২৬৯. আমি এইরূপ শুনিয়াছি। এক সময় ভগবান রাজগৃহে বেণুবন কলন্দক নিবাপে বাস করিতেছিলেন। সেই সময় সকুলুদায়ি পরিব্রাজক মহতী পরিষদের সাথে পরিব্রাজকারামে বাস করিতেন।
ভগবান পূর্বাহ্ণ সময়ে… । যেখান সকুলুদায়ি পরিব্রাজক ছিলেন, তথায় গেলেন। তখন সকুলুদায়ি পরিব্রাজক ভগবানকে বলিলেন, “আসুন, ভন্তে, ভগবান…।”
২৭০।… ভগবান সজ্জিত আসনে বসিলেন।… “উদায়ি, কী কথায়…।”
“রেখে দিন ভন্তে, সে কথা,…। ভন্তে, যখন আমি এই পরিষদে উপস্থিত না থাকি, তখন এই পরিষদ অনেক প্রকার ব্যর্থ-কথায় (তিরচ্ছান কথায়) উপবিষ্ট থাকে। আর যখন ভন্তে, আমি এই পরিষদে উপস্থিত থাকি, তখন পরিষদ আমারই মুখ তাকাইয়া বসিয়া থাকে, ‘শ্রমণ উদায়ি যে ধর্মকথা বলিবেন আমরা তাহাই শুনিব।’ যখন ভগবান, আপনি এই পরিষদে উপস্থিত আছেন তখন আমি এবং এই পরিষদ ভগবানের মুখ দেখিয়া বসিয়া আছি, ‘ভগবান আমাদিগকে যে ধর্মোপদেশ করিবেন উহাই আমরা শুনিব।’”
২৭১. “তাহা হইলে উদায়ি, এখানে তুমি যাহা নির্বাচন করো, তাহাই আমি বলিতে পারি।”
“প্রাচীনকালে এক সময় ভন্তে, (যিনি) সর্বজ্ঞ, সর্বদর্শী, নিখিল জ্ঞানদর্শন, আমার চলন, দাঁড়ান, সুপ্ত ও জাগ্রত অবস্থায় সদা সর্বদা উপস্থিত বলিয়া প্রতি-জ্ঞাপন করিতেন; তিনি আমাকর্তৃক পূর্বান্ত সম্বন্ধে প্রশ্ন জিজ্ঞাসিত হইলে বাহিরের কথায় অবতরণ করেন, অন্যথা আচরণ করেন। কোপ, বিদ্বেষ ও অপ্রত্যয় (অবিশ্বাস) প্রকট করেন। তখন ভন্তে, ভগবানের সম্বন্ধে আমার স্মৃতি উৎপন্ন হইল : ‘অহো, ভগবান নহে কি, অহো, সুগত নহে কি যিনি এই সকল ধর্ম সুকুশল’?”
“উদায়ি, কে সেই সর্বজ্ঞ, সর্বদর্শী…, যিনি পূর্বাহ্ণ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হইয়া বাহিরের কথায় যাইতে লাগিলেন,… অপ্রত্যয় প্রকট করিলেন?”
