লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৮]

অনুরাধ সূত্র

আমাকর্তৃক এরূপ শ্রুত হয়েছে―

একসময় ভগবান বৈশালীতে বিহার করছিলেন মহাবন কূটাগারশালায়। সে-সময় আয়ুষ্মান অনুরাধ ভগবানের কাছাকাছি অরণ্য কুটিরে বাস করতেন। তখন কিছুসংখ্যক অন্যতির্থীয় পরিব্রাজক যেখানে আয়ুষ্মান অনুরাধ আছেন সেখানে গেলেন। গিয়ে অনুরাধের সাথে কুশল বিনিময় করলেন। সৌজন্যতামূলক প্রীতিপূর্ণ বাক্যালাপ শেষ করে একপাশে বসলেন। একপাশে বসে সেই অন্যতির্থীয় পরিব্রাজকগুলো আয়ুষ্মান অনুরাধকে বললেন :

“আবুসো অনুরাধ, যিনি সেই তথাগত উত্তম পুরুষ, পরম পুরুষ, পরম-অবস্থাপ্রাপ্ত; উনাকে তথাগত হিসেবে বিজ্ঞাপিত [প্রজ্ঞাপিত] করার সময় এই চারি প্রকারে বিজ্ঞাপন [প্রজ্ঞাপন] করা যায় কি―[যেমন] (১) ‘তথাগত মৃত্যুর পর থাকেন কি’, অথবা (২) ‘তথাগত মৃত্যুর পর কি থাকেন না’, অথবা (৩) ‘তথাগত মৃত্যুর পর কি থাকেন, নাও থাকেন’, (৪) ‘তথাগত মৃত্যুর পর কি থাকেনও না, না থাকেনও না?’”

এভাবে ব্যক্ত হলে আয়ুষ্মান অনুরাধ সেই অন্যতির্থীয় পরিব্রাজকদের বললেন, “আবুসো, যিনি সেই তথাগত উত্তম পুরুষ, পরম পুরুষ, পরম-অবস্থাপ্রাপ্ত; উনাকে তথাগত হিসেবে বিজ্ঞাপিত করার সময় ‘তথাগত মৃত্যুর পর থাকেন কি’, অথবা ‘তথাগত মৃত্যুর পর কি থাকেন না’, অথবা ‘তথাগত মৃত্যুর পর কি থাকেন, নাও থাকেন’, ‘তথাগত মৃত্যুর পর কি থাকেনও না, না থাকেনও না’ এই চারি প্রকার ব্যতীত [অন্য প্রকারে] বিজ্ঞাপন করা যায়।” এরূপ ব্যক্ত হলে অন্যতির্থীয় পরিব্রাজকগুলো আয়ুষ্মান অনুরাধকে বললেন, ‘এই ভিক্ষু নতুন ও অধুনা প্রব্রজিত হবেন, আর যদি এই স্থবির হন তাহলে তিনি নিশ্চয়ই অজ্ঞ ও অনভিজ্ঞ হবেন।’ অতঃপর অন্যতির্থীয় পরিব্রাজকগুলো আয়ুষ্মান অনুরাধকে নতুন বলে ও অজ্ঞ বলে অপমান করে আসন হতে উঠে প্রস্থান করলেন।

তখন অন্যতির্থীয় পরিব্রাজকগুলো প্রস্থান করার অল্পক্ষণ পরে আয়ুষ্মান অনুরাধের এই চিন্তা উৎপন্ন হলো―‘যদি আমাকে সেই অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগুলো আরো অধিক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতেন তাহলে আমি সেই অন্যতির্থীয় পরিব্রাজকদের কিভাবে ব্যাখ্যা করলে আমার উক্তি ভগবানের উক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো। অমূলক উক্তির দ্বারা ভগবানকে নিন্দা করা হতো না, ধর্মের অনুধর্মই ব্যাখ্যা করা হতো। তা ধর্মানুসারে কোনো বাদানুবাদে কারণ হতো না?”

তখন আয়ুষ্মান অনুরাধ যেখানে ভগবান আছেন সেখানে গেলেন। গিয়ে…. একপাশে বসে আয়ুষ্মান অনুরাধ ভগবানকে বললেন, ‘ভন্তে, আমি এখানে ভগবানের কাছাকাছি অরণ্য কুটিরে বাস করছিলাম। ভন্তে, তখন কতিপয় অন্যতির্থীয় পরিব্রাজক যেখানে আমি আছি সেখানে গেলেন…. আমাকে বললেন, “আবুসো অনুরাধ, যিনি সেই তথাগত উত্তম পুরুষ, পরম পুরুষ, পরম-অবস্থাপ্রাপ্ত; উনাকে তথাগত হিসেবে বিজ্ঞাপিত [প্রজ্ঞাপিত] করার সময় এই চারি প্রকারে বিজ্ঞাপন [প্রজ্ঞাপন] করা যায় কি―[যেমন] ‘তথাগত মৃত্যুর পর থাকেন কি’, অথবা ‘তথাগত মৃত্যুর পর কি থাকেন না’, অথবা ‘তথাগত মৃত্যুর পর কি থাকেন, নাও থাকেন’, ‘তথাগত মৃত্যুর পর কি থাকেনও না, না থাকেনও না?’”

