লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২৫]

চাতুম সূত্র

১৫৭. আমি এইরূপ শুনিয়াছি। এক সময় ভগবান চাতুমায় আমলকী বনে বিহার করিতেছেন। এই সময় ভগবানকে দর্শনার্থ সারিপুত্র, মৌদ্গল্লায়ন প্রমুখ পঞ্চশত ভিক্ষু চাতুমায় উপস্থিত হইলেন। তখন সেই আগন্তুক ভিক্ষুগণ আবাসিক ভিক্ষুদের সহিত সম্মোদন (কুশল প্রশ্ন জিজ্ঞাসা) করিতে, শয্যাসন স্থাপন করিতে, পাত্র-চীবর সামলাইতে উচ্চশব্দ মহাশব্দ করিলেন। সেই সময় ভগবান আয়ুষ্মান আনন্দকে ডাকিলেন, “ইহারা কে আনন্দ, মৎস্য বিলোপস্থানে কৈবর্তদের ন্যায় উচ্চশব্দ মহাশব্দ করিতেছে?”

“ভন্তে, সারিপুত্র ও মৌদ্গল্লায়ন প্রমুখ পঞ্চশত ভিক্ষু চাতুমায় উপস্থিত হইয়াছেন ভগবানকে দর্শন মানসে। সেই আগন্তুক ভিক্ষুগণ আবাসিক ভিক্ষুদের সহিত… মহাশব্দ করিতেছেন।”

“তাহা হইলে আনন্দ, আমার কথায় তাহাদিগকে আহ্বান করো, ‘শাস্তা আয়ুষ্মানগণকে ডাকিতেছেন।’”

“হ্যাঁ, ভন্তে,” (বলিয়া) আয়ুষ্মান আনন্দ ভগবানকে প্রতিশ্রুতি দিয়া ভিক্ষুদের নিকট উপস্থিত হইলেন, তথায় গিয়া সেই ভিক্ষুগণকে বলিলেন, ‘শাস্তা আয়ুষ্মানদিগকে ডাকিতেছেন’।

“হ্যাঁ, আবুসো (বন্ধু)!” (বলিয়া) সেই ভিক্ষুগণ আয়ুষ্মান আনন্দকে উত্তর দিয়া যেখানে ভগবান তথায় গেলেন। তথায় গিয়া ভগবানকে অভিবাদন করিয়া একপ্রান্তে বসিলেন। একান্তে উপবিষ্ট সেই ভিক্ষুদিগকে ভগবান বলিলেন, “ভিক্ষুগণ, মৎস্য শিকারে কৈবর্তের ন্যায় কেন তোমরা উচ্চশব্দ মহাশব্দ করিতেছ?”

“ভন্তে, এখানে সারিপুত্র, মৌদ্গল্লায়ন প্রমুখ পঞ্চশত ভিক্ষু… পাত্র-চীবর সামলাইতে উচ্চশব্দ, মহাশব্দ করিতেছে।”

“যাও, ভিক্ষুগণ, তোমাদিগকে (প্রণামন) বহিষ্কার করিতেছি, আমার নিকট তোমরা থাকিও না।”

“হ্যাঁ, ভন্তে,” ভগবানকে উত্তর দিয়া, আসন হইতে উঠিয়া প্রদক্ষিণ করিয়া, শয্যাসন সামলাইয়া, পাত্র-চীবর লইয়া ভিক্ষুরা প্রস্থান করিলেন।”

১৫৮. সেই সময় চাতুমায় শাক্যগণ কোনো কার্যোপলক্ষে সংস্থাগারে (প্রজাতন্ত্র ভবনে) সম্মিলিত ছিলেন। চাতুমার শাক্যগণ দূর হইতে সেই ভিক্ষুগণকে আসিতে দেখিলেন, দেখিয়া যেখানে সে ভিক্ষুগণ ছিলেন… সেখানে গিয়া তাঁহাদিগকে বলিলেন, “আয়ুষ্মানগণ, আপনারা (এই মাত্র আসিয়া) কোথায় যাইতেছেন।?”

