(ভোগের দুষ্পরিণাম, বুদ্ধের প্রজ্ঞা)
৩৬৪. আমি এইরূপ শুনিয়াছি। এক সময় ভগবান শাক্যদেশে মেদালুপ নামক শাক্যদের নিগমে বাস করিতেছিলেন। সেই সময় রাজা পসেনদি কোশল কোনো কার্যোপলক্ষে নগরে উপনীত হইয়াছিলেন। তখন রাজা পসেনদি কোশল দীর্ঘকারায়ণকে আহ্বান করিলেন, “সৌম্য কারায়ণ, উত্তম যানসমূহ সাজাও, সুভূমি দর্শনার্থ আমি উদ্যান ভ্রমণে যাইব।”
“হ্যাঁ, দেব,… ।” দেব, সুন্দর সুন্দর যান সজ্জিত হইয়াছে, এখন যাহা সময় মনে করেন।”
তখন রাজা পসেনদি কোশল… উত্তম যানে আরোহণ করিয়া ভদ্র ভদ্র যান সহ মহা রাজমহিমায় নগর হইতে বাহির হইলেন এবং যেদিকে আরাম ছিল, সেদিকে যাত্রা করিলেন। যতদূর যানের ভূমি ছিল, ততদূর যানে গিয়া, যান হইতে অবতরণ করিয়া পদব্রজেই আরামে প্রবেশ করিলেন। রাজা পসেনদি চঙ্ক্রমণ ও বিচরণ করিতে করিতে আরামে শব্দ-রহিত, ঘোষ-রহিত, জন-বাত-বিরল, মানুষের গুপ্ত-মন্ত্রণার যোগ্য, সাধনানুকূল, প্রসাদজনক, মনোহর বৃক্ষমূলসমূহ দেখিতে পাইলেন। রাজার ইহা দর্শনে ভগবানেরই স্মৃতি জাগ্রত হইল :
“এই সমস্ত এমন… মনোহর বৃক্ষমূল, যাহাতে আমরা ভগবান… সম্যকসম্বুদ্ধের সেবার উপনীত হইয়াছি।”
৩৬৫. তখন রাজা দীর্ঘকারায়ণকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “সৌম্য কারায়ণ, এখানে… মনোহর বৃক্ষমূল আছে, যাহাতে আমরা… উপনীত হইয়াছি। সৌম্য কারায়ণ, এই সময় সেই ভগবান… কোথায় অবস্থান করেন?”
“মহারাজ, শাক্যগণের মেদালুপ নামক নিগম আছে, সেই ভগবান… তথায় বিহার করিতেছেন।”
“সৌম্য কারায়ণ, নগর হইতে কতদূরে শাক্যদের সেই মেদালুপ নিগম?”
“মহারাজ, বেশি দূরে নহে, মাত্র তিন যোজন; দিনের অবশিষ্ট সময়ে তথায় পৌঁছা সম্ভব।”
“তাহা হইলে, সৌম্য কারায়ণ, ভদ্র যানগুলি সজ্জিত করো, ভগবানের দর্শনার্থ আমরা তথায় যাইব।”
“হ্যাঁ, মহারাজ,…।”
“… তখন রাজা পসেনদি উত্তম যানে আরোহণ করিয়া, নগর হইতে বাহির হইলেন এবং… সেই দিনের অবশিষ্ট সময়ে শাক্যদের নিগম মেদালুপে পৌঁছিলেন। যেখানে আরাম, সেখানে গেলেন। যতদূর যানের ভূমি ততদূর যানে গিয়ে, যান হইতে অবতরণপূর্বক (নিগমের বাহিরে স্কন্ধাবার সন্নিবেশ করিয়া কারায়ণসহ) পদব্রজেই আরামে প্রবেশ করিলেন।”
৩৬৬. সেই সময় কতিপয় ভিক্ষু উন্মুক্ত স্থানে চঙ্ক্রমণ করিতেছিলেন…। রাজা পসেনদি কোশল সেই ভিক্ষুদিগকে বলিলেন, “ভন্তে, এখন ভগবান… কোথায় অবস্থান করেন? আমরা তাঁহাকে দর্শন করিতে ইচ্ছুক।”
