আমি এইরূপ শুনিয়াছি।
১. একসময় ভগবান ভিক্ষুসংঘসহ কোশলরাজ্যে বিচরণ করিতে করিতে শালা নামক কোশলের এক ব্রাহ্মণগ্রামে উপনীত হইলেন। শালেয়ক (শালানিবাসী) ব্রাহ্মণ-গৃহপতিগণ শুনিতে পাইলেন যে, শাক্যকুল-প্রব্রজিত শাক্যপুত্র শ্রমণ গৌতম বৃহৎ ভিক্ষুসংঘসহ কোশলরাজ্যে বিচরণ করিতে করিতে শালায় উপনীত হইয়াছেন। মহানুভব গৌতমের এইরূপ কল্যাণ-কীর্তি-শব্দ (যশোগাথা) সমুদ্গত হইয়াছে : ‘তিনি ভগবান অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ, বিদ্যাচরণসম্পন্ন, সুগত, লোকবিদ, অনুত্তর দম্যপুরুষসারথি, দেবমনুষ্যগণের শাস্তা, বুদ্ধ ভগবান। তিনি দেবলোক, মারলোক, ব্রহ্মলোক, শ্রমণ-ব্রাহ্মণমণ্ডল, দেবাখ্যমনুষ্যগণসহ এই সর্বলোক স্বয়ং অভিজ্ঞা দ্বারা সাক্ষাৎকার করিয়া উহার স্বরূপ প্রকাশ করেন। তিনি ধর্মোপদেশ প্রদান করেন যাহার আদিতে কল্যাণ, মধ্যে কল্যাণ, অন্তে কল্যাণ, যাহা অর্থযুক্ত, ব্যঞ্জনযুক্ত, এবং যাহা কেবল পরিশুদ্ধ ব্রহ্মচর্যই প্রকাশিত করে। এহেন অর্হতের দর্শন লাভ করা উত্তম।’
২. অনন্তর শালেয়ক ব্রাহ্মণগণ ভগবানের নিকট উপস্থিত হইলেন, উপস্থিত হইয়া কেহ কেহ ভগবানকে অভিবাদন করিয়া, কেহ কেহ তাঁহার সহিত প্রীত্যালাপচ্ছলে কুশলপ্রশ্নাদি বিনিময় করিয়া, কেহ কেহ তাঁহার সহিত কৃতাঞ্জলি হইয়া, কেহ কেহ ভগবানের নিকট স্বীয় নামগোত্র প্রকাশ করিয়া, আর কেহ কেহ বা তূষ্ণীম্ভাব অবলম্বন করিয়া একান্তে উপবেশন করিলেন। একান্তে উপবিষ্ট শালেয়ক ব্রাহ্মণগণ ভগবানকে কহিলেন, ‘কী হেতু, হে গৌতম, কী কারণে, কোনো কোনো সত্ত্ব (জীব) দেহাবসানে মৃত্যুর পর অপায় দুর্গতি বিনিপাত নিরয়ে উৎপন্ন হয়? [পক্ষান্তরে, কী হেতু,] হে গৌতম, [কী কারণে] কোনো কোনো সত্ত্ব দেহাবসানে মৃত্যুর পর সুগতি স্বর্গলোকে উৎপন্ন হন?’ হে গৃহপতিগণ, অধর্মচর্যা-বিষমচর্যা-হেতু কোনো কোনো সত্ত্ব দেহাবসানে মৃত্যুর পর অপায় দুর্গতি বিনিপাত নিরয়ে উৎপন্ন হয়। (পক্ষান্তরে) হে গৃহপতিগণ, ধর্মচর্যা ও সমচর্যা-হেতু কোনো কোনো সত্ত্ব দেহাবসানে মৃত্যুর পর সুগতি স্বর্গলোকে উৎপন্ন হন। ‘মহানুভব গৌতমের সংক্ষেপে কথিত উপদেশ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা না করিলে আমরা উহার বিশদ অর্থবোধ করিতে অক্ষম। অতএব মহানুভব গৌতম সেইরূপে আমাদের নিকট ধর্মোপদেশ প্রদান করুন যাহাতে আমরা তাঁহার সংক্ষেপে কথিত, বিস্তারিতভাবে অবিভক্ত উপদেশের বিশদ অর্থ জানিতে পারি।’ তাহা হইলে, হে গৃহপতিগণ, আপনারা শ্রবণ করুন, উত্তমরূপে মনোনিবেশ করুন, আমি তাহা বিবৃত করিতেছি। ‘তথাস্তু বলিয়া শালেয়ক ব্রাহ্মণগণ তাঁহাদের সম্মতি জানাইলেন। ভগবান কহিলেন :
