লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৬]

উপদেশ সূত্র

একসময় ভগবান রাজগৃহের বেণুবনে অবস্থান করছিলেন। তখন আয়ুষ্মান মহাকাশ্যপ ভগবানের নিকট উপস্থিত হলেন। উপস্থিত হয়ে ভগবানকে শ্রদ্ধাভিবাদন জানিয়ে একপাশে বসলেন। একপাশে উপবিষ্ট আয়ুষ্মান মহাকাশ্যপকে ভগবান এরূপ বললেন, ‘হে কাশ্যপ, তুমি ভিক্ষুদেরকে উপদেশ দাও, তাঁদেরকে ধর্মকথা শোনাও। কাশ্যপ, আমি ভিক্ষুদেরকে উপদেশ দিই অথবা তুমি দাও, আমি তাদেরকে ধর্মকথা শোনাই অথবা তুমি শোনাও।’

“ভন্তে, ভিক্ষুরা এখন দুর্দম্য, দুর্দম্যকরণ ধর্মগুলোতে সমন্বিত, অসহনশীল, অনুশাসন সাদরে গ্রহণ করে না। ভন্তে, আমি এখানে আনন্দের শিষ্য (বা আদেশ পালনকারী) ভণ্ড নামক ভিক্ষু ও অনুরুদ্ধের শিষ্য (সদ্ধিবিহারিং) অভিজিক নামক ভিক্ষুকে শ্রুত বিষয় নিয়ে পরস্পরকে এরকম বাক্যলাপ প্রতিযোগিতা করতে দেখেছি, ‘এসো ভিক্ষু, আমাদের মধ্যে কে বেশি বলতে পারে, কে বেশি সুন্দরতর করে বলতে পারে এবং কে বেশি দীর্ঘক্ষণ ধরে বলতে পারে।’”

অতঃপর ভগবান জনৈক ভিক্ষুকে ডেকে বললেন, “হে ভিক্ষু, তুমি যাও, আমার কথায় আনন্দের শিষ্য ভণ্ড ভিক্ষু এবং অনুরুদ্ধের শিষ্য অভিজিক ভিক্ষুকে এই বলে আহ্বান কর, ‘হে বন্ধুগণ, ভগবান আপনাদেরকে ডাকছেন।’” ‘হ্যাঁ ভন্তে’ বলে সে ভিক্ষু ভগবানের কথায় প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেই ভিক্ষুদ্বয়ের কাছে উপস্থিত হয়ে এরূপ বললেন, ‘বন্ধুগণ, আপনাদেরকে শাস্তা আহ্বান করছেন।’

‘হ্যাঁ বন্ধু’ বলে সেই ভিক্ষুদ্বয় ভিক্ষুর কথায় সম্মতি দিয়ে ভগবানের কাছে উপস্থিত হলেন। উপস্থিত হয়ে ভগবানকে শ্রদ্ধাভিবাদন করে একপাশে উপবেশন করলেন। একপাশে উপবিষ্ট সে ভিক্ষুদ্বয়কে ভগবান এরূপ বললেন, “হে ভিক্ষুগণ, সত্যিই কি তোমরা শ্রুত বিষয়ে পরস্পরের মধ্যে এই রকম বাক্যলাপ প্রতিযোগিতা কর, ‘এসো ভিক্ষু, আমাদের মধ্যে কে বেশি বলতে পারে, কে বেশি সুন্দরতর করে বলতে পারে এবং কে বেশি দীর্ঘক্ষণ ধরে বলতে পারে?’” ভিক্ষুদ্বয় ‘হ্যাঁ ভন্তে, করি’ বলে স্বীকার করলেন। “হে ভিক্ষুগণ, তোমরা কি আমার নিকট এরূপ উপদেশ পেয়েছ যে, পরস্পরের মধ্যে শ্রুত বিষয় নিয়ে এরূপ বাক্যালাপে প্রতিযোগিতা কর, ‘এসো ভিক্ষু, আমাদের মধ্যে কে বেশি বলতে পারে, কে বেশি সুন্দরতর করে বলতে পারে এবং কে বেশি দীর্ঘক্ষণ ধরে বলতে পারে?’” ‘না ভন্তে, পাইনি।’ “ভিক্ষুগণ, যদি তোমরা আমার নিকট এরূপ উপদেশ না পেয়ে থাক, তাহলে হে নির্বোধদ্বয়, তোমরা কী কারণে, কী জেনে এবং কী দেখে করে এরূপ সুব্যাখ্যাত, ন্যায়সঙ্গত ধর্ম-বিনয়ে প্রবজিত হয়েও শ্রুত বিষয় নিয়ে পরস্পরের মধ্যে এরূপ বাক্যালাপে প্রতিযোগিতা কর, ‘এসো ভিক্ষু, আমাদের মধ্যে কে বেশি বলতে পারে, কে বেশি সুন্দরতর করে বলতে পারে এবং কে বেশি দীর্ঘক্ষণ ধরে বলতে পারে।’”

অতঃপর সে ভিক্ষুদ্বয় ভগবানের পাদমূলে মস্তক অবনমিত করে ভগবানকে এরূপ বললেন, “ভন্তে, আমাদের ভুলবশত, অজ্ঞানবশত, মূর্খতাবশত এবং অদক্ষতার দরুন অপরাধ হয়েছে। আমরা এমন সুব্যাখ্যাত ধর্ম-বিনয়ে প্রব্রজিত হয়েও শ্রুত বিষয় নিয়ে পরস্পরের মধ্যে এরূপ বাক্যালাপে প্রতিযোগিতা করেছি, ‘এসো ভিক্ষু, আমাদের মধ্যে কে বেশি বলতে পারে, কে বেশি সুন্দরতর করে বলতে পারে এবং কে বেশি দীর্ঘক্ষণ ধরে বলতে পারে।’ ভন্তে, ভগবান ভবিষ্যৎ সংযমের জন্য আমাদের অপরাধ ক্ষমা করুন।”

“হে ভিক্ষুগণ, নিঃসন্দেহে তোমাদের ভূলবশত, অজ্ঞানবশত মূর্খতাবশত এবং অদক্ষতা দরুন অপরাধ হয়েছে। আর সুব্যাখ্যাত ধর্ম-বিনয়ে প্রব্রজিত হয়েও শ্রুত বিষয় নিয়ে পরস্পরের মধ্যে এরূপ বাক্যালাপে প্রতিযোগিতা করেছ, ‘এসো ভিক্ষু, আমাদের মধ্যে কে বেশি বলতে পারে, কে বেশি সুন্দরতর করে বলতে পারে এবং কে বেশি দীর্ঘক্ষণ ধরে বলতে পারে।’ ভিক্ষুগণ, যেহেতু তোমরা অপরাধকে অপরাধ বলে দেখে যথাধর্ম প্রতিকার করছ, সেহেতু তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করছি। ভিক্ষুগণ, যে ব্যক্তি অপরাধকে অপরাধরূপে মনে করে যথাধর্ম প্রতিকার করে এবং ভবিষ্যতে সংযত হয় তা আর্যবিনয়ে উন্নতি বলে গণ্য করা হয়।” ষষ্ঠ সূত্র।

ব্যাখ্যা [১]