লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৯]

তিম্বরুক সূত্র

একসময় ভগবান শ্রাবস্তীতে অবস্থান করছিলেন। তখন তিম্বরুক পরিব্রাজক ভগবানের কাছে উপস্থিত হয়ে ভগবানের সাথে সাদর-সম্ভাষণ করলেন। সাদর-সম্ভাষণসূচক বাক্যালাপের পর একপাশে উপবেশন করলেন। একান্তে উপবিষ্ট তিম্বরুক পরিব্রাজক ভগবানকে বললেন :

“প্রভু গৌতম, দুঃখ কি স্বকৃত?’ ভগবান বললেন, ‘কাশ্যপ, এরূপ বলো না।’ ‘প্রভু গৌতম, দুঃখ কি পরকৃত?’ ভগবান ‘কাশ্যপ, এরূপ বলো না।’ ‘প্রভু গৌতম, দুঃখ কি স্বকৃত ও পরকৃত?’ ভগবান ‘কাশ্যপ, এরূপ বলো না।’ ‘প্রভু গৌতম, তাহলে কি দুঃখ অস্বকৃত ও অ-পরকৃত? নাকি বিনা কারণে উৎপন্ন?’ ভগবান ‘কাশ্যপ, এরূপ বলো না।’ ‘প্রভু গৌতম, তাহলে কি দুঃখ নেই?’ ভগবান ‘কাশ্যপ, দুঃখ নেই তা নয়, দুঃখ আছে।’ ‘তাহলে প্রভু গৌতম দুঃখকে জানেন না, দুঃখকে দেখেন না।’ ‘কাশ্যপ, আমি দুঃখকে জানি না, দুঃখকে দেখি না তা নয়। আমি দুঃখকে জানি, দুঃখকে দেখি।’

“প্রভু গৌতম, ‘দুঃখ কি স্বকৃত?’ এভাবে প্রশ্ন করলে আপনি বললেন, ‘কাশ্যপ, এরূপ বলো না।’ ‘দুঃখ কি পরকৃত?’ এভাবে প্রশ্ন করলে আপনি বললেন, ‘কাশ্যপ, এরূপ বলো না।’ ‘দুঃখ কি স্বকৃত ও পরকৃত?’ এভাবে প্রশ্ন করলে আপনি বললেন, ‘কাশ্যপ, এরূপ বলো না।’ ‘তাহলে কি দুঃখ অস্বকৃত ও অ-পরকৃত? নাকি বিনা কারণে উৎপন্ন?’ এভাবে প্রশ্ন করলে আপনি একইভাবে বললেন, ‘কাশ্যপ, এরূপ বলো না।’ ‘তাহলে কি দুঃখ নেই?’ এভাবে প্রশ্ন করলে আপনি বললেন, ‘কাশ্যপ, দুঃখ নেই তা নয়, দুঃখ আছে।’ ‘তাহলে প্রভু গৌতম দুঃখকে জানেন না, দুঃখকে দেখেন না।’ এভাবে বললে আপনি বললেন, ‘কাশ্যপ, আমি দুঃখকে জানি না, দুঃখকে দেখি না তা নয়। আমি দুঃখকে জানি, দুঃখকে দেখি।’ ভন্তে ভগবান, আমাকে দুঃখ সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করুন, দেশনা করুন।”

“তিম্বরুক, ‘সেটা বেদনা, সে বেদনানুভব করে’ আদি হতে এমন ধারণায় আমি ‘সুখ-দুঃখ স্বকৃত’ বলি না। ‘বেদনা অন্য, অন্যজনে বেদনানুভব করে’ বেদনাভিভূত ব্যক্তির এমন ধারণায় আমি ‘সুখ-দুঃখ পরকৃত’ বলি না। তিম্বরুক, তাই এই উভয় অন্তে উপগত না হয়ে তথাগত মধ্যম পন্থায় ধর্মদেশনা করেন, ‘অবিদ্যার প্রত্যয়ে সংস্কার, সংস্কারের প্রত্যয়ে বিজ্ঞান… এভাবে সমস্ত দুঃখস্কন্ধের সমুদয় হয়। অবিদ্যার সম্পূর্ণরূপে বিরাগ-নিরোধ হলে সংস্কার নিরোধ হয়, সংস্কার নিরোধে বিজ্ঞান নিরোধ হয়, … এভাবে সমস্ত দুঃখস্কন্ধের নিরোধ হয়।’” এরূপ বলা হলে তিম্বরুক পরিব্রাজক ভগবানকে বললেন, ‘ভন্তে অতি মনোহর! অতি চমৎকার!… আমি প্রভু গৌতমের শরণ গ্রহণ করছি, ধর্ম ও ভিক্ষুসংঘের শরণও গ্রহণ করছি। প্রভু গৌতম, আজ থেকে আমাকে আজীবন ত্রিশরণাগত উপাসকরূপে গ্রহণ করুন।’ অষ্টম সূত্র।

ব্যাখ্যা [১]