৩. হে গৃহপতিগণ, দৈহিক অধর্মচর্যা-বিষমচর্যা ত্রিবিধ, বাচনিক অধর্মচর্যা-বিষমচর্যা চতুর্বিধ, এবং মানসিক অধর্মচর্যা-বিষমচর্যা ত্রিবিধ।
কিরূপে দৈহিক অধর্মচর্যা-বিষমচর্যা ত্রিবিধ হয়? এখানে কেহ কেহ প্রাণহন্তা, রুদ্রপ্রকৃতি, লোহিত-পাণি, হনন ও প্রহার কার্যে নিবিষ্ট, অলজ্জী, এবং সর্বজীবের প্রতি অদয়ালু হয়; যাহা পরস্ব, পরবিত্ত, গ্রামগত অথবা অরণ্যগত যে অদত্ত বস্তুর গ্রহণ চৌর্য বলিয়া কথিত হয়, উহার গ্রহীতা হয়; কামে ব্যভিচারী হয়, মাতৃরক্ষিতা, পিতৃরক্ষিতা, মাতৃপিতৃরক্ষিতা, ভ্রাতৃরক্ষিতা, ভগিনীরক্ষিতা, জ্ঞাতিরক্ষিতা, গোত্ররক্ষিতা, ধর্মরক্ষিতা, সধবা, দণ্ডবারিতা, অথবা এমনকি বাগ্দত্তা এইরূপ কোনো নারীতে ব্যভিচারে রত হয়। এইরূপেই, হে গৃহপতিগণ, দৈহিক অধর্মচর্যা-বিষমচর্যা ত্রিবিধ হয়।
কিরূপে বাচনিক অধর্মচর্যা-বিষমচর্যা চতুর্বিধ হয়? এখানে কেহ কেহ মিথ্যাবাদী হয়; সভাগত, পরিষদগত, জ্ঞাতিমধ্যগত, পূগমধ্যগত, রাজকুলমধ্যগত, প্রশ্ন জিজ্ঞাসার জন্য আনীত অথবা সাক্ষীরূপে নীত হইয়া ‘ভদ্র, তুমি আইস, যাহা জান তাহা বলো’ এইরূপে প্রশ্ন জিজ্ঞাসিত হইলে, জানে না অথচ বলে ‘জানি’, জানে অথচ বলে ‘জানি না’, দেখে নাই তথাপি (অথচ) বলে ‘দেখিয়াছি’ কিংবা দেখিয়াছে অথচ বলে ‘দেখি নাই’। ইত্যাদিভাবে আত্মহেতু, পরহেতু অথবা যৎকিঞ্চিৎ লাভহেতু সজ্ঞানে মিথ্যাকথা বলে। পিশুনভাষী হয়, এখানে কিছু শুনিয়া সেখানে গিয়া কথা বলে ইহাদের মধ্যে ভেদসংঘটনের জন্য, সেখানে কিছু শুনিয়া এখানে আসিয়া বলে তাহাদের মধ্যে ভেদসংঘটনের জন্য, এইরূপে সংহত ব্যক্তিগণের মধ্যে ভেত্তা, ভিন্ন ব্যক্তিগণের মধ্যে ভেদ বিষয়ে উৎসাহদাতা, বর্গারাম, বর্গরত ও বর্গনন্দি হইয়া বর্গকরণী, ভেদকরণী বাক্যের বক্তা হয়; পরুষভাষী হয়, যে বাক্য গণ্ডোৎপাদক, কর্কশ, পরের নিকট কটু, পরের মর্মবিদ্ধকারী, ক্রোধোদ্দীপক এবং সমাধিপ্রতিকূল, সেইরূপ বাক্যের বক্তা হয়; সম্প্রলাপী হয়, অকালবাদী, অভূতবাদী, অনর্থবাদী, অধর্মবাদী, অবিনয়বাদী, অনুপযুক্তকালে অপ্রণিধানযোগ্য বাক্যের বক্তা হয়, যে বাক্য অশাস্ত্রীয়, অপ্রাসঙ্গিক ও অনর্থ-ঘটিত। এইরূপেই, হে গৃহপতিগণ, বাচনিক অধর্মচর্যা-বিষমচর্যা চতুর্বিধ হয়।
