লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৫]

সেই আত্মা সূত্র

শ্রাবস্তী নিদান :

“হে ভিক্ষুগণ কিসের উপস্থিতিতে, কিরূপ তৃষ্ণার কারণে এবং কিসের প্রতি অনুরক্ত হয়ে এরূপ মিথ্যাদৃষ্টি উৎপন্ন হয় যে, ‘সেই আত্মা, সেই জগৎ নিত্য, ধ্রুব এবং শাশ্বত। সেই আমি মৃত্যুর পর অপরিবর্তিত স্বভাবে থাকিব?’” ভন্তে, ভগবানই আমাদের মূল….

ভগবান এরূপ বললেন :

“হে ভিক্ষুগণ, রূপের উপস্থিতিতে, রূপতৃষ্ণার কারণে এবং রূপের প্রতি অনুরক্ত হয়ে এরূপ মিথ্যাদৃষ্টি উৎপন্ন হয় যে, ‘সেই আত্মা, সেই জগৎ নিত্য, ধ্রুব এবং শাশ্বত। সেই আমি মৃত্যুর পর অপরিবর্তিত স্বভাবে থাকিব।’ বেদনার উপস্থিতিতে…. সংজ্ঞার উপস্থিতিতে…. সংস্কারের উপস্থিতিতে…. বিজ্ঞানের উপস্থিতিতে, বিজ্ঞান তৃষ্ণার কারণে এবং বিজ্ঞানের প্রতি অনুরক্ত হয়ে এরূপ মিথ্যাদৃষ্টি উৎপন্ন হয়, ‘সেই আত্মা, সেই জগৎ নিত্য, ধ্রুব এবং শাশ্বত। সেই আমি মৃত্যুর পর অপরিবর্তিত স্বভাবে থাকব’।”

হে ভিক্ষুগণ, তোমরা কী মনে কর, “রূপ নিত্য নাকি অনিত্য?” “অনিত্য ভন্তে।”…. “বেদনা নিত্য নাকি অনিত্য?”…. “সংজ্ঞা নিত্য নাকি অনিত্য?”…. “সংস্কার নিত্য নাকি অনিত্য?”…. “বিজ্ঞান নিত্য নাকি অনিত্য?” “অনিত্য ভন্তে।” “যা অনিত্য তা দুঃখ নাকি সুখ?” “দুঃখ ভন্তে।” “যা অনিত্য, দুঃখ, বিপরিণামধর্মী; তার প্রতি বিতৃষ্ণা উৎপাদনে কি আর এরূপ মিথ্যাদৃষ্টি উৎপন্ন হবে যে, ‘সেই আত্মা, সেই জগৎ নিত্য, ধ্রুব এবং শাশ্বত। সেই আমি মৃত্যুর পর অপরিবর্তিত স্বভাবে থাকব’।” “না ভন্তে, এরূপ হবে না।”

“যা এরূপ দৃষ্ট, শ্রুত, অনুমিত, জ্ঞাত, প্রাপ্ত, নির্ণীত, ভাবিত, বিবেচিত তা নিত্য নাকি অনিত্য?” “অনিত্য ভন্তে।” “যা অনিত্য তা দুঃখ নাকি সুখ?” “দুঃখ ভন্তে।” “যা অনিত্য, দুঃখ, বিপরিণামধর্মী; তার প্রতি বিতৃষ্ণা উৎপাদনে কি আর এরূপ মিথ্যাদৃষ্টি উৎপন্ন হবে যে, ‘সেই আত্মা, সেই জগৎ নিত্য, ধ্রুব এবং শাশ্বত। সেই আমি মৃত্যুর পর অপরিবর্তিত স্বভাবে থাকব?’” “না ভন্তে, এরূপ হবে না।”

“হে ভিক্ষুগণ, যেহেতু আর্যশ্রাবকের এই বিষয়াদির প্রতি শঙ্কা প্রহীন হয়; যথা : দুঃখে শঙ্কা প্রহীন হয়, দুঃখ সমুদয়ে শঙ্কা প্রহীন হয়, দুঃখ নিরোধে শঙ্কা প্রহীন হয়, দুঃখ নিরোধগামিনী প্রতিপদায় শঙ্কা প্রহীন হয়, সেহেতু আর্যশ্রাবক স্রোতাপন্ন, অবিনিপাতধর্মে নিয়ত সম্বোধিপরায়ণ বলে অভিহিত হন।” [তৃতীয় সূত্র]

ব্যাখ্যা [১]