লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২০]

ধনুর্বিদ্যা সূত্র

শ্রাবস্তী নিদান। একান্তে উপবিষ্ট কোশলরাজ প্রসেনজিৎ ভগবানকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ভন্তে, কাকে দান দেয়া উচিত?’ ‘মহারাজ, যার প্রতি চিত্ত প্রসন্ন হয়।’ ‘ভন্তে, কাকে দান দিলে মহাফল লাভ হয়?’ “মহারাজ, ‘কাকে দান দেয়া উচিত? ও কাকে দান দিলে মহাফল লাভ হয়?’ এই দুটি প্রশ্নের ভিন্নতা আছে। মহারাজ, শীলবান ব্যক্তিকে দান দিলেই মহাফল লাভ হয়, দুঃশীল ব্যক্তিকে দান দিলে সেরূপ ফল হয় না। মহারাজ, তাহলে আমি আপনাকেই প্রতিপ্রশ্ন করি, আপনার খুশীমত উত্তর দিবেন। মহারাজ, তা আপনি কী মনে করেন, ধরুন এখানে আপনার যুদ্ধ সমুপস্থিত হলো, সংগ্রাম শুরু হলো। তখন এই যুদ্ধে অংশ নিতে অশিক্ষিত, অদক্ষ, অযোগ্য, ধনুর্বিদ্যায় অনিপুণ, ভীত, শঙ্খিত, ত্রাসিত ও পলায়নকারী ক্ষত্রিয় কুমার আগমন করে। আপনি কি তাকে পছন্দ করবেন? তাদৃশ ব্যক্তিকে দিয়ে কি আপনি সফল হবেন?” ‘না ভন্তে, আমি সেই ব্যক্তিকে পছন্দ করবো না, তাকে দিয়ে আমি সফলও হবো না।’ ‘মহারাজ, ধরুন এই যুদ্ধে অংশ নিতে অশিক্ষিত… ব্রাহ্মণ কুমার আগমন করে… বৈশ্য কুমার আগমন করে… শূদ্র কুমার আগমন করে… তাদৃশ ব্যক্তিকে দিয়ে আমি সফলও হবো না।’

‘মহারাজ, তা আপনি কী মনে করেন, ধরুন এখানে আপনার যুদ্ধ সমুপস্থিত হলো, সংগ্রাম শুরু হলো। তখন এই যুদ্ধে অংশ নিতে সুশিক্ষিত, দক্ষ, যোগ্য, ধনুর্বিদ্যায় নিপুণ, নির্ভীক, সাহসী, ভয়শূন্য ও অপলায়নকারী ক্ষত্রিয় কুমার আগমন করে। আপনি কি তাকে পছন্দ করবেন? তাদৃশ ব্যক্তিকে দিয়ে কি আপনি কৃতকার্য হবেন?’ ‘হ্যাঁ ভন্তে, আমি সেই ব্যক্তিকে পছন্দ করবো, তাকে দিয়ে আমি কৃতকার্যও হবো।’ ‘মহারাজ, ধরুন এই যুদ্ধে অংশ নিতে সুশিক্ষিত… ব্রাহ্মণ কুমার আগমন করে… বৈশ্য কুমার আগমন করে… সুশিক্ষিত, দক্ষ, যোগ্য, ধনুর্বিদ্যায় নিপুণ, নির্ভীক, সাহসী, ভয়শূন্য ও অপলায়নকারী শূদ্র কুমার আগমন করে। আপনি কি তাকে পছন্দ করবেন? তাদৃশ ব্যক্তিকে দিয়ে কি আপনি কৃতকার্য হবেন?’ ‘হ্যাঁ ভন্তে, আমি সেই ব্যক্তিকে পছন্দ করবো, তাকে দিয়ে আমি কৃতকার্যও হবো।’

‘মহারাজ, তেমনি কোনো ব্যক্তি যদি যেকোনো কুলাগার হতে অনাগারিকে প্রব্রজিত হয়, আর সে যদি পঞ্চাঙ্গ-প্রহীন ও পঞ্চাঙ্গে বিমণ্ডিত হয়; তাকে দান দিলেই মহাফল লাভ হয়। তার কোন পঞ্চাঙ্গ প্রহীন হয়? কামচ্ছন্দ, ব্যাপাদ, স্ত্যানমিদ্ধ, ঔদ্ধত্য-কৌকৃত্য ও বিচিকিৎসা প্রহীন হয়। তার এই পঞ্চাঙ্গ প্রহীন হয়। সে কোন পঞ্চাঙ্গে বিমণ্ডিত হয়?অশৈক্ষ্য শীলস্কন্ধে, অশৈক্ষ্য সমাধিস্কন্ধে, অশৈক্ষ্য প্রজ্ঞাস্কন্ধে, অশৈক্ষ্য বিমুক্তিস্কন্ধে ও অশৈক্ষ্য বিমুক্তি-জ্ঞানদর্শনস্কন্ধে বিমণ্ডিত হয়। সে এই পঞ্চাঙ্গে বিমণ্ডিত হয়। এই পঞ্চাঙ্গ-প্রহীন ও পঞ্চাঙ্গে বিমণ্ডিত ভিক্ষুকে দান দিলে মহাফল লাভ হয়।’ ভগবান এরূপ বললেন…।

‘ধনুর্বিদ্যায় সুদক্ষ, বলবান, বীর্যসম্পন্ন ব্যক্তিকেই রাজা যুদ্ধের জন্য পছন্দ করেন, শুধু বংশমর্যাদায় কাপুরুষকে সমর্থন করেন না। সেরূপ যার কাছে ক্ষমাগুণ ও বিনীতস্বভাবধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই অর্হত্ত্বপ্রাপ্ত মেধাবীকে নীচবংশজাত হলেও পূজা করা উচিত। রমণীয় আশ্রম নির্মাণ করে বহুশ্রুতদের বসবাসের ব্যবস্থা করবে। মর্বভূমিতে জলচ্ছত্র তৈরি করবে, দুর্গম পথে সোপান নির্মাণ করবে। ঋজুমার্গে পতিত ব্যক্তিদের বিপ্রসন্ন চিত্তে অন্ন, পানীয়, খাদ্যবস্তু, বস্ত্র ও শয্যাসনাদি দান করবে। বিদ্যুৎমালাসমন্বিত শত কোণযুক্ত মেঘ যেমন গর্জনপূর্বক পৃথিবীতে বর্ষণ করে স্থল ও নিম্নভূমি পরিপূর্ণ করে; তেমনি শ্রদ্ধাসম্পন্ন, শ্রুতবান, পণ্ডিত ব্যক্তি ভোজনের সুব্যবস্থা করে ভিক্ষাজীবীদের অন্ন-পানে পরিতৃপ্ত করে। আনন্দিত হয়ে দান বিস্তৃত করে (বা দানীয় বস্তু বিলিয়ে দেয়), এবং দেববৃষ্টি গর্জনের ন্যায় ‘দান দাও’ ‘দান দাও’ বলে বলতে থাকে; (এতে অর্জিত) সেই বিপুল পুণ্যধারা দাতার ওপর বর্ষিত হয়।’

ব্যাখ্যা [২]