লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২১]

সাধু সূত্র

শ্রাবস্তী নিদান। একদা ‘সদালাপা-কায়িক’ নামক একদল দেবতা রাতের শেষভাগে পুরো জেতবন দিব্যজ্যোতিতে সমুজ্জ্বল করে ভগবানের কাছে এসে উপস্থিত হলেন। ভগবানকে শ্রদ্ধাভিবাদন জানিয়ে একপার্শ্বে দাঁড়ালেন। সে অবস্থায় একজন দেবতা ভগবানের কাছে এই ভাবপ্রবণ বাক্য প্রকাশ করলেন :

‘প্রভু, দান দেওয়া উত্তম। কৃপণতা ও প্রমাদের কারণে দান দেওয়া হয় না। পুণ্যকামী বিজ্ঞ ব্যক্তির দান দেওয়া উচিত।’

অন্য এক দেবতা ভগবানের কাছে এই ভাবপ্রবণ বাক্য বললেন :

‘প্রভু, দান দেওয়া উত্তম। সামান্য থাকলেও দান দেওয়া ভালো। জগতে কেউ কেউ নিজের সামান্য ধনসম্পদ থেকেও দান করেন আর কেউ কেউ বহু ধনসম্পদ থাকা সত্ত্বেও দান দেয় না। সামান্য ধনসম্পদ থেকে প্রদত্ত দানের ফল হাজার দানের সমান হয়।’

আরেক দেবতা ভগবানের সম্মুখে এই ভাবপ্রবণ বাক্য বললেন :

‘প্রভু, দান দেওয়া উত্তম। সামান্য ধনসম্পদ থাকলেও দান দেওয়া উচিত। শ্রদ্ধাসহকারে দান দেওয়া উত্তম। যুদ্ধে যেমন অল্পসংখ্যক বীরযোদ্ধা বহুসংখ্যক ভীর্ব যোদ্ধাকে পরাজিত করে, তেমনি শ্রদ্ধাবান ব্যক্তি (শ্রদ্ধাসহকারে) সামান্য দান করেও তদ্বারা পরকালে সুখী হন।’

অতঃপর অন্য দেবতা ভগবানের সমীপে এই ভাবপ্রবণ বাক্য বললেন :

‘প্রভু, দান দেওয়া উত্তম। সামান্য থাকলেও দান দেওয়া উচিত। শ্রদ্ধায় প্রদত্ত দান উত্তম। তবে ধর্মদ্রষ্টা আর্যপুদ্গলকে দান দেওয়া শ্রেয়। যে ব্যক্তি দৃঢ়বীর্যের দ্বারা বা বহু কষ্টে অধিগত ভোগসম্পদ থেকে ধর্মদ্রষ্টা আর্যপুদ্গলকে দান করেন, তিনি ভয়ানক যমের বৈতরণী (যমলোকের দ্বারস্থনদী) জয় করে দিব্যধামে উপনীত হন।’

অপর দেবতা ভগবানের সকাছে এই ভাবপ্রবণ বাক্য বললেন :

‘প্রভু, দান দেওয়া উত্তম। সামান্য থাকা সত্ত্বেও দান দেওয়া উচিত। শ্রদ্ধাসহকারে প্রদত্ত দান উত্তম। তবে ধর্মদ্রষ্টা আর্যপুদ্গলকে দান দেওয়া শ্রেষ্ঠ। (দান ও দানের উপযুক্ত পাত্র) বিবেচনা করে দেওয়া দানও শ্রেষ্ঠ হয়। এই বিবেচনা করে দেওয়া দান সুগত প্রশংসিত। এই জগতে যাঁরা দাক্ষিণ্যের উপযুক্ত, তাঁদেরকে দান দিলে উর্বর জমিতে বপিত বীজের মতো মহাফল লাভ হয়।’

অন্য একটি দেবতা ভগবানের কাছে এই ভাবপ্রবণ বাক্য বললেন :

‘প্রভু, দান দেওয়া উত্তম। সামান্য থাকা সত্ত্বেও দান দেওয়া উচিত। শ্রদ্ধায় প্রদত্ত দান উত্তম তবে ধর্মদ্রষ্টা আর্যপুদ্গলকে দেওয়া দান শ্রেষ্ঠ। বিবেচনা করে দেওয়া দানও শ্রেষ্ঠ। প্রাণীগণের প্রতি সংযত আচরণ বা দয়াশীল হওয়া উত্তম। যিনি প্রাণীর প্রতি অহিংসক ও পরনিন্দার ভয়ে পাপকর্ম সম্পাদন করেন না, সেই সাধু ব্যক্তি ভয়েই পাপ থেকে বিরত থাকেন। বিজ্ঞগণ তজ্জন্য সেই পাপভীর্বকেই প্রশংসা করেন, পাপশূরকে নয়।’

অবশেষে আরেক দেবতা ভগবানের সমীপে এরূপ বললেন, ‘ভগবান, এদের মধ্যে কার বাক্য সুভাষিত?’

(উত্তরে ভগবান বললেন) এদের প্রত্যেকের বাক্য সুভাষিত। তবে আমার বাক্যও শোনো :

‘শ্রদ্ধায় প্রদত্ত দান বহু প্রকারে প্রশংসিত। কিন্তু দান দেওয়া থেকে নির্বাণসম্ভূত ধর্মোপলব্ধি শ্রেয়। পূর্বে ও পূর্বতর কালে সাধু ব্যক্তিগণ নির্বাণই অধিগত হয়েছেন।’

ব্যাখ্যা [২]