আমি এইরূপ শুনিয়াছি।
১. একসময় ভগবান কৌশাম্বী-সমীপে অবস্থান করিতেছিলেন, ঘোষিতারামে। সেই সময়ে কৌশাম্বীতে ভিক্ষুগণ ভণ্ডনজাত, কলহজাত, বিবাদাপন্ন হইয়া পরস্পর পরস্পরকে মুখতুণ্ড ব্যথিত করিয়া অবস্থান করিতেছিলেন। তাঁহারা অর্থ ও কারণ প্রদর্শনে পরস্পরকে বিষয়টি জানাইবেন না, বুঝাইবেন না, এবং পরস্পর কোনো নিষ্পত্তি ও সুমীমাংসায় আসিবেন না। অনন্তর জনৈক ভিক্ষু ভগবানের নিকট উপস্থিত হইলেন; উপস্থিত হইয়া ভগবানকে অভিবাদন করিয়া একান্তে উপবেশন করিলেন। একান্তে উপবিষ্ট হইয়া ওই ভিক্ষু ভগবানকে কহিলেন, ‘প্রভো, কৌশাম্বীতে ভিক্ষুগণ ভণ্ডনজাত, কলহজাত, বিবাদাপন্ন হইয়া পরস্পর পরস্পরকে মুখতুণ্ড ব্যথিত করিয়া অবস্থান করিতেছেন। তাঁহারা অর্থ ও কারণ প্রদর্শনে পরস্পর পরস্পরকে বিষয়টি জানাইবেন না, বুঝাইবেন না, এবং পরস্পর কোনো নিষ্পত্তি ও সুমীমাংসায় আসিবেন না।’ ভগবান অপর এক ভিক্ষুকে আহ্বান করিলেন, ‘ভিক্ষু, তুমি আইস, তুমি আমার আদেশে ওই ভিক্ষুদিগকে গিয়া বলো : শাস্তা আপনাদিগকে ডাকিয়াছেন।’ ‘যথা আজ্ঞা, প্রভো’ বলিয়া ওই ভিক্ষু প্রত্যুত্তরে সম্মতি জানাইয়া যেখানে ওই ভিক্ষুগণ ছিলেন তথায় উপস্থিত হইলেন, উপস্থিত হইয়া তাঁহাদিগকে বলিলেন, ‘শাস্তা আয়ুষ্মানগণকে ডাকিয়াছেন।’ ‘যথা আজ্ঞা, বন্ধু’ বলিয়া প্রত্যুত্তরে সম্মতি জানাইয়া তাঁহারা ভগবানের নিকট উপস্থিত হইলেন, উপস্থিত হইয়া ভগবানকে অভিবাদন করিয়া একান্তে উপবেশন করিলেন। একান্তে উপবিষ্ট ওই ভিক্ষুদিগকে ভগবান কহিলেন :
২. হে ভিক্ষুগণ, সত্যই কি তোমরা ভণ্ডনজাত, কলহজাত, বিবাদাপন্ন হইয়া পরস্পর পরস্পরকে মুখতুণ্ড ব্যথিত করিয়া অবস্থান করিতেছ? তোমরা অর্থ ও কারণ প্রদর্শনে পরস্পর পরস্পরকে বিষয়টি জানাইতেছ না, বুঝাইতেছ না, পরস্পর নিষ্পত্তি ও সুমীমাংসায় আসিতেছ না? ‘হাঁ, প্রভো।’ হে ভিক্ষুগণ, তোমরা কি মনে করো যে, যে সময়ে তোমরা ভণ্ডনজাত, কলহজাত, বিবাদাপন্ন হইয়া পরস্পর পরস্পরকে মুখতুণ্ড ব্যথিত করিয়া অবস্থান করো, সেই সময়ে সতীর্থগণের প্রতি, প্রকাশ্যে এবং গোপনে, তোমাদের মৈত্রীসূচক কায়কর্ম, বাক্কর্ম ও মনঃকর্ম সাধিত হয়? ‘না, প্রভো, তাহা হয় না।’ হে ভিক্ষুগণ, তাহা হইলে তোমরা ভণ্ডনজাত, কলহজাত, বিবাদাপন্ন হইয়া, মুখতুণ্ডে পরস্পর পরস্পরকে ব্যথিত করিয়া অবস্থান করো, সেই সময়ে সতীর্থগণের প্রতি, প্রকাশ্যে এবং গোপনে, তোমাদের মৈত্রীসূচক কায়কর্ম, বাক্কর্ম ও মনঃকর্ম সাধিত হয় না, তাহা হইলে তোমরা কেন মূর্খের ন্যায় ভণ্ডনজাত, কলহজাত, বিবাদাপন্ন হইয়া, মুখতুণ্ডে পরস্পর পরস্পরকে ব্যথিত করিয়া অবস্থান করিতেছ, তোমরা অর্থ ও কারণ প্রদর্শনে পরস্পর পরস্পরকে বিষয়টি জানাইতেছ না, বুঝাইতেছ না, পরস্পর নিষ্পত্তি ও সুমীমাংসায় আসিতেছ না? ইহা যে দীর্ঘকাল তোমাদের দুঃখ ও অহিতের কারণ হইবে।
