স্থান : শ্রাবস্তী
সে সময়ে ভগবান বুদ্ধ শ্রাবস্তীর সন্নিকটে অনাথপিণ্ডিক কর্তৃক নির্মিত জেতবন বিহারে বাস করছিলেন। ঐ সময়ে আয়ুষ্মান উদায়ী “ভগবান কর্তৃক চক্ষে-কর্ণে দেখা যায় না, শুনা যায় না, এমন নির্জন গোপনীয় অথবা অসদ্ধর্ম সেবনের উপযুক্ত স্থানে স্ত্রীলোকের সঙ্গে একসঙ্গে একাসনে উপবেশন না করার জন্য শিক্ষাপদ প্রজ্ঞাপ্ত হয়েছে” এরূপ ভেবে পূর্বের সেই কুমারীর সঙ্গে নির্জন অথচ মৈথুন সেবনের অযোগ্য এমন স্থানে দুজনে বসে সাংসারিক কথাবার্তা বলছিলেন; ধর্মালোচনা করছিলেন। দ্বিতীয়বারও মিগারমাতা বিশাখা উপাসিকা নিমন্ত্রিত হয়ে সেই গৃহে গমন করলে তাদের উভয়কে সেরূপ অবস্থায় বসে থাকতে দেখলেন। দেখে আয়ুষ্মান উদায়ীকে এরূপ বললেন, “ভন্তে, এটি আপনার পক্ষে অননুরূপ, অনুপযুক্ত যে, আর্য নির্জন অথচ মৈথুন সেবনের অযোগ্য এমন স্থানে স্ত্রীলোকের সঙ্গে উপবেশন করা। আপনার পক্ষে এই কার্য করা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। ভন্তে, আপনার ঐ প্রকারের হীনাচরণ মোটেও কল্যাণকর নয়। বরং এ ধরনের আচরণে সদ্ধর্মেরই অকল্যাণ হবে। অধিকন্তু শ্রদ্ধাবান ও প্রসন্নতাসম্পন্ন জনগণ অপ্রসন্ন ও শ্রদ্ধাহীন হয়ে পড়বেন।” মিগার মাতা বিশাখার এই কথায় আয়ুষ্মান উদায়ী কোনোরূপ দৃষ্টি দিলেন না; মনোযোগী হলেন না এবং তা গ্রহণও করলেন না।
অতঃপর মৃগার মাতা বিশাখা সেখান হতে প্রস্থান করে ভিক্ষুদেরকে এ বিষয়ে প্রকাশ করলেন। যে সকল ভিক্ষু অল্পেচ্ছু, সন্তুষ্টিপরায়ণ, লজ্জাশীল, অনুসন্ধিৎসু ও শিক্ষাকামী তাঁরা এটি শুনে এ বলে আন্দোলন, নিন্দা ও প্রকাশ্যে বদনাম করতে লাগলেন, “কেন আয়ুষ্মান উদায়ী স্ত্রীলোকের সঙ্গে নির্জন অথচ মৈথুন সেবনের অযোগ্য স্থানে উপবেশন করবে?” তখন সেই ভিক্ষুগণ আয়ুষ্মান উদায়ীকে অনেক প্রকারে নিন্দা করে ভগবানকে এ ব্যাপারে জ্ঞাত করলেন। ভগবান আয়ুষ্মান উদায়ীকে জিজ্ঞেস করলেন, “সত্যই কি উদায়ী, তুমি নাকী স্ত্রীলোকের সঙ্গে নির্জন অথচ মৈথুন সেবনের অযোগ্য এমন স্থানে উপবেশন করেছ?”
