লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৭]

সিংহ সূত্র

শ্রাবস্তীতে উৎপত্তি :

‘হে ভিক্ষুগণ, মৃগরাজ সিংহ সন্ধ্যাকালীন গুহা হতে বের হলো, গুহা হতে বের হয়ে আড়মোড়া ভাঙল। আড়মোড়া ভেঙে চতুর্দিকে অবলোকন করল। চতুর্দিকে অবলোকন করে তিনবার সিংহনাদে গর্জন করল। তিনবার সিংহনাদে গর্জন করে প্রস্থান করল শিকারের লক্ষ্যে। হে ভিক্ষুগণ, যে-সমস্ত ইতরপ্রাণী মৃগরাজ সিংহের গর্জন শব্দ শোনে, তারা সকলে ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে কম্পমান হয়। গুহাশ্রিতরা [সাপ, বেজি] গুহায় প্রবেশ করে, জলাশ্রিতরা [মাছ, কচ্ছপ] জলে প্রবেশ করে, বনাশ্রিতরা [হস্তী, গোড়া, হরিণ] বনে প্রবেশ করে, আকাশে পাখিরা কুজনে রত হয়। হে ভিক্ষুগণ, যেই রাজহস্তী গ্রাম-নিগম-রাজধানীর মধ্যে দৃঢ়ভাবে চামড়ার লম্বা ফালি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়, সেও সেই বন্ধন ছিঁড়ে ফেলে ভীত হয়ে মলমূত্র ত্যাগ করে, অথবা এদিক-ওদিক পালায়ন করে। হে ভিক্ষুগণ, মৃগরাজ সিংহ ইতরপ্রাণীদের জন্য এরূপই মহাঋদ্ধিশালী, মহাশক্তিধর ও মহানুভবসম্পন্ন হয়। ’

“হে ভিক্ষুগণ, ঠিক তদ্রূপ যখন তথাগত অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ, বিদ্যাচারণ-সম্পন্ন, সুগত, লোকজ্ঞ, অনুত্তর, পুরুষদমনকারী সারথি, দেব-মানবের শাস্তা, বুদ্ধ, ভগবান জগতে উৎপন্ন হন। তিনি ধর্মদেশনা করেন―‘এই হলো রূপ, এই হলো রূপের সমুদয়, এই হলো রূপের অস্তগমন। এই হলো বেদনা…. এই হলো সংজ্ঞা…. এই হলো সংস্কার…. এই হলো বিজ্ঞান, এই হলো বিজ্ঞানের সমুদয়, এই হলো বিজ্ঞানের অস্তগমন। হে ভিক্ষুগণ, যেই দেবগণ দীর্ঘায়ুসম্পন্ন, রূপ-লাবণ্যসম্পন্ন, সুখবহুল, উচ্চ বিমানের [দেবপ্রাসাদে] মধ্যে দীর্ঘদিন অবস্থানকারী তারাও তথাগতের ধর্মদেশনা শুনে সকলেই ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে কম্পমান হয়। তারা বলে, ‘ওহে, আমরা নিত্য মনে করছি কিন্তু আমরা অনিত্য; ওহে, আমরা ধ্রুব মনে করছি কিন্তু আমরা অধ্রুব; ওহে, আমরা শাশ্বত মনে করছি কিন্তুআমরা অশাশ্বত। ওহে, আমরা অনিত্য, অধ্রুব, অশাশ্বত ও সৎকায়ের [পঞ্চস্কন্ধের] অন্তর্গত।’ হে ভিক্ষুগণ, তথাগত দেব-মনুষ্যলোকে এরূপই মহাঋদ্ধিশালী, মহাশক্তিধর ও মহানুভবসম্পন্ন হয়।”

ভগবান এরূপ বললেন। এরূপ বলে অতঃপর সুগত শাস্তা বললেন :

‘যখন বুদ্ধ অভিজ্ঞায় ধর্মচক্র করেন প্রবর্তন ,

সদেব-মনুষ্যলোকের শাস্তা অদ্বিতীয় পুরুষ।

সৎকায় নিরোধ আর সৎকায় উদ্ভব,

আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ হলো দুঃখ উপশমগামী।

যে দীর্ঘায়ু দেবতা, রূপ-লাবণ্যসম্পন্ন ও যশস্বী,

ভীত-সন্ত্রস্ত হয় যেমন সিংহের গর্জন শুনে মৃগ।

অবিজিত সৎকায়, ওহে আমরা হলাম অনিত্য,

তাদৃশ বিপ্রমুক্ত অর্হতের বাক্য শুনে।’ [ষষ্ঠ সূত্র]

ব্যাখ্যা [১]