লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৮]

যজ্ঞ সূত্র

শ্রাবস্তী নিদান। সে-সময়ে কোশলরাজ প্রসেনজিতের মহাযজ্ঞ আয়োজন হয়। পঞ্চশত বৃষভ, পঞ্চশত বৎসতর (দামড়া গোশাবক), পঞ্চশত বৎসতরী, পঞ্চশত ছাগল এবং পঞ্চশত ভেড়া যজ্ঞের জন্য যূপকাষ্ঠে নীত হচ্ছে। দণ্ডে ভীত, ভয়ে ত্রাসিত দাস, দূত ও কর্মচারীরা অশ্রুমুখে রোদন করতে করতে নিজ নিজ কর্তব্য-কর্মগুলো সম্পাদন করছে।

তখন বহুসংখ্যক ভিক্ষু পূর্বাহ্ণ সময়ে চীবর পরিধান করে পাত্র-চীবর (সঙ্ঘাটি) নিয়ে শ্রাবস্তীতে পিণ্ডার্থে প্রবেশ করলেন। পিণ্ডচারণ করে ভোজনের পর ভগবানের কাছে উপস্থিত হলেন। উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদনপূর্বক একান্তে উপবেশন করলেন। একান্তে উপবিষ্ট সেই ভিক্ষুগণ ভগবানকে বললেন, ‘ভন্তে, কোশলরাজ প্রসেনজিতের মহাযজ্ঞ আয়োজন হয়েছে। সেখানে পঞ্চশত বৃষভ, পঞ্চশত বৎসতর, পঞ্চশত বৎসতরী, পঞ্চশত ছাগল এবং পঞ্চশত ভেড়া যজ্ঞের জন্য যূপকাষ্ঠে নীত হচ্ছে। দণ্ডে ভীত, ভয়ে ত্রাসিত দাস, দূত ও কর্মচারীরা অশ্রুমুখে রোদন করতে করতে নিজ নিজ কর্তব্য-কর্মগুলো সম্পাদন করছে।’

অনন্তর ভগবান এর অর্থ জ্ঞাত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এই গাথাগুলো ভাষণ করলেন :

‘অশ্বমেধ (অশ্ববলি), পুরুষমেধ (পুরুষবলি), শম্যপ্রাশ (এক প্রকার বলি দান), বাজপেয় (বা ঘৃতাহুতি যজ্ঞ) ও নিরর্গল মহোৎসবে মহাযজ্ঞ সম্পাদন করলেও তা কখনো ফলপ্রসূ হয় না।’

‘যে যজ্ঞে ছাগল, ভেড়া, গরু প্রভৃতি প্রাণী নির্মমভাবে নিহত হয়, সেই যজ্ঞে সর্বগুণে গুণান্বিত মহর্ষিগণ উপস্থিত হন না।’

‘যে যজ্ঞগুলোতে পশুবলিহীন, সর্বদা দানের অনুকূল এবং ছাগল, ভেড়া, গরু প্রভৃতি প্রাণী হত্যা করা হয় না, সেই যজ্ঞগুলোতেই সর্বগুণে গুণান্বিত মহর্ষিগণ উপস্থিত হন।’‘পণ্ডিত ব্যক্তিরা এই দানযজ্ঞ সম্পাদন করেন, এরুপ যজ্ঞই মহাফলপ্রসূ হয়। এমন যজ্ঞ সম্পাদনকারীর পুণ্যই হয়, পাপ হয় না; যজ্ঞ মহৎ হয় এবং দেবতারাও আনন্দিত হন।’

ব্যাখ্যা [২]