হে গৃহপতিগণ, কিরূপে মানসিক অধর্মচর্যা-বিষমচর্যা ত্রিবিধ হয়? এখানে কেহ কেহ অভিধ্যালু (লোভী) হয়, পরস্বে, পরধনধান্যে লোলুপ হয়, অহো, অপর ব্যক্তির যাহা আছে, তাহা যদি আমার হইত! ব্যাপন্নচিত্ত হয়, প্রদুষ্টমনে প্রদুষ্ট সংকল্প লইয়া কামনা করে, এই সত্ত্বগণ হত হউক, বধ ও উচ্ছন্ন (উৎসন্ন) হউক, ভালো কিছু তাহাদের না হউক; মিথ্যাদৃষ্টিসম্পন্ন, বিপরীতদর্শী হয়, দান নাই, ইষ্ট নাই, হোত্র নাই, সুকৃত-দুষ্কৃত কর্মের ফল ও বিপাক (মুখ্য ও গৌণ ফল) নাই, ইহলোক নাই, পরলোক নাই, মাতা নাই, পিতা নাই, ঔপপাতিক সত্ত্ব নাই, সম্যক-গত সম্যকপন্থি এমন কোনো শ্রমণ-ব্রাহ্মণ নাই যিনি ইহলোক ও পরলোক স্বয়ং অভিজ্ঞা দ্বারা সাক্ষাৎকার করিয়া উহাদের স্বরূপ প্রকাশ করিতে পারেন। এইরূপেই, হে গৃহপতিগণ, মানসিক অধর্মচর্যা-বিষমচর্যা ত্রিবিধ হয়।
এইরূপ অধর্মচর্যা-বিষমচর্যাহেতু কোনো কোনো সত্ত্ব দেহাবসানে মৃত্যুর পর অপায় দুর্গতি বিনিপাত নিরয়ে উৎপন্ন হয়।
৪. হে গৃহপতিগণ, দৈহিক ধর্মচর্যা-সমচর্যা ত্রিবিধ। বাচনিক ধর্মচর্যা-সমচর্যা চতুর্বিধ, এবং মানসিক ধর্মচর্যা-সমচর্যা ত্রিবিধ।
কিরূপে দৈহিক ধর্মচর্যা-সমচর্যা ত্রিবিধ হয়? কেহ কেহ প্রাণিহত্যা পরিত্যাগ করিয়া, প্রাণিহত্যা হইতে প্রতিবিরত হন, নিহিতদ-, নিহিতশস্ত্র, লজ্জী, দয়ালু, এবং সর্বজীবের হিতানুকম্পী হইয়া অবস্থান করেন; অদত্তগ্রহণ পরিত্যাগ করিয়া অদত্তগ্রহণ হইতে প্রতিবিরত হন, যাহা পরস্ব, পরবিত্ত, গ্রামগত অথবা অরণ্যগত যাহার গ্রহণ চৌর্য নামে অভিহিত হয় তাহার গ্রহীতা হন না; ব্যভিচার পরিত্যাগ করিয়া ব্যভিচার হইতে প্রতিবিরত হন; যে মাতৃরক্ষিতা, পিতৃরক্ষিতা, মাতৃপিতৃরক্ষিতা, ভ্রাতৃরক্ষিতা, ভগিনীরক্ষিতা, জ্ঞাতৃরক্ষিতা, গোত্ররক্ষিতা, সধবা, সপরিদণ্ডা, এমনকি বাগ্দত্তা এহেন নারীতে ব্যভিচারে রত হন না। এইরূপেই, হে গৃহপতিগণ, দৈহিক ধর্মচর্যা-সমচর্যা ত্রিবিধ হয়।
কিরূপে বাচনিক ধর্মচর্যা-সমচর্যা চতুর্বিধ হয়? এখানে কেহ কেহ মিথ্যাকথা পরিত্যাগ করিয়া মিথ্যাকথা হইতে প্রতিবিরত হন, সভামধ্যগত, পরিষদমধ্যগত, জ্ঞাতিমধ্যগত, পূগমধ্যগত, রাজকুলমধ্যগত, প্রশ্ন জিজ্ঞাসার জন্য আনীত অথবা সাক্ষীরূপে নীত হইয়া ‘ভদ্র, তুমি আইস, যাহা জান তাহা বলো’ এইরূপে প্রশ্ন জিজ্ঞাসিত হইলে না জানিলে বলেন তিনি জানেন না, জানিলে বলেন তিনি জানেন, না দেখিলে তিনি বলেন দেখেন নাই, দেখিলে বলেন তিনি দেখিয়াছেন, আত্মহেতু পরহেতু, যৎকিঞ্চিৎ লাভহেতু সজ্ঞানে মিথ্যাভাষী হন না; পিশুন বাক্য পরিত্যাগ করিয়া পিশুন বাক্য হইতে প্রতিবিরত হন, এখানে শুনিয়া সেখানে কিছু বলেন না ইঁহাদের মধ্যে ভেদসংঘটনের জন্য, সেখানে শুনিয়া এখানে কিছু বলেন না তাঁহাদের মধ্যে ভেদসংঘটনের