“ভন্তে, নিগণ্ঠ নাতপুত্ত।”
“উদায়ি, যিনি অনেক প্রকারের পূর্বজন্ম অনুস্মরণ করিতে পারেন, এক জন্ম…; তিনি আমাকে পূর্বান্তবিষয়ক প্রশ্ন করিতে পারেন। আমিও তাঁহাকে পূর্বান্তবিষয়ক প্রশ্ন করিতে পারি। তিনি পূর্বান্তসম্বন্ধে প্রশ্নোত্তর দ্বারা আমার চিত্ত সন্তুষ্ট করিবেন। আমিও পূর্বান্তসম্বন্ধে প্রশ্নোত্তর দ্বারা তাঁহার চিত্ত আরাধনা করিব। উদায়ি, যিনি দিব্যচক্ষু দ্বারা যথাকর্মানুগ সত্ত্বদিগকে চ্যুত হইতে, উৎপন্ন হইতে দেখিয়া থাকেন; তিনি আমাকে অপরান্তবিষয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিতে পারেন। তাঁহাকে আমিও অপরান্তসম্বন্ধে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিতে পারি। তিনি অপরান্ত (পরবর্তী) বিষয়ে প্রশ্নোত্তর দ্বারা আমার চিত্ত আরাধনা করিবেন। আমিও অপরান্তবিষয়ে প্রশ্নোত্তরে তাঁহার চিত্ত আরাধনা করিব। উদায়ি, রেখে দাও পূর্বান্ত (অতীত), রেখে দাও অপরান্ত (ভবিষ্যৎ)। তোমাকে ধর্মোপদেশ করিব, ‘উহা (কারণ) থাকিলে ইহা (কার্য) হয়। উহার উৎপত্তিতে ইহা উৎপন্ন হয়। উহা না থাকিলে ইহা হয় না। উহার নিরোধ-হেতু ইহা নিরুদ্ধ হয়।’”
“ভন্তে, আমি যাহা কিছু এই শরীর দ্বারা অনুভব করিয়াছি তাহাও আকার-উদ্দেশ সহিত স্মরণ করিতে সমর্থ নহি। কোথা হইতে ভন্তে, ভগবানের ন্যায় আমি অনেকবিধ পূর্বনিবাস অনুস্মরণ করিব… ? ভন্তে, আমি বর্তমানে পাংশু-পিশাচকেও দেখিতে পাই না। কোথায় ভন্তে, ভগবানের ন্যায় আমি দিব্যচক্ষু দ্বারা কর্মানুগ সত্ত্বদিগকে চ্যুতি ও উৎপত্তির সময় দেখিতে পাইব? অথচ ভন্তে, ভগবান যে আমাকে বলিয়াছেন্ত‘রেখে দাও উদায়ি, পূর্বান্ত রেখে দাও অপরান্ত… উহার নিরোধে ইহা নিরোধ হয়।’ তাহাও আমার বিশেষভাবে হৃদয়ঙ্গম হয় না। ভন্তে, আমি স্বীয় আচার্য মতানুসারে প্রশ্নোত্তর দিয়া ভগবানের চিত্ত কী প্রকারে সন্তুষ্ট করিব?”
২৭২. “উদায়ি, তোমার নিজস্ব মতানুসারে কী ধারণা হয়?”
“ভন্তে, আমাদের স্বীয় আচার্যমতে এরূপ আছে, ‘ইহা পরম বর্ণ (জ্যোতি?), ইহা পরম বর্ণ।’”
“উদায়ি, যাহা তোমার আচার্যমতে এরূপ বর্ণিত আছে : ‘ইহা পরম বর্ণ, ইহা পরম বর্ণ’, উহা কী প্রকার পরম বর্ণ?”
“ভন্তে, যে বর্ণ হইতে উত্তরিতর বা প্রণীততর (উত্তমতর) অপর বর্ণ নাই, উহাই পরম বর্ণ।”
“উদায়ি, সে বর্ণ কী প্রকার যাহা হইতে উত্তমতর অপর বর্ণ নাই?”