৩. অনন্তর ভগবান ভিক্ষুদিগকে সম্বোধন করিয়া কহিলেন, হে ভিক্ষুগণ, এই ছয় ধর্ম স্মরণীয়, প্রীতিকর, গৌরবকর, যাহা মিলন অবিসংবাদ, অখণ্ডতা ও ঐক্য-অভিমুখে অনুবর্তিত হয়। ছয় কী কী? এখানে, হে ভিক্ষুগণ, সতীর্থগণের প্রতি ভিক্ষুর মৈত্রীসূচক কায়কর্ম কী প্রকাশ্যে কী গোপনে আরব্ধ হয়। ইহাই প্রথম ধর্ম যাহা স্মরণীয়, প্রীতিকর, গৌরবকর ইত্যাদি। পুনশ্চ, হে ভিক্ষুগণ, সতীর্থগণের প্রতি ভিক্ষুর মৈত্রীসূচক বাক্কর্ম কী প্রকাশ্যে কী গোপনে আরব্ধ হয়। ইহাই দ্বিতীয় ধর্ম। পুনশ্চ, হে ভিক্ষুগণ, সতীর্থগণের প্রতি ভিক্ষুর মনঃকর্ম কী প্রকাশ্যে কী গোপনে আরব্ধ হয়। ইহাই তৃতীয় ধর্ম। পুনশ্চ, হে ভিক্ষুগণ, ধর্মত যাহা লাভ হয়, যাহা কিছু ধর্মলব্ধ, এমনকি ভিক্ষাপাত্রেও যাহা আসিয়া পড়ে, এইরূপ কোনো লব্ধবস্তুই অবিভক্তভাবে, একা ভোগ না করিয়া ভিক্ষু তাহা শীলবান সতীর্থগণের মধ্যে বণ্টন করিয়া ভোগ করেন। ইহাই চতুর্থ ধর্ম। পুনশ্চ, হে ভিক্ষুগণ, যে-সকল শীলাচরণ অখণ্ড, নিশ্ছিদ্র, অজীর্ণ, অটুট, পাপ হইতে মুক্তিদায়ক, বিদ্বজ্জন-প্রশংসিত, অপরামৃষ্ট ও সমাধি-অভিমুখী ভিক্ষু সেই সকল শীলাচরণগুণে সমন্বিত হইয়া কী প্রকাশ্যে কী গোপনে সতীর্থগণের মধ্যে বিচরণ করেন। ইহাই পঞ্চম ধর্ম। পুনশ্চ, হে ভিক্ষুগণ, যে সম্যক দৃষ্টি আর্য (নির্দোষ), মুক্তি-অনুযায়ী, যাহা তদনুবর্তী ব্যক্তির পক্ষে যথার্থ দুঃখক্ষয়ের উপায় হয়, ভিক্ষু সেইরূপ সম্যক দৃষ্টি দ্বারা সমন্বিত হইয়া কী প্রকাশ্যে কী গোপনে সতীর্থগণের মধ্যে বিচরণ করেন। ইহাই ষষ্ঠ ধর্ম যাহা স্মরণীয়, প্রীতিকর, গৌরবকর, মিলন, অবিসংবাদ, অখণ্ডতা ও ঐক্যের অভিমুখী। হে ভিক্ষুগণ, বর্ণিত ছয় ধর্মের মধ্যে শেষোক্ত ধর্ম সম্যক দৃষ্টিই অগ্রস্থানীয়, ইহাই মিলন-বিধায়ক, ইহাই সংহতি-বিধানের মুখ্য উপায়, হে ভিক্ষুগণ, যেমন কূটাগারে কূটই (শিখরই) সকলের উপর, তাহাই সংযোজক ও সংহতি-বিধানের মুখ্য উপায়, তেমন বর্ণিত ছয় ধর্মের শেষোক্ত ধর্ম সম্যক দৃষ্টিই অগ্রস্থানীয়, ইহাই মিলন-বিধায়ক, ইহাই সংহতি-বিধানের মুখ্য উপায়।
