আমি এরূপ শুনেছি। একসময় ভগবান রাজগৃহে বিহার করছিলেন বেণুবনে কলন্দকনিবাপে। তখন সোণ নামক গৃহপতিপুত্র যেখানে ভগবান আছেন সেখানে গেলেন…. একপাশে আসীন হয়ে সোণ নামক গৃহপতিপুত্রকে ভগবান বললেন :
“হে সোণ, যে-সমস্ত শ্রমণ-ব্রাহ্মণ অনিত্য, দুঃখ পরিবর্তনশীল রূপকে ‘আমি শ্রেষ্ঠ’ এই বলে দর্শন করে, ‘আমি সমান’ এই বলে দর্শন করে, ‘আমি হীন’ এই বলে দর্শন করে; তারা যথাভূত অদর্শনকারী ছাড়া আর কী! অনিত্য, দুঃখ পরিবর্তনশীল বেদনাকে ‘আমি শ্রেষ্ঠ’ এই বলে দর্শন করে, ‘আমি সমান’ এই বলে দর্শন করে, ‘আমি হীন’ এই বলে দর্শন করে; তারা যথাভূত অদর্শনকারী ছাড়া আর কী! অনিত্য সংজ্ঞাকে…. অনিত্য, দুঃখ পরিবর্তনশীল সংস্কারকে ‘আমি শ্রেষ্ঠ’ এই বলে দর্শন করে, ‘আমি সমান’ এই বলে দর্শন করে, ‘আমি হীন’ এই বলে দর্শন করে; তারা যথাভূত অদর্শনকারী ছাড়া আর কী! অনিত্য, দুঃখ পরিবর্তনশীল বিজ্ঞানকে ‘আমি শ্রেষ্ঠ’ এই বলে দর্শন করে, ‘আমি সমান’ এই বলে দর্শন করে, ‘আমি হীন’ এই বলে দর্শন করে; তারা যথাভূত অদর্শনকারী ছাড়া আর কী!”
“হে সোণ, যেকোনো শ্রমণ-ব্রাহ্মণ অনিত্য, দুঃখ পরিবর্তনশীল রূপকে ‘আমি শ্রেষ্ঠ’ এই বলে দেখে না, ‘আমি সমান’ এই বলে দেখে না, ‘আমি হীন’ এই বলে দেখে না; তারা যথাভূত অদর্শনকারী ছাড়া আর কী! অনিত্য, দুঃখ পরিবর্তনশীল বেদনাকে…. অনিত্য, দুঃখ পরিবর্তনশীল সংজ্ঞাকে…. অনিত্য, দুঃখ পরিবর্তনশীল সংস্কারকে…. অনিত্য, দুঃখ পরিবর্তনশীল বিজ্ঞানকে ‘আমি শ্রেষ্ঠ’ এই বলে দেখে না, ‘আমি সমান’ এই বলে দেখে না, ‘আমি হীন’ এই বলে দেখে না; তারা যথাভূত অদর্শনকারী ছাড়া আর কী!”
‘হে সোণ, তুমি কী মনে কর, রূপ নিত্য নাকি অনিত্য?’ ‘অনিত্য ভন্তে।’ ‘যা অনিত্য তা দুঃখ নাকি সুখ?’ ‘দুঃখ ভন্তে।’ “যা অনিত্য, দুঃখ ও পরিবর্তনশীল; সেটিকে ‘এটি আমার, এতে আমি, এটি আমার আত্মা’ বলে দর্শন করা উচিত কি?” ‘সত্যিই নয়, ভন্তে।’ ‘বেদনা নিত্য নাকি অনিত্য?’ ‘অনিত্য ভন্তে।’…. সংজ্ঞা…. সংস্কার…. বিজ্ঞান নিত্য নাকি অনিত্য?’ ‘অনিত্য ভন্তে।’ ‘যা অনিত্য তা দুঃখ নাকি সুখ?’ ‘দুঃখ ভন্তে।’ “যা অনিত্য, দুঃখ ও পরিবর্তনশীল; সেটিকে ‘এটি আমার, এতে আমি, এটি আমার আত্মা’ বলে দর্শন করা উচিত কি?” ‘সত্যিই নয়, ভন্তে।’
“হে সোণ, যা কিছু রূপ আছে-অতীত-অনাগত-বর্তমান, আধ্যাত্মিক বা বাহ্যিক, স্থূল বা সূক্ষ্ম, হীন বা উত্তম, দূরে বা নিকটের যাবতীয় রূপ সম্পর্কে ‘তা আমার নয়, আমি তাতে [অবস্থিত] নই, তা আমার আত্মা নয়’ এভাবে বিষয়টি যথাযথভাবে সম্যক প্রজ্ঞার দ্বারা দর্শন করা উচিত।”
“হে সোণ, এভাবে দর্শন করে শ্রুতবান আর্যশ্রাবক রূপের প্রতি নির্বেদপ্রাপ্ত হন, বেদনার প্রতি প্রতি নির্বেদপ্রাপ্ত হন, সংজ্ঞার প্রতি নির্বেদপ্রাপ্ত হন, সংস্কারের প্রতি নির্বেদপ্রাপ্ত হন, বিজ্ঞানের প্রতি নির্বেদপ্রাপ্ত হন। নিবের্দ হতে বিরাগ হন, বিরাগ হতে বিমুক্ত হন। বিমুক্তি হতে আমি বিমুক্ত হয়েছি বলে জ্ঞান হয়। তিনি প্রকৃষ্টরূপে জানতে পারেন, ‘আমার জন্মবীজ ক্ষীণ হয়েছে, ব্রহ্মচর্য জীবন উদ্যাপিত হয়েছে, করণীয় কার্য কৃত হয়েছে, এ জীবনে [আসবক্ষয়ের জন্য] অন্য কোনো করণীয় নেই।’” [সপ্তম সূত্র]
ব্যাখ্যা [১]
English