লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৯]

পঞ্চ বৈরিতা-ভয় সূত্র

ভগবান শ্রাবস্তীতে অবস্থান করছিলেন। অতঃপর অনাথপিণ্ডিক গৃহপতি ভগবানের কাছে উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদনপূর্বক একান্তে উপবেশন করলেন। একান্তে উপবিষ্ট অনাথপিণ্ডিক গৃহপতি ভগবানকে বললেন :

“হে গৃহপতি, যখন আর্যশ্রাবকের পঞ্চ ভয়-বৈরিতা উপশম হয়, চারটি স্রোতাপত্তি অঙ্গে সমন্নাগত হয়, আর্যনীতি প্রজ্ঞা দ্বারা সুদৃষ্ট ও উত্তমরূপে প্রতিবিদ্ধ (বা উপলব্ধ) হয়, তখন সে ইচ্ছা করলে নিজেই নিজেকে বলতে পারে, ‘আমার নিরয় ক্ষীণ হয়েছে, তির্যকযোনি ক্ষীণ হয়েছে, প্রেতবিষয় ক্ষীণ হয়েছে, অপায়-দুর্গতি-বিনিপাত ক্ষীণ হয়েছে; আমি স্রোতাপন্ন, অবিনিপাতধর্মী, নিয়ত সম্বোধিপরায়ণ।’

কোন পঞ্চ ভয়-বৈরিতা উপশম হয়? গৃহপতি, যেই প্রাণিহত্যাকারী প্রাণিহত্যার কারণে ইহজীবনে ভয়-বৈরিতার জন্ম দেয়, পরলোকে ভয়-বৈরিতার জন্ম দেয়, চৈতসিক দুঃখ, দৌর্মনস্য অনুভব করে; প্রাণিহত্যা হতে প্রতিবিরত ব্যক্তির এরূপ ভয়-বৈরিতার উপশম হয়।

গৃহপতি, যেই চুরিকর্মকারী চুরিকর্মের কারণে ইহজীবনে ভয়-বৈরিতার জন্ম দেয়, পরলোকে ভয়-বৈরিতার জন্ম দেয়, চৈতসিক দুঃখ, দৌর্মনস্য অনুভব করে; চুরিকর্ম হতে প্রতিবিরত ব্যক্তির এরূপ ভয়-বৈরিতার উপশম হয়।

গৃহপতি, যেই মিথ্যাকামাচারকারী মিথ্যাকামাচারের কারণে ইহজীবনে ভয়-বৈরিতার জন্ম দেয়, পরলোকে ভয়-বৈরিতার জন্ম দেয়, চৈতসিক দুঃখ, দৌর্মনস্য অনুভব করে; মিথ্যাকামাচার হতে প্রতিবিরত ব্যক্তির এরূপ ভয়-বৈরিতার উপশম হয়।

গৃহপতি, যেই মিথ্যা ভাষণকারী মিথ্যা কথা বলার কারণে ইহজীবনে ভয়-বৈরিতার জন্ম দেয়, পরলোকে ভয়-বৈরিতার জন্ম দেয়, চৈতসিক দুঃখ, দৌর্মনস্য অনুভব করে; মিথ্যাভাষণ হতে প্রতিবিরত ব্যক্তির এরূপ ভয়-বৈরিতার উপশম হয়।

গৃহপতি, যেই সুরাজাতীয় মাদকদ্রব্য সেবনকারী সুরাজাতীয় মাদকদ্রব্য সেবনের কারণে ইহজীবনে ভয়-বৈরিতার জন্ম দেয়, পরলোকে ভয়-বৈরিতার জন্ম দেয়, চৈতসিক দুঃখ, দৌর্মনস্য অনুভব করে; সুরাজাতীয় মাদকদ্রব্য সেবন হতে প্রতিবিরত ব্যক্তির এরূপ ভয়-বৈরিতার উপশম হয়। এই পাঁচ প্রকার ভয়-বৈরিতার উপশম হয়।

কোন চার প্রকার স্রোতাপত্তি অঙ্গে সমন্নাগত হয়? গৃহপতি, এ জগতে আর্যশ্রাবক বুদ্ধের প্রতি অবিচল প্রসাদসম্পন্ন হয় : ‘ইনি সেই ভগবান, অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ, বিদ্যাচরণসম্পন্ন, সুগত, লোকজ্ঞ, অনুত্তর পুরুষদমনকারী সারথি, দেব-মানবের শাস্তা, বুদ্ধ ভগবান।’