“হ্যাঁ ভগবান, তা সত্য বটে।”
তখন ভগবান এটি অত্যন্ত গর্হিত বলে প্রকাশ করে বললেন, “হে মূর্খ, কীরূপে তুমি স্ত্রীলোকের সঙ্গে নির্জন স্থানে বসতে পারলে? হে মূর্খ, তোমার এ প্রকারের অন্যায় আচরণ অপ্রসন্নদের প্রসন্নতা উৎপাদনে এবং প্রসন্নদের প্রসন্নতা বৃদ্ধির সহায়ক নয়। অধিকন্তু, মোঘপুরুষ, এটি অপ্রসন্নদের অপ্রসন্নতা বৃদ্ধি এবং প্রসন্নদের কারো কারো মনে অন্যথাভাব আনয়নে সহায়ক হবে।”
অতঃপর ভগবান উদায়ীকে বিবিধ প্রকারে তিরস্কার করে চঞ্চলতা, অবিনীতা, মহাতৃষ্ণা, অসন্তুষ্টিতা, সঙ্গপ্রিয়তা এবং অলসতার কুফল বর্ণনা করলেন। তিনি অনেক প্রকারে গাম্ভীর্যতা, সুবিনীতা, অল্পেচ্ছুতা, সন্তুষ্টিতা, সল্লেখ (তৃষ্ণাদির সংযমতা), ধুতাঙ্গব্রত, সংঘ-সেবাপ্রিয়তা, পুনর্জন্মক্ষয়ের জন্য বীর্যারম্ভের (উৎসাহশীলতার) সুফল বর্ণনা করে তদনুযায়ী এবং তদনুরূপ ধর্মদেশনা উত্থাপন করে ভিক্ষুগণকে সম্বোধন করে বললেন, “হে ভিক্ষুগণ, আমি দশবিধ প্রত্যয় ও অর্থবশে ভিক্ষুসংঘের জন্য শিক্ষাপদ প্রজ্ঞাপ্ত করব; যথা : ১. সংঘের সুষ্ঠুতা, ২. সংঘের শান্তিভাব বৃদ্ধির জন্যে, ৩. দুর্দম্য ভিক্ষুগণকে দমনের জন্যে, ৪. সদাচারী (শীলবান) ভিক্ষুদের শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থানের জন্যে, ৫. বর্তমানে উৎপন্ন তৃষ্ণাসমূহ সংবরণের জন্যে, ৬. অনাগত জন্মের আসবসমূহের উৎপত্তিকে প্রতিঘাতের জন্যে, ৭. অপ্রসন্নের প্রসাদ উৎপন্নের জন্যে, ৮. প্রসন্নের প্রসাদ বৃদ্ধির জন্যে, ৯. সদ্ধর্মের স্থিতির জন্যে এবং ১০. বিনয়কে অনুগ্রহের জন্যে যা অত্যন্ত মঙ্গলজনক। সে কারণে হে ভিক্ষুগণ, আমি তোমাদের জন্যে এই শিক্ষাপদ উদ্দেশ করছি :
“যেই স্থান দরজা-জানালা, পর্দা-বেড়া বা দেয়ালাদি প্রাচীর দ্বারা প্রতিচ্ছন্ন (গোপন) নয়, অসদ্ধর্ম (মৈথুন) সেবনের পক্ষে অযোগ্য কিন্তু কোলাহলহীন, নির্জন শুধু স্ত্রীলোকের সঙ্গে কামাস্বাদমূলক বা গুহ্য-প্রস্রাবাদি দ্বার সম্পর্কে কথা বলার অবকাশ থাকে, তেমন নির্জন স্থানে যদি কোনো ভিক্ষু কোনো স্ত্রীলোকের সঙ্গে মৈথুন আস্বাদ-হেতু বসে থাকলে, সেই অবস্থায় কোনো স্রোতাপন্না আর্যশ্রাবিকা উপাসিকা তা দেখে, ‘সংঘাদিশেষ’ ‘পাচিত্তিয়’ এই দ্বিবিধ আপত্তির মধ্যে যেকোনোটির দ্বারা সাক্ষ্য-প্রমাণাদি প্রদান করে, তাহলে সেই আর্যশ্রাবিকা উপাসিকার প্রমাণানুযায়ী সেই ভিক্ষু অপরাধী বলে দোষী সাব্যস্ত হবে। এটিকেও অনিয়ত আপত্তি বলে।
‘নহেব খো পন পটিচ্ছন্নং আসনং হোতীতি’ বলতে দরজা-জানালা, দেয়ালাদি প্রাচীর, তৃণ-নির্মিত মাদুরের বেড়া, গাছের ছাল দ্বারা নির্মিত বেড়া, পর্দা-দেয়াল অথবা বৃক্ষ বা যেকোনো স্তম্ভ ইত্যাদি যা দ্বারা অপ্রতিচ্ছন্ন বা গোপন নয় এমন স্থান বুঝায়।
‘নালং কম্মনিযন্তি’ বলতে অসদ্ধর্ম বা মৈথুন সেবন করতে সক্ষম নয়।
