লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৭]

গোবর পিণ্ড সূত্র

শ্রাবস্তীতে উৎপত্তি :

একপাশে উপবিষ্ট হয়ে সেই ভিক্ষু ভগবানকে বললেন, ‘ভন্তে, এমন কোনো রূপ আছে কি যেই রূপ নিত্য, ধ্রুব, শাশ্বত, অপরিবর্তনধর্মী, চিরকাল একইরূপে [নিত্যরূপে] বিদ্যমান থাকে? ভন্তে, এমন কোনো বেদনা আছে কি যেই বেদনা নিত্য, ধ্রুব, শাশ্বত, অপরিবর্তনধর্মী, চিরকাল একইরূপে বিদ্যমান থাকে? ভন্তে, এমন কোনো সংজ্ঞা আছে কি যেই সংজ্ঞা নিত্য, ধ্রুব, শাশ্বত, অপরিবর্তনধর্মী, চিরকাল একইরূপে বিদ্যমান থাকে? ভন্তে, এমন কোনো সংস্কার আছে কি যেই সংস্কার নিত্য, ধ্রুব, শাশ্বত, অপরিবর্তনধর্মী, চিরকাল একইরূপে বিদ্যমান থাকে? ভন্তে, এমন কোনো বিজ্ঞান আছে কি যেই বিজ্ঞান নিত্য, ধ্রুব, শাশ্বত, অপরিবর্তনধর্মী, চিরকাল একইরূপে বিদ্যমান থাকে?’

‘হে ভিক্ষু, এমন কোনো রূপ নেই যেই রূপ নিত্য, ধ্রুব, শাশ্বত, অপরিবর্তনধর্মী, চিরকাল একইরূপে বিদ্যমান থাকে। হে ভিক্ষু, এমন কোনো বেদনা নেই…. হে ভিক্ষু, এমন কোনো সংজ্ঞা নেই…. হে ভিক্ষু, এমন কোনো সংস্কার নেই…. হে ভিক্ষু, এমন কোনো বিজ্ঞান নেই যেই বিজ্ঞান নিত্য, ধ্রুব, শাশ্বত, অপরিবর্তনধর্মী, চিরকাল একইরূপে বিদ্যমান থাকে?

অতঃপর ভগবান সামান্য গোবরের পিণ্ড হস্তে নিয়ে সেই ভিক্ষুকে বললেন, ‘হে ভিক্ষু, এতটুকুমাত্রও প্রাণীরূপে পুনরায় জন্মগ্রহণকারী সত্ত্ব নেই যা নিত্য, ধ্রুব, শাশ্বত, অপরিবর্তনধর্মী, চিরকাল একইরূপে বিদ্যমান থাকে। হে ভিক্ষু, যদি এতটুকুমাত্রও প্রাণীরূপে পুনরায় জন্মগ্রহণকারী সত্ত্ব নিত্য, ধ্রুব, শাশ্বত, অপরিবর্তনধর্মী থাকত তাহলে সম্যকরূপে দুঃখক্ষয়ের নিমিত্তে এই ব্রহ্মচর্যবাসের প্রবর্তনের প্রয়োজন ছিল না। হে ভিক্ষু, যেহেতু এতটুকুমাত্রও প্রাণীরূপে পুনরায় জন্মগ্রহণকারী সত্ত্ব নিত্য, ধ্রুব, শাশ্বত, অপরিবর্তধর্মী নেই, সেহেতু সম্যকরূপে দুঃখক্ষয়ের নিমিত্তে এই ব্রহ্মচর্যবাসের প্রবর্তনের প্রয়োজন হয়েছে।’

‘হে ভিক্ষু, অতীতে আমি রাজপদে অভিষিক্ত ক্ষত্রিয় রাজা ছিলাম।

হে ভিক্ষু, রাজপদে অভিষিক্ত ক্ষত্রিয়ের রাজা হিসেবে আমার রাজধানী কুশাবতী প্রমুখ চুরাশি হাজার নগর ছিল।

