লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৬]

দেবদহ সূত্র

আমি এরূপ শুনেছি। এক সময় ভগবান শাক্যদের মধ্যে অবস্থান করছিলেন, দেবদহ নামক শাক্যদের নিগমে। তথায় ভগবান সমবেত ভিক্ষুগণকে আহ্বান করে বললেন, “হে ভিক্ষুগণ, ‘ছয় স্পর্শায়তনে সকল ভিক্ষুর অপ্রমাদ কর্তব্য’ এরূপ আমি বলি না। হে ভিক্ষুগণ, আমি ইহাও বলি না, ‘ছয় স্পর্শায়তনে সকল ভিক্ষুর অপ্রমাদ কর্তব্য নয়’।”

হে ভিক্ষুগণ, যে ভিক্ষুগণ অর্হৎ , ক্ষীণাসব , উদ্‌যাপিত ব্রহ্মচর্য, কৃত করণীয়, অপনোদিত-ভার , পরিক্ষীণ ভব-সংযোজন এবং সম্যক জ্ঞান দ্বারা বিমুক্ত, সেই ভিক্ষুগণের ছয় স্পর্শায়তনে অপ্রমাদ কর্তব্য নয় (অকর্তব্য) বলে বলি। তার কারণ কী? কৃত তাদের অপ্রমাদ, তারা প্রমত্ত হতে অক্ষম।”

“হে ভিক্ষুগণ, যে ভিক্ষুগণ এখনো শৈক্ষ্য (শিশিক্ষু) , যারা এখনো অপূর্ণ, যাদের মানসিক শক্তি এখনো পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়নি এবং যারা অনুত্তর যোগক্ষেম নির্বাণ আকাঙ্ক্ষা করে সাধনা-নিরত, সেই ভিক্ষুগণের ছয় স্পর্শায়তনে অপ্রমাদ কর্তব্য বলে বলি। তার কারণ কী? হে ভিক্ষুগণ, মনোরম, অমনোরম চক্ষু-বিজ্ঞেয় রূপ আছে, যদিও চিত্ত তাতে পুনঃপুন স্পৃষ্ট হয় তথাপি চিত্ত অভিভূত করে স্থিত হয় না। চিত্ত অনভিভূত হেতু সক্রিয় (কর্মক্ষম) বীর্য আরব্ধ (গৃহীত) হয়, অবিস্মৃত স্মৃতি উপস্থিত হয়, অচঞ্চল কায় শান্ত হয়, সমাহিত চিত্ত একাগ্র হয়। হে ভিক্ষুগণ, এরূপ অপ্রমাদফল দৃশ্যমান ভিক্ষুগণের ছয় স্পর্শায়তনে অপ্রমাদ করণীয় বলে বলি।” শ্রোত্র-বিজ্ঞেয় শব্দ, ঘ্রাণ-বিজ্ঞেয় গন্ধ, জিহ্বা-বিজ্ঞেয় রস, কায়-বিজ্ঞেয় স্প্রষ্টব্য ও মনো-বিজ্ঞেয় ধর্ম সম্পর্কে ও এইরূপ।

প্রথম সূত্র সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [০]