“বন্ধুগণ, ভগবান কর্তৃক ভিক্ষুসংঘ বহিষ্কৃত হইয়াছে।”

“তাহা হইলে ভদন্তগণ, মুহূর্তকাল (এখানে) বসুন, নিশ্চয় আমরা ভগবানকে প্রসন্ন (সম্মত) করিতে পারিব।”

“উত্তম, বন্ধুগণ!” (বলিয়া) সেই ভিক্ষুগণ চাতুমার শাক্যদিগকে উত্তর দিলেন।

তখন চাতুমাবাসী শাক্যগণ যেখানে ভগবান আছেন সেখানে উপস্থিত হইলেন, উপস্থিত হইয়া ভগবানকে অভিবাদনপূর্বক বসিলেন এবং ভগবানকে ইহা নিবেদন করিলেন :

“ভন্তে, ভগবান, ভিক্ষুসংঘকে অভিনন্দন করুন, ভন্তে, ভগবান, ভিক্ষুসংঘকে আসিতে আদেশ করুন। ভন্তে, পূর্বে যেমন ভগবান কর্তৃক ভিক্ষুসংঘ অনুগৃহীত হইত, সেভাবে এখনো ভগবান ভিক্ষুসংঘকে অনুগ্রহ করুন। ভন্তে, তথায় (ভিক্ষুসংঘে) এই ধর্মবিনয়ে অধুনাগত অচির প্রব্রজিত নব ভিক্ষুরা আছেন, ভগবানের দর্শন লাভ করিতে না পারিলে তাঁহাদের মনে অন্যথাভাব হইতে পারে, বিপরিবর্তন আসিতে পারে। যেমন, ভন্তে, জলাভাবে তরুণ বীজের (অঙ্কুরের) অন্যথাভাব হয়, বিপরিণাম ঘটে; সেই প্রকার… ভগবানের দর্শন না পাইলে তাঁহাদের মনে অন্যথাভাব ও বিপরীতভাব আসিতে পারে। যেমন ভন্তে, মাতাকে না দেখিলে দুগ্ধপায়ী শিশু বৎসদের অন্যথাভাব ও বিপরীতভাব হয়, সে প্রকার ভন্তে,…। ভন্তে, ভগবান, ভিক্ষুসংঘকে অভিনন্দন (আগমন অনুমোদন) করুন, ভন্তে, ভগবান, ভিক্ষুসংঘকে প্রত্যাবর্তনের আদেশ করুন…।”

১৫৯. অতঃপর ব্রহ্মা সহম্পতি (মহাব্রহ্মাণ্ডের স্বামী) স্বীয় চিত্তে ভগবানের চিত্তবিতর্ক জ্ঞাত হইয়া, যেমন বলবান পুরুষ সঙ্কোচিত বাহু (সহসা) প্রসারণ করে ও প্রসারিত বাহু সঙ্কোচন করে, এইরূপেই ব্রহ্মলোক হইতে অন্তর্হিত হইয়া (সহসা) ভগবানের সম্মুখে প্রকট হইলেন। তখন সহম্পতি ব্রহ্মা উত্তরাসঙ্গ (উত্তরীয় বস্ত্র) একাংসে (স্কন্ধে) রাখিয়া ভগবানের প্রতি কৃতাঞ্জলিপুটে প্রণামপূর্বক ভগবানকে বলিলেন, “ভন্তে, ভগবান, ভিক্ষুসংঘকে অভিনন্দন করুন, আদেশ প্রদান করুন,… ছোট অঙ্কুর ও শিশু বৎসদিগকে… অনুগৃহীত করুন।”

১৬০. চাতুমাবাসী শাক্যগণ ও ব্রহ্মা সহম্পতি অঙ্কুর উপমায় ও শিশু উপমায় ভগবানকে প্রসন্ন করিতে সমর্থ হইলেন। তখন আয়ুষ্মান মহামৌদ্গল্লায়ন ভিক্ষুদিগকে আহ্বান করিলেন, “উঠুন, বন্ধুগণ, পাত্র-চীবর গ্রহণ করুন। চাতুমাবাসী শাক্যগণ ও সহম্পতি ব্রহ্মা বীজ ও শিশু উপমায় ভগবানকে প্রসন্ন করিয়াছেন।”