৪. হে ভিক্ষুগণ, সেই সম্যক দৃষ্টি কী যাহা আর্য, মুক্তি-অনুযায়ী, যাহা তদনুবর্তী ব্যক্তির পক্ষে যথার্থ দুঃখক্ষয়ের উপায় হয়? এখানে, হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু অরণ্যগত, বৃক্ষমূলগত কিংবা শূন্যাগারগত হইয়া স্বমনে পর্যালোচনা করেন : ‘আমার মধ্যে সেই পাপ-পর্যুত্থান আছে কি, যে পর্যুত্থানবশত চিত্ত জ্ঞেয় বিষয় যথাযথ জানিতে পারে না, দর্শন করে না?’ হে ভিক্ষুগণ, যদি ভিক্ষুর মধ্যে কামরাগ পর্যুত্থিত হয়, তবে তাহার চিত্ত কামরাগ দ্বারাই পর্যুদস্ত হয়; যদি তাঁহার মধ্যে ব্যাপাদ পর্যুত্থিত হয়, তবে তাঁহার চিত্ত ব্যাপাদ দ্বারাই পর্যুদস্ত হয়; যদি তাঁহার মধ্যে স্ত্যানমিদ্ধ পর্যুত্থিত হয়, তবে তাঁহার চিত্ত স্ত্যানমিদ্ধ দ্বারাই পর্যুদস্ত হয়; যদি তাঁহার মধ্যে ঔদ্ধত্য-কৌকৃত্য পর্যুত্থিত হয়, তবে তাঁহার চিত্ত ঔদ্ধত্য-কৌকৃত্য দ্বারাই পর্যুদস্ত হয়; যদি তাঁহার মধ্যে বিচিকিৎসা পর্যুত্থিত হয়, তবে তাঁহার চিত্ত বিচিকিৎসা দ্বারাই পর্যুদস্ত হয়; যদি তাঁহার মধ্যে ইহলোক-চিন্তা প্রসূত হয়, তবে তাঁহার চিত্ত ওই চিন্তাতেই পর্যুদস্ত হয়; যদি তাঁহার মধ্যে পরলোক-চিন্তা প্রসূত হয়, তবে তাঁহার চিত্ত ওই চিন্তাতেই পর্যুদস্ত হয়; যদি তিনি ভণ্ডনজাত, কলহজাত, বিবাদাপন্ন হন, তবে তাঁহার চিত্ত উহা দ্বারাই পর্যুদস্ত হয়। তিনি প্রকৃষ্টরূপে জানেন, ‘আমার মধ্যে সেই পাপ-পর্যুত্থান নাই, যে পর্যুত্থানবশত চিত্ত জ্ঞেয় বিষয় যথাযথ জানিতে পারে না, দর্শন করে না; সত্যবোধের জন্য আমার মন সুপ্রণিহিত (একাগ্র) হইয়াছে।’ তাঁহার এই প্রথম জ্ঞান অধিগত হয় যাহা লোকোত্তর, ইতরসাধারণের অগম্য।
৫. পুনশ্চ, হে ভিক্ষুগণ, আর্যশ্রাবক স্বমনে এইরূপে পর্যালোচনা করেন : ‘এই (সম্যক) দৃষ্টি অভ্যাস করিয়া, বর্ধিত ও বহুলীকৃত করিয়া কি আমি নিজে নিজে শমথ (উপশম) লাভ, নির্বৃতি লাভ করিয়াছি?’ তিনি প্রকৃষ্টরূপে জানেন, ‘আমি এই (সম্যক) দৃষ্টি অভ্যাস করিয়া, বর্ধিত ও বহুলীকৃত করিয়া, নিজে নিজে শমথ লাভ, নির্বৃতি লাভ করিয়াছি।’ তাঁহার এই দ্বিতীয় জ্ঞান অধিগত হয় যাহা লোকোত্তর, ইতরসাধারণের অগম্য।
৬. পুনশ্চ, হে ভিক্ষুগণ, আর্যশ্রাবক স্বমনে এইরূপে পর্যালোচনা করেন : ‘আমি যেরূপ দৃষ্টি দ্বারা সমন্বিত, এই শাসনের বাহিরে এমন কোনো শ্রমণ কিংবা ব্রাহ্মণ আছেন কি যিনি ঠিক সেইরূপ দৃষ্টি দ্বারা সমন্বিত?’ তিনি প্রকৃষ্টরূপে জানেন, ‘আমি যেরূপ দৃষ্টির দ্বারা সমন্বিত এই শাসনের বাহিরে তেমন কোনো শ্রমণ কিংবা ব্রাহ্মণ নাই যিনি ঠিক সেইরূপ দৃষ্টি দ্বারা সমন্বিত।’ তাঁহার এই তৃতীয় জ্ঞান অধিগত হয় যাহা লোকোত্তর, ইতরসাধারণের অগম্য।
