লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৯]

নদী সূত্র

শ্রাবস্তীতে উৎপত্তি :

‘হে ভিক্ষুগণ, মনে করে পর্বত হতে প্রবাহিত খরস্রোতে পতিত-অপতিত তৃণ-কাষ্ঠ-পাতাদি প্রবাহকারিণী, দূরগামী একটি নদী। তার উভয় তীরের মধ্যে যদি কাশফুল উৎপন্ন হয়, সেগুলো তাকে জড়ায়ে ধরে থাকতে পারে। যদি কুশতৃণ উৎপন্ন হয়, সেগুলো তাকে জড়ায়ে ধরে থাকতে পারে। যদি খাগড়া উৎপন্ন হয়, সেগুলো তাকে জড়ায়ে ধরে থাকতে পারে। যদি বীরণ [তৃণমূলবিশেষ] উৎপন্ন হয়, সেগুলো তাকে জড়ায়ে ধরে থাকতে পারে। যদি গাছপালা উৎপন্ন হয়, সেগুলো তাকে জড়ায়ে ধরে থাকতে পারে। একজন ব্যক্তি স্রোতে বয়ে চলার সময় যদি কাশকে হাতের মুষ্টিতে ধারণ করে, তবে সেটি ভেঙে যেতে পারে। সে সে-কারণে দুঃখদুর্দশা সংঘটিত হতে পারে। যদি কুশতৃণ, খাগড়া, বীরণ, গাছপালাকে হাতের মুষ্টিতে ধারণ করে, তবে সেটি ভেঙে যেতে পারে। সে সে-কারণে দুঃখদুর্দশা ভোগ করতে পারে। হে ভিক্ষুগণ, ঠিক তদ্রূপ এখানে অশ্রুতবান পৃথগ্‌জন [সাধারণ লোক] আর্যদের অদর্শনকারী, আর্যধর্মে অজ্ঞ, আর্যধর্মে অবিনীত, সৎপুরুষদের অদর্শনকারী, সৎপুরুষধর্মে অজ্ঞ, সৎপুরুষধর্মে অবিনীত, সে রূপকে আত্মা বলে দর্শন করে, রূপবানকে আত্মা হিসেবে, আত্মার মাঝে রূপকে, অথবা রূপের মাঝে আত্মাকে দর্শন করে। তার সেই রূপ ধ্বংস হয়। সে সে-কারণে দুঃখদুর্দশা ভোগ করতে পারে। বেদনা…. সংজ্ঞা…. সংস্কার…. ‘বিজ্ঞানকে আত্মাকে দেখে, আত্মাকে বিজ্ঞানবান দেখে, আত্মায় বিজ্ঞান দেখে কিংবা বিজ্ঞানে আত্মা দর্শন করে। তার সেই বিজ্ঞান ধ্বংস হয়। সে সে-কারণে দুঃখদুর্দশা ভোগ করতে পারে। হে ভিক্ষুগণ, তোমরা এটি কী মনে কর, রূপ নিত্য নাকি অনিত্য?’ ‘অনিত্য ভন্তে’ ‘বেদনা…. সংজ্ঞা…. সংস্কার…. বিজ্ঞান নিত্য নাকি অনিত্য?’ ‘অনিত্য ভন্তে’…. এভাবে দর্শন করে…. এ জীবনে [নির্বাণ লাভের জন্য] আর অন্য করণীয় নেই’ বলে প্রকৃষ্টরূপে জানতে পারেন।” [প্রথম সূত্র]

ব্যাখ্যা [১]