“হ্যাঁ, বন্ধু!” (বলিয়া) আয়ুষ্মান মহামৌদ্গল্লায়নকে প্রত্যুত্তর দিয়া সেই ভিক্ষুগণ আসন হইতে উঠিলেন এবং পাত্র-চীবর লইয়া যেখানে ভগবান সেখানে পৌঁছিলেন, উপস্থিত হইয়া ভগবানকে অভিবাদন করিয়া একান্তে বসিলেন, একান্তে উপবিষ্ট আয়ুষ্মান সারিপুত্রকে ভগবান বলিলেন, “সারিপুত্র, আমি ভিক্ষুসংঘকে বাহির করিয়া দিলে তোমার কি মনে হইয়াছিল?”

“ভন্তে, ভগবান কর্তৃক ভিক্ষুসংঘ বহিষ্কৃত হইলে আমার মনে হইয়াছিল যে এখন উৎসুকহীন হইয়া ভগবান দৃষ্টধর্ম (ইহজন্মে) সুখবিহারে (ফল সমাপত্তি ধ্যানে) নিবিষ্ট হইয়া বাস করিবেন। আমরাও এখন দৃষ্টধর্ম সুখ-বিহারে নিবিষ্ট হইয়া বাস করিব।”

“থামো তুমি, সারিপুত্র, অপেক্ষা করো তুমি, সারিপুত্র, পুনরায় কখনো তোমার এরূপ চিত্তোৎপাদন করা উচিত নহে।”

তখন ভগবান আয়ুষ্মান মৌদ্গল্লায়নকে আহ্বান করিলেন, “মৌদ্গল্লায়ন, আমি ভিক্ষুসংঘকে বাহির করিয়া দিলে তোমার কী মনে হইয়াছিল?”

“ভন্তে, আমার এইরূপ মনে হইয়াছিল যে ভগবান ভিক্ষুসংঘকে বাহির করিয়া দিলেন, এখন ভগবান অনুৎসুকভাবে দৃষ্টধর্ম সুখবিহারে নিযুক্ত হইয়া অবস্থান করিবেন। এখন আমি ও সারিপুত্র ভিক্ষুসংঘের পরিচালন ভার গ্রহণ করিব।”

“সাধু, সাধু, মৌদ্গল্লায়ন, ভিক্ষুসংঘকে আমি পরিচালনা করিতে পারি, অথবা সারিপুত্র কিংবা মৌদ্গল্লায়ন পারে।”

১৬১. তখন ভগবান ভিক্ষুদিগকে আহ্বান করিলেন, “ভিক্ষুগণ, জলে অবতরণকারী ব্যক্তির চতুর্বিধ ভয়ের (ক্ষতির) সম্ভাবনা প্রত্যাশা করিতে হয়। কী কী চারি? (১) ঊর্মি (তরঙ্গ)-ভয়, (২) কুম্ভীর-ভয়, (৩) আবর্ত (ঘুর্ণিপাক)-ভয় এবং (৪) শিশুমার (চণ্ডমৎস্য)-ভয়।…। এই প্রকার ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো ভিক্ষু এই ধর্মবিনয়ে আগার হইতে অনাগারিকরূপে প্রব্রজিত হইবার সময় চতুর্বিধ ভয়ের সম্ভাবনা চিন্তা করা উচিত। কোনো চারি? (১) ঊর্মিভয়, (২) কুম্ভীর-ভয়, (৩) আবর্ত-ভয়, (৪) শিশুমার-ভয়।”