৭. পুনশ্চ, হে ভিক্ষুগণ, আর্যশ্রাবক স্বমনে এইরূপে পর্যালোচনা করেন : ‘যে-ধর্মতায় (স্বভাবে) দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষ সমন্বিত আমিও কি সেই ধর্মতায় সমন্বিত?’ হে ভিক্ষুগণ, কীরূপ ধর্মতা দ্বারা দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষ সমন্বিত হন? হে ভিক্ষুগণ, দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষের ধর্মতা (স্বভাব) এই যে, যদি তিনি কোনো অপরাধ করিয়া থাকেন, যে অপরাধের প্রকাশ হইবার সম্ভাবনা দৃষ্ট হয়, তাহা হইলে অচিরে তিনি তাহা শাস্তার নিকট অথবা বিজ্ঞ সতীর্থগণের নিকট ব্যক্ত, বিবৃত ও প্রকটিত করেন; তাহা ব্যক্ত, বিবৃত ও প্রকটিত করিয়া অনাগতে তদ্বিষয়ে সংযম প্রাপ্ত হন। যেমন, হে ভিক্ষুগণ, কোনো অল্পবয়স্ক, মন্দবুদ্ধি, উত্তানশায়ী শিশু জ্বলন্ত অঙ্গারের দিকে হাত-পা বাড়াইয়া দ্রুত তাহা পশ্চাতে টানিয়া লয়, তেমনভাবেই, হে ভিক্ষুগণ, দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষের ধর্মতা এই যে, যদি তিনি কোনো অপরাধ করিয়া থাকেন, যে অপরাধের প্রকাশ হইবার সম্ভাবনা দৃষ্ট হয়, তাহা হইলে অচিরে তিনি শাস্তার নিকট অথবা বিজ্ঞ সতীর্থগণের নিকট তাহা ব্যক্ত, বিবৃত ও প্রকটিত করেন; তাহা ব্যক্ত, বিবৃত ও প্রকটিত করিয়া অনাগতে তদ্বিষয়ে সংযম প্রাপ্ত হন। তিনি এইরূপে প্রকৃষ্টরূপে জানেন : ‘যে-ধর্মতায় দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষ সমন্বিত আমিও ঠিক সেইরূপ ধর্মতায় সমন্বিত।’ তাঁহার এই চতুর্থ জ্ঞান অধিগত হয় যাহা লোকোত্তর, ইতরসাধারণের অগম্য।
৮. পুনশ্চ, হে ভিক্ষুগণ, আর্যশ্রাবক এইরূপে স্বমনে পর্যালোচনা করেন : ‘যেরূপ ধর্মতায় দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষ সমন্বিত আমিও কি ঠিক সেইরূপ ধর্মতায় সমন্বিত?’ হে ভিক্ষুগণ, কীরূপ ধর্মতা দ্বারা দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষ সমন্বিত হন? হে ভিক্ষুগণ, দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষের ধর্মতা এই যে, সতীর্থগণের মধ্যে উচ্চনীচ যাহা কিছু কর্তব্যকার্য আছে তদ্বিষয়ে তিনি ঔৎসুক্য প্রাপ্ত হন, ফলে অধিশীল-শিক্ষায়, অধিচিত্ত-শিক্ষায় ও অধিপ্রজ্ঞা-শিক্ষায় তাঁহার তীব্র আকাঙ্ক্ষা হয়। যেমন, হে ভিক্ষুগণ, তরুণবৎসা গাভি তৃণগুচ্ছ ভক্ষণ করে, বাছুরের প্রতিও অবলোকন করে, তেমনভাবেই, হে ভিক্ষুগণ, দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষের ধর্মতা এই যে, সতীর্থগণের মধ্যে উচ্চনীচ যে-সকল কর্তব্যকার্য আছে তিনি তদ্বিষয়ে ঔৎসুক্য প্রাপ্ত হন, ফলে অধিশীল-শিক্ষায় অধিচিত্ত-শিক্ষায় ও অধিপ্রজ্ঞা-শিক্ষায় তাঁহার তীব্র আকাঙ্ক্ষা হয়। তিনি এইরূপে প্রকৃষ্টরূপে জানেন : ‘যেরূপ ধর্মতায় দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষ সমন্বিত আমিও ঠিক সেইরূপ ধর্মতায় সমন্বিত।’ তাঁহার এই পঞ্চম জ্ঞান অধিগত হয় যাহা লোকোত্তর, ইতরসাধারণের অগম্য।