জন্য, এইরূপে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগণের মধ্যে মিলনকারী, সংহতি-উৎপাদক, সমগ্রারাম, সমগ্ররত, সমগ্রনন্দি হইয়া সমগ্রকরণী বাক্যের বক্তা হন; পরুষ বাক্য পরিত্যাগ করিয়া পরুষ বাক্য হইতে প্রতিবিরত হন, যে বাক্য নিষ্পাপ, শ্রুতিমধুর, প্রীতিকর, হৃদয়গ্রাহী, পুরজনোচিত, বহুজনকান্ত, বহুজনমনোজ্ঞ, তাদৃশ বাক্যের বক্তা হন; সম্প্রলাপ পরিত্যাগ করিয়া সম্প্রলাপ হইতে প্রতিবিরত হন, কালবাদী, যথার্থবাদী, অর্থবাদী, ধর্মবাদী, বিনয়বাদী এবং যথাকালে প্রণিধানযোগ্য বাক্যের বক্তা হন-যে বাক্য শাস্ত্রীয়, প্রাসঙ্গিক এবং অর্থযুক্ত। এইরূপেই, হে গৃহপতিগণ, বাচনিক ধর্মচর্যা-সমচর্যা চতুর্বিধ হয়।
কিরূপে মানসিক ধর্মচর্যা-সমচর্যা ত্রিবিধ হয়? এখানে কেহ কেহ অনভিধ্যালু (নির্লোভ) হন, যাহা অপরের তাহা তাঁহার হউক, এই আকাঙ্ক্ষা করিয়া যাহা পরস্ব, পরবিত্ত উহার প্রতি লোলুপ হন না; অব্যাপন্নচিত্ত হন, অপ্রদুষ্টমনে, অপ্রদুষ্ট সংকল্প লইয়া কামনা করেন, এই সত্ত্বগণ বৈরীহীন, বিঘ্নহীন হইয়া অবাধে ও আত্মসুখে জীবনযাত্রা নির্বাহ করুক; সম্যক দৃষ্টিসম্পন্ন হন, অবিপরীতদর্শী হইয়া বিশ্বাস করেন, আছে দান, আছে ইষ্ট, আছে হোত্র, আছে সুকৃত-দুষ্কৃত কর্মের ফল ও বিপাক, আছে ইহলোক, আছে পরলোক, আছে মাতা, আছে পিতা, আছে ঔপপাতিক সত্ত্ব, আছেন সম্যক-গত সম্যকপ্রতিপন্ন শ্রমণ-ব্রাহ্মণ যাঁহারা ইহলোক ও পরলোক স্বয়ং অভিজ্ঞা দ্বারা সাক্ষাৎকার করিয়া উহার স্বরূপ প্রকাশ করেন। এইরূপেই, হে গৃহপতিগণ, মানসিক ধর্মচর্যা-সমচর্যা ত্রিবিধ হয়।
এইরূপ ধর্মচর্যা-সমচর্যাহেতু পুণ্যবান সত্ত্ব দেহাবসানে মৃত্যুর পর সুগতি স্বর্গলোক প্রাপ্ত হন।
৫. হে গৃহপতিগণ, যদি কোনো ধর্মচারী-সমচারী ব্যক্তি আকাঙ্ক্ষা করেন : ‘অহো, আমি কি দেহাবসানে মৃত্যুর পর মহাশাল ক্ষত্রিয়গণের সমস্তরে উৎপন্ন হইতে পারিব?’ তাহা হইলে সম্ভাবনার কারণ আছে যে, তিনি দেহাবসানে মৃত্যুর পর মহাশাল ক্ষত্রিয়গণের সমস্তরে উৎপন্ন হইবেন। ইহার কারণ কী? যেহেতু তিনি ধর্মচারী-সমচারী। যদি ধর্মচারী-সমচারী ব্যক্তি আকাঙ্ক্ষা করেন যে, তিনি দেহাবসানে মৃত্যুর পর মহাশাল ব্রাহ্মণগণের, মহাশাল গৃহপতিগণের সমস্তরে উৎপন্ন হইবেন, তাহা হইলে সম্ভাবনার কারণ আছে যে, তিনি দেহাবসানে মৃত্যুর পর ওই ঐ স্তরে উৎপন্ন হইবেন। ইহার কারণ কী? যেহেতু তিনি ধর্মচারী-সমচারী।
