লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৫]

অনুশয় পরিত্যাগ সূত্র

“ভন্তে, কিভাবে জ্ঞাত হলে ও দর্শন করলে অনুশয় পরিত্যক্ত হয়?”

“হে ভিক্ষু, চক্ষুকে অনিত্যরূপে জ্ঞাত হলে ও দর্শন করলে অনুশয়সমূহ পরিত্যক্ত হয়। রূপকে অনিত্যরূপে জ্ঞাত হলে ও দর্শন করলে অনুশয়সমূহ পরিত্যক্ত হয়। চক্ষু-বিজ্ঞানকে অনিত্যরূপে জ্ঞাত হলে ও দর্শন করলে অনুশয়সমূহ প্রহীন (পরিত্যক্ত) হয়। চক্ষু-সংস্পর্শকে অনিত্যরূপে জ্ঞাত হলে ও দর্শন করলে অনুশয়সমূহ প্রহীন হয়। চক্ষু-সংস্পর্শ হেতু উৎপন্ন সুখ বা দুঃখ বা অদুঃখ-অসুখ-বেদনাকেও অনিত্যরূপে জ্ঞাত হলে ও দর্শন করলে অনুশয়সমূহ প্রহীন হয়।

শ্রোত্রকে অনিত্যরূপে জ্ঞাত হলে ও দর্শন করলে অনুশয়সমূহ প্রহীন হয়। শব্দকে অনিত্যরূপে জ্ঞাত হলে ও দর্শন করলে অনুশয়সমূহ প্রহীন হয়। শ্রোত্র-বিজ্ঞানকে অনিত্যরূপে জ্ঞাত হলে ও দর্শন করলে অনুশয়সমূহ প্রহীন হয়। শ্রোত্র-সংস্পর্শকে অনিত্যরূপে জ্ঞাত হলে ও দর্শন করলে অনুশয়সমূহ প্রহীন হয়। শ্রোত্র-সংস্পর্শ হেতু উৎপন্ন সুখ বা দুঃখ বা অদুঃখ-অসুখ-বেদনাকেও অনিত্যরূপে জ্ঞাত হলে ও দর্শন করলে অনুশয়সমূহ প্রহীন হয়।

ঘ্রাণকে অনিত্যরূপে জ্ঞাত হলে ও দর্শন করলে অনুশয়সমূহ প্রহীন হয়। গন্ধকে, ঘ্রাণ-বিজ্ঞানকে, ঘ্রাণ-সংস্পর্শকে এবং ঘ্রাণ-সংস্পর্শ হেতু উৎপন্ন সুখ বা দুঃখ বা অদুঃখ-অসুখ-বেদনাকেও অনিত্যরূপে জ্ঞাত হলে ও দর্শন করলে অনুশয়সমূহ প্রহীন হয়।

জিহ্বাকে, রসকে, জিহ্বা-বিজ্ঞানকে, জিহ্বা-সংস্পর্শকে এবং জিহ্বা-সংস্পর্শ হেতু উৎপন্ন সুখ বা দুঃখ বা অদুঃখ-অসুখ-বেদনাকে অনিত্যরূপে দর্শন করলে ও জ্ঞাত হলে অনুশয়সমূহ প্রহীন হয়।

কায়কে, স্প্রষ্টব্যকে, কায়-বিজ্ঞানকে, কায়-সংস্পর্শকে এবং কায়-সংস্পর্শ হেতু উৎপন্ন সুখ বা দুঃখ বা অদুঃখ-অসুখ-বেদনাকে অনিত্যরূপে জ্ঞাত হলে ও দর্শন করলে অনুশয়সমূহ প্রহীন হয়।

মনকে, ধর্মকে, মনোবিজ্ঞানকে, মনো-সংস্পর্শকে এবং মনো-সংস্পর্শ হেতু উৎপন্ন সুখ বা দুঃখ বা অদুঃখ-অসুখ-বেদনাকে অনিত্যরূপে জ্ঞাত হলে ও দর্শন করলে অনুশয়সমূহ প্রহীন হয়।”

“হে ভিক্ষু, এভাবে জ্ঞাত হলে ও দর্শন করলে অনুশয়সমূহ প্রহীন (পরিত্যক্ত) হয়।”

ষষ্ঠ সূত্র সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [১]