আভাস্বর, শুভকৃৎস্ন, বৃহৎফল, আকাশানন্তায়তন, বিজ্ঞানানন্তায়তন, আকিঞ্চনায়তন, নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞায়তন, দৃষ্ট, শ্রুত, মত, বিজ্ঞাত, একত্ব, নানাত্ব, সর্ব ও নির্বাণ সম্বন্ধেও এইরূপ।
৪. হে ভিক্ষুগণ, যে ভিক্ষু অর্হৎ, ক্ষীণাসব, যাঁহার ব্রহ্মচর্যব্রত উদ্যাপিত হইয়াছে, করণীয় কার্য কৃত হইয়াছে, যিনি অপনোদিত-ভার, যিনি পরিক্ষীণ-ভব-সংযোজন এবং সম্যক জ্ঞান দ্বারা বিমুক্ত তিনি পৃথিবীকে (ক্ষিতিকে) সাধারণ হইতে অধিকতরভাবে জানেন, অসাধারণভাবে পৃথিবীকে জানিয়া পৃথিবীকে (ক্ষিতিকে) ‘পৃথিবী’ বলিয়া মনে করেন না, ‘পৃথিবীতে’ মনে করেন না, ‘পৃথিবী হইতে’ মনে করেন না, ‘পৃথিবী আমার’ বলিয়া মনে করেন না, পৃথিবী লইয়া আনন্দ করেন না। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু ইহার স্বরূপ তাঁহার নিকট পরিজ্ঞাত।
৫-৭. হে ভিক্ষুগণ, যে ভিক্ষু অর্হৎ, ক্ষীণাসব, যাঁহার ব্রহ্মচর্যব্রত উদ্যাপিত হইয়াছে, যাঁহার করণীয় কার্য কৃত হইয়াছে, যিনি অপনোদিত-ভার, সিদ্ধার্থ, পরিক্ষীণ-ভবসংযোজন এবং সম্যক জ্ঞান দ্বারা বিমুক্ত, তিনি পৃথিবীকে যথাযথভাবে জানেন, পৃথিবীকে যথাযথভাবে জানিয়া ‘পৃথিবী’ বলিয়া মনে করেন না, ‘পৃথিবীতে’ বলিয়া মনে করেন না, ‘পৃথিবী হইতে’ মনে করেন না, ‘পৃথিবী আমার’ বলিয়া মনে করেন না, পৃথিবী লইয়া আনন্দ করেন না। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তিনি রাগক্ষয়ে বীতরাগ হইয়াছেন, দ্বেষক্ষয়ে বীতদ্বেষ হইয়াছেন, মোহক্ষয়ে বীতমোহ হইয়াছেন।
৮. হে ভিক্ষুগণ, যিনি স্বয়ং তথাগত অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ, তিনি পৃথিবীকে (ক্ষিতিকে) সাধারণ হইতে অধিকতরভাবে জানেন, পৃথিবীকে অধিকতরভাবে জানিয়া ‘পৃথিবী’ বলিয়া মনে করেন না, ‘পৃথিবীতে’ মনে করেন না, ‘পৃথিবী হইতে’ মনে করেন না, ‘পৃথিবী আমার’ বলিয়া মনে করেন না, পৃথিবী লইয়া আনন্দ করেন না। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তিনি ইহার স্বরূপ সম্পূর্ণ পরিজ্ঞাত।
৯. হে ভিক্ষুগণ, যিনি স্বয়ং তথাগত অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ, তিনি পৃথিবীকে (ক্ষিতিকে) অধিকতরভাবে জানেন, পৃথিবীকে অধিকতরভাবে জানিয়া ‘পৃথিবী’ বলিয়া মনে করেন না, ‘পৃথিবীতে’ মনে করেন না, ‘পৃথিবী হইতে’ মনে করেন না, ‘পৃথিবী আমার’ বলিয়া মনে করেন না, পৃথিবী লইয়া আনন্দ করেন না। ইহার কারণ কী? আমি বলি, যেহেতু তিনি ‘নন্দি’ (ভবতৃষ্ণা) যে সর্বদুঃখের মূলীভূত কারণ তাহা বিদিত হইয়া অবধারণ করেন, ভবহেতু জন্ম হয় এবং যোনিসম্ভূত হইলেই জরা-মরণাধীন হইতে হয়, তদ্ধেতু হে ভিক্ষুগণ, আমি বলি, তথাগত সর্বাংশে তৃষ্ণার ক্ষয়, তৎপ্রতি বিরাগ, তাহার নিরোধ, ত্যাগ ও বিসর্জন সাধন করিয়া অনুত্তর সম্যক সম্বোধি আয়ত্ত করিয়া অভিসম্বুদ্ধ হইয়াছেন।
অপ, বায়ু (মরুত), তেজ, যোনিসম্ভূত, দেব, প্রজাপতি, ব্রহ্ম, আভাস্বর, শুভকৃৎস্ন, বৃহৎফল, আকাশানন্তায়তন, বিজ্ঞানানন্তায়তন, আকিঞ্চনায়তন, নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞায়তন, দৃষ্ট, শ্রুত, মত, বিজ্ঞাত, একত্ব, নানাত্ব, সর্ব ও নির্বাণ সম্বন্ধেও এইরূপ।
ভগবান ইহা বিবৃত করিলেন। ভিক্ষুগণ তাহা প্রসন্নমনে শ্রবণ করিয়া আনন্দ প্রকাশ করিলেন।
মূল-পর্যায়-সূত্র সমাপ্ত।
ব্যাখ্যা [৮]
English
Việt Ngữ