আমি এইরূপ শুনিয়াছি।
১. একসময় ভগবান শ্রাবস্তী-সমীপে অবস্থান করিতেছিলেন, জেতবনে, অনাথপিণ্ডিকের আরামে। ভগবান সমবেত ভিক্ষুগণকে আহ্বান করিলেন, ‘হে ভিক্ষুগণ’। ‘হাঁ ভদন্ত’ বলিয়া তাঁহারা প্রত্যুত্তরে ভগবানকে সম্মতি জানাইলেন। ভগবান কহিলেন :
২. হে ভিক্ষুগণ, একাদশ অঙ্গে গুণহীন হইলে গোপালক গোচারণ ও গোবর্ধন করিতে সমর্থ হয় না। একাদশ অঙ্গ কী কী? হে ভিক্ষুগণ, গোপালক রূপজ্ঞ হয় না, লক্ষ্মণ-দক্ষ হয় না, ‘আশাটক’ ছাঁটে না ব্রণ-আচ্ছাদক হয় না, ধূম উৎপাদন করে না, তীর্থ জানে না, পানীয় জানে না, বীথি জানে না, গোচরদক্ষ হয় না নিরবশেষে দোহন করে, যে-সকল বৃষভ গোপিতা ও গোপরিণায়ক, উহাদিগকে অতিরিক্ত পূজার পূজা করে না। হে ভিক্ষুগণ, এই একাদশ অঙ্গে গুণহীন হইলে গোপালক গোচারণ ও গোবর্ধন করিতে সমর্থ হয় না।
এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, একাদশ অঙ্গে গুণহীন হইলে ভিক্ষু এই ধর্মবিনয়ে বৃদ্ধি, সমৃদ্ধি ও বিপুলতা লাভ করিতে সমর্থ হয় না। একাদশ অঙ্গ কী কী? হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু রূপজ্ঞ হয় না, লক্ষণ-দক্ষ হয় না, ‘আশাটক’ ছাঁটে না, ব্রণ-আচ্ছাদক হয় না, ধূম উৎপাদন করে না, তীর্থ জানে না, পানীয় জানে না, বীথি জানে না, গোচর-দক্ষ হয় না, নিরবশেষে দোহন করে, যে-সকল স্থবির ভিক্ষু রত্নজ্ঞ, চিরপ্রব্রজিত, সংঘপিতা ও সংঘপরিণায়ক, তাঁহাদিগকে অতিরিক্ত পূজায় পূজা করে না।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু রূপজ্ঞ হয় না? হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু যাহা কিছু রূপ-নামধেয়, সর্বপ্রকারের রূপ, চারি মহাভূত এবং চারি মহাভূত হইতে উৎপন্ন রূপ যথাযথভাবে জানে না। হে ভিক্ষুগণ, এইরূপেই ভিক্ষু রূপজ্ঞ হয় না।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু লক্ষণ-দক্ষ হয় না? হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু কর্মই যে মূর্খের লক্ষণ এবং কর্মই যে পণ্ডিতের লক্ষণ ইহা যথাযথ জানে না। এইরূপেই হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু লক্ষণ-দক্ষ হয় না।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু ‘আশাটক’ ছাঁটে না? হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু উৎপন্ন কাম-বিতর্ক (কাম-পরিকল্পনা) পোষণ করে, তাহা পরিত্যাগ করে না, অপনোদন করে না, উহার অন্তসাধন করে না, অনুৎপত্তি সাধন করে না। উৎপন্ন ব্যাপাদ-বিতর্ক এবং উৎপন্ন বিহিংসা-বিতর্ক সম্বন্ধেও এইরূপ। (সংক্ষেপে) যখন যেমন পাপ অকুশল ধর্ম উৎপন্ন হয় তখন তাহা পোষণ করে, পরিত্যাগ করে না, অপনোদন করে না, উহার অন্তসাধন করে না, অনুৎপত্তি সাধন করে না। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু ‘আশাটক’ ছাঁটে না।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু ব্রণ-আচ্ছাদক হয় না? হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু চক্ষু দ্বারা রূপ দর্শন করিয়া নিমিত্তগ্রাহী ও অনুব্যঞ্জনগ্রাহী হয়, যে অধিকরণে চক্ষু-ইন্দ্রিয় অসংযত রাখিয়া বিচরণ করিলে অভিধ্যা (লোভ), দৌর্মনস্য ও (অন্যান্য) পাপ অকুশল ধর্ম অনুস্রবিত হয় উহার সংযম সাধনের জন্য অগ্রসর হয় না, চক্ষু-ইন্দ্রিয় সুরক্ষিত করে না, চক্ষু-ইন্দ্রিয়ে সংযমপ্রাপ্ত হয় না। শ্রোত্র এবং শব্দ, ঘ্রাণ এবং গন্ধ, জিহ্বা এবং রস, কায় এবং স্পর্শ, মন এবং ধর্ম সম্বন্ধেও এইরূপ। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু ব্রণ-আচ্ছাদক হয় না।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু ধূম উৎপাদন করে না? হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু যথাশ্রুত এবং যথাধীত ধর্ম বিস্তারিতভাবে অপরের নিকট উপদেশ প্রদান করে না। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু ধূম উৎপাদন করে না।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু তীর্থ জানে না? হে ভিক্ষুগণ, যে-সকল ভিক্ষু বহুশ্রুত, আগতাগম, ধর্মধর, বিনয়ধর এবং মাতৃকাধর, ভিক্ষু তাঁহাদের নিকট যথাকালে উপস্থিত হইয়া প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে না, প্রশ্নোত্তরে প্রশ্ন করে না : ‘ভদন্ত, ইহা (অর্থাৎ উদ্ধৃত বচন) এইরূপ কেন? ইহার অর্থ কী?’ (জিজ্ঞাসা না করিবার কারণ) ওই আয়ুষ্মান স্থবিরগণ যাহা আবৃত (অপ্রকট) তাহা অনাবৃত (প্রকটিত) করেন না, যাহা অস্পষ্ট তাহা স্পষ্টীকৃত করেন না, বহু সন্দেহজনক স্থানে সন্দেহ ভঞ্জন করেন না। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু তীর্থ জানে না।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু পানীয় জানে না? হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু তথাগত-প্রবর্তিত ধর্মবিনয় উপদিষ্ট হইলে উহাতে অর্থবেদ (অর্থজ্ঞান-উদ্দীপনা) ও ধর্মবেদ (ধর্মজ্ঞান-উদ্দীপনা) লাভ করে না, ধর্মস্ফূর্ত প্রফুল্লতা লাভ করে না। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু পানীয় জানে না।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু বীথি জানে না? হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু অষ্টাঙ্গ আর্যমার্গ যথাযথ জানে না। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু বীথি জানে না।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু গোচর-দক্ষ হয় না? হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু চতুর্বিধ স্মৃতি-উপস্থান (বা স্মৃতিপ্রস্থান) যথাযথ জানে না। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু গোচর-দক্ষ হয় না।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু নিরবশেষে দোহন করে? হে ভিক্ষুগণ, শ্রদ্ধাবান গৃহপতিগণ চীবর, পিণ্ডপাত, শয্যাসন, রোগীপথ্য ও ভৈষজ্যাদি ভিক্ষুর ব্যবহার্য উপকরণসমূহ গ্রহণের জন্য ভিক্ষুকে নিবেদন করেন, কিন্তু ভিক্ষু প্রতিগ্রহণের মাত্রা জানে না। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু নিরবশেষে দোহন করে।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু রত্নজ্ঞ, চিরপ্রব্রজিত, সংঘপিতা ও সংঘপরিণায়ক স্থবির ভিক্ষুদিগকে অতিরিক্ত পূজায় পূজা করে না? হে ভিক্ষুগণ, যে-সকল স্থবির ভিক্ষু রত্নজ্ঞ (শাস্ত্রজ্ঞ) চিরপ্রব্রজিত, সংঘপিতা ও সংঘপরিণায়ক তাঁহাদের প্রতি ভিক্ষু, প্রকাশ্যে বা গোপনে, মৈত্রীযুক্ত দৈহিক, বাচনিক ও মানসিক কর্তব্য সম্পন্ন করে না। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু রত্নজ্ঞ, চিরপ্রব্রজিত সংঘপিতা ও সংঘপরিণায়ক স্থবির ভিক্ষুদিগকে অতিরিক্ত পূজায় পূজা করে না।