‘অলঞ্চ খো হোতি মাতুগামং দুট্ঠুল্লাহি বাচাহি ওভাসিতুন্তি’ বলতে কেবল স্ত্রীলোককে গুহ্যদ্বার, যোনি দ্বারাদি মৈথুন সম্বন্ধীয় কথাবার্তা বলতে সক্ষম এমন অবকাশকে বুঝায়।
‘যো পনাতি’ অর্থে যা যেরূপ,… অথবা মধ্যম ইত্যাদি ভিক্ষুকে বুঝায়।
‘ভিক্খূতি’ বলতে ভিক্ষান্নজীবী ভিক্ষু,… জ্ঞপ্তি চতুর্থ কর্মবাক্য দ্বারা উপসম্পদাপ্রাপ্ত ভিক্ষুকে বুঝায়। এস্থলে এই অর্থেই ভিক্ষু অভিপ্রেত।
‘তথারূপে আসনেতি’ বলতে তাদৃশ আসনে বা সেরূপ স্থানে।
‘মাতুগামো’ বলতে যক্ষী, প্রেত্নী বা পশু-পক্ষী জাতীয় স্ত্রী নয়; এখানে মনুষ্য জাতীয়া স্ত্রীলোককে বুঝায়। এমনকি সুভাসিত-দুর্ভাসিত, ন্যায়-অন্যায় ও গুহ্য মার্গ, প্রস্রাবমার্গ এবং মৈথুন সেবনবিষয়ক সম্পর্কে ভালো-মন্দ কথা বুঝার বা জ্ঞাত হওয়ার সমর্থ এমন কম বয়সী বালিকাও বুঝায়।
‘সদ্ধিন্তি’ অর্থে একসঙ্গে, একসাথে বুঝায়।
‘একো একাযাতি’ অর্থে একজন ভিক্ষু ও একজন স্ত্রীলোক।
‘রহো’ অর্থে চক্ষুদৃষ্টির অগোচর এবং শ্রুতশক্তির অগোচর অর্থাৎ চক্ষে-কর্নে দেখা-শুনা যায় না, এরূপ বুঝায়। ‘চক্ষুদৃষ্টির অগোচর’ বলতে চক্ষু বা চক্ষুদৃষ্টি দ্বারা দেখতে অক্ষম কিংবা শির উত্তোলন দ্বারাও দেখতে সমর্থ নয় বুঝায়। ‘শ্রুতশক্তির অগোচর’ অর্থে স্বাভাবিকভাবে যে কথাবার্তার শব্দ তা শুনতে অসমর্থ।
‘পটিচ্ছন্নং’ বলতে দেয়াল, দরজা, তৃণনির্মিত মাদুরের বেড়া, পর্দা-দেয়াল, বৃক্ষ, স্তম্ভ কিংবা গাছের বাকল দ্বারা নির্মিত প্রাচীর ইত্যাদি যেকোনো প্রতিচ্ছন্ন বা গোপন এমন স্থানকে বুঝায়।
‘অলংকম্মনিযেতি’ অর্থে মৈথুনধর্ম বা অসদ্ধর্ম সেবন করতে সক্ষম হয়।
‘নিসজ্জং কপ্পেয্যাতি’ বলতে স্ত্রীলোক উপবিষ্টাবস্থায় এবং ভিক্ষু শায়িত বা বসাবস্থায়; ভিক্ষু উপবিষ্টাবস্থায় এবং স্ত্রীলোক শায়িত বা বসাবস্থায় বুঝায়। অথবা ভিক্ষু ও স্ত্রীলোক উভয়ে বসা কিংবা শুয়া অবস্থা।
‘সদ্ধেয্যবচসা’ বলতে প্রবল, প্রগাঢ় শ্রদ্ধাসম্পন্না উপাসিকার বাক্যকে বুঝায়। যিনি স্রোতাপত্তিফলপ্রাপ্ত আর্যশ্রাবিকা; যিনি চতুরার্যসত্য উপলব্ধি করেছেন; এবং বিনয়-সূত্র-অভিধর্ম এই ত্রিবিধ শিক্ষায় শিক্ষিতা বা ত্রিবিধ বিষয় জ্ঞাতা এবং শাসন-হিতৈষিণী উপাসিকার বচনই অভিপ্রেত।
‘উপাসিকা’ বলতে বুদ্ধের শরণ গ্রহণকারিণী, ধর্মের শরণ গ্রহণকারিণী এবং সংঘের শরণ গ্রহণকারিণীকে বুঝায়।
‘দিস্বাতি’ অর্থে আর্যশ্রাবিকা উপাসিকা ভিক্ষু ও স্ত্রীলোককে একাসনে বসে থাকতে দেখে।