ধর্মের প্রতি অবিচল প্রসাদসম্পন্ন হয় : ‘ভগবানের ধর্ম সুব্যাখ্যাত, সন্দৃষ্টিক, অকালিক, এসে দেখার যোগ্য, নির্বাণে উপনয়নকারী, এবং বিজ্ঞজন কর্তৃক জ্ঞাতব্য।’

সংঘের প্রতিও অবিচল প্রসাদসম্পন্ন হয় : ‘ভগবানের শ্রাবকসংঘ সুপথে প্রতিপন্ন, ঋজুপথে প্রতিপন্ন, ন্যায় বা নির্বাণপথে প্রতিপন্ন, সমীচিনপথে প্রতিপন্ন, ভগবানের শ্রাবকসংঘ যুগ্ম হিসেবে চারি যুগ্ম এবং পুদ্গল হিসেবে অষ্ট আর্যপুদ্গল, ভগবানের এই শ্রাবকসংঘ চারি প্রত্যয় দান-আহুতি লাভের যোগ্য, আতিথেয়তা লাভের যোগ্য, দক্ষিণারযোগ্য, অঞ্জলিকরণীয় এবং জগতের অনুত্তর পুণ্যক্ষেত্র।’

সে আর্যপ্রশংসিত অখণ্ড, নিশ্চিদ্র, নিখুঁত, নিষ্কলঙ্ক, বিমুক্তিতে উপনীতকারী, বিজ্ঞকর্তৃক প্রশংসিত, অদূষিত এবং সমাধি লাভে সহায়ক শীলে বিভূষিত হয়।’ এই চারটি স্রোতাপত্তি অঙ্গে সমন্নাগত (বা সমৃদ্ধ) হয়।

কোন আর্যনীতি প্রজ্ঞা দ্বারা সুদৃষ্ট ও উত্তমরূপে প্রতিবিদ্ধ (বা উপলব্ধ) হয়? গৃহপতি, এ জগতে আর্যশ্রাবক প্রতীত্যসমুৎপাদ-নীতিতে উত্তমরূপে মনোযোগ দেয়, ‘এটি থাকলে এটি হয়, এটি না থাকলে এটি হয় না; এটির উৎপত্তিতে এটি উৎপন্ন হয়, এটির নিরোধে এটি নিরুদ্ধ হয়। যেমন : অবিদ্যার প্রত্যয়ে সংস্কার, সংস্কারের প্রত্যয়ে বিজ্ঞান… এভাবে সমস্ত দুঃখস্কন্ধের সমুদয় হয়। অবিদ্যার সম্পূর্ণরূপে বিরাগ-নিরোধ হলে সংস্কার নিরোধ হয়, সংস্কারনিরোধে বিজ্ঞান নিরোধ হয়… এভাবে সমস্ত দুঃখস্কন্ধের নিরোধ হয়। এই আর্যনীতি প্রজ্ঞা দ্বারা সুদৃষ্ট ও উত্তমরূপে প্রতিবিদ্ধ হয়।

গৃহপতি, যখন আর্যশ্রাবকের এই পঞ্চ ভয়-বৈরিতা উপশম হয়, চারটি স্রোতাপত্তি অঙ্গে সমন্নাগত হয়, আর্যনীতি প্রজ্ঞা দ্বারা সুদৃষ্ট ও উত্তমরূপে প্রতিবিদ্ধ (বা উপলব্ধ) হয়, তখন সে ইচ্ছা করলে নিজেই নিজেকে বলতে পারে, ‘আমার নিরয় ক্ষীণ হয়েছে, তির্যকযোনি ক্ষীণ হয়েছে, প্রেতবিষয় ক্ষীণ হয়েছে, অপায়-দুর্গতি-বিনিপাত ক্ষীণ হয়েছে; আমি স্রোতাপন্ন, অবিনিপাতধর্মী, নিয়ত সম্বোধিপরায়ণ।’” প্রথম সূত্র।

ব্যাখ্যা [১]