হে গৃহপতিগণ, যদি কোনো ধর্মচারী-সমচারী ব্যক্তি আকাঙ্ক্ষা করেন যে, তিনি দেহাবসানে মৃত্যুর পর চতুর্মহারাজিক দেবগণের, ত্রয়স্ত্রিংশ দেবগণের, যাম দেবগণের, তুষিত দেবগণের, নির্মাণরতি দেবগণের, পরনির্মিতবশবর্তী দেবগণের সমস্তরে উৎপন্ন হইবেন, তাহা হইলে সম্ভাবনার কারণ আছে যে, তিনি দেহাবসানে মৃত্যুর পর ওই ওই স্তরে উৎপন্ন হইবেন। ইহার কারণ কী? যেহেতু তিনি ধর্মচারী-সমচারী।
হে গৃহপতিগণ, যদি কোনো ধর্মচারী-সমচারী ব্যক্তি আকাঙ্ক্ষা করেন যে, তিনি দেহাবসানে মৃত্যুর পর ব্রহ্মকায়িক দেবগণের, আভা দেবগণের, স্বল্পাভ দেবগণের, অমিতাভ দেবগণের, আভাস্বর দেবগণের, শুভ দেবগণের, অল্পশুভ দেবগণের, শুভ-কৃৎস্ন দেবগণের, বৃহৎফল দেবগণের, অবৃহৎ দেবগণের, অতৃপ্য দেবগণের, সুদর্শন দেবগণের, সুদর্শী দেবগণের, অকনিষ্ঠ দেবগণের সমস্তরে উৎপন্ন হইবেন, তাহা হইলে সম্ভাবনার কারণ আছে যে, তিনি দেহাবসানে মৃত্যুর পর ওই ওই স্তরে উৎপন্ন হইবেন। ইহার কারণ কী? যেহেতু তিনি ধর্মচারী-সমচারী।
হে গৃহপতিগণ, যদি ধর্মচারী-সমচারী ব্যক্তি আকাঙ্ক্ষা করেন যে, তিনি দেহাবসানে মৃত্যুর পর অনন্ত-আকাশায়তন-উপগত দেবগণের, অনন্ত-বিজ্ঞানায়তন-উপগত দেবগণের, আকিঞ্চনায়তন-উপগত দেবগণের, নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞায়তন-উপগত দেবগণের সমস্তরে উৎপন্ন হইবেন, তাহা হইলে সম্ভাবনার কারণ আছে যে, তিনি ওই ওই স্তরে উৎপন্ন হইবেন। ইহার কারণ কী? যেহেতু তিনি ধর্মচারী-সমচারী।
হে গৃহপতিগণ, যদি কোনো ধর্মচারী-সমচারী ব্যক্তি আকাঙ্ক্ষা করেন যে, তিনি আসবক্ষয়ে অনাসব চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি এই দৃষ্টধর্মে (প্রত্যক্ষজীবনে) স্বয়ং অভিজ্ঞা দ্বারা সাক্ষাৎকার করিয়া তাহাতে অবস্থান করিবেন, তাহা হইলে সম্ভাবনার কারণ আছে যে, তিনি আসবক্ষয়ে অনাসব চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি এই দৃষ্টধর্মে (প্রত্যক্ষজীবনে) স্বয়ং অভিজ্ঞা দ্বারা সাক্ষাৎকার করিবেন। ইহার কারণ কী? যেহেতু তিনি ধর্মচারী-সমচারী।
৬. ইহা বিবৃত হইলে শালেয়ক ব্রাহ্মণ-গৃহপতিগণ ভগবানকে কহিলেন, অতি সুন্দর, হে গৌতম, অতি মনোহর, হে গৌতম, যেমন কেহ উলটানোকে সোজা, আবৃতকে অনাবৃত, বিমূঢ়কে পথপ্রদর্শন, অথবা অন্ধকারে তৈলপ্রদীপ ধারণ করেন যাহাতে চক্ষুষ্মান ব্যক্তি রূপ (দৃশ্যবস্তু) দেখিতে পান, এইরূপে মহানুভব গৌতম কর্তৃক বহুপর্যায়ে, বিবিধ যুক্তিতে, ধর্ম (জ্ঞেয় বিষয়) প্রকাশিত হইয়াছে। আমরা মহানুভব গৌতমের তৎপ্রবর্তিত ধর্মের এবং তৎপ্রতিষ্ঠিত ভিক্ষুসংঘের শরণাগত হইতেছি, আজ হইতে আমরণ শরণাগত আমাদিগকে মহানুভব গৌতম উপাসকরূপে অবধারণ করুন।
শালেয়ক-সূত্র সমাপ্ত।
ব্যাখ্যা [৫]
English
Việt Ngữ