‘দ্বিন্নং ধম্মানং অঞ্ঞতরেন বদেয্য’ বলতে কোনো বিশ্বাসিনী আর্যশ্রাবিকা উপাসিকা একজন ভিক্ষুকে একজন স্ত্রীলোকের সঙ্গে একস্থানে বসে থাকতে দেখে, ‘সংঘাদিশেষ’ বা ‘পাচিত্তিয়’ এই আপত্তিদ্বয়ের মধ্যে যেকোনো একটি আপত্তি দেখায়ে সাৰ্যাদি প্রমাণ করে, তাহলে সেই আর্যশ্রাবিকা উপাসিকা বিধানানুযায়ী উক্ত দ্বিবিধ আপত্তির যেকোনো একটি আপত্তি দ্বারা দোষী সাব্যস্ত করে, সেই ভিক্ষুর বিনয়ানুসারে প্রতিকার করা কর্তব্য। এখানে এটিই অভিপ্রেত।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ প্রকাশ করে যে, “আমি উপবিষ্ট অবস্থায় আর্যকে (ভিক্ষুকে) স্ত্রীলোকের সঙ্গে কায়সংস্পর্শে সমর্পিত হতে দেখেছি।” তখন সেই আর্যশ্রাবিকার সাধ্যানুসারে সেই ভিক্ষু অপরাধী সাব্যস্ত হবে।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ প্রকাশ করে যে, “আমি উপবিষ্ট অবস্থায় আর্যকে (ভিক্ষুকে) স্ত্রীলোকের সঙ্গে কায়সংস্পর্শে সমর্পিত হতে দেখেছি।” তখন সেই ভিক্ষু এরূপ বলতে পারে, “সত্যই আমি উপবিষ্ট ছিলাম বটে; কিন্তু আমি কায়সংস্পর্শে রত হই নাই। তখন সেই আর্যশ্রাবিকা প্রমাণানুসারে সত্যতা যাচায়ে যদি সেই ভিক্ষু উপবিষ্ট হয়, তাহলে উপবিষ্ট-হেতু সেই ভিক্ষু ‘পাচিত্তিয়’ আপত্তিতে দোষী সাব্যস্ত হবে।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ প্রকাশ করে যে, “আমি উপবিষ্ট অবস্থায় আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে কায়সংস্পর্শে সমর্পিত হতে দেখেছি।” তখন সেই ভিক্ষু এরূপ বলতে পারে : “না, আমি উপবিষ্ট ছিলাম না; তবে আমি শায়িতাবস্থায় ছিলাম।” তখন সেই আর্যশ্রাবিকার সাক্ষ্য-প্রমাণানুযায়ী সত্যতা যাচায়ে যদি সেই ভিক্ষু শায়িত হয়, তাহলে শায়িত-হেতু সেই ভিক্ষু ‘পাচিত্তিয়’ আপত্তিতে দোষী সাব্যস্ত হবে।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ প্রকাশ করে যে, “আমি উপবিষ্ট অবস্থায় আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে কায়সংস্পর্শে সমর্পিত হতে দেখেছি।” তখন সেই ভিক্ষু এরূপ বলতে পারে : “না, আমি উপবিষ্ট ছিলাম না; তবে আমি দণ্ডায়মান ছিলাম। তখন সেই আর্যশ্রাবিকার সাক্ষ্য-প্রমাণানুযায়ী সত্যতা যাচায়ে যদি উক্ত ভিক্ষু দণ্ডায়মান হয়, তাহলে দণ্ডায়মান-হেতু সেই ভিক্ষু কোনোরূপ অপরাধী হবে না।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ প্রকাশ করে যে, “আমি শায়িত অবস্থায় আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে কায়সংস্পর্শে সমর্পিত হতে দেখেছি।” তখন উক্ত আর্যশ্রাবিকার সাক্ষ্য অনুযায়ী সেই ভিক্ষু অপরাধী বলে গণ্য হবে।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ প্রকাশ করে যে, “আমি শায়িত অবস্থায় আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে কায়সংস্পর্শে সমর্পিত হতে দেখেছি।” তখন সেই ভিক্ষু এরূপ বলতে পারে : “সত্যই আমি শায়িত ছিলাম বটে; তবে কায়সংস্পর্শে সমর্পিত হই নাই।” তখন সেই আর্যশ্রাবিকার প্রমাণানুসারে সত্যতা যাচায়ে যদি সেই ভিক্ষু শায়িত হয়, তাহলে শায়িত-হেতু সেই ভিক্ষু ‘পাচিত্তিয়’ দোষে দোষী বলে গণ্য হবে।