শ্রাবস্তীতে উৎপত্তি :
‘হে ভিক্ষুগণ, আত্মদ্বীপ, আত্মশরণ ও অনন্যশরণ [স্বাধীন] হয়ে বিহার কর;ধর্মদ্বীপ, ধর্মশরণ ও অনন্যশরণ হয়ে বিহার কর। হে ভিক্ষুগণ, আত্মদ্বীপ, আত্মশরণ, অনন্যশরণ, ধর্মদ্বীপ, ধর্মশরণ ও অনন্যশরণের উৎস বা কারণ (যোনি) খুঁজে দেখা কর্তব্য। শোক, পরিদেবন, দুঃখ, দৌর্মনস্য ও উপায়াসের উৎপত্তি কী ও উৎস কী?’
‘হে ভিক্ষুগণ, শোক, পরিদেবন, দুঃখ, দৌর্মনস্য ও উপায়াসের উৎপত্তি কী ও উৎস কী? এই জগতে অশ্রুতবান পৃথগ্জন [সাধারণ লোক] আর্যদের অদর্শনকারী, আর্যধর্মে অজ্ঞ, আর্যধর্মে অবিনীত, সৎপুরুষদের অদর্শনকারী, সৎপুরুষধর্মে অজ্ঞ, সৎপুরুষধর্মে অবিনীত, সে রূপকে আত্মা বলে দর্শন করে, রূপবানকে আত্মা হিসেবে, আত্মার মাঝে রূপকে, অথবা রূপের মাঝে আত্মাকে দর্শন করে। তার সেই রূপ পরিবর্তিত হয়, অন্যরূপ হয়। তাতে তার রূপ পরিবর্তনশীলতা-অন্যথাভাবের দরুন শোক, পরিদেবন, দুঃখ, দৌর্মনস্য ও উপায়াস উৎপন্ন হয়। সে বেদনাকে আত্মা হিসেবে দর্শন করে, বেদনাবানকে আত্মা হিসেবে, আত্মার মাঝে বেদনাকে অথবা বেদনার মাঝে আত্মাকে দর্শন করে। তার সেই বেদনা পরিবর্তিত হয়, অন্যরূপ হয়। তাতে তার বেদনা পরিবর্তনশীলতা-অন্যথাভাবের দরুন শোক, পরিদেবন, দুঃখ, দৌর্মনস্য ও উপায়াস উৎপন্ন হয়। সে সংজ্ঞাকে আত্মা হিসেবে…. সংস্কারকে আত্মা হিসেবে…. বিজ্ঞানকে আত্মা হিসেবে দর্শন করে, বিজ্ঞানবানকে আত্মা হিসেবে, আত্মার মাঝে বিজ্ঞানকে, অথবা বিজ্ঞানের মাঝে আত্মাকে দর্শন করে। তার সেই বিজ্ঞান পরিবর্তিত হয়, অন্যরূপ হয়। তাতে তার বিজ্ঞান পরিবর্তনশীলতা-অন্যথাভাবের দরুন শোক, পরিদেবন, দুঃখ, দৌর্মনস্য ও উপায়াস উৎপন্ন হয়।’
“হে ভিক্ষুগণ, রূপের অনিত্যতা, পরিবর্তনশীলতা, বিরাগ ও নিরোধকে জেনে, পূর্বেও এই সমস্ত রূপ অনিত্য, দুঃখ, বিপরিণামধর্মী; অনুরূপভাবে সম্যক প্রজ্ঞার দ্বারা যথাভূত দর্শন করলে যেই শোক, পরিদেবন, দুঃখ, দৌর্মনস্য ও উপায়াস সেগুলো প্রহীন হয়। সেসব প্রহীন হলে উৎপীড়িত হয় না, অনুৎপীড়িতের সুখবিহার হয়, সুখবিহারী ভিক্ষুকে ‘তদঙ্গনিবৃত ’ বলা হয়। হে ভিক্ষুগণ, বেদনার অনিত্যতা, পরিবর্তনশীলতা, বিরাগ ও নিরোধকে জেনে, পূর্বেও এই সমস্ত বেদনা অনিত্য, দুঃখ, বিপরিণামধর্মী; অনুরূপভাবে সম্যক প্রজ্ঞার দ্বারা যথাভূত দর্শন করলে যেই শোক, পরিদেবন, দুঃখ, দৌর্মনস্য ও উপায়াস সেগুলো প্রহীন হয়। সেসব প্রহীন হলে উৎপীড়িত হয় না, অনুৎপীড়িতের সুখবিহার হয়, সুখবিহারী ভিক্ষুকে ‘তদঙ্গনিবৃত’ বলা হয়। হে ভিক্ষুগণ, সংজ্ঞার অনিত্যতা, পরিবর্তনশীলতা জেনে…. হে ভিক্ষুগণ, সংস্কারের অনিত্যতা, পরিবর্তনশীলতা, বিরাগ ও নিরোধকে জেনে, পূর্বেও এই সমস্ত সংস্কার অনিত্য, দুঃখ, বিপরিণামধর্মী; অনুরূপভাবে সম্যক প্রজ্ঞার দ্বারা যথাভূত দর্শন করলে যেই শোক, পরিদেবন, দুঃখ, দৌর্মনস্য ও উপায়াস সেগুলো প্রহীন হয়। সেসব প্রহীন হলে উৎপীড়িত হয় না, অনুৎপীড়িতের সুখবিহার হয়, সুখবিহারী ভিক্ষুকে ‘তদঙ্গনিবৃত’ বলা হয়। হে ভিক্ষুগণ, বিজ্ঞানের অনিত্যতা, পরিবর্তনশীলতা, বিরাগ ও নিরোধকে জেনে, পূর্বেও এই সমস্ত বিজ্ঞান অনিত্য, দুঃখ, বিপরিণামধর্মী; অনুরূপভাবে সম্যক প্রজ্ঞার দ্বারা যথাভূত দর্শন করলে যেই শোক, পরিদেবন, দুঃখ, দৌর্মনস্য ও উপায়াস সেগুলো প্রহীন হয়। সেসব প্রহীন হলে উৎপীড়িত হয় না, অনুৎপীড়িতের সুখবিহার হয়, সুখবিহারী ভিক্ষুকে ‘তদঙ্গনিবৃত’ বলা হয়।” [প্রথম সূত্র]
ব্যাখ্যা [১]
English