১৬২. “ভিক্ষুগণ, ঊর্মিভয় কী প্রকার? এখানে কোনো কোনো কুলপুত্র ‘আমি জন্ম-জরা-মরণ-শোক-পরিদেবন-দুঃখ-দৌর্মনস্য-উপায়াস দ্বারা প্রপীড়িত, দুঃখে অবতীর্ণ, দুঃখে নিমজ্জিত; ভালো কথা, যদি এই নিরবশেষ দুঃখরাশির অন্তসাধন উদ্ভাবন করিতে পারি’ (এই চিন্তা করিয়া) শ্রদ্ধায় আগার হইতে অনাগারিক প্রব্রজিত হয়। তথা প্রব্রজিত অবস্থায় সব্রহ্মচারীগণ তাঁহাকে উপদেশ দেন, অনুশাসন করেন : ‘এভাবে তোমার অভিগমন করা উচিত, এভাবে প্রতিগমন করা উচিত, এভাবে আলোকন-বিলোকন করা উচিত, এভাবে তোমার (বাহু) সঙ্কোচন-প্রসারণ করা উচিত, এই প্রকারে তোমার সংঘাটি-পাত্র-চীবর ধারণ করা উচিত’। তাহার মনে এরূপ ধারণা হয় : ‘আমরা পূর্বে গৃহী অবস্থায় থাকিতেও অন্যকে উপদেশ দিয়াছি ও অনুশাসন করিয়াছি। ইহারা নাকি আমাদের পুত্র-পৌত্র সদৃশ অথচ আমাদিগকে উপদেশ ও অনুশাসন করিতে চায়।’ সুতরাং সে ভিক্ষু শিক্ষা প্রত্যাখ্যান করিয়া হীন (গৃহী) অবস্থায় ফিরিয়া যায়। ভিক্ষুগণ, ইহাকেই বলা হয় ঊর্মিভয়ে ভীত, শিক্ষা প্রত্যাখ্যান করিয়া পুনঃ হীনাবস্থায় প্রাপ্ত। ভিক্ষুগণ, ঊর্মিভয় এখানে ক্রোধ-হতাশারই নামান্তর।”

১৬৩. “ভিক্ষুগণ, কুম্ভীর-ভয় কী? এখানে কোনো কুলপুত্র… শ্রদ্ধায় আগার হইতে অনাগারিক প্রব্রজিত হয়… তাহাকে সব্রহ্মচারীগণ উপদেশ দেন, অনুশাসন করেন : ‘ইহা তোমার খাওয়া উচিত, ইহা না খাওয়া উচিত, ইহা তোমার ভোজন করা উচিত, ইহা তোমার ভোজন করা অনুচিত,… আস্বাদন… অনাস্বাদন… পান করা… পান না করা…, তোমার কপ্পিয় (উপযুক্ত) খাওয়া উচিত, অকপ্পিয় না খাওয়া উচিত, যোগ্য (কপ্পিয়) ভোজন করা উচিত, ‘অযোগ্য ভোজন না করা উচিত, যোগ্য আস্বাদন করা উচিত, অযোগ্য আস্বাদন না করা উচিত, যোগ্য পান করা উচিত, অযোগ্য পান না করা উচিত, তোমার কালে খাওয়া উচিত, বিকালে খাওয়া অনুচিত… তোমার কালে পান করা উচিত, বিকালে পান করা অনুচিত।’ তখন তাহার এ ধারণা হয় : ‘আমরা পূর্বে গৃহস্থ অবস্থায় যাহা ইচ্ছা করি তাহা খাইতাম, যাহা ইচ্ছা করি নাই তাহা খাইতাম না,… যাহা ইচ্ছা করি তাহা পান করিতাম, যাহা ইচ্ছা না করি তাহা পান করিতাম না, যোগ্যও খাইতাম, অযোগ্যও খাইতাম… যোগ্যও পান করিতাম, অযোগ্যও পান করিতাম, কালেও খাইতাম, বিকালেও খাইতাম,… কালেও পান করিতাম, বিকালেও পান করিতাম। এখন শ্রদ্ধাবান গৃহপতিরা যে-সকল উত্তম খাদ্য-ভোজ্য দ্বিপ্রহরের পর বিকালে আমাদিগকে দিয়া থাকেন, তাহাতেও ইঁহারা মুখাবরণের ন্যায় করিতেছেন।’ (এই চিন্তা করিয়া) সে শিক্ষাপদ প্রত্যাখ্যান করে…। ভিক্ষুগণ, ইহাকে বলা হয় যে কুম্ভীরভয়ে ভীত হইয়া শিক্ষার প্রত্যাখ্যানপূর্বক হীনাশ্রমে ফিরিয়া গিয়াছে। ভিক্ষুগণ, কুম্ভীরভয় উদম্ভরিতারই নামান্তর।”

