লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৬]

উপশ্রুতি সূত্র

আমি এরূপ শুনেছি। এক সময় ভগবান নাদিকে এক ইষ্টক-নির্মিত গৃহে অবস্থান করতেছিলেন। তখন ভগবান নির্জনে আত্বস্থ(ধ্যানরত অবস্থায়) হয়ে এই ধর্মপর্যায় ভাষণ (উচ্চারণ) করলেন, চক্ষু এবং রূপ হেতু চক্ষু-বিজ্ঞান উৎপন্ন হয়। এ তিনের সঙ্গতি (সংযোগ) স্পর্শ । স্পর্শ প্রত্যয়ে বেদনা , বেদনা প্রত্যয়ে তৃষ্ণা , তৃষ্ণা প্রত্যয়ে উপাদান , উপাদান প্রত্যয়ে ভব , ভব প্রত্যয়ে জন্ম, জন্ম প্রত্যয়ে জরা-মরণ-শোক-পরিদেবন-দুঃখ-দৌর্মনস্য-নিরাশা উৎপন্ন হয়। এভাবে সমগ্র দুঃখরাশির সমুদয় হয়।” “শ্রোত্র এবং শব্দ, ঘ্রাণ এবং গন্ধ, জিহ্বা এবং রস, কায় এবং স্প্রষ্টব্য, মন এবং ধর্ম সম্পর্কেও এইরূপ।

“চক্ষু এবং রূপ হেতু চক্ষু-বিজ্ঞান উৎপন্ন হয়। এ তিনের সঙ্গতি স্পর্শ। স্পর্শ প্রত্যয়ে বেদনা, বেদনা প্রত্যয়ে তৃষ্ণা। তৃষ্ণারই অশেষ বিরাগ নিরোধে উপাদান নিরোধ, উপাদান নিরোধে ভব নিরোধ। ভব নিরোধে জন্ম নিরোধ। জন্ম নিরোধে জরা-মরণ-শোক-পরিদেবন-দুঃখ-দৌর্মনস্য-নৈরাশ্য নিরুদ্ধ হয়। এভাবে সমগ্র দুঃখ স্কন্ধের নিরোধ হয়।” শ্রোত্র এবং শব্দ, ঘ্রাণ এবং গন্ধ, জিহ্বা এবং রস, কায় এবং স্প্রষ্টব্য, মন এবং ধর্ম সম্পর্কেও এইরূপ।

সেই সময় জনৈক ভিক্ষু ভগবানের আবৃত্তির শ্রবণসীমার মধ্যে (উপশ্রুতিতে)স্থিত (দাঁড়িয়ে) ছিলেন। ভগবান সেই ভিক্ষুকে শ্রবণসীমার মধ্যে স্থিত দেখে জিজ্ঞেস করলেন, “হে ভিক্ষু, তুমি এই ধর্ম পর্যায় শুনেছ কী?” “হ্যাঁ, ভন্তে”, “হে ভিক্ষু, তুমি এই ধর্ম পর্যায় শিক্ষা কর, সম্পূর্ণরূপে হৃদয়স্থ কর, ধারণ কর। এই ধর্ম পর্যায় অর্থসংযুক্ত ও আদি ব্রহ্মচর্যের উপকারী।”

দশম সূত্র সমাপ্ত।

একাদশতম যোগক্ষেমী বর্গ সমাপ্ত।

স্মারক গাথা :

যোগক্ষেমী, নির্ভরশীল, দুঃখ, লোক এবং শ্রেষ্ঠ;
সংযোজন, উপাদান, দুই পরিজ্ঞান, উপশ্রুতি মিলে হলো বর্গ।

ব্যাখ্যা [১]