লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২৬]

কচ্চানগোত্র সূত্র

ভগবান শ্রাবস্তীতে অবস্থান করছিলেন। অতঃপর আয়ুষ্মান কচ্চানগোত্র ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদনপূর্বক একান্তে উপবেশন করলেন। একান্তে উপবিষ্ট আয়ুষ্মান কচ্চানগোত্র ভগবানকে বললেন, “ভন্তে, ‘সম্যক দৃষ্টি, সম্যক দৃষ্টি’ বলা হয়, কী প্রকারে সম্যক দৃষ্টি হয়?”

“হে কচ্চান, জগৎ অত্যধিকভাবে অস্তিত্ব (শাশ্বত) ও অনস্তিত্ব (উচ্ছেদ) এই দৃষ্টি দ্বয়ে আশ্রিত। লোকোৎপত্তি যথাভূতভাবে সম্যক প্রজ্ঞায় দর্শন করলে জগতের প্রতি যে অনস্তিত্বের ধারণা, তা আর থাকে না। লোক-নিরোধ যথাভূতভাবে সম্যক প্রজ্ঞায় দর্শন করলে জগতের প্রতি যে অস্তিত্বের ধারণা, তা আর থাকে না। কচ্চান, এই জগৎ অত্যধিকভাবে উপয়-উপাদান-অভিনিবেশে বিজড়িত (বা আবদ্ধ)। আর্যশ্রাবক উপয়-উপাদান, চিত্তের অধিষ্ঠান, অভিনিবেশ-অনুশয়ে উপনীত হয় না, গ্রহণ করে না এবং ‘আমার আত্মা’ বলে অধিষ্ঠান করে না। এতে তার স্বতঃস্ফূর্তভাবে জ্ঞান উৎপন্ন হয় : ‘উৎপদ্যমান দুঃখ উৎপন্ন হয়, নিরুদ্ধমান দুঃখ নিরুদ্ধ হয়’-এ বিষয়ে তার কোনো সন্দেহ থাকে না, বিচিকিৎসা থাকে না। কচ্চান, এভাবেই সম্যক দৃষ্টি হয়।

কচ্চান, ‘সব আছে’ এটি এক অন্ত। ‘সব নেই’ এটি দ্বিতীয় অন্ত। এই উভয় অন্তে উপগত না হয়ে তথাগত মধ্যম পন্থায় ধর্মদেশনা করেন, ‘আবিদ্যার প্রত্যয়ে সংস্কার, সংস্কারের প্রত্যয়ে বিজ্ঞান… এভাবে সমস্ত দুঃখস্কন্ধের সমুদয় হয়। অবিদ্যার সম্পূর্ণরূপে বিরাগ-নিরোধ হলে সংস্কার নিরোধ হয়, সংস্কার নিরোধে বিজ্ঞান নিরোধ হয়, … এভাবে সমস্ত দুঃখস্কন্ধের নিরোধ হয়।” পঞ্চম সূত্র।

ব্যাখ্যা [২]