১৬৪. ভিক্ষুগণ, আবর্ত-ভয় কী? এখানে কোনো কুলপুত্র… শ্রদ্ধায় আগার থেকে অনাগারিক প্রব্রজিত হয়।… সে এইরূপে প্রব্রজিত অবস্থায় পূর্বাহ্ণ সময়ে নিবাসন পরিহিত হইয়া পাত্র-চীবর লইয়া অসংযত কায়ে, অসংযত বাক্যে, অনুপস্থিত-কায়গত-স্মৃতি হইয়া অসংযত ইন্দ্রিয়ে পিণ্ডাচর্যায় (ভিক্ষার্থ) গ্রামে কিংবা নগরে প্রবেশ করে। সে তথায় গৃহপতি বা গৃহপতিপুত্রকে পঞ্চবিধ কামগুণে (ভোগে) সমর্পিত, সমঙ্গীভূত (সংযুক্ত) হইয়া পরিচারিত হইতে দেখে। তাহার এই চিন্তা হয়্ত‘আমরা পূর্বে গৃহী অবস্থায় পঞ্চকামগুণ দ্বারা সমর্পিত, সমঙ্গীভূত হইয়া নিমগ্ন ছিলাম। আমার গৃহে ভোগও বিদ্যমান। সুতরাং ভোগ্য উপভোগ করিতে ও বহু পুণ্য করিতে সমর্থ হইব।’ (এই চিন্তায়) সে শিক্ষা প্রত্যাখ্যান করিয়া… ফিরিয়া যায়। ভিক্ষুগণ, ইহাকে আবর্তভয়ে শিক্ষা প্রত্যাখ্যানপূর্বক হীনাশ্রম প্রাপ্ত বলা হয়। ভিক্ষুগণ, আবর্তভয় এখানে পঞ্চ কামগুণের নামান্তর।”

১৬৫. “ভিক্ষুগণ, শিশুমার-ভয় কী? এখানে কোনো কুলপুত্র… শ্রদ্ধায় আগার হইতে অনাগারিক প্রব্রজিত হয়… এইরূপে প্রব্রজিত অবস্থায় সে পূর্বাহ্ণে… গ্রামে কিংবা নগরে প্রবেশ করে। সে তথায় দুরাচ্ছাদিত, দুষ্পরিহিত কোনো রমণীকে দেখে। দুরাচ্ছাদিত ও দুষ্পরিহিত রমণীকুল দেখিয়া তাহার চিত্ত কামরাগে প্রপীড়িত হয়, সে রাগবিধ্বস্ত, চিত্তের প্রেরণায় শিক্ষা প্রত্যাখ্যান করিয়া গার্হস্থ্যাশ্রমে প্রত্যাবৃত্ত হয়। ভিক্ষুগণ, ইহাকেই বলা হয় শুশুকের ভয়ে শিক্ষা প্রত্যাখ্যানপূর্বক হীনাবস্থায় প্রত্যাবৃত্ত। ভিক্ষুগণ, শুশুকভয় এখানে নারীজাতিরই নামান্তর।”

“ভিক্ষুগণ, এই ধর্মবিনয়ে আগার হইতে অনাগারিকরূপে প্রব্রজিত কোনো কোনো কুলপুত্রের এই চতুর্বিধ ভয়ের সম্ভাবনা বিদ্যমান, তাহা অপ্রত্যাশিত নহে।”

ভগবান ইহা বলিলেন। সেই ভিক্ষুগণ সন্তুষ্টচিত্তে ভগবানের ভাষণ অভিনন্দন করিলেন।

চাতুম সূত্র সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [৪]