হে ভিক্ষু, রাজপদে অভিষিক্ত ক্ষত্রিয়ের রাজা হিসেবে আমার ধর্মপ্রাসাদ প্রমুখ চুরাশি হাজার প্রাসাদ ছিল।

হে ভিক্ষু, রাজপদে অভিষিক্ত ক্ষত্রিয়ের রাজা হিসেবে আমার মহাব্যূহ কূটাগার প্রমুখ চুরাশি হাজার কূটাগার [চূড়াযুক্ত গৃহ] ছিল।

হে ভিক্ষু, রাজপদে অভিষিক্ত ক্ষত্রিয়ের রাজা হিসেবে আমার চুরাশি হাজার পালঙ্ক ছিল, যা দন্তময়, সারময়, সুবর্ণময়, ‘গোণক’ নামীয় দীর্ঘ মেষলোমে প্রস্তুত পশমের কম্বল বিস্তৃত এবং ‘পটিক’ নামীয় ঊর্ণাময় শ্বেত আস্তরণে আবৃত, ‘পটলিক’ নামীয় ঘন সূচীকর্মযুক্ত ঊর্ণাময় আস্তরণে আবৃত, বিছানার চাদর বিস্তৃত, শ্রেষ্ঠ কদলীমৃগ-প্রত্যাস্তরণ-সম্পন্ন, উত্তম আচ্ছাদন সহ এবং উভয়পার্শ্বে লোহিত উপাধানবিশিষ্ট।

হে ভিক্ষু, রাজপদে অভিষিক্ত ক্ষত্রিয়ের রাজা হিসেবে আমার সুবর্ণালংকার, সুবর্ণধ্বজা, সুবর্ণজাল আচ্ছাদিত, উপোসথ নাগরাজ প্রমুখ চুরাশি হাজার নাগ [হস্তী] ছিল।

হে ভিক্ষু, রাজপদে অভিষিক্ত ক্ষত্রিয়ের রাজা হিসেবে আমার সুবর্ণালংকার, সুবর্ণধ্বজা, সুবর্ণজাল আচ্ছাদিত, বলাহক অশ্বরাজ প্রমুখ চুরাশি হাজার অশ্বরাজ ছিল।

হে ভিক্ষু, রাজপদে অভিষিক্ত ক্ষত্রিয়ের রাজা হিসেবে আমার সুবর্ণালংকার, সুবর্ণধ্বজা, সুবর্ণজাল আচ্ছাদিত, বৈজয়ন্ত রথ প্রমুখ চুরাশি হাজার রথ ছিল।

হে ভিক্ষু, রাজপদে অভিষিক্ত ক্ষত্রিয়ের রাজা হিসেবে আমার মণিরত্ন প্রমুখ চুরাশি হাজার মণি ছিল।

হে ভিক্ষু, রাজপদে অভিষিক্ত ক্ষত্রিয়ের রাজা হিসেবে আমার সুভদ্রাদেবী প্রমুখ চুরাশি হাজার স্ত্রী ছিল।

হে ভিক্ষু, রাজপদে অভিষিক্ত ক্ষত্রিয়ের রাজা হিসেবে আমার নির্ভরশীল পরিণায়করত্ন প্রমুখ চুরাশি হাজার ক্ষত্রিয় ছিল।

হে ভিক্ষু, রাজপদে অভিষিক্ত ক্ষত্রিয়ের রাজা হিসেবে আমার দুকুল-বন্ধন ও কংসভাণ্ডসহ চুরাশি হাজার গাভী ছিল।

হে ভিক্ষু, রাজপদে অভিষিক্ত ক্ষত্রিয়ের রাজা হিসেবে আমার চুরাশি হাজার কোটি সূক্ষ্ম-ক্ষেীম, সূক্ষ্ম-কৌশেয়, সূক্ষ্ম-কম্বল, সূক্ষ্ম-কার্পাস বস্ত্র ছিল।

