শ্রাবস্তী নিদান। সেই সময়ে পঞ্চকামগুণে মুগ্ধ, ভূষিত ও পঞ্চকামগুণ পরিচর্যাকারী কোশলরাজ প্রসেনজিৎ প্রমুখ পাঁচজন রাজার মধ্যে আলোচনা প্রসঙ্গে কথা উঠল, ‘কামভোগের মধ্যে কোনটি শ্রেষ্ঠ?’ কোনো কোনো রাজা বললেন, ‘কামভোগের মধ্যে রূপ শ্রেষ্ঠ।’ কোনো কোনো রাজা বললেন, ‘কামভোগের মধ্যে শব্দ শ্রেষ্ঠ।’ কোনো কোনো রাজা বললেন, ‘কামভোগের মধ্যে গন্ধ শ্রেষ্ঠ।’ কোনো কোনো রাজা বললেন, ‘কামভোগের মধ্যে রস উত্তম।’ আবার কোনো কোনো রাজা বললেন, ‘কামভোগের মধ্যে স্পর্শ শ্রেষ্ঠ।’ তাঁরা কেউ পরস্পরকে সন্তুষ্ট করতে পারলেন না।
তখন কোশলরাজ প্রসেনজিৎ সেই রাজাদের বললেন, ‘বন্ধুগণ, চলুন আমরা ভগবানের কাছে উপস্থিত হই; উপস্থিত হয়ে ভগবানকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করি। ভগবান আমাদের যেরূপ ব্যাখ্যা করবেন আমরা সেরূপে ধারণ করব।’ ‘বন্ধু, তা-ই হোক’ বলে সেই রাজাগণ কোশলরাজ প্রসেনজিতের প্রস্তাবে সম্মতি দিলেন।
অনন্তর প্রসেনজিৎ প্রমুখ সেই পাঁচজন রাজা ভগবানের কাছে উপস্থিত হলেন। উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদনপূর্বক একান্তে উপবেশন করলেন। একান্তে উপবিষ্ট কোশলরাজ প্রসেনজিৎ ভগবানকে বললেন, “ভন্তে, পঞ্চকামগুণে মুগ্ধ, ভূষিত ও পঞ্চকামগুণ পরিচর্যাকারী আমাদের পাঁচজন রাজার মধ্যে আলোচনা প্রসঙ্গে এরূপ কথা উঠেছিল, ‘কামভোগের মধ্যে কোনটি শ্রেষ্ঠ?’ কোনো কোনো রাজা বললেন, ‘কামভোগের মধ্যে রূপ শ্রেষ্ঠ।’ কোনো কোনো রাজা বললেন, ‘কামভোগের মধ্যে শব্দ শ্রেষ্ঠ।’ কোনো কোনো রাজা বললেন, ‘কামভোগের মধ্যে গন্ধ শ্রেষ্ঠ।’ কোনো কোনো রাজা বললেন, ‘কামভোগের মধ্যে রস উত্তম।’ আবার কোনো কোনো রাজা বললেন, ‘কামভোগের মধ্যে স্পর্শ শ্রেষ্ঠ।’ ভন্তে, কামভোগের মধ্যে কোনটি শ্রেষ্ঠ?’
‘হে মহারাজ, মনোজ্ঞপূর্ণকেই (নিজ চিত্তপ্রসাদ) আমি পঞ্চকামগুণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলি। মহারাজ, যে রূপ একজনের মনোজ্ঞ হয়, সেই রূপ অন্যজনের অপ্রিয় হয়। যে যেই রূপে পরিতৃপ্ত হয়, মনোবাসনা পরিপূর্ণ হয়; সে সেই রূপ হতে উৎকৃষ্টতর, উন্নততর অন্য কোনো রূপ কামনা করে না। সে রূপ তার কাছে পরম হয়, অনুত্তর হয়।
মহারাজ, যে শব্দ একজনের মনোজ্ঞ হয়, সেই শব্দ অন্যজনের অপ্রিয় হয়। যে যেই শব্দে পরিতৃপ্ত হয়, মনোবাসনা পরিপূর্ণ হয়; সে সেই শব্দ হতে উৎকৃষ্টতর, উন্নততর অন্য কোনো শব্দ কামনা করে না। সে শব্দ তার কাছে পরম হয়, অনুত্তর হয়।
মহারাজ, যে গন্ধ একজনের মনোজ্ঞ হয়, সেই গন্ধ অন্যজনের অপ্রিয় হয়। যে যেই গন্ধে পরিতৃপ্ত হয়, মনোবাসনা পরিপূর্ণ হয়; সে সেই গন্ধ হতে উৎকৃষ্টতর, উন্নততর অন্য কোনো গন্ধ কামনা করে না। সে গন্ধ তার কাছে পরম হয়, অনুত্তর হয়।
মহারাজ, যে রস একজনের মনোজ্ঞ হয়, সেই রস অন্যজনের অপ্রিয় হয়। যে যেই রসে পরিতৃপ্ত হয়, মনোবাসনা পরিপূর্ণ হয়; সে সেই রসে হতে উৎকৃষ্টতর, উন্নততর অন্য কোনো রস কামনা করে না। সে রস তার কাছে পরম হয়, অনুত্তর হয়।
মহারাজ, যে স্পর্শ একজনের মনোজ্ঞ হয়, সেই স্পর্শ অন্যজনের অপ্রিয় হয়। যে যেই স্পর্শে পরিতৃপ্ত হয়, মনোবাসনা পরিপূর্ণ হয়; সে সেই স্পর্শ হতে উৎকৃষ্টতর, উন্নততর অন্য কোনো স্পর্শ কামনা করে না। সে স্পর্শ তার কাছে পরম হয়, অনুত্তর হয়।’
সে-সময়ে চন্দনঙ্গলিক উপাসক সেই পরিষদে উপবিষ্ট ছিলেন। তখন চন্দনঙ্গলিক উপাসক আসন হতে উঠে উত্তরীয় বস্ত্র একাংশ করলেন এবং ভগবানের দিকে অঞ্জলিবদ্ধ প্রণাম নিবেদন করে ভগবানকে বললেন, ‘ভগবান, আমার কিছু বলতে ইচ্ছা করছে; সুগত, আমার কিছু বলতে ইচ্ছা করছে।’ ভগবান বললেন, ‘হে চন্দনঙ্গলিক, (তোমার ইচ্ছা) প্রকাশ কর।’
তখন চন্দনঙ্গলিক উপাসক ভগবানের সম্মুখে তদনুরূপ গাথায় গুণগান গাইলেন, ‘সকালে প্রস্ফুটিত সৌরভযুক্ত লালপদ্ম যেমন অতীব সুগন্ধযুক্ত হয়; তেমনি মুনিশ্রেষ্ঠ বুদ্ধকে দেখুন, তিনি আকাশে উজ্জ্বল সূর্যের ন্যায় (গুণসৌরভে) দীপ্তিমান।’
অনন্তর পাঁচজন রাজা চন্দনঙ্গলিক উপাসককে পাঁচটি উত্তরীয় বস্ত্র দান দিলেন। চন্দনঙ্গলিক উপাসক পুনরায় সেই পাঁচটি উত্তরীয় বস্ত্র ভগবানকে দান করলেন।
ব্যাখ্যা [২]
English
Русский