“মহারাজ, এই রুদ্ধদ্বার (গন্ধকুটি) বিহার। নিঃশব্দে তথায় উপনীত হইয়া, ধীরে সম্মুখে অলিন্দে (বারান্দায়) প্রবেশপূর্বক কাশিয়া (নখাগ্রে) কবাটে মৃদু আঘাত করুন। ভগবান আপনার জন্য দ্বার খুলিবেন।”
তখন রাজা পসেনদি কোশল অসি ও উষ্ণীষ সেই স্থানেই দীর্ঘকারায়ণকে প্রদান করিলেন। তখন দীর্ঘকারায়ণ চিন্তা করিল, “রাজা এখন গুপ্তপরামর্শ করিতেছেন, সুতরাং আমাকে এখানেই থাকিতে হইবে।”
তখন রাজা… যেখানে রুদ্ধদ্বার বিহার ছিল, সেখানে… নিঃশব্দে উপনীত হইয়া… কবাটে… আঘাত করিলেন। ভগবান দ্বার খুলিয়া দিলেন। রাজা বিহারে প্রবেশ করিলেন, ভগবানের পাদপদ্মে মাথা রাখিয়া, ভগবানের পদযুগল মুখে চুম্বন ও হস্তদ্বয়ে সংবাহন করিতে করিতে স্বীয় নাম প্রকাশ করিলেন, “ভন্তে, আমি রাজা পসেনদি কোশল। ভন্তে, আমি রাজা পসেনদি কোশল।”
৩৬৭. “মহারাজ, কোন উদ্দেশ্যে প্রণোদিত হইয়া আপনি এই (জীর্ণ) শরীরে এমন পরম গৌরব করিতেছেন, মিত্র-উপহার (সম্মান) প্রদর্শন করিতেছেন?”
“ভন্তে, ভগবানের প্রতি আমার ধর্মান্বয় (প্রত্যক্ষ জ্ঞান) আছে, ‘ভগবান সম্যকসম্বুদ্ধ হন, ভগবান কর্তৃক ধর্ম সুব্যাখ্যাত, ভগবানের শ্রাবকসংঘ সত্যমার্গে প্রতিপন্ন।’ ভন্তে, এখানে আমি কোনো কোনো শ্রমণ-ব্রাহ্মণকে দশ, বিশ, ত্রিশ ও চল্লিশ বর্ষ পর্যন্ত গত (কালসীমা নির্দিষ্ট) ব্রহ্মচর্য পালন করিতে দেখিয়া থাকি। অন্য সময়ে তাঁহারা সুস্নাত, সু-বিলেপিত, কর্তিত-কেশদাম, মুণ্ডিতশ্মশ্রু পঞ্চ কামগুণ দ্বারা সমর্পিত অধিকৃত (সমঙ্গীভূত) হইয়া পরিচর্যা করেন। কিন্তু ভন্তে, এখানে আমি ভিক্ষুদিগকে যাবজ্জীবন, আপ্রাণকোটিক, পরিপূর্ণ, পরিশুদ্ধ ব্রহ্মচর্য পালন করিতে দেখিতে পাই। ইহার বাহিরে অন্যত্র কোথাও এমন পরিপূর্ণ পরিশুদ্ধ ব্রহ্মচর্য আর আমি দেখি নাই। ভন্তে, ভগবানের প্রতি ইহাও আমার ধর্মান্বয় হল, ‘ভগবান সম্যকসম্বুদ্ধ হন, ভগবান কর্তৃক ধর্ম সুব্যাখ্যাত, ভগবানের শ্রাবকসংঘ সুপ্রতিপন্ন।’”
৩৬৮. পুনরায়, ভন্তে, রাজারাও রাজাদের সাথে বিবাদ করেন, ক্ষত্রিয়েরাও ক্ষত্রিয়দের সাথে বিবাদ করেন, ব্রাহ্মণেরাও ব্রাহ্মণদের সাথে বিবাদ করেন, গৃহপতিরাও গৃহপতিদের সাথে বিবাদ করে, মাতাও পুত্রের সাথে…, পুত্র মাতার সাথে…, পিতা পুত্রের সাথে…, পুত্র পিতার সাথে…; ভাইও ভাইয়ের সাথে…, ভগ্নীও ভাইয়ের সাথে…, মিত্রও মিত্রের সাথে বিবাদ করে। কিন্তু ভন্তে, এখানে আমি ভিক্ষুদিগকে দেখিতে পাই, ‘সমগ্র, সংমোদমান (পরস্পরে মোদিত), বিবাদ-রহিত ক্ষীরোদকীভূত হইয়া একে অন্যকে প্রিয়চক্ষে দর্শন করিয়া বিহার করিতেছেন।’ ভন্তে, আমি এই ধর্ম হইতে অন্যত্র (কোথাও) এই প্রকার সমগ্র, সংহত-পরিষদ আর দেখি নাই। ইহাও ভন্তে, ভগবানের প্রতি আমার ধর্মান্বয়, ‘ভগবান সম্যকসম্বুদ্ধ হন, ভগবান কর্তৃক ধর্ম সুব্যাখ্যাত, ভগবানের শ্রাবকসংঘ সুপ্রতিপন্ন।’”
৩৬৯. পুনশ্চ, ভন্তে, আমি আরাম হইতে আরামে, উদ্যান হইতে উদ্যানে পায়চারী করি, পরিভ্রমণ করি; তথায় আমি দেখিতে পাই, কোনো কোনো শ্রমণ-ব্রাহ্মণ কৃশ, রুক্ষ, দুবর্ণ উপরে পাণ্ডু-পাণ্ডু বর্ণজাত, ধমনী-সন্তৃত গাত্র। বোধ হয় জন-দর্শনার্থ তাঁহারা আর চক্ষু বন্ধ করেন না। তখন ভন্তে, আমার এই মনে হয়, ‘নিশ্চয় এই আয়ুষ্মানগণ অনভিরত হইয়া ব্রহ্মচর্য পালন করিতেছেন, কিংবা তাঁহারা গোপনে কোনো পাপকর্ম করিয়াছেন; যাহার দরুন এই আয়ুষ্মানগণ কৃশ… ধমনী-সন্তৃত গাত্র হইয়াছেন।’ আমি তাঁহাদের নিকট গিয়া এ প্রকার জিজ্ঞাসা করি, ‘আয়ুষ্মানগণ, কেন আপনারা কৃশ… ?’ তাহারা আমাকে বলেন, ‘আমাদের বন্ধুক (বংশগত) রোগ আছে, মহারাজ,’ কিন্তু ভন্তে, আমি এখানে ভিক্ষুদিগকে দেখিতে পাই : হৃষ্ট-প্রহৃষ্ট, উদগ্র-উদগ্র, অভিরত-রূপ, প্রসন্নেন্দ্রিয়, ঔৎসুক্য-রহিত, রোমাঞ্চ-রহিত, পরদ-বৃত্তি, মৃগ-ভূত চিত্ত হইয়া বিহার করিতেছেন। ইহাও ভন্তে,…।”
৩৭০. “পুনশ্চ, ভন্তে, আমি মূর্ধাভিষিক্ত ক্ষত্রিয় রাজা হই, প্রাণদণ্ডের যোগ্যকে প্রাণদণ্ড বিধান করিতে পারি, অর্থদণ্ডের যোগ্যকে জরিমানা করিতে পারি, নির্বাসন যোগ্যকে নির্বাসন বিধান করতে পারি। এতদ্সত্ত্বেও, ভন্তে, আমার বিচারালয়ে উপবিষ্ট থাকা অবস্থায় (লোকে) মধ্যে মধ্যে কথা বলে। ‘বিচারালয়ে উপবিষ্ট মহাশয়গণ, আমার মধ্যে মধ্যে কথা বলিবেন না,’ কিন্তু (তাহাদিগকে) আমি নিরস্ত, করিতে পারি না। ‘আমার কথা সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত আপনারা অপেক্ষা করুন।’ তথাপি তাহারা আমার কথায় মাঝে মাঝে কথা বলিয়া থাকে। কিন্তু, ভন্তে, এখানে আমি ভিক্ষুদিগকে লক্ষ করিলাম : যেই সময় ভগবান অনেক শত পরিষদে ধর্মোপদেশ করেন; সেই সময় ভগবানের শ্রাবকদের মধ্যে হাঁচির শব্দ কিংবা কাশির শব্দ পর্যন্ত হয় না। ভন্তে, এক সময় ভগবান অনেক শত পরিষদে ধর্মোপদেশ করিতেছিলেন; সেই সময় ভগবানের এক শ্রাবক (শিষ্য) কাঁশিলেন, অন্যতর সব্রহ্মচারী জানু দ্বারা তাঁহাকে নাড়া (ঘট্টন) দিলেন, ‘আয়ুষ্মান, নিঃশব্দ হউন, আয়ুষ্মান, শব্দ করিবেন না; শাস্তা আমাদিগকে ধর্মোপদেশ করিতেছেন।’ তখন ভন্তে, আমার এই চিন্তা হইল : ‘ওহে, একান্তই আশ্চর্য, ওহে একান্তই অদ্ভুত, ওহে, নিতান্তই বিনাদণ্ডে, বিনা অস্ত্রে পরিষদ এই প্রকারে সুবিনীত হইল!’ ইহার বাহিরে, ভন্তে, এই রূপ সুবিনীত পরিষদ আর আমি দেখি নাই, ইহাও ভন্তে,…।”
৩৭১. “পুনশ্চ, ভন্তে, দক্ষ-পরপ্রবাদ (প্রৌঢ় শাস্ত্রার্থীর) বাল-বেধী (চুলচেরা) রূপে নিপুণ কোনো কোনো ক্ষত্রিয় পণ্ডিতকে আমি দেখিতে পাই, তাঁহারা স্বীয় প্রজ্ঞা দ্বারা (যুক্তিবলে) পরের ভ্রান্ত, মতবাদকে ছেদন-বেধন করিয়া বিচরণ করেন। তাঁহারা শুনেন যে মাননীয় শ্রমণ গৌতম অমুক গ্রামে বা নিগমে আসিবেন। তাঁহারা প্রশ্ন সংকলন করিতে থাকেন, ‘আমরা শ্রমণ গৌতম সমীপে উপনীত হইয়া এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিব, এইরূপে জিজ্ঞাসিত আমাদের প্রশ্নের যদি এরূপ উত্তর দেন তবে আমরা তাঁহাকে এরূপ বাদারোপ (দোষারোপ) করিব।’ তাঁহারা শুনিয়া থাকেন, ‘শ্রমণ ভগবৎ গৌতম অমুক গ্রামে বা নিগমে আসিয়াছেন, তাঁহারা ভগবানের সমীপে উপস্থিত হন। ভগবান তাঁহাদিগকে ধর্ম-সম্বন্ধীয় কথা দ্বারা সংদর্শিত করেন, অনুপ্রাণিত করেন, সমুত্তেজিত করেন, সম্প্রহর্ষিত করেন। তাঁহারা ভগবানের ধর্মোপদেশ সংদর্শিত, অনুপ্রাণিত, সমুত্তেজিত ও সম্প্রহর্ষিত হইয়া ভগবানকে আর প্রশ্ন করিতে পারেন না, কোথায় বাদারোপ করিবেন? অধিকন্তু তাঁহারা ভগবানের শিষ্যত্বই স্বীকার করেন। ইহাও ভন্তে,…।”
(ব্রাহ্মণপণ্ডিত, গৃহপতিপণ্ডিত সম্বন্ধেও এইরূপ।)
৩৭২. “… শ্রমণপণ্ডিত…।… ভগবানকে প্রশ্নও জিজ্ঞাসা করেন না, কীরূপে বাদারোপ করিবেন? অধিকন্তু ভগবৎ সমীপেই অবসর প্রার্থনা করেন-আগার হইতে অনাগারিক প্রব্রজ্যার জন্য। ভগবান তাঁহাদিগকে প্রব্রজিত করেন, তাঁহারা এই প্রকারে প্রব্রজিত হইয়া-একাকী, বিবেক-যুক্ত, অপ্রমত্ত, বীর্যবান, সাধনায় আত্মনিয়োগ করিয়া অচিরেই যার জন্য কুলপুত্রগণ সম্যকরূপেই আগার হইতে অনাগারিকরূপে প্রব্রজিত হন, সেই অনুত্তর, ব্রহ্মচর্যের চরম লক্ষ্য (অর্হত্ত্ব) ইহজীবনেই স্বয়ং অভিজ্ঞা দ্বারা সাক্ষাৎকার করিয়া, উপলব্ধি করিয়া বিহার করেন। তখন তাঁহারা বলেন, ‘ওহে, আমরা নিশ্চয় নষ্ট হইতেছিলাম, নিশ্চয় আমরা প্রনষ্ট হইতেছিলাম। আমরাই পূর্বে অশ্রমণ অবস্থায় শ্রমণ বলিয়া প্রকাশ করিয়াছি, অব্রাহ্মণ অবস্থায় ব্রাহ্মণত্বের দাবি করিয়াছি, অর্হৎ না হইয়াই অর্হত্ত্বের অঙ্গীকার করিয়াছি। এখনই আমরা প্রকৃত শ্রমণ, এখনই আমরা ব্রাহ্মণ আর এখনই আমরা অর্হৎ হইয়াছি।’ ইহাও, ভন্তে,…।”