“ভন্তে, যে বর্ণ অপেক্ষা প্রণীততর (অধিক উত্তম) অপর বর্ণ নাই, তাহাই পরম বর্ণ।”
“উদায়ি, তোমার এই কথা দীর্ঘকাল যাবৎ চলিবে, ‘যে বর্ণ অপেক্ষা প্রণীততর অপর বর্ণ নাই,’ তবুও তুমি সেই বর্ণকে প্রজ্ঞাপিত করিতে পারিতেছ না। যেমন উদায়ি, (কোনো) পুরুষ এরূপ বলে : ‘এই জনপদে (প্রদেশে) যে জনপদকল্যাণী (সুন্দরীদের রাণী) আছে, আমি তাহাকে পাইতে চাই, তাহাকে কামনা করি’ তাহাকে যদি এরূপ বলি : ‘ওহে পুরুষ, তুমি যেই জনপদকল্যাণীকে ইচ্ছা করো, কামনা কর সেই জনপদকল্যাণী ক্ষত্রিয়াণী, ব্রাহ্মণী, বৈশ্যাণী কিংবা শূদ্রাণী তাহাকে তুমি জান কি?’ এরূপ জিজ্ঞাসিত হইয়া বলে ‘না’। যদি তাহাকে এরূপ বলা হয় : ‘হে পুরুষ, তুমি যে জনপদকল্যাণীকে ইচ্ছা ও কামনা করিতেছ তাহার নাম, গোত্র কিংবা দীর্ঘ, হ্রস্ব, মধ্যস্থ আকারের; কাল, শ্যাম, রক্তবর্ণ কি? কোনো গ্রামে, নগরে কিংবা নিগমে জান কি?’ জিজ্ঞাসিত হইয়া বলে ‘না’। তাহাকে এরূপ বলা চলে : ‘হে পুরুষ, তুমি যাহাকে জান নাই, দেখ নাই তাহাকে তুমি ইচ্ছা ও কামনা করিতেছ?’ এরূপ জিজ্ঞাসিত হইয়া ‘হ্যাঁ’ বলে। উদায়ি, তাহাকে কি বলিবে? এরূপ হইলে তাহার ভাষণ নিরর্থক প্রমাণিত হইবে, নহে কি?”
“অবশ্যই ভন্তে, তাহা হইলে তাহার বাক্য নিরর্থক হইবে।”
“এই প্রকার উদায়ি, যে বর্ণ অপেক্ষা প্রণীততর বর্ণ নাই, ‘উহাই পরম বর্ণ’ বলিতেছ, কিন্তু ওই বর্ণকে প্রতিপাদিত করিতে পারিতেছ না।”
“যেমন ভন্তে, শুভ, উত্তম জাতীয়, অষ্টাংশ, মসৃণকৃত বৈদূর্যমণি (হীরা), পাণ্ডু (রক্ত) কম্বলে রাখিলে উজ্বল দেখায়, দীপ্তিময় ও বিরোচিত হয়; মৃত্যুর পর আত্মা এরূপ বর্ণসম্পন্ন ও অরোগ (অবিনাশী) হইয়া থাকে।”
২৭৩. “তাহা কী মনে করো উদায়ি, শুভ্র… বৈদূর্যমণি আর রাত্রির ঘনান্ধকারে কীট-খদ্যোত প্রাণী, ইহাদের উভয় বর্ণের মধ্যে কোনো বর্ণ উজ্জ্বলতর ও উত্তমতর?”
“ভন্তে, রাত্রির ঘনান্ধকারে যে জোনাকীপোকা, ইহাই উভয়ের মধ্যে অধিক উজ্জ্বলতর… হয়।”
“তাহা কী মনে করো উদায়ি, রাত্রির ঘনান্ধকারে যে জোনাকীপোকা আর রাত্রির ঘনান্ধকারে তৈলপ্রদীপ, এই উভয় বর্ণের মধ্যে কোনটা উজ্জ্বলতর ও উত্তমতর?”
“ভন্তে, সেই রাত্রির ঘনান্ধকারে তৈলপ্রদীপই…।”
‘‘তাহা কী মনে করো উদায়ি, রাত্রির অন্ধকারে তৈলপ্রদীপ আর রাত্রির অন্ধকারে বৃহৎ অগ্নিস্কন্ধ, উভয়ের মধ্যে কোনোটা অধিকতর উজ্বল?”
“ভন্তে,… অগ্নিস্কন্ধ…।”
“উদায়ি, অন্ধকার রাত্রে অগ্নিস্কন্ধ ও রাত্রি প্রত্যুষে মেঘহীন স্বচ্ছ আকাশে ঔষধিতারা (শুকতারা), এই উভয় বর্ণের মধ্যে কোনটা উজ্বলতর?”