হে ভিক্ষুগণ, এই একাদশ অঙ্গে গুণহীন হইলে ভিক্ষু এই ধর্মবিনয়ে বৃদ্ধি, সমৃদ্ধি ও বিপুলতা লাভ করিতে সমর্থ হয় না।
হে ভিক্ষুগণ, একাদশ অঙ্গে গুণসমন্বিত হইলে গোপালক গোচারণ ও গোবর্ধন করিতে সমর্থ হয়। একাদশ অঙ্গ কী কী? হে ভিক্ষুগণ, গোপালক রূপজ্ঞ হয়, লক্ষণ-দক্ষ হয়, ‘আশাটক’ ছাঁটে, ব্রণ-আচ্ছাদক হয়, ধূম উৎপাদন করে, তীর্থ জানে, পানীয় জানে, বীথি জানে, গোচর-দক্ষ হয়, অবশিষ্ট রাখিয়া দোহন করে, যে-সকল বৃষভ গোপিতা ও গোপরিণায়ক উহাদিগকে অতিরিক্ত পূজায় পূজা করে। হে ভিক্ষুগণ, এই একাদশ অঙ্গে গুণসমন্বিত হইলে গোপালক গোচারণ ও গোবর্ধন করিতে সমর্থ হয়। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, একাদশ অঙ্গে গুণসমন্বিত হইলে ভিক্ষু এই ধর্মবিনয়ে বৃদ্ধি, সমৃদ্ধি ও বিপুলতা লাভ করিতে সমর্থ হয়। একাদশ অঙ্গ কী কী? হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু রূপজ্ঞ হয়, লক্ষণ-দক্ষ হয়, ‘আশাটক’ ছাঁটে, ব্রণ-আচ্ছাদক হয়, ধূম উৎপাদন করে, তীর্থ জানে, পানীয় জানে, বীথি জানে, গোচর-দক্ষ হয়, অবশিষ্ট রাখিয়া দোহন করে, যে-সকল স্থবির ভিক্ষু রত্নজ্ঞ, চিরপ্রব্রজিত, সংঘপিতা ও সংঘপরিণায়ক, তাঁহাদিগকে অতিরিক্ত পূজায় পূজা করে।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু রূপজ্ঞ হয়? হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু যাহা কিছু রূপ-নামধেয়, সর্বপ্রকারের রূপ, চারি মহাভূত এবং চারি মহাভূত হইতে উৎপন্ন রূপ যথাযথভাবে জানে। হে ভিক্ষুগণ, এইরূপেই ভিক্ষু রূপজ্ঞ হয়।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু লক্ষণ-দক্ষ হয়? হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু কর্মই যে মূর্খের লক্ষণ এবং কর্মই যে পণ্ডিতের লক্ষণ ইহা যথাযথভাবে জানে। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু লক্ষণ-দক্ষ হয়।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু ‘আশাটক’ ছাঁটে? হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু উৎপন্ন কাম-বিতর্ক (কাম-পরিকল্পনা) পোষণ করে না, তাহা পরিত্যাগ করে, অপনোদন করে, উহার অন্তসাধন করে, অনুৎপত্তি সাধন করে। উৎপন্ন ব্যাপাদ-বিতর্ক এবং উৎপন্ন বিহিংসা-বিতর্ক সম্বন্ধেও এইরূপ। (সংক্ষেপে) যখন যেমন পাপ অকুশল ধর্ম উৎপন্ন হয় তখন তাহা পোষণ করে না, পরিত্যাগ করে, অপনোদন করে, উহার অন্তসাধন করে, অনুৎপত্তি সাধন করে। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু ‘আশাটক’ ছাঁটে।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু ব্রণ-আচ্ছাদক হয়? হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু চক্ষু দ্বারা রূপ দর্শন করিয়া নিমিত্তগ্রাহী ও অনুব্যঞ্জনগ্রাহী হয় না, যে অধিকরণে চক্ষু-ইন্দ্রিয় অসংযত রাখিয়া বিচরণ করিলে অভিধ্যা (লোভ), দৌর্মনস্য ও (অন্যান্য) পাপ অকুশল ধর্ম অনুস্রবিত হয় উহার সংযম সাধনের জন্য অগ্রসর হয়, চক্ষু-ইন্দ্রিয় সুরক্ষিত করে, চক্ষু-ইন্দ্রিয়ে সংযমপ্রাপ্ত হয়। শ্রোত্র এবং শব্দ, ঘ্রাণ এবং গন্ধ, জিহ্বা এবং রস, কায় এবং স্পর্শ, মন ও ধর্ম সম্বন্ধেও এইরূপ। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু ব্রণ-আচ্ছাদক হয়।