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ প্রকাশ করে যে, “আমি শায়িত অবস্থায় আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে কায়সংস্পর্শে সমর্পিত হতে দেখেছি।” তখন সেই ভিক্ষু এরূপ বলতে পারে : “না, আমি শায়িতাবস্থায় ছিলাম না; তবে আমি উপবিষ্টাবস্থায় ছিলাম বটে।” তখন সেই আর্যশ্রাবিকার সাক্ষ্য-প্রমাণানুযায়ী সত্যতা যাচায়ে যদি সেই ভিক্ষু উপবিষ্ট হয়, তাহলে উপবিষ্ট-হেতু সেই ভিক্ষু দোষী বলে সাব্যস্ত হবে।”
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ প্রকাশ করে যে, “আমি শায়িত অবস্থায় আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে কায়সংস্পর্শে সমর্পিত হতে দেখেছি।” তখন সেই ভিক্ষু এরূপ বলতে পারে : “না, আমি শায়িতাবস্থায় ছিলাম না; তবে আমি দণ্ডায়মান অবস্থায় ছিলাম।” তখন সেই আর্যশ্রাবিকার সাক্ষ্য-প্রমাণানুযায়ী সত্যতা যাচায়ে যদি সেই ভিক্ষু দণ্ডায়মান হয়, তাহলে দণ্ডায়মান-হেতু সেই ভিক্ষুর কোনো প্রকার অপরাধ হয় না।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ প্রকাশ করে যে, “আমি উপবিষ্ট অবস্থায় আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে গুহ্য-প্রস্রাবমার্গাদি সম্পর্কীত কথা বলতে শুনেছি।” তখন সেই আর্যশ্রাবিকার সাক্ষ্য অনুযায়ী সেই ভিক্ষু অপরাধী বলে গণ্য হবে।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ প্রকাশ করে যে, “আমি উপবিষ্ট অবস্থায় আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে গুহ্য-প্রস্রাবমার্গাদি সম্পর্কীত কথা বলতে শুনেছি।” তখন সেই ভিক্ষু এরূপ বলতে পারে, “সত্যই আমি উপবিষ্ট ছিলাম বটে; তবে আমি স্ত্রীলোকের সঙ্গে গুহ্য-প্রস্রাবমার্গাদি সম্পর্কীত কোনো প্রকার কথা বলিনি।” তখন সেই আর্যশ্রাবিকার প্রমাণানুয়ায়ী সত্যতা যাচায়ে যদি সেই ভিক্ষু উপবিষ্ট হয়, তাহলে উপবিষ্ট-হেতু সেই ভিক্ষুর ‘পাচিত্তিয়’ আপত্তি হয়।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ প্রকাশ করে যে, “আমি উপবিষ্ট অবস্থায় আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে গুহ্য-প্রস্রাবমার্গাদি সম্পর্কীত কথা বলতে শুনেছি।” তখন সেই ভিক্ষু এরূপ বলতে পারে : “না, আমি উপবিষ্ট ছিলাম না; তবে আমি শায়িতাবস্থায় ছিলাম বটে।” তখন সেই আর্যশ্রাবিকার সাধ্যানুসারে সত্যতা যাচায়ে যদি সেই ভিক্ষু শায়িত হয়, তাহলে শায়িত-হেতু সেই ভিক্ষু ‘পাচিত্তিয়’ দোষে দোষী বলে গণ্য হবে।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ প্রকাশ করে যে, “আমি উপবিষ্ট অবস্থায় আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে গুহ্য-প্রস্রাবমার্গাদি সম্পর্কীত কথা বলতে শুনেছি।” তখন সেই ভিক্ষু এরূপ বলতে পারে : “না, আমি উপবিষ্ট ছিলাম না; তবে আমি দণ্ডায়মান অবস্থায় ছিলাম বটে।” তখন সেই আর্যশ্রাবিকার প্রমাণানুযায়ী সত্যতা যাচায়ে যদি সেই ভিক্ষু দণ্ডায়মান হয়, তাহলে দণ্ডায়মান-হেতু কোনো প্রকার দোষ হবে না।