লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৭]

পূর্ণ সূত্র

অতঃপর আয়ুষ্মান পূর্ণ যেখানে ভগবান ছিলেন সেখানে উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন করে একপাশে উপবেশন করলেন। একপাশে উপবিষ্ট আয়ুষ্মান পূর্ণ ভগবানকে বললেন, “ভন্তে, আমার পক্ষে উত্তম হবে, ভগবান আমাকে সংক্ষিপ্তভাবে ধর্ম উপদেশ দিন যাতে আমি ভগবানের ধর্ম শ্রবণ করে একাকী, বিচ্ছিন্ন, অপ্রমত্ত, বীর্যবান, নির্বাণগত চিত্তে (তদ্‌গত চিত্তে) অবস্থান করতে পারি।”

“হে পূর্ণ, চক্ষু-বিজ্ঞেয় রূপ আছে তা আনন্দদায়ক (ইষ্ট), কান্ত (মুগ্ধকর), মনোজ্ঞ (মনোরম), প্রিয়রূপ, কামসংযুক্ত ও রঞ্জনীয়। যদি ভিক্ষু তাতে আনন্দ লাভ করেন, উল্লাস প্রকাশ করেন এবং নিবিষ্ট (অনুরক্ত) হয়ে থাকেন, তজ্জন্য নন্দিরাগ উৎপন্ন হয়, নন্দিরাগ সমুদয় হেতু দুঃখ সমুদয় হয়।” শ্রোত্রবিজ্ঞেয় শব্দ, ঘ্রাণ-বিজ্ঞেয় গন্ধ, জিহ্বাবিজ্ঞেয় রস, কায়বিজ্ঞেয় স্প্রষ্টব্য ও মনোবিজ্ঞেয় ধর্ম সম্পর্কেও এইরূপ।

“হে পূর্ণ, চক্ষুবিজ্ঞেয় রূপ আছে তা ইষ্ট, কান্ত, মনোজ্ঞ, প্রিয়রূপ, কামসংযুক্ত ও রঞ্জনীয়। যদি ভিক্ষু তাতে অভিনন্দিত না হন, উল্লাস প্রকাশ না করেন এবং তাতে নিবিষ্ট (অনুরক্ত) হয়ে অবস্থান না করেন, তাহলে নন্দিরাগ নিরুদ্ধ হয়, নন্দিরাগ নিরোধ হেতু দুঃখ-নিরোধ হয়।” শ্রোত্রবিজ্ঞেয় শব্দ, ঘ্রাণ-বিজ্ঞেয় গন্ধ, জিহ্বা-বিজ্ঞেয় রস, কায়বিজ্ঞেয় স্প্রষ্টব্য ও মনোবিজ্ঞেয় ধর্ম সম্পর্কেও এইরূপ।

“পূর্ণ, আমাকর্তৃক এই সংক্ষিপ্ত উপদেশ দ্বারা উপদিষ্ট হয়ে তুমি কোন জনপদে অবস্থান করবে?”

“ভন্তে, ভগবান কর্তৃক এই সংক্ষিপ্ত উপদেশ দ্বারা উপদিষ্ট হয়ে আমি সুনাপরান্ত নামক জনপদে অবস্থান করব।”

“পূর্ণ, সুনাপরান্তবাসী মনুষ্যগণ চণ্ড (উগ্র) এবং কর্কশ। যদি তারা তোমাকে আক্রোশ এবং দোষারোপ করে, তাহলে তোমার কী হবে?”

“ভন্তে, যদি সুনাপরান্তবাসী মনুষ্যগণ আমাকে আক্রোশ এবং দোষারোপ করে, তাহলে আমার এরূপ হবে : আমি বলব, বাস্তবিক, এই সুনাপরান্তবাসী মনুষ্যগণ খুব ভদ্র, সুভদ্র, যেহেতু তারা আমাকে হস্ত দ্বারা কোনো প্রহার করছে না। ভগবান, এখানে আমার এরূপ হবে। সুগত, এখানে আমার এরূপ হবে।

“পূর্ণ, যদি সেই সুনাপরান্তবাসী মনুষ্যগণ তোমাকে হস্ত দ্বারা প্রহার করে, তাহলে তোমার কী হবে?”

“ভন্তে, যদি সেই সুনাপরান্তবাসী মনুষ্যগণ আমাকে হস্ত দ্বারা প্রহার করে, তাহলে আমার এরূপ হবে : আমি বলব, বাস্তবিক, এই সুনাপরান্তবাসী মনুষ্যগণ খুব ভদ্র, সুভদ্র, যেহেতু তারা আমাকে মৃৎপিণ্ড দ্বারা আঘাত করছে না। ভগবান, এখানে আমার এরূপ হবে। সুগত, এখানে আমার এরূপ হবে।”

“পূর্ণ, যদি সেই সুনাপরান্তবাসী মনুষ্যগণ তোমাকে মৃৎপিণ্ড দ্বারা প্রহার করে, তাহলে তোমার কী হবে?”