“ভন্তে, সেই ঔষধিতারা… !”
“উদায়ি,… সেই ঔষধিতারা… ও মেঘরহিত স্বচ্ছ আকাশে অর্ধরাত্রি সময়ে পঞ্চদশীর পূর্ণচন্দ্র, এই উভয়ের মধ্যে কাহার বর্ণ উজ্বলতর?”
“ভন্তে, সেই পঞ্চদশীর পূর্ণচন্দ্রের…।”
“উদায়ি, এই যে পূর্ণচন্দ্র ও বর্ষার অন্তিম মাসে শারদ সময়ে মেঘরহিত স্বচ্ছ আকাশে মধ্যাহ্ন বেলার সূর্য, এই উভয়ের মধ্যে কে উজ্বলতর?”
“ভন্তে, মধ্যাহ্ন সূর্য…।”
“উদায়ি, ইহাদের অপেক্ষা বহু হইতে বহুতর দেবতাদিগকে আমি জানি যাহারা এই চন্দ্র-সূর্যের আভা ব্যবহার করে না (স্বীয় জ্যোতিতে জ্যোতির্ময় হইয়া বিহার করেন)। তথাপি আমি বলি না যে, ‘সেই বর্ণ অপেক্ষা অন্য বর্ণ উত্তরিতর ও উত্তমতর আর নাই।’ অথচ উদায়ি, তুমি যে বর্ণ কীট-জোনাকিপোকা অপেক্ষাও হীনতর ও নিকৃষ্টতর, তাহা ‘পরম বর্ণ’, বলিতেছ, সেই বর্ণের প্রমাণ করিতেছ না।”
“ভগবান কথা ছেদন করিলেন। সুগত কথা খণ্ডন করিলেন।”
“উদায়ি, কী কারণে তুমি বলিতেছ, ভগবান কথা ছেদন করিলেন…।”
“ভন্তে, আমাদের স্বীয় আচার্যমতে এরূপ আহো পরম বর্ণ, ইহা পরম বর্ণ।’ ভন্তে, ভগবান কর্তৃক আমাদের নিজস্ব আচার্যমত অনুসন্ধিত হইলে, জিজ্ঞাসিত হইলে, সমনুভাসিত (সমন্বয় সাধিত) হইলে উহা রিক্ত, তুচ্ছ, অপরাদ্ধ (অসিদ্ধ) প্রমাণিত হয়।”
২৭৪.“কেমন উদায়ি, একান্ত সুখলোক আছে কি? একান্ত সুখময় লোকের সাক্ষাৎকারের নিমিত্ত স্বরূপত (আকারবতী) কোনো প্রতিপদা আছে কি?”
“ভন্তে, আপনাদের স্বীয় আচার্যমতে এরূপ আছে : ‘একান্ত সুখলোক আছে, আর একান্ত সুখলোকের সাক্ষাৎকারের নিমিত্ত আকারবতী প্রতিপদাও আছে।’”
“উদায়ি,… সেই আকারবতী প্রতিপদা কী প্রকার?”
“ভন্তে, এখানে কেহ প্রাণিহত্যা ত্যাগ করিয়া প্রাণিহিংসা-বিরত হয়। অদত্তাদান ত্যাগ করিয়া অদত্তাদান-বিরত হয়।… কামমিথ্যাচার-বিরত হয়।… মিথ্যাবাদ-বিরত হয়। কোনো এক তপোগুণ (নেশাপান-বিরতি) গ্রহণ করিয়া আচরণ করে। ভন্তে, ইহাই আকারবতী প্রতিপদা…।”
“তাহা কী মনে করো উদায়ি, যে সময় প্রাণাতিপাত-বিরত হয়, কেমন সে সময় আত্মা একান্ত সুখী হয়, অথবা সুখ-দুঃখী?”
