লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৭]

আছে কি পর্যায় সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, এমন পর্যায় আছে কি, যে পর্যায় অনুসরণ করে ভিক্ষু শ্রদ্ধা (এ স্থলেঅন্ধ বিশ্বাস) রুচি (ঝোঁক), জনশ্রুতি , অবস্থা পরিবিতর্ক ও মিথ্যাদৃষ্টিমূলক ধর্মে তিতিক্ষা হতে পৃথক হয়ে এভাবে অর্হত্ত্ব ঘোষণা করেন, ‘জন্মবীজ ক্ষীণ (ক্ষয়) হয়েছে, ব্রহ্মচর্যব্রত উদ্‌যাপিত ও করণীয় কর্তব্য সমাপ্ত হয়েছে, এ জীবনে (আসবক্ষয়ের জন্য আমার) আর অপর কর্তব্য নাই?’ “ভন্তে, ধর্ম ভগবৎমূলক, ভগবৎপ্রবণ, ভগবৎশরণ। এ ভাষিতের অর্থ ভগবানেরই প্রতিভাত হোক (অর্থাৎ ভগবানই ভাষণ করুন)। ভগবানের মুখে শুনে ভিক্ষুরা ধারণ করবেন।” “তাহলে হে ভিক্ষুগণ, শ্রবণ কর, উত্তমরূপে মনোনিবেশ কর; আমি ভাষণ করছি”। “হ্যাঁ ভন্তে, ” বলে সেই ভিক্ষুগণ ভগবানকে প্রত্যুত্তরে সম্মতি জানালেন। ভগবান বললেন :

“হে ভিক্ষুগণ, এমন পর্যায় আছে যে পর্যায় অনুসরণ করে ভিক্ষু শ্রদ্ধা (এ স্থলেঅন্ধ বিশ্বাস), রুচি (ঝোঁক), জনশ্রুতি, অবস্থা পরিবিতর্ক ও মিথ্যাদৃষ্টিমূলক ধর্মে তিতিক্ষা হতে পৃথক হয়ে এভাবে অর্হত্ত্ব ঘোষণা করেন, ‘জন্মবীজ ক্ষীণ হয়েছে, ব্রহ্মচর্যব্রত উদ্‌যাপিত ও করণীয় কর্তব্য সমাপ্ত হয়েছে, এ জীবনে (আসবক্ষয়ের জন্য) আর অপর কর্তব্য নাই।’ হে ভিক্ষুগণ, সেই পর্যায় কি, যে পর্যায় অনুসরণ করে ভিক্ষু শ্রদ্ধা (অন্ধবিশ্বাস), রুচি (ঝোঁক), জনশ্রুতি, অবস্থা পরিবিতর্ক ও মিথ্যাদৃষ্টিমূলক ধর্মে তিতিক্ষা হতে পৃথক হয়ে এভাবে অর্হত্ত্ব ঘোষণা করে, ‘জন্মবীজ ক্ষয় হয়েছে, ব্রহ্মচর্যব্রত উদ্‌যাপিত হয়েছে, করণীয় কর্তব্য কৃত হয়েছে, এ জীবনে (আসবক্ষয়ের জন্য) অপর কর্তব্য নাই’?”

“হে ভিক্ষুগণ, এখানে ভিক্ষু চক্ষু দ্বারা রূপ দেখে অন্তরে রাগ-দ্বেষ-মোহ থাকলে, ‘আমার ভিতর রাগ-দ্বেষ-মোহ আছে’ বলে প্রকৃষ্টরূপে জানেন, অন্তরে রাগ-দ্বেষ-মোহ না থাকলে ‘আমার ভিতর রাগ-দ্বেষ-মোহ নেই’ বলে প্রকৃষ্টরূপে জানেন। হে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু যে চক্ষু দ্বারা রূপ দেখে অন্তরে (ভিতরে) রাগ-দ্বেষ-মোহ থাকলে ‘আমার ভিতর রাগ-দ্বেষ-মোহ আছে’ বলে প্রকৃষ্টরূপে জানেন, ভিতরে রাগ-দ্বেষ-মোহ না থাকলে ‘আমার ভিতর রাগ-দ্বেষ-মোহ নেই’ বলে প্রকৃষ্টরূপে জানেন, হে ভিক্ষুগণ, এই ধর্ম কি বিশ্বাস দ্বারা বা রুচি দ্বারা বা জনশ্রুতি দ্বারা বা অবস্থা পরিবিতর্ক দ্বারা বা মিথ্যাদৃষ্টিমূলক ধর্মে তিতিক্ষা দ্বারা জ্ঞাতব্য?”

“নিশ্চয়ই নয়, ভন্তে।”

“হে ভিক্ষুগণ, এই ধর্মসমূহ প্রজ্ঞাদ্বারা দর্শন করে জ্ঞাতব্য নয় কি?”

“হ্যাঁ, ভন্তে।”

“হে ভিক্ষুগণ, ইহাই পর্যায় যে পর্যায় অনুসরণ করে ভিক্ষু শ্রদ্ধা (অন্ধবিশ্বাস), রুচি (ঝোঁক), জনশ্রুতি, অবস্থা পরিবিতর্ক ও মিথ্যাদৃষ্টিমূলক ধর্মে তিতিক্ষা হতে পৃথক হয়ে এভাবে অর্হত্ত্ব ঘোষণা করে, ‘জন্মবীজ ক্ষীণ হয়েছে, ব্রহ্মচর্যব্রত উদ্‌যাপিত হয়েছে, করণীয় কৃত হয়েছে, এ জীবনে (আসবক্ষয়ের জন্য) আর অপর কর্তব্য নাই।’” শ্রোত্র, ঘ্রাণ, জিহ্বা, কায় এবং মন সম্পর্কেও এইরূপ।

অষ্টম সূত্র সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [১]