৯. পুনশ্চ, হে ভিক্ষুগণ, আর্যশ্রাবক এইরূপে স্বমনে পর্যালোচনা করেন : ‘যেরূপ বলের দ্বারা দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষ সমন্বিত আমিও কি ঠিক সেইরূপ বলের দ্বারা সমন্বিত?’ হে ভিক্ষুগণ, সেই বল কী যাহা দ্বারা দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষ সমন্বিত হন? হে ভিক্ষুগণ, দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষের বল এই যে, তথাগত-প্রবর্তিত ধর্মবিনয় উপদিষ্ট হইতে থাকিলে তদর্থী হইয়া, তৎপ্রতি মনোনিবেশ করিয়া, সমগ্র চিত্ত একাগ্র করিয়া অবহিত-শ্রোত্র হইয়া তিনি ধর্ম শ্রবণ করেন। তিনি এইরূপে প্রকৃষ্টরূপে জানেন : ‘যেরূপ বলের দ্বারা দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষ সমন্বিত আমিও ঠিক সেইরূপ বলের দ্বারা সমন্বিত।’ তাঁহার এই ষষ্ঠ জ্ঞান অধিগত হয় যাহা লোকোত্তর, ইতরসাধারণের অগম্য।
১০. পুনশ্চ, হে ভিক্ষুগণ, আর্যশ্রাবক এইরূপে স্বমনে পর্যালোচনা করেন : ‘যে বলের দ্বারা দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষ সমন্বিত আমিও কি সেইরূপ বলের দ্বারা সমন্বিত?’ হে ভিক্ষুগণ, সেই বল কী যাহা দ্বারা দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষ সমন্বিত হন? হে ভিক্ষুগণ, দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষের বল এই যে, তথাগত-প্রবর্তিত ধর্মবিনয় উপদিষ্ট হইতে থাকিলে তিনি তাহাতে অর্থবেদ ধর্মবেদ ও ধর্মোপসংহিত প্রামোদ্য লাভ করেন। তিনি এইরূপে প্রকৃষ্টরূপে জানেন : ‘যেরূপ বলের দ্বারা দৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষ সমন্বিত আমিও ঠিক সেইরূপ বলের দ্বারা সমন্বিত।’ তাঁহার এই সপ্তম জ্ঞান অধিগত হয় যাহা লোকোত্তর, ইতরসাধারণের অগম্য।
১১. হে ভিক্ষুগণ, এইরূপে সপ্তজ্ঞান-সমন্বিত আর্যশ্রাবকের ধর্মতা (স্বভাব) স্রোতাপত্তি-ফল সাক্ষাৎকারের পক্ষে সুপর্যাপ্ত হয়। হে ভিক্ষুগণ, এইরূপে সপ্তজ্ঞান সমন্বিত আর্যশ্রাবকই স্রোতাপত্তি-ফলে সমন্বিত হন।
ভগবান ইহা বিবৃত করিলেন। ওই ভিক্ষুগণ তাহা প্রসন্নমনে শ্রবণ করিয়া আনন্দ প্রকাশ করিলেন।
কৌশাম্বী-সূত্র সমাপ্ত।
ব্যাখ্যা [৪]
English
Việt Ngữ