লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২০]

অবিদ্যা-প্রত্যয় সূত্র

একসময় ভগবান শ্রাবস্তীতে অবস্থান করছিলেন… ‘হে ভিক্ষুগণ, অবিদ্যার প্রত্যয়ে সংস্কার, সংস্কারের প্রত্যয়ে বিজ্ঞান… এভাবে সমস্ত দুঃখস্কন্ধের সমুদয় হয়।’ ভগবান এরূপ বললে জনৈক ভিক্ষু ভগবানকে বললেন, “‘ভন্তে, জরা-মৃত্যু কী, জরা-মৃত্যু কার?’ ভগবান বললেন, ‘প্রশ্নটি যুক্তিসঙ্গত হয়নি’; যেই ভিক্ষু ‘জরা-মৃত্যু কী, জরা-মৃত্যু কার?’ বলে এবং ‘জরা-মৃত্যু অন্য, জরা-মৃত্যু অন্যের’ বলে, এই উভয় বাক্যই একার্থ, ব্যঞ্জনে নানার্থ। ‘যেই জীব সেই শরীর’ এই দৃষ্টি থাকলে ব্রহ্মচর্যবাস হয় না। ‘অন্য জীব, অন্য শরীর’ এই দৃষ্টি থাকলেও ব্রহ্মচর্যবাস হয় না। ভিক্ষু, এই উভয় অন্তে উপগত না হয়ে তথাগত মধ্যম পন্থায় ধর্মদেশনা করেন, ‘জন্মের প্রত্যয়ে জরা-মৃত্যু।’

‘ভন্তে, জন্ম কী, জন্ম কার?’ ভগবান বললেন, ‘প্রশ্নটি যুক্তিসঙ্গত হয়নি’; যেই ভিক্ষু ‘জন্ম কী, জন্ম কার?’ বলে এবং ‘জন্ম অন্য, জন্ম অন্যের’ বলে, এই উভয় বাক্যই একার্থ, ব্যঞ্জনে নানার্থ। ‘যেই জীব সেই শরীর’ এই দৃষ্টি থাকলে ব্রহ্মচর্যবাস হয় না। ‘অন্য জীব, অন্য শরীর’ এই দৃষ্টি থাকলেও ব্রহ্মচর্যবাস হয় না। ভিক্ষু, এই উভয় অন্তে উপগত না হয়ে তথাগত মধ্যম পন্থায় ধর্মদেশনা করেন, ‘ভব-প্রত্যয়ে জন্ম।’

‘ভন্তে, ভব কী, ভব কার?’ ভগবান বললেন, ‘প্রশ্নটি যুক্তিসঙ্গত হয়নি’; যেই ভিক্ষু ‘ভব কী, ভব কার?’ বলে এবং ‘ভব অন্য, ভব অন্যের’ বলে, এই উভয় বাক্যই একার্থ, ব্যঞ্জনে নানার্থ। ‘যেই জীব সেই শরীর’ এই দৃষ্টি থাকলে ব্রহ্মচর্যবাস হয় না। ‘অন্য জীব, অন্য শরীর’ এই দৃষ্টি থাকলেও ব্রহ্মচর্যবাস হয় না। ভিক্ষু, এই উভয় অন্তে উপগত না হয়ে তথাগত মধ্যম পন্থায় ধর্মদেশনা করেন, ‘উপাদানের প্রত্যয়ে ভব।’… তৃষ্ণার প্রত্যয়ে উপাদান… বেদনার প্রত্যয়ে তৃষ্ণা… স্পর্শের প্রত্যয়ে বেদনা… ষড়ায়তনের প্রত্যয়ে স্পর্শ… নামরূপের প্রত্যয়ে ষড়ায়তন… বিজ্ঞানের প্রত্যয়ে নামরূপ… সংস্কারের প্রত্যয়ে বিজ্ঞান।’

‘ভন্তে, সংস্কার কী, সংস্কার কার?’ ভগবান বললেন, ‘প্রশ্নটি যুক্তিসঙ্গত হয়নি’; যেই ভিক্ষু ‘সংস্কার কী, সংস্কার কার?’ বলে এবং ‘সংস্কার অন্য, সংস্কার অন্যের’ বলে, এই উভয় বাক্যই একার্থ, ব্যঞ্জনে নানার্থ। ‘যেই জীব সেই শরীর’ এই দৃষ্টি থাকলে ব্রহ্মচর্যবাস হয় না। ‘অন্য জীব, অন্য শরীর’ এই দৃষ্টি থাকলেও ব্রহ্মচর্যবাস হয় না। ভিক্ষু, এই উভয় অন্তে উপগত না হয়ে তথাগত মধ্যম পন্থায় ধর্মদেশনা করেন, ‘অবিদ্যার প্রত্যয়ে সংস্কার।’

হে ভিক্ষু, অবিদ্যার সম্পূর্ণরূপে বিরাগ-নিরোধ হলে সেসব অভ্যাসগত, কদাচিৎ বিস্ফন্দিত মিথ্যাদৃষ্টি, ‘জরা-মৃত্যু কী, জরা-মৃত্যু কার?’, ‘জরা-মৃত্যু অন্য, জরা-মৃত্যু অন্যের’, ‘যেই জীব সেই শরীর’, ‘অন্য জীব, অন্য শরীর’; এসব প্রহীন হয়, মূল উচ্ছিন্ন হয়, মস্তকছিন্ন তালবৃক্ষ সদৃশ উৎপাদিকা শক্তি রহিত হয়ে অনুৎপন্নধর্মী হয়।

ভিক্ষু, অবিদ্যার সম্পূর্ণরূপে বিরাগ-নিরোধ হলে সেসব অভ্যাসগত, কদাচিৎ বিস্ফন্দিত মিথ্যাদৃষ্টি, ‘জন্ম কী, জন্ম কার?’, ‘জন্ম অন্য, জন্ম অন্যের’, ‘যেই জীব সেই শরীর’, ‘অন্য জীব, অন্য শরীর’; এসব প্রহীন হয়, মূল উচ্ছিন্ন হয়, মস্তকছিন্ন তালবৃক্ষসদৃশ উৎপাদিকা শক্তি রহিত হয়ে অনুৎপন্নধর্মী হয়।

ভিক্ষু, অবিদ্যার সম্পূর্ণরূপে বিরাগ-নিরোধ হলে সেসব অভ্যাসগত, কদাচিৎ বিস্ফন্দিত মিথ্যাদৃষ্টি, ‘ভব কী… উপাদান কী… তৃষ্ণা কী… বেদনা কী… স্পর্শ কী… ষড়ায়তন কী… নামরূপ কী… বিজ্ঞান কী…।

ভিক্ষু, অবিদ্যার সম্পূর্ণরূপে বিরাগ-নিরোধ হলে সেসব অভ্যাসগত, কদাচিৎ বিস্ফন্দিত মিথ্যাদৃষ্টি, ‘সংস্কার কী, সংস্কার কার?’, ‘সংস্কার অন্য, সংস্কার অন্যের’, ‘যেই জীব সেই শরীর’, ‘অন্য জীব, অন্য শরীর’; এসব প্রহীন হয়, মূল উচ্ছিন্ন হয়, মস্তকছিন্ন তালবৃক্ষসদৃশ উৎপাদিকা শক্তি রহিত হয়ে অনুৎপন্নধর্মী হয়।” পঞ্চম সূত্র।

ব্যাখ্যা [১]