৩৭৩. “পুনশ্চ, ভন্তে, এই যে ঋষিদত্ত ও পুরাণ স্থপতিদ্বয় আমার ভাতে ভাতী, আমার যানে যানী। আমিই তাহাদের জীবিকার প্রদাতা, সৌভাগ্যের অনুষ্ঠাতা; অথচ (তাহারা) আমার প্রতি তেমন সম্মান করে না, যেমন করে ভগবানের প্রতি। পূর্বে একবার ভন্তে, অভিযানে সেনা পরিচালনার সময় এই ঋষিদত্ত ও পুরাণ স্থপতিদেরই অন্বেষিত এক অপ্রশস্থ আবাসথে (ধর্মশালায়) রাত্রিবাস করিয়াছিলাম। তখন ভন্তে, এই ঋষিদত্ত ও পুরাণ স্থপতিদ্বয় বহুরাত্রি পর্যন্ত ধর্মালোচনায় অতিবাহিত করিয়া যে দিকে ভগবান আছেন (শুনিল), সেই দিকে শির স্থাপন করিয়া আমাকে পায়ের দিকে রাখিয়া তাহারা শয়ন করিল। তখন ভন্তে, আমার এই মনে হইল : ‘অহো, বড়ই আশ্চর্য, অহো, বড়ই অদ্ভুত, এই ঋষিদত্ত ও পুরাণ স্থপতিগণ আমার ভাতে, আমার যানে মানুষ, আমি তাহাদের জীবিকার দাতা, যশের অনুষ্ঠাতা। অথচ আমার প্রতি তেমন সম্মান প্রদর্শন করে না, যেমন করে ভগবানের প্রতি। এই সকল আয়ুষ্মানেরা সেই ভগবানের শাসনে পূর্বাপর কোনো মহিমান্বিত বিশেষত্ব (লোকোত্তর ফল) অবশ্যই জানিয়া থাকিবেন।’ ইহাও ভন্তে,…।”
৩৭৪. “পুনশ্চ, ভন্তে, ভগবানও ক্ষত্রিয় হন, আমিও ক্ষত্রিয় হই, ভগবানও কোশলবাসী, আমিও কোশলবাসী, ভগবান অশীতি বর্ষীয়, আমিও অশীতি বর্ষীয়, এই কারণেও ভন্তে, আমি ভগবানের পরম সম্মান ও মিত্র-উপহার প্রদর্শন করিবার যোগ্য পাত্র হই। বেশ, ভন্তে, এখন আমরা যাই, আমাদের বহুকৃত্য, বহু করণীয়।”
“মহারাজ, আপনি যাহা সময় মনে করেন, (তাহা করিতে পারেন)।” তখন রাজা পসেনদি কোশল আসন হইতে উঠিয়া ভগবানকে অভিবাদন ও প্রদক্ষিণ করিয়া প্রস্থান করিলেন।
রাজা চলিয়া যাইবার অচিরকাল পরে ভগবান ভিক্ষুদিগকে আহ্বান করিলেন, “ভিক্ষুগণ, এই রাজা পসেনদি কোশল ধর্ম-ছিত্রকর বাণী (ধর্ম প্রশংসক বাক্যাবলি) ভাষণ করিয়া আসন হইতে উঠিয়া চলিয়া গেলেন। ভিক্ষুগণ, তোমরা ধর্ম-চিত্রকর বাণী শিক্ষা করো, ধর্ম-চিত্রকর বাণী অধ্যয়ন করো, ধর্ম-চিত্রকর বাণী ধারণ করো। ভিক্ষুগণ, ধর্ম-চিত্রকর বাণী অর্থসংযুক্ত ও আদি (মার্গ) ব্রহ্মচর্যের সহায়ক।”
ভগবান ইহা বলিলেন, সেই ভিক্ষুগণ সন্তুষ্ট চিত্তে ভগবানের ভাষণ অভিনন্দন করিলেন।
ধর্মচেতিয় সূত্র সমাপ্ত।
ব্যাখ্যা [৪]
English
Việt Ngữ