“ভন্তে, যদি সেই সুনাপরান্তবাসী মনুষ্যগণ আমাকে মৃৎপিণ্ড দ্বারা প্রহার করে, তাহলে আমার এরূপ হবে : আমি বলব, বাস্তবিক এই সুনাপরান্তবাসী মনুষ্যগণ খুব ভদ্র, সুভদ্র, যেহেতু তারা আমাকে দণ্ড দ্বারা প্রহার করতেছে না। ভগবান, এখানে আমার এরূপ হবে। সুগত, এখানে আমার এরূপ হবে।”

“পূর্ণ, যদি সেই সুনাপরান্তবাসী মনুষ্যগণ তোমাকে দণ্ড দ্বারা প্রহার করে, তাহলে তোমার কী হবে?”

“ভন্তে, যদি সেই সুনাপরান্তবাসী মনুষ্যগণ আমাকে দণ্ড দ্বারা প্রহার করে, তাহলে আমার এরূপ হবে : আমি বলব, বাস্তবিক, এই সুনাপরান্তবাসী মনুষ্যগণ খুব ভদ্র, সুভদ্র, যেহেতু তারা আমাকে শস্ত্র দ্বারা আঘাত করতেছে না। ভগবান, এখানে আমার এরূপ হবে। সুগত, এখানে আমার এরূপ হবে।”

“পূর্ণ, যদি সেই সুনাপরান্তবাসী মনুষ্যগণ তোমাকে শস্ত্র দ্বারা আঘাত করে, তাহলে তোমার কী হবে?”

“ভন্তে, যদি সেই সুনাপরান্তবাসী মনুষ্যগণ আমাকে শস্ত্র দ্বারা আঘাত করে, তাহলে আমার এরূপ হবে : আমি বলব, বাস্তবিক, এই সুনাপরান্তবাসী মনুষ্যগণ খুব ভদ্র, সুভদ্র, যেহেতু তারা আমাকে জীবন হতে বঞ্চিত (হত্যা) করতেছে না। ভগবান, এখানে আমার এরূপ হবে। সুগত, এখানে আমার এরূপ হবে।”

“পূর্ণ, যদি সেই সুরাপরান্তবাসী মনুষ্যগণ তোমাকে জীবন হতে বঞ্চিত (হত্যা) করে, তবে তোমার কী হবে?”

“ভন্তে, যদি সেই সুরাপরান্তবাসী মনুষ্যগণ আমাকে জীবন হতে বঞ্চিত (হত্যা) করে, তাহলে আমার এরূপ হবে : আমি বলব, ভগবানের শিষ্যগণ কায়ের (দেহের) ও জীবনের দ্বারা দুঃখপ্রাপ্ত, বিরাগভাজন, উৎপীড়িত ও অশ্রদ্ধ হয়ে শস্ত্র আহরণের জন্য সন্ধান করতেছেন। সন্ধান না করেই আমি সেই শস্ত্র লাভ করেছি। ভগবান, আমার এরূপ হবে। সুগত, আমার এরূপ হবে।”

“সাধু, সাধু পূর্ণ! তুমি এই দম ও উপশম দ্বারা সমন্বাগত হয়ে সুনাপরান্ত জনপদে অবস্থান করতে সক্ষম হবে। পূর্ণ, তুমি যা কালোপযোগী মনে কর, তা করতে পার।”

অতঃপর আয়ুষ্মান পূর্ণ ভগবানের ভাষণকে অভিনন্দন ও অনুমোদন করে আসন হতে উঠে ভগবানকে অভিবাদন ও প্রদক্ষিণ করে শয়নাসন (বিছানাপত্র) ভাঁজ করে (সামলে রেখে) পাত্র-চীবর গ্রহণ করে সুনাপরান্ত জনপদে বিচরণ করার জন্য যাত্রা করলেন এবং পদচারণা করতে করতে সুনাপরান্ত জনপদে পৌঁছলেন এবং সেখানে অবস্থান করতে লাগলেন। আয়ুষ্মান পূর্ণ একই বর্ষার মধ্যে পাঁচশত উপাসক ও পাঁচশত উপাসিকাকে প্রতিপাদন (ত্রিশরণে প্রতিষ্ঠিত) করলেন এবং নিজে ত্রিবিদ্যা সাক্ষাৎ করলেন। সেই বর্ষার মধ্যে (পরে অন্য সময়ে) আয়ুষ্মান পূর্ণ পরিনির্বাণ লাভ করলেন।

সেই সময় বহু ভিক্ষু ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন করে একপাশে উপবেশন করলেন। একপাশে উপবিষ্ট সেই ভিক্ষুগণ ভগবানকে বললেন, “ভন্তে, যে কুলপুত্র পূর্ণ ভগবান কর্তৃক সংক্ষিপ্ত উপদেশ দ্বারা উপদিষ্ট হয়েছিল, তিনি মারা গেছেন। তাঁর কি গতি, কি পরিণতি হলো?”

“হে ভিক্ষুগণ, কুলপুত্র পূর্ণ পণ্ডিত ছিলেন, ধর্মানুকূল আচরণকারী ছিলেন, তিনি ধর্মাধিকরণে কখনো আমাকে অপদস্ত করেন নাই। তিনি পরিনির্বাণ লাভ করেছেন।”

পঞ্চম সূত্র সমাপ্ত।

ব্যাখ্যা [১]