লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২৪]

অশ্রুতবান সূত্র

আমি এরূপ শুনেছি। একসময় ভগবান শ্রাবস্তীর জেতবনে অবস্থান করতেন অনাথপিণ্ডিকের দাককৃত বিহারে… ‘হে ভিক্ষুগণ, অশ্রুতবান পৃথগ্‌জন এই চার মহাভৌতিক কায়ে বিরক্ত হতে পারে, নিরুৎসাহিত হতে পারে এবং (এজন্য) মুক্তির ইচ্ছা হতে পারে। তা কী কারণে? ভিক্ষুগণ, এই চার মহাভৌতিক কায়ের বৃদ্ধি, ক্ষয়, পুনর্জন্ম (আদান)ও নিক্ষেপ (বা ভেদ) দেখা যায়। তাই অশ্রুতবান পৃথগ্‌জন বিরক্ত হতে পারে, নিরুৎসাহিত হতে পারে এবং (এজন্য) মুক্তির ইচ্ছা হতে পারে।’

“হে ভিক্ষুগণ, যাকে চিত্ত, মন ও বিজ্ঞান বলে বলা হয়, তার প্রতি অশ্রুতবান পৃথগ্‌জন বিরক্ত হতে পারে না, নিরুৎসাহিত হতে পারে না এবং (এজন্য) মুক্তির ইচ্ছাও করতে পারে না। তার কারণ কী? অশ্রুতবান পৃথগ্‌জনের ‘এটা আমার, এটা আমি, এটা আমার আত্মা’ বলে দীর্ঘকাল যাবৎ তৃষ্ণাগ্রস্ত, মমায়িত ও পরামৃষ্ট (মিথ্যাদৃষ্টি দ্বারা গৃহীত)। তাই অশ্রুতবান পৃথগ্‌জন বিরক্ত হতে পারে না, নিরুৎসাহিত হতে পারে না এবং (এজন্য) মুক্তির ইচ্ছাও করতে পারে না।”

‘ভিক্ষুগণ, অশ্রুতবান পৃথগ্‌জন বরং এই চার মহাভৌতিক কায়কেই নিজের বলে মনে করে, কিন্তু চিত্তকে নয়। তার কারণ কী? এই চার মহাভৌতিক কায়কে এক বছর, দুই বছর, তিন বছর, চার বছর, পাঁচ বছর, দশ বছর, বিশ বছর, ত্রিশ বছর, চল্লিশবছর, পঞ্চাশ বছর একশত বছর এবং কি আরও অধিককাল পর্যন্ত বেঁচে থাকতে (তিট্ঠমানো) দেখা যায়।’

‘ভিক্ষুগণ, যাকে চিত্ত, মন ও বিজ্ঞান বলে বলা হয়, তা দিনে ও রাতে অন্যটি উৎপন্ন হয়, অন্যটি নিরুদ্ধ হয়। যেমন : বানর অরণ্যে, মহাবনে (পবনে) বিচরণকালে শাখা ধরে, সেই শাখাটি ছেড়ে দিয়ে অন্য একটি ধরে, সেটিও ছেড়ে দিয়ে আরও অন্য একটি (শাখা) ধরে; ঠিক এভাবেই যাকে চিত্ত, মন ও বিজ্ঞান বলে বলা হয়, তা দিনে ও রাতে অন্যটি উৎপন্ন হয়, অন্যটি নিরুদ্ধ হয়।’

“ভিক্ষুগণ, তথায় শ্রুতবান আর্যশ্রাবক প্রতীত্যসমুৎপাদের প্রতিই উত্তমরূপে মনোনিবেশ করেন, ‘এটি থাকলে এটি হয়, এটির উৎপত্তিতে এটি উৎপন্ন হয়; এটি না থাকলে এটি হয় না, এটির নিরোধে এটি নিরুদ্ধ হয়; যেমন : অবিদ্যার কারণে সংস্কার, সংস্কারের কারণে বিজ্ঞান… এভাবে সমস্ত দুঃখস্কন্ধের সমুদয় হয়। অবিদ্যার সম্পূর্ণরূপে বিরাগ-নিরোধ হলে সংস্কার নিরোধ হয়, সংস্কার নিরোধ হলে বিজ্ঞান নিরোধ হয়… এভাবে সমস্ত দুঃখস্কন্ধের নিরোধ হয়।’”

“ভিক্ষুগণ, এভাবে দর্শন করে শ্রুতবান আর্যশ্রাবক রূপের প্রতিও বিরক্ত হয়, বেদনার প্রতিও বিরক্ত হয়, সংজ্ঞার প্রতিও বিরক্ত হয়, সংস্কারগুলোর প্রতিও বিরক্ত হয় এবং বিজ্ঞানের প্রতিও বিরক্ত হয়; বিরক্ত হয়ে নিরুৎসাহিত হয়, নিরুৎসাহিত হয়ে বিমুক্ত হয়, বিমুক্তিতে ‘বিমুক্ত’ বলে জ্ঞান হয়। ‘জন্ম ক্ষীণ হয়েছে, ব্রহ্মচর্য পরিপূর্ণ হয়েছে, করণীয় কৃত হয়েছে, এ জন্মের পর আর কোনো জন্ম নেই’ বলে যথাযথভাবে জানে।” প্রথম সূত্র।

ব্যাখ্যা [২]