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু ধূম উৎপাদন করে? হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু যথাশ্রুত এবং যথাধীত ধর্ম বিস্তারিতভাবে অপরের নিকট উপদেশ প্রদান করে। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু ধূম উৎপাদন করে।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু তীর্থ জানে? হে ভিক্ষুগণ, যে-সকল ভিক্ষু বহুশ্রুত, আগতাগম, ধর্মধর, বিনয়ধর, মাতৃকাধর, ভিক্ষু তাঁহাদের নিকট যথাকালে উপস্থিত হইয়া প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে, প্রশ্নোত্তরে প্রশ্ন করে : ‘ভদন্ত, ইহা (অর্থাৎ উদ্ধৃত বচন) এইরূপ কেন? ইহার অর্থ কী?’ (জিজ্ঞাসা করিবার কারণ) ওই আয়ুষ্মান স্থবিরগণ যাহা আবৃত (অপ্রকট) তাহা অনাবৃত (প্রকটিত) করেন, যাহা অস্পষ্ট তাহা স্পষ্টীকৃত করেন, বহু সন্দেহজনক স্থানে সন্দেহ ভঞ্জন করেন। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু তীর্থ জানে।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু পানীয় জানে? হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু তথাগত-প্রবর্তিত ধর্মবিনয় উপদিষ্ট হইলে উহাতে অর্থবেদ (অর্থজ্ঞান, উদ্দীপনা ও রসবোধ) ও ধর্মবেদ (ধর্মজ্ঞান, উদ্দীপনা ও রসবোধ) লাভ করে, ধর্মস্ফূর্ত প্রফুল্লতা লাভ করে। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু পানীয় জানে।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু বীথি জানে? হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু অষ্টাঙ্গ আর্যমার্গ যথাযথ জানে। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু বীথি জানে।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু গোচর-দক্ষ হয়? হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু চতুর্বিধ স্মৃতি-উপস্থান (বা স্মৃতিপ্রস্থান) যথাযথ জানে। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু গোচর-দক্ষ হয়।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু অবশিষ্ট রাখিয়া দোহন করে? হে ভিক্ষুগণ, শ্রদ্ধাবান গৃহপতিগণ চীবর, পিণ্ডপাত, শয্যাসন, রোগীপথ্য ও ভৈষজ্যাদি ভিক্ষুর ব্যবহার্য উপকরণসমূহ গ্রহণের জন্য ভিক্ষুকে নিবেদন করেন, কিন্তু ভিক্ষু প্রতিগ্রহণের মাত্রা জানে। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু অবশিষ্ট রাখিয়া দোহন করে।
হে ভিক্ষুগণ, কিরূপে ভিক্ষু রত্নজ্ঞ, (শাস্ত্রজ্ঞ), চিরপ্রব্রজিত, সংঘপিতা ও সংঘপরিণায়ক স্থবির ভিক্ষুদিগকে অতিরিক্ত পূজায় পূজা করে? হে ভিক্ষুগণ, যে-সকল স্থবির ভিক্ষু রত্নজ্ঞ, চিরপ্রব্রজিত, সংঘপিতা ও সংঘপরিণায়ক তাঁহাদের প্রতি ভিক্ষু, প্রকাশ্যে বা গোপনে, মৈত্রীযুক্ত দৈহিক, বাচনিক ও মানসিক কর্তব্য সম্পন্ন করে। এইরূপেই, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু রত্নজ্ঞ, চিরপ্রব্রজিত, সংঘপিতা ও সংঘপরিণায়ক স্থবির ভিক্ষুদিগকে অতিরিক্ত পূজায় পূজা করে।
হে ভিক্ষুগণ, এই একাদশ ধর্মসমন্বিত ভিক্ষু এই ধর্মবিনয়ে বৃদ্ধি, সমৃদ্ধি ও বিপুলতা লাভ করিতে সমর্থ হয়।
ভগবান ইহা বিবৃত করিলেন। ভিক্ষুগণ তাহা প্রসন্নমনে শ্রবণ করিয়া আনন্দ প্রকাশ করিলেন।
মহাগোপালক-সূত্র সমাপ্ত।
ব্যাখ্যা [৪]
English
Việt Ngữ