লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৬]

শক্রনাম সূত্র

শ্রাবস্তীর জেতবনে উৎপত্তি। তথায় ভগবান ভিক্ষুগণকে এরূপ বললেন, “হে ভিক্ষুগণ, দেবেন্দ্র শক্র পূর্বজন্মে মঘ নামক ব্যক্তি ছিল, তাই তাকে ‘মঘবা’ বলা হয়।”

“দেবেন্দ্র শক্র পূর্বজন্মের মনুষ্য থাকাকালীন আগে আগে দান দিতো, তাই তাকে ‘পুরিন্দদ’ বলা হয়।”

“দেবেন্দ্র শক্র পূর্বজন্মে মনুষ্য থাকাকালীন সুষ্ঠুভাবে দান দিতো, তাই সে ‘শক্র’ নামে অভিহিত।”

“দেবেন্দ্র শক্র পূর্বে মনুষ্যজন্মে আবাস দান করেছিল, তাই সে ‘বাসব’ নামে পরিচিত।”

“দেবেন্দ্র শক্র মুহূর্তে হাজার বিষয় চিন্তা করে, তাই তাঁকে ‘সহস্রাক্ষ’ বলা হয়।”

“দেবেন্দ্র শক্র সুজা নাম্নী অসুর-কন্যার পতি, তাই তাকে ‘সুজস্পতি’ বলা হয়।”

“দেবেন্দ্র শক্র তাবতিংস স্বর্গে দেগণের উপর আধিপত্য বিস্তার করে রাজত্ব করে, তাই তাকে ‘দেবেন্দ্র’ বলা হয়।”

‘ভিক্ষুগণ, দেবেন্দ্র শক্র পূর্বজন্মে মনুষ্য থাকাকালীন সাত প্রকার ব্রত গ্রহণ করেছিল, যার কারণে সে শক্রত্ব লাভ করেছে। সেই সাত প্রকার কী কী? আজীবন মা-বাবাকে ভরণপোষণ করব; আজীবন কুলের বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করব; আজীবন মৃদুভাষী হবো; আজীবন অপিশুনভাষী হব; আজীবন মুক্তত্যাগী, মুক্তহস্ত, ত্যাগরত, প্রার্থীসেবক ও দান বণ্টনকারী হয়ে মাৎসর্যমলহীন চিত্তে গৃহবাস করব; আজীবন সত্য ভাষণ করব; এবং আজীবন অক্রোধী থাকব, ক্রোধ উৎপন্ন হলেও শীঘ্রই তা অপনোদন করব।’ ‘ভিক্ষুগণ, দেবেন্দ্র শক্র পূর্বজন্মে মনুষ্য থাকাকালীন এই সাত প্রকার ব্রত গ্রহণ করেছিল, যার কারণে সে শক্রত্ব লাভ করেছে।’

“তাবতিংস স্বর্গবাসী দেবগণ তাকেই ‘সৎপুরুষ’ বলেন যিনি মা-বাবাকে সেবা করেন, কুলে বয়োজ্যেষ্ঠগণকে সম্মান প্রদর্শন করেন, মৃদুমধুরভাষী, পিশুনবাক্য পরিহারকারী, মাৎসর্য অপনোদনকারী, সত্যবাদী, ক্রোধ ধ্বংসকারী হন।”

ব্যাখ্যা [১]