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ প্রকাশ করে যে, “আমি শায়িত অবস্থায় আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে গুহ্য-প্রস্রাবমার্গাদি সম্পর্কীত কথা বলতে শুনেছি।” তখন সেই আর্যশ্রাবিকার প্রমাণানুযায়ী সেই ভিক্ষু অপরাধী বলে সাব্যস্ত হবে।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ প্রকাশ করে যে, “আমি শায়িত অবস্থায় আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে গুহ্য-প্রস্রাবমার্গাদি সম্পর্কীত কথা বলতে শুনেছি।” তখন সেই ভিক্ষু এরূপ বলতে পারে : “সত্যই আমি শায়িত ছিলাম বটে; তবে আমি স্ত্রীলোকের সঙ্গে গুহ্য-প্রস্রাবমার্গাদি সম্পর্কীত কথা বলি নাই। তখন সেই আর্যশ্রাবিকার সাক্ষ্য অনুযায়ী সত্যতা যাচায়ে যদি সেই ভিক্ষু শায়িত হয়, তাহলে শায়িত-হেতু সেই ভিক্ষু ‘পাচিত্তিয়’ আপত্তিতে আপত্তি প্রাপ্ত হবে।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ প্রকাশ করে যে, “আমি শায়িত অবস্থায় আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে গুহ্য-প্রস্রাবমার্গাদি সম্পর্কীত কথা বলতে শুনেছি।” তখন সেই ভিক্ষু এরূপ বলতে পারে : “না, আমি শায়িত ছিলাম না; তবে আমি উপবিষ্ট ছিলাম বটে।” তখন সেই আর্যশ্রাবিকার সাক্ষ্য-প্রমাণানুযায়ী সত্যতা যাচায়ে যদি সেই ভিক্ষু উপবিষ্ট হয়, তাহলে উপবিষ্ট-হেতু সেই ভিক্ষুর ‘পাচিত্তিয়’ আপত্তি হয়।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ প্রকাশ করে যে, “আমি শায়িত অবস্থায় আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে গুহ্য-প্রস্রাবমার্গাদি সম্পর্কীত কথা বলতে শুনেছি।” তখন সেই ভিক্ষু এরূপ বলতে পারে : “না, আমি শায়িত ছিলাম না; তবে আমি দণ্ডায়মান ছিলাম বটে।” তখন সেই আর্যশ্রাবিকার সাক্ষ্য অনুযায়ী সত্যতা যাচায়ে যদি সেই ভিক্ষু দণ্ডায়মান হয়, তাহলে দণ্ডায়মান-হেতু সেই ভিক্ষুর কোনো প্রকার অপরাধ হয় না।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ বলে যে, “আমি আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে কোলাহলবিহীন নির্জন স্থানে উপবিষ্টাবস্থায় দেখেছি।” তখন সেই আর্যশ্রাবিকার সাধ্যানুসারে সত্যতা যাচায়ে যদি সেই ভিক্ষু উপবিষ্ট হয়, তাহলে উপবিষ্ট-হেতু সেই ভিক্ষু ‘পাচিত্তিয়’ আপত্তি প্রাপ্ত হবে।