এভাবে ব্যক্ত হলে আমি সেই অন্যতির্থীয় পরিব্রাজকদের বললাম, “আবুসো, যিনি সেই তথাগত উত্তম পুরুষ, পরম পুরুষ, পরম-অবস্থাপ্রাপ্ত; উনাকে তথাগত হিসেবে বিজ্ঞাপিত করার সময় ‘তথাগত মৃত্যুর পর থাকেন কি’, অথবা ‘তথাগত মৃত্যুর পর কি থাকেন না’, অথবা ‘তথাগত মৃত্যুর পর কি থাকেন, নাও থাকেন’, ‘তথাগত মৃত্যুর পর কি থাকেনও না, না থাকেনও না’ এই চারি প্রকার ব্যতীত [অন্য প্রকারে] বিজ্ঞাপন করা যায়।” এরূপ ব্যক্ত হলে অন্যতির্থীয় পরিব্রাজকগুলো আমাকে বললেন, ‘এই ভিক্ষু নতুন ও অধুনা প্রব্রজিত হবেন, আর যদি এই স্থবির হন তাহলে তিনি নিশ্চয়ই অজ্ঞ ও অনভিজ্ঞ হবেন।’ অতঃপর অন্যতির্থীয় পরিব্রাজকগুলো আমাকে নতুন বলে ও অজ্ঞ বলে অপমান করে আসন হতে উঠে প্রস্থান করলেন।

তখন অন্যতির্থীয় পরিব্রাজকগুলো প্রস্থান করার অল্পক্ষণ পরেই আমার এই চিন্তা উৎপন্ন হলো―‘যদি আমাকে সেই অন্যতির্থীয় পরিব্রাজকগুলো আরো অধিক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতেন তাহলে আমি সেই অন্যতির্থীয় পরিব্রাজকদের কিভাবে ব্যাখ্যা করলে আমার উক্তি ভগবানের উক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো। অমূলক উক্তির দ্বারা ভগবানকে নিন্দা করা হতো না, ধর্মের অনুধর্মই ব্যাখ্যা করা হতো। তা ধর্মানুসারে কোনো বাদানুবাদে কারণ হতো না?”

‘হে অনুরাধ, তুমি এটি কী মনে কর, রূপ নিত্য নাকি অনিত্য?’ ‘অনিত্য ভন্তে।’ ‘যা অনিত্য তা দুঃখ নাকি সুখ?’ ‘দুঃখ ভন্তে।’ “যা অনিত্য, দুঃখ ও পরিবর্তনশীল; সেটিকে ‘এটি আমার, এতে আমি, এটি আমার আত্মা’ বলে দর্শন করা ঠিক কি?” ‘ঠিক নয়, ভন্তে।’ ‘বেদনা…. সংজ্ঞা…. সংস্কার…. বিজ্ঞান নিত্য নাকি অনিত্য?’ ‘অনিত্য ভন্তে’…. . এভাবে দর্শন করে…. এ জীবনে [আসবক্ষয়ের নিমিত্তে] অন্য কোনো করণীয় নেই’ এভাবে তিনি সম্যকরূপে জানতে পারেন।”

“হে অনুরাধ, তুমি এটি কী মনে কর, তুমি রূপকে ‘সত্ত্ব’ বলে মনে কর কি?” বেদনাকে…. সংজ্ঞাকে…. সংস্কারকে…. বিজ্ঞানকে ‘সত্ত্ব’ বলে মনে কর কি?” ‘ভন্তে, না, আমি মনে করি না।’

“হে অনুরাধ, তুমি এটি কী মনে কর, তুমি রূপের মধ্যে ‘সত্ত্ব’ বলে মনে কর কি?” ‘ভন্তে, না, আমি মনে করি না।’ “রূপ ব্যতীত ‘সত্ত্ব’ বলে মনে কর কি?” ‘ভন্তে, না, আমি মনে করি না।’ বেদনার মধ্যে…. বেদনা ব্যতীত…. সংজ্ঞার মধ্যে…. সংজ্ঞা ব্যতীত…. সংস্কারের মধ্যে…. সংস্কার ব্যতীত…. বিজ্ঞানের মধ্যে…. বিজ্ঞান ব্যতীত ‘সত্ত্ব’ বলে মনে কর কি?” ‘ভন্তে, না, আমি মনে করি না।’

“হে অনুরাধ, তুমি এটি কী মনে কর, রূপ…. বেদনা…. সংজ্ঞা…. সংস্কার…. বিজ্ঞানকে ‘সত্ত্ব’ বলে মনে কর কি?” ‘ভন্তে, না, আমি মনে করি না।”

“হে অনুরাধ, তুমি এটি কী মনে কর, অরূপ…. অবেদনা…. অসংজ্ঞী…. অসংস্কার…. অবিজ্ঞানকে ‘সত্ত্ব’ বলে মনে কর কি?” ‘ভন্তে, না, আমি মনে করি না।’

“হে অনুরাধ, এখানে তুমি তথাগতকে সত্যত ও যথার্থত প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি না করে [জ্ঞাত না হয়ে] তোমার পক্ষে এরূপ বলা কি উপযুক্ত হয়েছে―“আবুসো, যিনি সেই তথাগত উত্তম পুরুষ, পরম পুরুষ, পরম-অবস্থাপ্রাপ্ত; উনাকে তথাগত হিসেবে বিজ্ঞাপিত করার সময় ‘তথাগত মৃত্যুর পর থাকেন কি’, অথবা ‘তথাগত মৃত্যুর পর কি থাকেন না’, অথবা ‘তথাগত মৃত্যুর পর কি থাকেন, নাও থাকেন’, ‘তথাগত মৃত্যুর পর কি থাকেনও না, না থাকেনও না’ এই চারি প্রকার ব্যতীত [অন্য প্রকারে] বিজ্ঞাপন করা যায়।” ‘নিশ্চয় নয়, ভন্তে।’

‘সাধু সাধু অনুরাধ! হে অনুরাধ, আমি পূর্বেও এই সমস্ত দুঃখ এবং দুঃখের নিরোধ সম্পর্কে বর্ণনা করেছি। ’ [চতুর্থ সূত্র]

ব্যাখ্যা [১]