“সুখ-দুঃখী, ভন্তে,”
“তাহা কী মনে করো উদয়ি, যে সময় অদত্তাদান, কামমিথ্যাচার, মিথ্যাবাদ-বিরত ও কোনো এক তপোগুণযুক্ত হয়; তখন আত্মা একান্ত সুখী হয় বা সুখ-দুঃখী হয়?”
“সুখ-দুঃখী, ভন্তে,”
“উদায়ি, তাহা কী মনে করো, কেমন সুখ-দুঃখ মিশ্রিত প্রতিপদা অবলম্বন করিয়া একান্ত সুখ লোকের সাক্ষাৎকার হয় কি?”
“ভগবান বাদ ছেদন করিয়াছেন, সুগত মতবাদ খণ্ডন করিয়াছেন।”
“উদায়ি, কেন তুমি ওইরূপ বলিতেছ? ‘ভগবান বাদ-ছেদন করিয়াছেন…।”
“ভন্তে, আমাদের স্বীয় আচার্যমতে এরূপ আছে : ‘একান্ত সুখলোক আছে, উহার সাক্ষাৎকারের নিমিত্ত একান্ত সুখপ্রতিপদাও আছে। কিন্তু ভন্তে, ভগবানের… অনুসন্ধানে, জিজ্ঞাসায় ও সামঞ্জস্য বিধানে তাহা তুচ্ছ… প্রতিপন্ন হইল।”
২৭৫. “ভন্তে, একান্ত সুখলোক আছে কি? উহা সাক্ষাৎকারের আকারবতী প্রতিপদা আছে কি?”
“আছে, উদায়ি, একান্ত সুখলোক, আছে একান্ত সুখলোক সাক্ষাৎকারের নিমিত্ত আকারবতী প্রতিপদা।”
“ভন্তে, একান্ত সুখলোকের সাক্ষাৎকারের নিমিত্ত আকারবতী প্রতিপদা কোন প্রকার?”
“এখানে উদায়ি, ভিক্ষু… প্রথম ধ্যান, দ্বিতীয় ধ্যান, তৃতীয় ধ্যান প্রাপ্ত হইয়া বিহার করেন। ইহাই উদায়ি, আকারবতী প্রতিপদা…।”
“ভন্তে, একান্ত সুখলোকের সাক্ষাৎকারের নিমিত্ত উহাই আকারবতী প্রতিপদা এবং উহাতেই ভন্তে, একান্ত সুখলোকের সাক্ষাৎকার হইয়া থাকে কি?”
“উদায়ি, উহাতেই একান্ত সুখলোকের সাক্ষাৎকার হয় না। উহাতে একান্ত সুখলোক সাক্ষাৎকারের আকারবতী প্রতিপদা (উপায়) মাত্র।”
এরূপ আলোচনার পর সকুলুদায়ি পরিব্রাজকের পরিষদ উন্মাদিনী উচ্চশব্দ, মহাশব্দ করিতে লাগিল, ‘এখানে আচার্যমতসহ আমরা নষ্ট হইলাম, এক্ষেত্রে আচার্যমতসহ আমরা প্রনষ্ট হইলাম। ইহা অপেক্ষা অধিকতর উত্তরিতর আমরা জানি না।’ অতঃপর সকুল-উদায়ি পরিব্রাজক সেই পরিব্রাজকদিগকে নীরব করিয়া ভগবানকে ইহা বলিলেন, ‘ভন্তে, কী প্রকারে একান্ত সুখলোক সাক্ষাৎকার হয়?”
“এখানে উদায়ি, ভিক্ষু সুখেরও প্রহান-হেতু… চতুর্থ ধ্যান প্রাপ্ত হইয়া বিহার করে। (তখন) যে-সকল দেবতা একান্ত সুখলোকে উৎপন্ন হয়, সেই দেবতাদের সহিত স্থিত হয়, আলাপ করে, আলোচনায় যোগদান করে। ইহাতেই উদায়ি, উহার একান্ত সুখলোক সাক্ষাৎকৃত (প্রত্যক্ষ) হইয়া থাকে।”
২৭৬. “ভন্তে, এই একান্ত সুখলোকের সাক্ষাৎকার-হেতু ভিক্ষুগণ ভগবৎ সমীপে ব্রহ্মচর্য আচরণ করেন কি?”
