লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৯]

প্রত্যয় সূত্র

একসময় ভগবা শ্রাবস্তীতে অবস্থান করছিলেন… ‘হে ভিক্ষুগণ, অবিদ্যার প্রত্যয়ে সংস্কার, সংস্কারের প্রত্যয়ে বিজ্ঞান… এভাবে সমস্ত দুঃখস্কন্ধের সমুদয় হয়।

ভিক্ষুগণ, জরা-মরণ কী? ভিন্ন ভিন্ন সত্ত্বগণের ভিন্ন ভিন্ন দেহে যে জরা, জীর্ণতা, দন্তহীনতা, পক্বকেশতা, লোলচর্মতা, আয়ুহীনতা এবং ইন্দ্রিয়গুলোর পরিপক্বতা (কার্যক্ষমতা হ্রাস), একেই জরা বলে। সত্ত্বগণের ভিন্ন ভিন্ন সত্ত্বাবস্থা (বা দেহ) থেকে যে চ্যুতি, পতন, ভেদ, অন্তর্ধান, মৃত্যু, মরণ, কালপ্রাপ্তি, পঞ্চস্কন্ধের ভেদ, কলেবর নিক্ষেপ বা দেহত্যাগ, একেই মরণ বলে। এরূপে এটি জরা, এটি মরণ। ভিক্ষুগণ, একেই জরা-মরণ বলে। জন্ম সমুদয়ে জরা-মৃত্যু সমুদয় হয়, জন্ম নিরোধে জরা-মৃত্যু নিরোধ হয়। এই আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গই জরা-মৃত্যু নিরোধগামী প্রতিপদা; যথা : সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক জীবিকা, সম্যক প্রচেষ্টা, সম্যক স্মৃতি ও সম্যক সমাধি।

ভিক্ষুগণ, জন্ম কী?… ভব কী?… উপাদান কী?… তৃষ্ণা কী?… বেদনা কী?… স্পর্শ কী… ষড়ায়তন কী?… নামরূপ কী?… বিজ্ঞান কী?…।

ভিক্ষুগণ, সংস্কার কী? সংস্কার তিন প্রকার : কায়সংস্কার, বাক্‌সংস্কার, চিত্তসংস্কার। এসবকে সংস্কার বলে। অবিদ্যা সমুদয়ে সংস্কার সমুদয় হয়, অবিদ্যা নিরোধে সংস্কার নিরোধ হয়। এই আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গই সংস্কার-নিরোধগামী প্রতিপদা; যথা : সম্যক দৃষ্টি… ও সম্যক সমাধি।

ভিক্ষুগণ, যখন আর্যশ্রাবক এভাবে (দুঃখসত্যবশে) প্রত্যয় জানে, প্রত্যয়ের সমুদয় জানে, প্রত্যয়ের নিরোধ জানে, প্রত্যয়ের নিরোধগামী প্রতিপদা জানে। ভিক্ষুগণ, তখন এই আর্যশ্রাবককে বলা হয় দৃষ্টিসম্পন্ন (মার্গদৃষ্টিসম্পন্ন), দর্শনসম্পন্ন, এই সদ্ধর্মে আগত, এই সদ্ধর্মকে দেখে, শৈক্ষ্যজ্ঞানে (মার্গজ্ঞানে) সমন্বিত, শৈক্ষ্যবিদ্যায় (মার্গবিদ্যায়) সমন্নাগত, ধর্মস্রোতপ্রাপ্ত, আর্য-নির্বেধিকপ্রাজ্ঞ ও অমৃতদ্বার স্পর্শ করে স্থিত। সপ্তম সূত্র।

ব্যাখ্যা [১]