লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৬]

সর্ব-উপাদান পরিজ্ঞা সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, আমি তোমাদেরকে সর্ব-উপাদান পরিজ্ঞাত হবার জন্য ধর্মদেশনা করব। তা শ্রবণ কর। হে ভিক্ষুগণ, সর্ব-উপাদান পরিজ্ঞাত হবার ধর্ম কী কী?

চক্ষু এবং রূপ হেতু চক্ষু-বিজ্ঞান উৎপন্ন হয়, এই তিনের সংযোগে স্পর্শ, স্পর্শ হেতু বেদনা (অনুভূতি) উৎপন্ন হয়। হে ভিক্ষুগণ, শ্রুতবান আর্যশ্রাবক বিষয়টি এভাবে দর্শন করে চক্ষুর প্রতি নির্বেদ প্রাপ্ত হন, রূপে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, চক্ষু-বিজ্ঞানে নির্বেদপ্রাপ্ত হন, চক্ষু-সংস্পর্শে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, বেদনায় নির্বেদ প্রাপ্ত হন। নির্বেদ প্রাপ্ত হয়ে বিরাগ (রাগমুক্ত) হন, বিরাগ হতে বিমুক্ত হন এবং বিমুক্তিতে প্রকৃষ্টরূপে জানতে পারেন, ‘উপাদান আমার পরিজ্ঞাত।’

শ্রোত্র এবং শব্দ হেতু শ্রোত্র-বিজ্ঞান উৎপন্ন হয়, এই তিনের সংযোগে স্পর্শ, স্পর্শ হেতু বেদনা উৎপন্ন হয়। হে ভিক্ষুগণ, শ্রুতবান আর্যশ্রাবক বিষয়টি এভাবে দর্শন করে শ্রোত্রে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, শব্দে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, শ্রোত্র-বিজ্ঞানে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, শ্রোত্র-সংস্পর্শে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, বেদনায় নির্বেদ প্রাপ্ত হন। নির্বেদ প্রাপ্ত হয়ে বিরাগ হন, বিরাগ হতে বিমুক্ত হন এবং বিমুক্তিতে প্রকৃষ্টরূপে জানেন, ‘উপাদান আমার পরিজ্ঞাত’।

ঘ্রাণ এবং গন্ধ হেতু ঘ্রাণ-বিজ্ঞান উৎপন্ন হয়, এই তিনের সংযোগে স্পর্শ, স্পর্শ হেতু বেদনা উৎপন্ন হয়। হে ভিক্ষুগণ, শ্রুতবান আর্যশ্রাবক বিষয়টি এভাবে দর্শন করে ঘ্রাণে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, গন্ধে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, ঘ্রাণ-বিজ্ঞানে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, ঘ্রাণ-সংস্পর্শে নির্বেদ প্রাপ্ত হন এবং বেদনায় নির্বেদ প্রাপ্ত হন। নির্বেদ প্রাপ্ত হয়ে বিরাগ হন, বিরাগ হতে বিমুক্ত হন, বিমুক্তিতে প্রকৃষ্টরূপে জানতে পারেন, ‘উপাদান আমার পরিজ্ঞাত।’

জিহ্বা এবং রস হেতু জিহ্বা-বিজ্ঞান উৎপন্ন হয়, এই তিনের সংযোগে স্পর্শ। স্পর্শ হেতু বেদনা উৎপন্ন হয়। হে ভিক্ষুগণ, শ্রুতবান আর্যশ্রাবক বিষয়টি এরূপে দর্শন করে জিহ্বায় নির্বেদ প্রাপ্ত হন, রসে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, জিহ্বা-বিজ্ঞানে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, জিহ্বা-সংস্পর্শে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, বেদনায় নির্বেদ প্রাপ্ত হন। নির্বেদ প্রাপ্ত হয়ে বিরাগ হন, বিরাগ হতে বিমুক্ত হন এবং বিমুক্তিতে প্রকৃষ্টরূপে জানতে পারেন, ‘উপাদান আমার পরিজ্ঞাত।’

কায় এবং স্প্রষ্টব্য হেতু কায়-বিজ্ঞান উৎপন্ন হয়, এই তিনের সংযোগে স্পর্শ, স্পর্শ হেতু বেদনা উৎপন্ন হয়। হে ভিক্ষুগণ, শ্রুতবান আর্যশ্রাবক বিষয়টি এরূপে দর্শন করে কায়ে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, স্প্রষ্টব্যে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, কায়-বিজ্ঞানে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, কায়-সংস্পর্শে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, বেদনায় নির্বেদ প্রাপ্ত হন। নির্বেদ প্রাপ্ত হয়ে বিরাগ হন, বিরাগ হতে বিমুক্ত হন এবং বিমুক্তিতে প্রকৃষ্টরূপে জানতে পারেন, ‘উপাদন আমার পরিজ্ঞাত।’

মন এবং ধর্ম হেতু মনোবিজ্ঞান উৎপন্ন হয়, এই তিনের সংযোগে স্পর্শ, স্পর্শ হেতু বেদনা উৎপন্ন হয়। হে ভিক্ষুগণ, শ্রুতবান আর্যশ্রাবক বিষয়টি এরূপে দর্শন করে মনে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, ধর্মে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, মনোবিজ্ঞানে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, মনো-সংস্পর্শে নির্বেদ প্রাপ্ত হন, বেদনায় নির্বেদ প্রাপ্ত হন। নির্বেদ প্রাপ্ত হয়ে বিরাগ হন, বিরাগ হতে বিমুক্ত হন এবং বিমুক্তিতে প্রকৃষ্টরূপে জানতে পারেন, ‘উপাদন আমার পরিজ্ঞাত’।

হে ভিক্ষুগণ, ইহাই সর্ব-উপাদান পরিজ্ঞাত হবার ধর্ম।”

অষ্টম সূত্র সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [১]