হে ভিক্ষু, রাজপদে অভিষিক্ত ক্ষত্রিয়ের রাজা হিসেবে আমার সন্ধ্যায় ও ভোরে আহার্য পরিবেশনের জন্য চুরাশি হাজার স্থালিপাক [রন্ধন করার দ্রব্যপূর্ণ হাড়ি বা থালি] ছিল।’

‘হে ভিক্ষু, ওই সকল চুরাশি হাজার নগরের মধ্যে একটি ছিল যেখানে আমি তখন বাস করতাম, সেটি হলো রাজধানী কুশাবতী।

হে ভিক্ষু, ওই সকল চুরাশি হাজার প্রসাদের মধ্যে একটি ছিল যেখানে আমি তখন বাস করতাম, সেটি হলো ধর্মপ্রাসাদ।

হে ভিক্ষু, ওই সকল চুরাশি হাজার কূটাগারের মধ্যে একটি ছিল যেখানে আমি তখন বাস করতাম, সেটি হলো মহাব্যূহ কূটাগার।

হে ভিক্ষু, ওই সকল চুরাশি হাজার পালঙ্কের মধ্যে একটি ছিল যেটি আমি তখন পরিভোগ করতাম, সেই পালঙ্ক হলো দন্তময়, সারময়, সুবর্ণময়, রৌপ্যময়।

হে ভিক্ষু, ওই সকল চুরাশি হাজার নাগের [হস্তীর] মধ্যে একটি ছিল যেখানে আমি তখন আরোহণ করতাম, সেই নাগ হলো উপোসথ নামক নাগরাজা।

হে ভিক্ষু, ওই সকল চুরাশি হাজার অশ্বের মধ্যে একটি ছিল যেখানে আমি তখন আরোহণ করতাম, সেই অশ্ব হলো বলাহক নামক অশ্বরাজা।

হে ভিক্ষু, ওই সকল চুরাশি হাজার রথের মধ্যে একটি ছিল যেখানে আমি তখন আরোহণ করতাম, সেই রথ হলো বৈজয়ন্ত রথ।

হে ভিক্ষু, ওই সকল চুরাশি হাজার স্ত্রী মধ্যে একজন ছিল যে তখন আমার সেবা-শুশ্রূষায় রত থাকত, সেই স্ত্রী হলো ক্ষত্রিয়াণী অথবা বেলামিকানী [ক্ষত্রিয় ব্রাহ্মণীর বা ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়াণীর গর্ভ হতে জাত]।

হে ভিক্ষু, ওই সকল চুরাশি হাজার কোটি বস্ত্রের মধ্যে একটি ছিল যেটি আমি তখন পরিধান করতাম, সেই বস্ত্রযুগল হলো সূক্ষ্ম-ক্ষেীম, সূক্ষ্ম-কৌশেয়, সূক্ষ্ম-কম্বল, সূক্ষ্ম-কার্পাস নির্মিত।

হে ভিক্ষু, ওই সকল চুরাশি হাজার স্থালিপাকের মধ্যে একটি স্থালিপাক ছিল যেখানে আমি তখন নালি পরিমাণ উৎকৃষ্ট অন্ন ভোজন করতাম এবং সূপব্যঞ্জন পান করতাম।

হে ভিক্ষু, ওই সকল সংস্কার এখন অতীত, নিরুদ্ধ ও বিপরিণত। হে ভিক্ষু, ঠিক তদ্রূপ সংস্কারমাত্রই অনিত্য। হে ভিক্ষু, সংস্কারমাত্রই অধ্রুব [জলবুদবুদতুল্যধ্রুববিরহিত]। হে ভিক্ষু, সংস্কারমাত্রই অবিশ্বাস্য [স্বপ্নতুল্য]। অতএব, হে ভিক্ষু, সমস্ত সংস্কারের প্রতি বিরাগ উৎপাদন করা উচিত, অনাসক্ত হওয়া উচিত, বিমুক্ত হওয়া উচিত। [চতুর্থ সূত্র]

ব্যাখ্যা [১]