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ বলে যে, “আমি আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে কোলাহলবিহীন নির্জন স্থানে উপবিষ্টাবস্থায় দেখেছি।” তখন সেই ভিক্ষু এরূপ বলতে পারে : “না, আমি উপবিষ্ট ছিলাম না; তবে আমি শায়িত ছিলাম বটে।” তখন সেই আর্যশ্রাবিকার প্রমাণানুসারে সত্যতা যাচায়ে যদি সেই ভিক্ষু শায়িত হয়, তাহলে শায়িত-হেতু সেই ভিক্ষু ‘পাচিত্তিয়’ আপত্তিতে দোষী বলে গণ্য হবে।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ বলে যে, “আমি আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে কোলাহলবিহীন নির্জন স্থানে উপবিষ্টাবস্থায় দেখেছি।” তখন সেই ভিক্ষু এরূপ বলতে পারে : “না, আমি উপবিষ্ট ছিলাম না; তবে আমি দণ্ডায়মান ছিলাম বটে।” তখন সেই আর্যশ্রাবিকার প্রমাণানুযায়ী সত্যতা যাচায়ে যদি সেই ভিক্ষু দণ্ডায়মান হয়, তাহলে দণ্ডায়মান-হেতু সেই ভিক্ষুর কোনো প্রকার আপত্তি হয় না।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ বলে যে, “আমি আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে কোলাহলবিহীন নির্জন স্থানে শায়িতবস্থায় দেখেছি।” তখন সেই আর্যশ্রাবিকার সাক্ষ্য-প্রমাণানুযায়ী সত্যতা যাচায়ে যদি সেই ভিক্ষু শায়িত হয়, তাহলে শায়িত-হেতু সেই ভিক্ষু ‘পাচিত্তিয়’ আপত্তিতে দোষী বলে সাব্যস্ত হবে।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ বলে যে, “আমি আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে কোলাহলবিহীন নির্জন স্থানে শায়িতাবস্থায় দেখেছি।” তখন সেই ভিক্ষু এরূপ বলতে পারে : “না, আমি শায়িত ছিলাম না; আমি উপবিষ্ট ছিলাম বটে।” তখন সেই আর্যশ্রাবিকার সাক্ষ্য-প্রমাণানুযায়ী সত্যতা যাচায়ে যদি সেই ভিক্ষু উপবিষ্ট হয়, তাহলে উপবিষ্ট-হেতু উক্ত ভিক্ষু ‘পাচিত্তিয়’ অপরাধী বলে সাব্যস্ত হবে।
যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা এরূপ বলে যে, “আমি আর্যকে স্ত্রীলোকের সঙ্গে কোলাহলবিহীন নির্জন স্থানে শায়িতাবস্থায় দেখেছি।” তখন সেই ভিক্ষু এরূপ বলতে পারে : “না, আমি শায়িত ছিলাম না; তবে আমি দণ্ডায়মান ছিলাম বটে।” তখন সেই আর্যশ্রাবিকার সাক্ষ্য প্রমাণানুযায়ী সত্যতা যাচায়ে যদি উক্ত ভিক্ষু দণ্ডায়মান হয়, তাহলে দণ্ডায়মান-হেতু সেই ভিক্ষুর কোনোরূপ অপরাধ হয় না।
‘অযম্পীতি’ বলতে পূর্বাপর বর্ণিত বিষয়সমূহকে বুঝায়।
‘অনিয়তোতি’ বলতে ‘সংঘাদিশেষ’ বা ‘পাচিত্তিয়’ এই দ্বিবিধ আপত্তির মধ্যে কোনোটি নির্দিষ্ট নয় বুঝায়।
‘কামাস্বাদজনক কথাবার্তা বলব’ এরূপ ভেবে গমন করলে গিয়ে স্ত্রীলোকের সঙ্গে একাসনে বসে কথা বলার সময়ে যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা দেখে, ‘সংঘাদিশেষ’ ও ‘পাচিত্তিয়’ এই আপত্তিদ্বয়ের মধ্যে তিনি যেটি দ্বারা দোষারোপ করবেন, সেই আপত্তি অনুযায়ী সেই ভিক্ষু দোষী সাব্যস্ত হবে।
