“হে ভিক্ষুগণ, আমি চক্ষুর আস্বাদ অন্বেষণ করেছিলাম, চক্ষুতে যে আস্বাদ আছে, তা উপলব্ধি করেছি; চক্ষুতে যতখানি আস্বাদ আছে, তা প্রজ্ঞায় আমার সুদৃষ্ট অর্থাৎ আমি জ্ঞানচক্ষুতে সুষ্ঠুভাবে দেখেছি। হে ভিক্ষুগণ, আমি চক্ষুর দোষ অন্বেষণ করেছিলাম, চক্ষুতে যে দোষ আছে, তা উপলব্ধি করেছি;চক্ষুতে যতখানি দোষ আছে, তা প্রজ্ঞায় আমার সুদৃষ্ট। হে ভিক্ষুগণ, আমি চক্ষুর নিঃসরণ (মুক্তি) অন্বেষণ করেছিলাম, চক্ষুতে যে নিঃসরণ আছে, তা উপলব্ধি করেছি;চক্ষুতে যতখানি নিঃসরণ আছে, তা প্রজ্ঞায় আমার সুদৃষ্ট।”
“হে ভিক্ষুগণ, আমি শ্রোত্রের আস্বাদ অন্বেষণ করেছিলাম, শ্রোত্রে যে আস্বাদ আছে, তা উপলব্ধি করেছি; শ্রোত্রে যতখানি আস্বাদ আছে, তা প্রজ্ঞায় আমার সুদৃষ্ট। হে ভিক্ষুগণ, আমি শ্রোত্রের দোষ অন্বেষণ করেছিলাম, শ্রোত্রে যে দোষ আছে, তা উপলব্ধি করেছি; শ্রোত্রে যতখানি দোষ আছে, তা প্রজ্ঞায় আমার সুদৃষ্ট। হে ভিক্ষুগণ, আমি শ্রোত্রের নিঃসরণ অন্বেষণ করেছিলাম। শ্রোত্রে যে নিঃসরণ আছে, তা উপলব্ধি করেছি; শ্রোত্রে যতটুকু নিঃসরণ আছে, তা প্রজ্ঞায় আমার সুদৃষ্ট।”
“হে ভিক্ষুগণ, আমি ঘ্রাণের আস্বাদ অন্বেষণ করেছিলাম। ঘ্রাণে যে আস্বাদ আছে, তা উপলব্ধি করেছি; ঘ্রাণে যতখানি আস্বাদ আছে, তা প্রজ্ঞায় আমার সুদৃষ্ট। হে ভিক্ষুগণ, আমি ঘ্রাণের দোষ অন্বেষণ করেছিলাম। ঘ্রাণে যে দোষ আছে; তা উপলব্ধি করেছি; ঘ্রাণে যতখানি দোষ আছে, তা প্রজ্ঞায় আমার সুদৃষ্ট। হে ভিক্ষুগণ, আমি ঘ্রাণের নিঃসরণ অন্বেষণ করেছিলাম। ঘ্রাণে যে নিঃসরণ আছে, তা উপলব্ধি করেছি; ঘ্রাণে যতখানি নিঃসরণ আছে, তা প্রজ্ঞায় আমার সুদৃষ্ট।
“হে ভিক্ষুগণ, আমি জিহ্বার আস্বাদ অন্বেষণ করেছিলাম। জিহ্বায় যে আস্বাদ আছে, তা উপলব্ধি করেছি; জিহ্বায় যতখানি আস্বাদ আছে, তা প্রজ্ঞায় আমার সুদৃষ্ট। হে ভিক্ষুগণ, আমি জিহ্বার দোষ অন্বেষণ করেছিলাম। জিহ্বায় যে দোষ আছে, তা উপলব্ধি করেছি; জিহ্বায় যতখানি দোষ আছে, তা প্রজ্ঞায় আমার সুদৃষ্ট। হে ভিক্ষুগণ, আমি জিহ্বার নিঃসরণ অন্বেষণ করেছিলাম। জিহ্বায় যে নিঃসরণ আছে, তা উপলব্ধি করেছি; জিহ্বায় যতখানি নিঃসরণ আছে, প্রজ্ঞায় তা আমার সুদৃষ্ট।”
“হে ভিক্ষুগণ, আমি কায়ের আস্বাদ অন্বেষণ করেছিলাম। কায়ে যে আস্বাদ আছে, তা উপলব্ধি করেছি; কায়ে যতখানি আস্বাদ আছে তা প্রজ্ঞায় আমার সুদৃষ্ট। হে ভিক্ষুগণ, আমি কায়ের দোষ অন্বেষণ করেছিলাম। কায়ে যে দোষ আছে, তা উপলব্ধি করেছি; কায়ে যতখানি দোষ আছে, তা প্রজ্ঞায় আমার সৃদুষ্ট। হে ভিক্ষুগণ, আমি কায়ের নিঃসরণ অন্বেষণ করেছিলাম। কায়ে যে নিঃসরণ আছে, তা উপলব্ধি করেছি; কায়ে যতখানি নিঃসরণ আছে, তা প্রজ্ঞায় আমার সুদৃষ্ট।”
“হে ভিক্ষুগণ, আমি মনের আস্বাদ অন্বেষণ করেছিলাম। মনে যে আস্বাদ আছে, তা উপলব্ধি করেছি; মনে যতখানি আস্বাদ আছে, তা প্রজ্ঞায় আমার সুদৃষ্ট। হে ভিক্ষুগণ, আমি মনের দোষ অন্বেষণ করেছিলাম। মনে যে দোষ আছে, তা উপলব্ধি করেছি; মনে যতখানি দোষ আছে, তা প্রজ্ঞায় আমার সুদৃষ্ট। হে ভিক্ষুগণ, আমি মনের নিঃসরণ অন্বেষণ করেছিলাম। মনে যে নিঃসরণ আছে, তা উপলব্ধি করেছি; মনে যতখানি নিঃসরণ আছে, তা প্রজ্ঞায় আমার সুদৃষ্ট।”
“হে ভিক্ষুগণ, যাবৎ আমি এই ছয় আধ্যাত্মিক আয়তনের আস্বাদকে আস্বাদরূপে, দোষকে দোষরূপে এবং নিঃসরণকে নিঃসরণরূপে যথাযথভাবে উপলব্ধি করিনি তাবৎ আমি সদেব সমার সব্রহ্ম জগতে সশ্রমণ-ব্রাহ্মণ ও দেব-মানবের মধ্যে অনুত্তর সম্যক সম্বোধি লাভ করেছি বলে প্রতিজ্ঞাত হইনি। যখন হে ভিক্ষুগণ, আমি এই ছয় আধ্যাত্মিক আয়তনের আস্বাদকে আস্বাদরূপে, দোষকে দোষরূপে এবং নিঃসরণকে নিঃসরণরূপে যথাযথভাবে উপলব্ধি করেছিলাম, তখনই আমি সদেব সমার সব্রহ্ম জগতে সশ্রমণ-ব্রাহ্মণ ও দেব-মানবের মধ্যে অনুত্তর সম্যক সম্বোধি লাভ করেছি বলে প্রতিজ্ঞাত হয়েছিলাম এবং আমার জ্ঞানদৃষ্টির বিকাশ হয়েছিল, ‘আমার বিমুক্তি অকম্পিত, এই আমার অন্তিম জন্ম, এখন আর পুনর্জন্মের সম্ভাবনা নাই’।”
তৃতীয় সূত্র সমাপ্ত।
ব্যাখ্যা [১]
English