“উদায়ি, ইহার নিমিত্ত ভিক্ষুগণ আমার সমীপে ব্রহ্মচর্য পালন করে না। উদায়ি, (ইহা হইতে) অপর প্রণীততর, উত্তরিতর ধর্ম বিদ্যমান, যাহাদের সাক্ষাৎকারের জন্য ভিক্ষুগণ আমার নিকট ব্রহ্মচর্য পালন করে।”
“ভন্তে, সেই উত্তরিতর ধর্ম কী প্রকার… ?”
“এখানে উদায়ি, লোকে তথাগত উৎপন্ন হন,… বুদ্ধ, ভগবান…। তিনি চিত্তের (সমাধির) উপক্লেশ, প্রজ্ঞার দুর্বলকারী এই পঞ্চ নীবরণ বিষ্কম্ভণ প্রহান করিয়া কাম হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়াই… প্রথম ধ্যান লাভ করিয়া বিহার করেন। উদায়ি, ইহাই উত্তরিতর… ধর্ম…। দ্বিতীয় ধ্যান…। তৃতীয় ধ্যান…। চতুর্থ ধ্যান লাভ করিয়া বিহার করেন। উদায়ি, ইহাও উত্তরিতর, প্রণীততর ধর্ম যাহার সাক্ষাৎকারের নিমিত্ত ভিক্ষুগণ আমার নিকট ব্রহ্মচর্য আচরণ করে। তিনি এরূপ সমাহিত চিত্তে… অনেক প্রকার পূর্বনিবাস অনুস্মরণ করেন…। চ্যুত ও উৎপন্ন হইবার সময় প্রাণীগণকে জানিতে পারেন…। দুঃখ নিরোধগামিনী প্রতিপদা, আসব নিরোধগামিনী প্রতিপদাকে যথার্থভাবে জানিতে পারেন। এইরূপ জানিয়া, এইরূপ দেখিয়া কামাসব, ভবাসব, অবিদ্যাসব হইতে তাহার চিত্ত বিমুক্ত হয়, বিমুক্তিতে ‘বিমুক্ত’ এই জ্ঞানোদয় হয়; জন্ম ক্ষয়, পরিপূর্ণ ব্রহ্মচর্যবাস, করণীয় কৃত, এই কামলোকে দেহ ধারণের আর কর্তব্য নাই, ইহা জানিতে পারেন। উদায়ি, ইহাই উত্তরিতর প্রণীততর ধর্ম যাহার জন্য ভিক্ষুগণ আমার নিকট ব্রহ্মচর্য পালন করিয়া থাকে।”
২৭৭. এইরূপ উক্ত হইলে সকুল-উদায়ি পরিব্রাজক ভগবানকে ইহা বলিলেন, “অতি আশ্চর্য ভন্তে,…। ভন্তে, আমি ভগবৎ সমীপে প্রব্রজ্যা ও উপসম্পদা লাভ করিতে চাই।”
ইহা উক্ত হইলে সকুলুদায়ির পরিব্রাজক পরিষদ তাঁহাকে বলিলেন, “উদায়ি, আপনি ভগবান গৌতম সমীপে ব্রহ্মচর্য পালন করিবেন না। উদায়ি, আপনি উদক-মণিকের দ্রোণি (মগ) হওয়ার ন্যায় আচার্য হইয়া অন্তেবাসীরূপে বাস করিবেন না। এই প্রকারে সকুল-উদায়ির পরিষদ ভগবৎ সমীপে তাঁহার ব্রহ্মচর্য বাসের অন্তরায় করিলেন।
চূল সকুল-উদায়ি সূত্র সমাপ্ত।
ব্যাখ্যা [৪]
English
Việt Ngữ