‘কামাস্বাদজনক কথাবার্তা বলব’ এরূপ ভেবে গমন করলে গিয়ে স্ত্রীলোকের সঙ্গে একাসনে বসলেও কোনো প্রকার কথা না বলাবস্থায় কোনো আর্যশ্রাবিকা দেখে, ‘সংঘাদিশেষ’ ও ‘পাচিত্তিয়’ এই আপত্তিদ্বয়ের মধ্যে তিনি যেটি দ্বারা দোষারোপ করবেন, সেই আপত্তি অনুযায়ী সেই ভিক্ষু দোষী সাব্যস্ত হবে।
‘কামাস্বাদজনক কথাবার্তা বলব’ এরূপ ভেবে গমন করলে গিয়ে স্ত্রীলোকের সঙ্গে একাসনে বসে কথা বলার সময়ে যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা দেখে, ‘সংঘাদিশেষ’ ও ‘পাচিত্তিয়’ এই আপত্তিদ্বয়ের মধ্যে তিনি কোনোটি দ্বারা দোষারোপ না করলে উপবেশন-হেতু ভিক্ষুর ‘পাচিত্তিয়’ আপত্তি হয়।
‘কামাস্বাদজনক কথাবার্তা বলব’ এরূপ ভেবে গমন করলে গিয়ে স্ত্রীলোকের সঙ্গে একাসনে না বসলে এবং আর্যশ্রাবিকাও যদি দ্বিবিধ আপত্তির মধ্যে কোনোটি দ্বারা দোষারোপ না করলে তাহলে কামাস্বাদজনক কথাবার্তা বলার জন্যে গমনজনিত কারণে ভিক্ষুর ‘দুক্কট’ আপত্তি হয়।
যদি ভিক্ষু অন্য কোনো কারণে গিয়ে স্ত্রীলোকের সঙ্গে একাসনে বসে কথা বলার সময়ে যদি কোনো আর্যশ্রাবিকা দেখে, ‘সংঘাদিশেষ’ ও ‘পাচিত্তিয়’ এই আপত্তিদ্বয়ের মধ্যে তিনি যেটি দ্বারা দোষারোপ করবেন, সেই আপত্তি অনুযায়ী সেই ভিক্ষু দোষী সাব্যস্ত হবে।
যদি ভিক্ষু অন্য কোনো কারণে গিয়ে স্ত্রীলোকের সঙ্গে বসলেও কোনো প্রকার কথাবার্তা না বলাবস্থায় কোনো আর্যশ্রাবিকা দেখে, ‘সংঘাদিশেষ’ ও ‘পাচিত্তিয়’ এই আপত্তিদ্বয়ের মধ্যে তিনি যেটি দ্বারা দোষারোপ করবেন, সেই আপত্তি অনুযায়ী সেই ভিক্ষু দোষী সাব্যস্ত হবে।
যদি ভিক্ষু অন্য কোনো কারণে গিয়ে স্ত্রীলোকের সঙ্গে একসঙ্গে একাসনে বসে কথা বলার সময়ে কোনো আর্যশ্রাবিকা দেখে, দ্বিবিধ আপত্তির মধ্যে কোনোটি দ্বারা দোষারোপ না করলেও একাসনে বসে কথা বলার কারণে ভিক্ষুর ‘পাচিত্তিয়’ আপত্তি হয়।
যদি ভিক্ষু কামাস্বাদজনক কথাবার্তা বলার চিত্ত না নিয়ে অন্য কোনো কারণে গমন করে কামচিত্ত নিয়ে একসঙ্গে একাসনে না বসে অন্য কারণে (ধর্মদেশানাদি করার নিমিত্তে) বসলে এবং কোনো আর্যশ্রাবিকা উপাসিকা দেখে, ‘সংঘাদিশেষ’ ও ‘পাচিত্তিয়’ এই আপত্তিদ্বয়ের মধ্যে কোনোটি দ্বারা দোষী সাব্যস্ত না করলে ভিক্ষুর কোনো প্রকার আপত্তি হবে না।
দ্বিতীয় অনিয়ত শিক্ষাপদ সমাপ্ত
“হে আয়ুষ্মানগণ, এখানে দ্বিবিধ অনিয়ত ধর্ম (আপত্তি) উদ্দেশ করা হলো। তাই এখন আপনাদেরকে জিজ্ঞাসা করছি। এতে আপনারা সকলে পরিশুদ্ধ আছেন কি? দ্বিতীয়বারও এরূপ জিজ্ঞাসা করছি? আপনারা সকলে পরিশুদ্ধ আছেন কি? তৃতীয়বারও এরূপ জিজ্ঞাসা করছি? আপনারা সকলে পরিশুদ্ধ আছেন কি? আপনারা সকলে পরিশুদ্ধ আছেন বিধায় সবাই মৌনতা অবলম্বন করছেন, আমি এটিই ধারণা করছি।”
তস্সুদ্দান/স্মারক গাথা
এটিই যথোপযুক্ত ঠিক সেরূপে, তাদৃশ কিন্তু নয় এরূপে,
বুদ্ধশ্রেষ্ঠ কর্তৃক অনিয়ত ধর্ম সুপ্রজ্ঞাপ্তির কারণে।
অনিয়ত অধ্যায় সমাপ্ত
ব্যাখ্যা [০]